মনটা বেজায় ভাল
১৪ ডিসেম্বর আমার চাকরত্বের ৬ বছর পূর্ণ হল। কাল ১৫ তারিখ চাকুরীতে ইস্তফা দিলাম। ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম। মনের আনন্দে দুপুরে কয়েকজন সহকর্মীকে খাওয়ালাম। মোরগ-পোলাও...। সারা অফিসের কেন্দ্রবিন্দু- আমার ইস্তফাপত্র। কারো ধারনা, কিছু না বলে আমাকে নিরিবিলি ছেড়ে দেবে। কারো কারো মতে, আমাকে ডাকবেন। ভাল অফার দেবেন। রাখার চেষ্টা করবেন। আমার মতামত জানতে চাইলে আমি হাসি। তেমন কিছু বলিনা।
ডাক আসবে, জানি। সারাদিন গেল। ধৈর্য্যধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। ৫.৪৬ মিনিটে ডাক আসলো। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমার সাথে কথা বলতে চায়। রুদ্দদ্বার বৈঠক হল। ওপারের মানুষটি সাকুল্যে ৬টি বাক্য বললেন। আমি শুধু উত্তর দিলাম। বাড়তি মাত্র ২টি বাক্য বললাম। আমাদের দুজনের মোট বাক্য বিনিময় হল- ১৫টি।
০ এইটা কী পাঠিয়েছ ?
০০ নিশ্চুপ
০ কেন যেতে চাচ্ছো, সমস্যা কী ?
০০ ভাল একটা অফার পেয়েছি
০ তোমার বেতন আর অন্যান্য সুবিধাদি বাড়িয়ে দেই ?
০০ না স্যার, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলে যাব...
০ সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছো...? কবে যেতে চাও...?
০০ ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে...
০ ঠিক আছে যাও... ভাল থেকো...
০০ স্যার, একটা কথা বলি ?
০ কিছুই বললেন না... চোখ তুলে তাকালেন...
০০ ৬ বছর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। চলে গেলেও প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি কোনদিন ক্ষতিকারক হব না। তবে আমি চলে যাবার পর অমুকের (যাকে আলকাতরা থেরাপি দেবার পরিকল্পনা করেছিলাম) সাথে আমার কিছু বোঝাপড়া আছে....
আর কিছু না বলে এবং বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে এলাম। নিজেকে বড় হালকা মনে হচ্ছে। লিফটে না নেমে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলাম... অনেকেই অপেক্ষা করছে ব্রেকিং নিউজ শুনার জন্য। রুমে আসার পর হামলে পড়ল সবাই। নানাজনের নানা প্রশ্ন...। শুধু বললাম, আমি চলে যাচ্ছি এটা ফাইনাল। স্যারের সম্মতি নিয়ে এসেছি...।
আমার ছুটি পাওনা আছি- ৫ দিন। সব ঠিক থাকলে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে ২৬ ডিসেম্বর আমার শেষ কর্মদিবস। ২৭ থেকে ৩১ পর্যন্ত ছুটিতে থাকব।





বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা মেসবাহ ভাই।
আজকের দিনে খালি সুসংবাদই শুনছি। সাকাকে গ্রেফতারের খবরে সকালে মনটাই ভরে গেছে।
নতুন বছর, নতুন অফিস, শুভকামনা থাকলো।
সব ভাল খবর ম্লান করে দিল একটি খবর। রাজাকার, খুনী, দেশদ্রোহী সাকাচৌ ধরা পড়েছে... এর চেয়ে ভাল খবর আজকের দিনে আর কী হতে পারে ?
থ্যাংকু...
একেবারে টাটকা খবর । খুশি হব, দুঃখ পাবো ,নাকি বিস্মিত হব বুঝতে পারছি না । ভাল থাকবেন ।
১৭ তারিখ বিকেলে ? ছবির হাটে ? কালই তো ! দেখা হবে ।
দুঃখ পাবার কিছু নেই, খুশি হোন দাদা...
কালকেই, ছবির হাটে...
প্রতিক্রিয়া অতি মিশ্র প্রকাশের ভাষা নেই। তবে এইসময়ের পেক্ষাপটে চাকুরী ছাড়া খুব সাহসী কাজ। ভালো থাইকেন।
থ্যাংকু ঈশান... সাসসী কাজ সবাই করতে পারে না। কেউ কেউ পারে...
সাসসী= সাহসী
মেসবাহ ভাই কি জয় । চলেন দাদা, পিকনিকের পর আপনার পাহাড়ে যাই এই খুশীতে ।
কালকে কি পার্টি হবে এই উপলক্ষ্যে ????
কালকে পার্টি হবে, কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমি গেস্ট, হোস্ট কে জানিনা। জানতে চাইও না...
মনটা খারাপ করে দিলেন দাদা।
খিচুড়িটা মিস করলাম।তয় আপনে যে খুশি এতে ভালো লাগছে।আলকাতরা থেরাপিটা দেয়ার সময় সাঈদ ভাই অথবা রায়হান ভাইরে রাইখেন ছবি তোলার জন্য।
আমরা পরে দেখুম।
তুমি ঢাকা এলে তোমাকে ল্যাবএইডের খিচুড়ি খাওয়াবো, প্রমিজ। মন খারাপ করো না...
ব্রাভো মেসবাহ ভাই! সাহসী পদক্ষেপের জন্য আপনাকে স্যালুট।
প্রবাসে আমার দেখতে দেখতে আট বছর হতে চলল। বিয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকীও এ মাসেই। আপনার বউ, ছেলেদের নিয়ে ৪/৫ দিনের জন্য বাপের বাড়ি গেলে ছেলেদের জন্য আপনার মন কেমন করে সেটা বলেছিলেন এক পোষ্টে। কিছুদিন হল আমার মেয়ের ১ম জন্মদিন গেল। আমি থাকতে পারিনি, প্রবাসের চাকুরি সেই সুযোগ দেয়নি। ভাবুন আমার মনের অবস্থা।
তাই, অনেকদিন যাবত ভাবছি প্রবাসের এ চাকরি ছেড়ে দেশে চলে যাব। চাকরি ছেড়ে দেশে গেলে সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত, কিন্তু মন একদমই বশে থাকতে চায় না এই প্রবাসে। চাই আপনার মত সাহসী একটা পদক্ষেপ।
বউ বলে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আর দশটা মাস ধৈর্য্য ধরে থাক। আমি দাঁতে দাঁত চেপে থাকার চেষ্টা করছি, জানিনা কতদিন ধৈর্য্য থাকে। ঝাপ আমি দিবই অনিশ্চয়তার সাগরে, যেই সাগরের অপর পাড়ে আমার স্ত্রী-কন্যা।
"আমি অপাড় হয়ে বসে থাকি ওহে দয়াময়, পাড়ে লয়ে যাও আমায়"।
ল্যাব এইডের খিচুড়ি, আড্ডা মিস করব অনেক। তবে আপনার জন্য শুভকামনা। ভালো কিছু হোক।
খিচুড়ি, আড্ডা কোনোটাই মিস হবেনা মিস...
বরং জোরে কথা বলা বা হাসাতে আর বাধা থাকবেনা।
শুধু বাইরের বারান্দায় যাওয়া যাবেনা... ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবেনা
তখন আমিযে বহিরাগত হয়ে যাব...
শুভকামনা।
কয়জন পারে চাকরী থেকে রিজাইন করতে।আপনি পেরেছেন...
ল্যাবএইড রে ঘিরে চক্কর-মক্কর মিস করবো, আশা করছি নতুন জায়গায়ও আমরা খূটি গেড়ে বসতে পারবো, আর খেয়াল রাইখেন যেখানেই যান তাদের যেন উন্নতমানের ক্যান্টিন আর আড্ডার সুব্যবস্থা থাকে... :)
জেবীনের দাবির সাথে আমিও গলা মেলালাম।
শুভকামনা। কোনটায় জয়েন করলেন এ্যপোলো না স্কয়ার?
সাহসী কাজ সবাই করতে পারে না। কেউ কেউ পারে-------১০০% সত্য কথা
আপনার জন্য শুভকামনা মেসবাহ ভাই।আমারো খিচুড়ি খাইতে ইচ্ছা করতেসে 
নিশ্চয়ই সব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন দিনের পথ চলা আরো ভালো হবে এই আশা করি।
মেসবাহ ভাইয়ের জন্য শুভকামনা... লিভ স্ট্রং
শুভকামনা মেসবাহ ভাই।
আমার মন্তব্য আপনার পছন্দ হবে না।
সবাই যে আপনাকে এই সময়ে রিজাইন করায় বাহবা দিচ্ছে, সাহসী খেতাম দিচ্ছে কেন সেটার কোন যুক্তি খুজে পাই না। এই কাজকে এপ্রিশিয়েট করা কোন ভাল কিছু না।
আপনার এক জায়গায় বেশীদিন চাকরি করার ধৈর্য নেই, সেটাই বরং মনে হচ্ছে। ৬ বছরই অনেক বেশী। তবে, এক অর্থে সেটাও একটা স্বাধীনচেতা মনোভাবের পরিচায়ক। যা খুশি তা করতে পারায় বিপুল পরিমান আনন্দ আছে। আপনি মনে হয় সেটা পাচ্ছেন এবং পান।
নিজের সাথে নিজেরই বিরোধীতা হলো না, রন্টি ?
আসলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হুটহাট ইচ্ছামত ডিসিশান নেয়াটা মনে আনন্দ দিতে পারে সেটা এপ্রিশিয়েট করার মত। কিন্তু হুটহাট চাকরি ছেড়ে দেয়াটা তার বিপরীত। সেইটাকে সমর্থন দেয়ার প্রশ্নই আসে না। এইত।
"সিদ্ধান্ত গ্রহণে যে বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না সে জীবনে উন্নতি করতে পারে না।" মেজবাহ ভাই বুদ্ধিমান এবং ভালো মানুষ, বুদ্ধিমান ভালো মানুষ যে কোন ভালো কিছু করতে পারে। শুভকামনা।
এভাবে যাওয়াটা শুনলে খানিকটা ভালো লাগে।
কারণ আমিও যেতে চাই কিন্তু পারিনা কারণ সাহস লাগে।
তাই যখন আমাদের সহকর্মীরা যায় তখন তাকে বাহবা দিই ভাবি আমার না পারাটা কাজটা ও করে দেখিয়ে দিয়ে গেছে।
এবার কবির একটু সাহস যোগাও। কিন্তু এই পর্যন্তই!
অনেক অনেক অনেকদিন পর আবারো আপনাকে পেলাম।
মনে আছে কী-না জানি না তবে আমার মনে আছে।
ভালো থাকুন।
শুভকামনা অবিরাম
কবির ! সুনামগঞ্জ তো ?
ওয়েলকাম টু এবি ব্লগ...
সিলেট। বিয়ানীবাজার।
এখন অনেকদিন হয় ঢাকায় ঢাকা পড়ে আছি!
বন্ধু, আমার কিছু বলার সাহস নেই।
ঠিক গত বছর ১৬ ডিসেম্বর আমি বেক্সিমকো'র চাকুরীটা ছেড়ে দিয়েছিলাম নুতন কোন চাকুরী ঠিক না করেই। পরের ইতিহাস তো জানোই।
দোয়া ছাড়া আর কি করতে পারি।
হাল ছেড়োনা বন্ধু, সাথে আছি, থাকব - আমৃত্যু। স্বপ্ন সফল হউক। ..
অভিনন্দন। এরকম বীরত্বের কাজ বিবাহিত মানুষেরা পারে না

বস, সত্যি বলছি, আপনার পাহাড় ভ্রমনের গল্প পড়েতো পাংখা হয়ে গেলাম... যাইতে মঞ্চায়...
মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বুঝতে পারতাছি না ভাল হইছে না খারাপ হইছে।
ডোন্ট ওরি বস...
একজন সাহসী মানুষের জন্য শুভকামনা রইল।
আমি একবার চাকরি ছেড়েছিলাম আজই এক্ষুনি বলে। এক মাসের আগাম নোটিশ দেইনাই বলে একমাসের বেতন গচ্চা। আরেক চোরের ওখানে রিজাইন লেটার দিয়েছিলাম। ওই চোর একদিন আগের তারিখ দিয়ে আমার নামে টার্মিনেশন লেটার ইস্যু করেছিলো।
চাকরি ছাড়ার চাইতে পাওয়া সহজ। তবে বেশি সুবিধার চাকরির জন্য কিছুটা সময় চাই। শুভকামনা থাকলো।
মেসবাহ ভাইকে আমার দারুন সাহসী মনে হয়েছে দেখার পর।
চাকরি ছাড়ার সাহস যার আছে, চাকরি তার পিছনে ঘুরে।
শুভকামনা নতুন চাকরির জন্য।
থ্যাংকু আসিফ...
মন্তব্য করুন