কালিদাস পণ্ডিতের ধাঁধাঁ - ১
কবি কালিদাস আমাদের কাছে 'কালিদাস পণ্ডিত' নামে বেশী পরিচিত। ‘কালিদাস পণ্ডিত’ কে আপনারা সবাই জানেন। কালিদাস পণ্ডিতকে নূতন করে পরিচয় করে দিয়ে আমি নিজে 'পন্ডিত' সাজতে চাই না। নেট তথা গুগুল টাইপ প্রোগ্রামগুলোই এখন বিরাট বিরাট পন্ডিত! কিছু জানতে হলে লিখে সার্চ করলেই হল। ‘কালিদাস পণ্ডিত’ লিখে সার্চ করে কালিদাস পন্ডিত প্রসঙ্গে জানুন। কালিদাস ছিলেন ধ্রুপদি সংস্কৃত ভাষার এক বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার। কালিদাস প্রাচীন যুগের ভারতীয় কবি। তিনি সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিরূপে পরিচিত। যদিও তাঁর জীবনকাহিনী সম্পর্কে বিশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।

(কালিদাস পন্ডিতের আনুমানিক ছবি, হাতে আঁকা)
আমার মনে প্রশ্ন ছিল কবি কালিদাসকে কেন কালিদাস পন্ডিত বলা হয়! সংস্কৃত ভাষায় তিনি যে পন্ডিত ছিলেন এতে মনে কোন সন্দেহ নাই। তারপর আরো যতদুর বুঝতে পারলাম, তার উপস্থিত বুদ্দির জন্যও তিনি পন্ডিত হতে পারেন। হতে পারেন তার ধাঁধাঁ লিখার জন্য! ধাঁধাঁ মানেই তো কালিদাস পণ্ডিত!
কালিদাস পণ্ডিতের একটা উপস্থিত বুদ্দির নমুনা কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক জনাব মোস্তফা কামালের (মেইল করে জানিয়েছি) লেখা থেকে আপনাদের জন্য তুলে দিলাম।
কালিদাস পণ্ডিত বিয়ে করেছিলেন রাজা বিক্রম আদিত্যের মেয়েকে। রাজার আরো কয়েকটি মেয়ে ছিল। তিনি মেয়েদের যাঁদের কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা সবাই ছিলেন পণ্ডিত মানুষ। পণ্ডিতদের মধ্যে সবার সেরা ছিলেন কালিদাস পণ্ডিত। তাঁর সঙ্গে বিদ্যা-বুদ্ধিতে কেউ পারতেন না। কিন্তু তাঁরা সবাই মিলে কালিদাস পণ্ডিতকে বেশ বিপাকে ফেললেন। ঈর্ষাপরায়ণ হয়েই তাঁরা এটা করেছিলেন। তাঁরা সবাই বললেন, 'ঠিক আছে, আমরা মানলাম কালিদাস খুব বড় পণ্ডিত। কিন্তু তাঁর বাবা কে? আমরা তাঁর বাবাকে দেখতে চাই।'
সবাই যখন আবদার করলেন তখন তো দেখাতেই হয়। তিনি তাঁর বাবাকে নিয়ে রাজদরবারে হাজির হলেন। কালিদাস পণ্ডিতের বাবা ছিলেন মূর্খ মানুষ। তিনি বেফাঁস কিছু বলে ফেলেন কি না তাই কালিদাস পণ্ডিত তাঁর বাবাকে বলে রেখেছেন, তিনি যেন ভগবান ছাড়া আর কিছুই না বলেন।
রাজদরবারে বড় বড় পণ্ডিত বসে আছেন। তাঁদের সামনে বাবাকে নিয়ে হাজির হলেন কালিদাস পণ্ডিত। সবাই তাঁকে নানা কথা জিজ্ঞাসা করেন। কালিদাস পণ্ডিতের বাবা ছেলের শেখানো বুলি এর মধ্যেই ভুলে গেছেন। কী আর করা! তিনি শুধু বললেন, ভক্কর-ভক্কর।
এ কথা শুনে সবাই হাসাহাসি শুরু করলেন।কালিদাস পণ্ডিত লজ্জায় একেবারে লাল! বাবার কারণে নাক কাটা যাবে! তা তো কিছুতেই হতে পারে না। পরে কালিদাস পণ্ডিত বুদ্ধি খাটিয়ে বললেন, আপনারা হাসছেন কেন? আপনারা তো বুঝতেই পারেননি বাবা কী বলেছেন?
সবাই তখন জানতে চাইলেন, কী বলেছেন?
বাবা বলেছেন, ভক্কর। এর মানে হচ্ছে, ভ-তে ভগবান, ক-তে কৃষ্ণ আর র-তে রাধা।
সবাই তখন বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকালেন। আর এভাবেই লোকলজ্জা থেকে রক্ষা পেলেন কালিদাস পণ্ডিত।
একেই বলে উপস্থিত বুদ্দি! বাংলাদেশে এক মাত্র ভাল উপস্থিত বুদ্দি রাজনীতিবিদের মাঝেই দেখা যায়! যারা ক্ষমতায় থাকে তাদেরই বেশী বেশী থাকে! ভাল উপস্থিত বুদ্দি থাকা লোক কখনো বেকার থাকে না!
কালিদাস পণ্ডিতের ধাঁধাঁ গুলো আসাধারন। তবে এসব ধাঁধাঁ তিনি সংস্কৃত ভাষাতেই লিখেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়, কারন সেই যুগে বাংলা ভাষার এমন রুপ ছিল বলে মনে হয় না! কিন্তু এগুলো বাংলা করলো কোন সব পন্ডিত! এসব পন্ডিতদের নাম ইতিহাস আর মনে রাখে নাই উপরি এখনো কেহ ধাঁধাঁ লিখলে সেটাও কালিদাস পন্ডিতের নামে হয়ে যায়!
গত কয়দিনে কালিদাস পণ্ডিতের বেশ কিছু ধাঁধাঁ পড়েছি। আপনাদের জন্য তা থেকে ১০টা পেশ করছি। দেখি আপনারা কে কে জবাব দিতে পারেন। প্রতিটি পারার জন্য ১ নাম্বার পাবেন। চলুন ধাঁধাঁতে চলে যাই!
১।
কালিদাস পণ্ডিতে কয় বাল্যকালের কথা,
নয় হাজার তেঁতুল গাছে কয় হাজার পাতা।
২।
শুইতে গেলে দিতে হয়, না দিলে ক্ষতি হয়,
কালিদাস পন্ডিত কয় যাহা বুঝেছ তাহা নয়।
৩।
চক থেকে এল সাহেব কোর্ট প্যান্ট পরে,
কোর্ট প্যান্ট খোলার পরে চোখ জ্বালা করে।
৪।
পোলা কালে বস্ত্রধারী যৌবনে উলঙ্গ,
বৃদ্বকালে জটাধারী মাঝখানে সুড়ঙ্গ।
৫।
বাঘের মত লাফ দেয়, কুকুর হয়ে বসে,
পানির মধ্যে ছেড়ে দিলে সোলা হয়ে ভাসে।
৬।
হাসিতে হাসিতে যায় নারী পর পুরুষের কাছে,
যাইবার সময় কান্নাকাটি ভিতরে গেলে হাসে।
৭।
আমি তুমি একজন দেখিতে এক রুপ,
আমি কত কথা কই তুমি কেন থাক চুপ।
৮।
কালিদাস পন্ডিতের ফাঁকি,
আড়াইশ থেকে পাঁচ পঞ্চাশ গেলে
আর কত থাকে বাকী।
৯।
শোন ভাই কালিদাসের হেয়ালীর ছন্দ,
দরজা আছে হাজারটা তবু কেন বন্ধ।
১০।
শুভ্রবাসান দেহ তার,
করে মানুষের অপকার।
চিতায় তারে পুড়িয়া মারে,
তবু সে উহ আহ না করে।
ধাঁধাঁ ৯ ও ১০ নংটা নিয়ে আমার অভিমত - এগুলো কালিদাস পণ্ডিতের হতে পারে না! হা হা হা...। আরো অনেক আছে, আপনাদের উৎসাহ পেলে আরো পোষ্ট দেয়া যাবে!





১, ৫, ৭, ৮ নম্বরের উত্তর অনেক চেষ্টায় উদ্ধার করেছি।
বাকীগুলো পারলাম না । উত্তর জানালে বাধিত হব । আরও ধাঁধাঁর প্রতীক্ষায় রইলাম । আমার উপস্থিত বুদ্ধি ভালো নয়। 
হুদা ভাই, শুত্রবার দুপুরের পর উত্তর গুলো দিতে চাই।
1. 18000 pata
এতো বুদ্ধি মাথায় নাই আমার
এতো বুদ্ধি মাথায় নাই আমার
চেষ্টা করতেছি। দেখি কয়টা বের করা যায়
কয়টা পারলেন শাতিল ভাই। কেমন আছেন? মাঝে মাঝে লিখেন না কেন। লিখুন। ছবি পোষ্ট দিন।
আমারো বুদ্ধি কম।উত্তর বলে দিয়েন।
শেষের কমেন্ট গুলো দেখুন। আমার গুরু সব পেরেছেন! দেখা হলে আমার গুরুকে আমার সালাম পৌঁছে দিয়েন। উত্তর নীচের দিকে আছে।
আমার মাথা দেখি চুলকায়!
উত্তরগুলো বলে দেন। জীবনে কয়েকটা ধাঁধাঁ শেখা হবে।
মীর ভায়া, ভাল ধাঁধাঁ জানাও একটা গুন! (মাঝে মাঝে ওয়াইফের সাথে ধাঁধাঁ খেলে সময় কাটানো যায়, আমার ছেলেটা বিরক্ত করা শুরু করলে একটা ধাঁধাঁ দিয়ে বসিয়ে দেই - মুখে বলি, মাথা খাটা। এতে কাজ হয়!)
আজকাল শহরে বিবাহের সময় ছেলেদের গেইটে আটকানো হয় কিনা জানা নেই! তবে গ্রামে এখনো কিছু কিছু বাড়ীতে এটা চালু আছে
।
আপনি কোথায় বিয়ে করবেন কে জানে! কিছু ধাঁধাঁ জেনে রাখলে লাভ হবে বৈকি!
এতো বুদ্ধি মাথায় নাই আমার
দুলাভাই কয়টা পারছেন?
এতো বুদ্দি আমার মাথায় নাই।
(
(
আবার নাম পরিবর্তন!
কাকা মনে হয় 'রাসেল' নিয়া একটা ঝামেলায় আছেন!
(নামে কি আসে যায়, লেখায় কমেন্টে কমেন্টে হবে পরিচয়)
আমারো বুদ্দি কম। তারপরো কমবুদ্দি লয়া টেরাই দিয়া দেখি।
গুরু আপনি না পারলে মান ইজ্জত যেত! আপনাকে দিয়ে হবে।
৩. পেয়াঁজ
৫. ব্যাঙ
পাশ !
৮. জিরো
পাশ !
১. আঠারো হাজার
পাশ !
পাশ !
পাশ !
কাকার ধাঁধাঁর উত্তর জানার জন্য একটু গুগুল মামার কাছে গেলাম গিয়ে উনার দেখা পেলাম।
এই পোষ্টের যথাযত জায়গা 'উনি'!
ব্লগটাতে রেজি করত ২৪ ঘন্টা পরে এই পোষ্ট উনাকে দেয়া যেতে পারে।
ধন্যবাদ।
৭. ছবি
২. বালিশ / মশারি / লেপ ???
১০. সিগারেট
গুরু, ৭ এবং ১০ ঠিক হয়েছে।
২ নংটার উত্তর দেখলাম লেখা আছে - দরজা।
২।
শুইতে গেলে দিতে হয়, না দিলে ক্ষতি হয়,
কালিদাস পন্ডিত কয় যাহা বুঝেছ তাহা নয়।
২. দরজা
আসিফ ভায়া, সঠিক হয়েছে।
এত কম উপস্থিতি কেন। কেমন দিনকাল পার করছেন?
আসিফ ভায়া, সঠিক হয়েছে।
এত কম উপস্থিতি কেন। কেমন দিনকাল পার করছেন?
২।
শুইতে গেলে দিতে হয়, না দিলে ক্ষতি হয়,
কালিদাস পন্ডিত কয় যাহা বুঝেছ তাহা নয়।
জানালা বা দরজা হবে
৩।
চক থেকে এল সাহেব কোর্ট প্যান্ট পরে,
কোর্ট প্যান্ট খোলার পরে চোখ জ্বালা করে।
রায়হান ভাইয়ের মত পেঁয়াজ মনে হচ্ছে।
১০।
শুভ্রবাসান দেহ তার,
করে মানুষের অপকার।
চিতায় তারে পুড়িয়া মারে,
তবু সে উহ আহ না করে।
সিগারেট বা বিড়ি হতে পারে।
পরের পর্ব ছাড়ুন।
কি হে শ্যামল সাহেব, সারাদিন ফেইসবুক নিয়ে থাকলে চলবে!
বাংলা লিখা যখন শিখেই ফেলেছেন, তখন আর দেরী কি। ব্লগে রেজি করে লিখতে থাকুন।
(আপনার সাথে বাংলায় চ্যাটিং করে ভাল লেগেছে)
ধাধা'র উত্তর দেখুন -
১।
কালিদাস পণ্ডিতে কয় বাল্যকালের কথা,
নয় হাজার তেঁতুল গাছে কয় হাজার পাতা।
উত্তরঃ আঠার হাজার পাতা
২।
শুইতে গেলে দিতে হয়, না দিলে ক্ষতি হয়,
কালিদাস পন্ডিত কয় যাহা বুঝেছ তাহা নয়।
উত্তরঃ দরজার খিল
৩।
চক থেকে এল সাহেব কোর্ট প্যান্ট পরে,
কোর্ট প্যান্ট খোলার পরে চোখ জ্বালা করে।
উত্তরঃ পেঁয়াজ
৪।
পোলা কালে বস্ত্রধারী যৌবনে উলঙ্গ,
বৃদ্বকালে জটাধারী মাঝখানে সুড়ঙ্গ।
উত্তরঃ বাঁশ
৫।
বাঘের মত লাফ দেয়, কুকুর হয়ে বসে,
পানির মধ্যে ছেড়ে দিলে সোলা হয়ে ভাসে।
উত্তরঃ ব্যাঙ
৬।
হাসিতে হাসিতে যায় নারী পর পুরুষের কাছে,
যাইবার সময় কান্নাকাটি ভিতরে গেলে হাসে।
উত্তরঃ মেয়েদের হাতের ছুঁড়ী
৭।
আমি তুমি একজন দেখিতে এক রুপ,
আমি কত কথা কই তুমি কেন থাক চুপ।
উত্তরঃ নিজের ছবি
৮।
কালিদাস পন্ডিতের ফাঁকি,
আড়াইশ থেকে পাঁচ পঞ্চাশ গেলে
আর কত থাকে বাকী।
উত্তরঃ কিছুই না, শূন্য
৯।
শোন ভাই কালিদাসের হেয়ালীর ছন্দ,
দরজা আছে হাজারটা তবু কেন বন্ধ।
উত্তরঃ মশারী
১০।
শুভ্রবাসান দেহ তার,
করে মানুষের অপকার।
চিতায় তারে পুড়িয়া মারে,
তবু সে উহ আহ না করে।
উত্তরঃ সিগারেট
এইটা একটু বুঝায় দেন।

এখানে বলা হচ্ছে বাল্যকালের কথা। বাল্যকালে একটা তেঁতুল গাছে দু'টো মাত্র পাতা থাকে (আর সব গাছেও তাই)। কাজেই - - - - - -
এই ধাঁধাঁ টা আমিও প্রথম বুঝি নাই। আমার স্ত্রী আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল
সকলের মত আমিও অপেক্ষায় থাকলাম পরের আসরের জন্য।
হুদা ভাই, কালিদাস পন্ডিতের অনেক ধাঁধাঁ আমার কাছে আছে। ৫ টি পর্ব লিখব বলে ভাবছি। দ্বিতীয় পর্ব আশা করি দেখে ফেলেছেন।
কালিদাস পণ্ডিতের ধাঁধাঁ - ২
আরে এ ভাই , ফান করে কি জীবন ছলে ?
ভালো লাগসে
কবি কালিদাস পন্ডিতের মূল ভাষাটা অবিকৃত রাখলে ভাল হত না?
১। প্রশ্নের উত্তর ১৮ লক্ষ, ২। দরজা, ৩। পিয়াজ, ৪। বাশ, ৫। ব্যাঙ, ৬। চুরি, ৭। ছবি, ৮। ০, ৯। মশারি, ১০। সিগারেট।
ভালো লেগেছে
মন্তব্য করুন