২৮ দিনের অন্যরকম জিন্দেগী (পহেলা পর্ব)
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়া ফালাইছি। কোন টেনশন নাই। ফলাফল কী হৈবো, সেইটাতো আমি জানিই। অন্তত ৩ মাস পড়ালেখার টেনশন দুর হৈলো। এই আনন্দ নিয়া রাইতে ঘুমাইতে যাই। সকাল ১১ টায় ঘুম থেকে উঠি। মা দয়া কৈরা নাস্তা খাইতে দেয়। খাইয়া বাইর হই। আড্ডা-টাড্ডা মাইরা ২-৩ টার দিকে বাসায় আসি। আবার খাওন দেয় মা। আহারে, দরদী মা আমার ! খাইয়া আবার বাইরে যাই। বাসায় যখন ফিরি, তখন মোটামুটি রাইত ১১ টা ১২ টা। এইভাবে আর চলেনা। কী করণ যায় ? ভাবতে ভাবতে মনে পড়লো- আরে তাইতো, একটা প্রেম-ট্রেম করলেওতো সময় কাটতো। তারপর আমি প্রেমে পড়ি বা সে আমার প্রেমে পড়ে অথবা প্রেম আমাদের উর্পে ভর করে।
আমার জীবনের রুটিন পাল্টাইয়া যায়। সকাল ৯ টার মধ্যে ঘুম থেইকা উঠি। কষ্ট হয়, তবু উঠি। আমাকে উঠতে হয়। উঠেই বারান্দায় যাই। ঠিক নয়টার সময় সে আমার বারান্দার সামনে দিয়া বাম দিকে ঘাড় কাত করে হাঁটতে হাঁটতে এবং হাসতে হাসতে স্কুলের দিকে যায়। আমারেও হাসতে হয়। এদিক সেদিক তাকাইয়া হাত ও নাড়তে হয়। বাপের চাকরীর সুবাদে আমগো বাসা তখন ফেনীর মহিপালে। ওয়াপদা কলোনীতে। ২০ গজ দুরেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক। আর সেই মহাসড়ক ধরে সে স্কুলে যায়। ৯ ক্লাসে পড়া মুন্নী আমাদের কলোনীতেই থাকে। ওর বাবা আর আমার বাবা একই অফিসে চাকরী করেন। ওদের বাড়ি ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বড়িকান্দি গ্রামে। বাসার সামনের মহাসড়কে গাড়ী চলা শুরু না হলে কী হবে ? মুন্নীর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক প্রায় পরিণতির দিকে যাচ্ছে।
এর মধ্যে কোন এক বিষ্যুদবার বড় ভাই আর বড় দুলাভাই ঢাকা থেকে এলেন। রাতে তাদের সাথে হাই হ্যালো হৈলো। বড়ভাই কৈলেন, কাল বাসা থেকে বেরুনোর আগে আমাকে জানিয়ে বেরুবি। তোর সাথে জরুরি কথা আছে। বহুত টেনশন লৈয়া ঘুমাইতে গেলাম। কী কথা তাহার সাথে, তার সাথে...? ভাবতে ভাবতে ঘুমাইয়া পড়ছি। সকালে বড়ভাই ডেকে নিয়ে গেলেন বাসার ছাদে। অনেকক্ষণ কিছু না কৈয়া শেষে কৈলেন, কালকে সকালে আমার সাথে ঢাকা চল। জামা-কাপড় গুছিয়ে নে। আল্লারে, কয় কী ? ঢাকা যামু মানে ? আমার মুন্নির কী হৈবো ? আমার প্রেম ! মুখে কৈলাম, ঠিকাছে। খুব সকালে বড়ভাই আমারে ঘুম থেইকা ঊঠালেন। বললেন, চল আমার সাথে। আমি ঘুম চোখে কৈলাম, ভাইয়া আপনি আজকে যান, আমি কালকে যাবো। বড়ভাই কিছুই বল্লেন না। পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে বল্লেন- কালকেই কিন্তু চলে আসবি, ঠিকাছে। জ্বী, ঠিকাছে বলে টাকাটা বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম।
বিকাল বেলায় আমার জানে দোস্ত মিলন এল। ওর বোনের বাড়ি ফেনীর রামপুরা গ্রামে। প্রায়ই মিলন বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে। আর আসলে আমাদের বাসায়ও আসে। ওকে বিস্তারিত বললাম। জানতে চাইলাম, ভাইয়া হঠাৎ করে আমারে ঢাকা নিয়ে যেতে চাইছেন কেন ? ওর কথা শুনে আমার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো। মানে, ভাইয়া মুন্নির কাছ থেকে আমাকে সরানের জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন...। সব্বোনাষ, আমিতো এভাবে ভাবিনি ! কী করা যায় দোস্ত ? বুদ্ধি দে। ও বুদ্ধি দিলো। বললো, মুন্নি রাজি থাকলে চল পালাই...। দোর কাছে ১০০ টাকা আছে। আমার কাছেও শ'খানেক আছে। চল, চিটাগাং যাই। ওখানে মাজু (মিলনের আরেক বোন) আছে। নো চিন্তা ! চিটাগাং গিয়ে তোরা বিয়ে করবি...। তুই আজকেই মুন্নির সাথে কথা বল। কথা বল্লাম, সে রাজি হলো। ঠিক হলো, রাতেই পালাবো। রাত ১১ টায় চট্টগ্রামের ট্রেন। ১০ টার দিকে মুন্নি বাসা থেকে বেরিয়ে আসবে।
আমি আর মিলন কলোনীর গেটে দাঁড়িয়ে আছি...। রাত দশটা। দশটা বেজে ৫ মিনিট। ১০ মিনিট... ১৫ মিনিট... ২০ মিনিট... ২৫ মিনিট.... । এভাবে ১১ টা বাজলো। মুন্নি আর বের হয়না। আরো ৩০ মিনিটের মত দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে পালালাম আমি আর মিলন। তবে চিটাগাংয়ের পথে নয়...। সব মেয়ে বেঈমান, পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই... এইসব ভাবতে ভাবতে আমরা ২ বন্ধু মহিপাল বিশ্বরোড থেকে নাইট কোচ ধরলাম । সে বাসের গন্তব্য লক্ষীপুর। বাড়ি থেকে পালালাম আমি। এটাই আমার প্রথম পালানো নয়...।





পালানোর কথা ছিল একটা মাইয়ার লগে, পালাইলেন একটা পোলার লগে। ঘোরতর সন্দেহজনক কথাবার্তা
কী করুমরে ভাই, পালানোর কথা আছিলো ৩ জনে। মাইয়াটা আইলো না। কী আর করুম, ২ দোস্তে মিল্যা পালাইলাম...
আপনি আর মিলন--------চট্টগ্রাম পালাইলে বেশি মানাইতো কিন্তু।
এরপর এরপর??
মুন্নী কাহিনীর পরবর্তী অংশ জান্তে মঞ্চায়....
এত অস্থির হৈছো ক্যান ? লেখুমতো...
হ... লেখেন ঠিকাছে। তয়, রায়হান ভাই'র মত জানুয়ারিতে এক পর্ব, মে'তে আইসা আরেক পর্ব ইরাম কইরেন না...

আইজ কাইলকার মইধ্যেই লিখুম
মুন্নীর বুদ্ধি অনেক ভালো। ঐ বয়সে যথেষ্ট বুদ্ধি ও ম্যাচুরিটির পরিচয় দিছিলো কিন্তু
কেমনে বুঝলেন ? ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ??
আবার এসেছে অমর প্রেম কাহিনী টুটুল -নাজ এর সুপার ডুপার প্রেম কাহিনী এর পর .।.।।।হ্যা ভাই.।.।.।.।.।.।.।.।.।।ভাই.।.।.।.।.।.।.।.।।। শুরু হয়ছে মুন্নী মেসবাহ এর অমর প্রেম কাহিনী.।.।।কিন্তু প্রথমেই কেন মুন্নি আসলো না স্টেশনে????? কেন মেসবাহ কে পালাতে হলো মিলনের সাথে???????মিলন মেসবাহ এর এই মিলন কি শেষমেশ কি পরিনতি এর দিকে আগাতে পারবে.।.।।।??????????জানতে হলে পড়ুন পরের.।.।।।
নাহে ভাতিজা। এইটা টুটুল নাজের কাহিনী না।এইটা তো মাত্র একজনের কথা কইলো। আরো আসিবে। চলতেই থাকবে।
তারপর কি হইলো মেসবাহ ভাই?তাড়াতাড়ি লিখেন।এত আইলসা কেন আপনি?
এইতো বুদ্ধি হৈতাছে। মাশাল্লাহ ! সোবহানাল্লাহ !!
এইটা জানার জন্য বুদ্ধির কি দরকার। এর আগে আপনি ১৫ জনের সাথে প্রেমকাহিনী লিখছেন। সবাই সেই কথা জানে। আল্লায় দুইন্যাত মনু ভাবীরে বানাইছিলো দেইখা নাইলে সবসময় আপনের এমন মিলনের লগেই পালাইতে হইতো।
এখন পরের পর্ব লেখেন। জানতে মন্চায়।
আরে আমিতো প্রেম কাহিনী লেকতে বৈ নাই... একটা কাহিনী লেখুম। এইটা হৈলো সেই কাহিনীর সুরুয়াত বা শুরু বা ইনট্রো বা সূচনা... আমার জীবনের বিশেষ ২৮ দিনের কাহিনী লেকতে চাইতাছি... বুঝা গেছে ??
বুঝছি The Understand.এখন পরের পর্ব লেখেন।
মুন্নীর পরিচয় এত বিস্তারিতে বলার জন্য মাইনাস। লেখারে প্লাস। মজার হৈছে।
ক্যান, মুন্নী কি তোমার খালাত বইন লাগে ??
...............ক্লাসে পড়া মুন্নী আমাদের কলোনীতেই থাকে। ওর বাবা আর আমার বাবা একই অফিসে চাকরী করেন। ওদের বাড়ি ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বড়িকান্দি গ্রামে। .............
-এইভাবে পরিচয় দিয়ে দেওয়া কী ঠিক হৈল!
আরে বইন, এইটা হৈলো ৮৪ সালের ঘটনা। সর্বশেষ মুন্নিরে আমি দেখছি ৯৬ সালে। হবিগজ্ঞে। তখন সে ২ কইন্যার জননী... সো নো প্রব...
শেষ মেশ পোলার লগে পালাইলেন ছ্যা ছ্যা ।
মাইয়াতো আর আইলোনা... কী করুম... ২ বন্ধুই পালাইলাম
ওক্কে- আমি এই ফিলিমের একটা নাম দেই -- বান্টি অউর বাবলু!!! খ্যাক।
মানলাম, তয় আপনে কন- এরিকের বাপ কেডা ? আপনি নাতো ??
বেচারা !!!
এই জীবনে য়াযাদ ভাইয়ের কয়টা প্রেম এসেছিলো ? ( নিরবে এবং সরবে )
বস, এইডা কৈলাম পুরান কাহিনী। মূল কাহিনী কিন্তু প্রেম না, ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিতাছে... মুন্নী কাহিনী হৈলো ইনট্রো বা সূচনা.... শিরোনামটা দেখেন্না
এটা কি আগের ১৫টার বাইরে?
"এরশাদ নোয়াখালীর ঘড়ে ঘড়ে"
মুন্নি কাহিনী আগেও লেখছিলাম। আইজকার কাহিনীর লগে মুন্নি কাহিনীর একটা লিংক আছে। তয় আইজকার কাহিনী কৈলাম প্রেম কাহিনী না... এইটা হৈলো মূল কাহিনীর ইনট্রোডাকশন..... আফসুস ! শিরোনামটা আরেকবার পড়...
যেইটা লেখতাছেন ঠিকাছে, ঐদিন কইছিলাম লিখতে। তবে মুন্নি কাহিনী আরকটু ডিটেইলস জানা দরকার, যেমন কতদূর আগাইছিলেন, আপনারে ভরসা করতে পারে নাই ক্যান, অনেক বচ্ছর পর দেখা হওয়ার পর কী বাৎচিত হইলো।
সহমত রায়হান ভাই এর সাথে। জানতে মন্চায়।
অনেক বছর পরে মুন্নির লগে দেখা হওনের কাহিনী লেখমুনে। তাও দেখা হৈছিলো হবিগঞ্জ শহরে।
মুন্নির্তো ঐ বয়সেই ওনেক বুদ্ধি! উত্তম জাঝা তারে।
সে এখন ২ সন্তানের জননী... থাকে হবিগঞ্জে.... একদিন আমার লগে দেখা হৈছিলো.... সে আরেক কাহিনী... মাইয়ারা অল্প বয়সেই অনেক বুদ্ধিমতী হয়। ঝুনা নারকেল আর কী !!
ফেনী-ওয়াপদা কলোনি-মহিপাল।
হা হা আমার বেড়ে ওঠা এসব জায়গায়। আমারে ক্যান আগে খবর দিলেন না।
কোনখানে ভাইজান ? আন্নে কি হেনীর মানষ নি ?
মুন্নীরে পেলাস!
তিন জনে পলানি হয় না। দুইজনে হয়।
আরে দুর ! কাবাবমে হাড্ডি না থাকলে কি চলে ? তাওতো হৈলো না...
সে প্রথম প্রেম আমার মুন্নী--------
সে যে এলো না এলোনা কেন এলো না জানি না-----
খুব মজা পেলাম।
ওদের বাড়ি ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বড়িকান্দি গ্রামে।
বসতো বহুদূর আগাইছিলেন মনে লয়
শুধু আগাই নাই। বড়ি কান্দি গ্রাম পর্যন্ত গেছিলাম।
মন্তব্য করুন