ইউজার লগইন

বই মেলা কড়চা- ১

সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার বাইরে যাই না। ঢাকাতে থাকার চেষ্টা করি। এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে বই মেলায় যাই। বই মেলায় এদিক সেদিক ঘুরে অবশেষে এক জায়গায় জড় হই। এবং মেলার শেষ লাইটটা নেভানো পর্যন্ত আড্ডা দেই। তারপর দল বেঁধে টিএসসি পর্যন্ত হেঁটে আসি। সেখানে আমার হলুদ বর্ণের মোটর সাইকেলটা থাকে। প্রতিদিনই মেলা থেকে বেরিয়ে ভাবি, টিএসসিতে গিয়ে দেখবো মোটর সাইকেলটা নেই। কেউ নিয়ে গেছে। অথচ কেউ আমার মোটর সাইকেলটা নেয় না। না নেবারও একটা গোপন কারণ আছে...
আমার হলুদ বর্ণের হোন্ডা এম্বিশন মোটর সাইকেল এসেছিলো ঢাকাতে মোট ৬ টি। স্যাম্পল হিসেবে। ৯ বছর আগের হলুদ ৬ টি এম্বিশন যার মধ্যে বর্তমানে এই ঢাকা শহরে টিকে আছে সাকুল্যে ২ টি। তার একটি আমার, অন্যটি এক ট্রাফিক সার্জেন্টের। সো, চোর এই রেয়ার মোটর সাইকেলটি চুরি করার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক আছে বলেই মনে হয়। ধান বানতে গিয়ে শীবের গীত গেয়ে লাভ নেই। বই মেলা নিয়ে লেখতে গিয়ে মোটর সাইকেলের প্যাচাল শুরু করে দিলাম।
তো, বই মেলা শেষ করে হোন্ডা দাবড়িয়ে টিএসসি থেকে চারুকলার ছবির হাটে আসি। সেখানে আবার মহা কর্মযজ্ঞ চলছে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আমাদের ছবির হাটের ঘুড়ি উৎসব। এবার ঘুড়ি উৎসবের ৮ বছর হবে। সে কারণে শিল্পী বন্ধুরা ছবি আঁকে প্রতিদিন। সে ছবি বিক্রির টাকা থেকে সংগৃহিত হয় ঘুড়ি উৎসবের মুল ফান্ড। সেখানে ১০ টা নাগাদ আড্ডা দিয়ে তারপর বাসায় ফিরি।
যেদিন থেকে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা বই মেলা উদ্বোধন করা শুরু করেছেন, সেদিন থেকে মেলার প্রথম দিন মেলার দিকে পা বাড়াই না। এমনিতেই প্রথম দিন মেলার স্টলগুলো ঠিকমত সাজানো হয় না। শুধু পিএম আসবেন বলে তড়িঘড়ি করে কিছু স্টলের ডেকোরেশন করা হয়... উদ্বোধনের পরও তেমন লোকজন যায় না। আমিও না। গত ৩ বছর মেলায় যেতাম প্রথম দিন বাদ দিয়ে ২৭ দিন। এবার যেতে পারবো ২৮ দিন। কী সৌভাগ্য! এ বছরের ফেব্রুয়ারি যে ২৯ দিনে। এবারের মেলাটা একটু অন্যরকম হবে বলেই মনে হয়। এবছরই প্রথম বারের মত আমরা বন্ধু ব্লগের ২০১১ সালে ব্লগে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা নিয়ে একটি সংকলন; যার নাম ম্যুরাল বেরুনোর কথা। সব ঠিক থাকলে আশা করছি ৮ ফেব্রুয়ারিতে ম্যুরাল লিটল ম্যাগ চত্বরে পাওয়া যাবে।
এবার পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়ে প্রতিদিন একটি করে বই মেলা কড়চা লেখার ইচ্ছে আছে। যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে মধ্যরাতে সেটা পোস্ট করবো। আশা করছি, রাত জাগা ব্লগারটা টাটকা আর অন্যেরা পরদিন সেটা দেখতে পাবেন এবি'র পাতায়। সবাই ভাল থাকুন।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


রাতজাগা ব্লগারের খাতায় আমার নাম উঠানোর আবেদন করলাম বস্। Smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


তবে তাই হোক... Big smile

মীর's picture


আরেক্টা কথা, হলুদ এ্যম্বিশন একটা প্রায়ই আমার চোখে পড়ে এই পোস্টের কাকার দোকানের সামনে। এইখানে দাঁড়ায়ে অবশ্য একদিন আপনারেও হলুদ এ্যম্বিশন টাইনা বাইর হয়ে যাইতে দেখছি সামনে দিয়া।

জোনাকি's picture


বই মেলাতে যামু ! Sad
আমিও আছি টাটকা পুষ্ট পড়বার লাইগা ! Big smile

ভাস্কর's picture


নব্বই দশকের শেষভাগ পর্যন্ত কিন্তু মেলা প্রথম দিনেই বেশ জমাট হইতো। আগের রাইতে আমরা দল বাইন্ধা স্টল সাজাইতাম...প্রথম দিন স্টল ইনকমপ্লিট থাকার চলটা ২০০০ সালের পর থেইকা শুরু হইছে। যদ্দূর মনে পড়ে হারুন অর রশীদ স্যার মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় প্রথম দিন স্টল কমপ্লিট না করতে পারলে অল্প কিছু ফাইনও করা হইতো...

তানবীরা's picture


রাত জাগা ব্লগারটা টাটকা

টাটকা পড়ে টাটকা কমেন্ট করবো বস

একটা কবিতা আপনার জন্যে

আবারো মিস করবো তোমাকে প্রিয় বইমেলা

কিন্তু তুমি জেগে থেকো, অপেক্ষায় থেকো

কোন একদিন ফিরে আসবো

ফেব্রুয়ারীর শীত সন্ধ্যায় তোমার বুকে

তাজা বইয়ের মাতাল গন্ধ

মাইকে বেজে যাওয়া অহরহ

কবিতা গান কিংবা আলোচনা

যার কিছু শুনছি আবার কিছু না

বাইরে চটপটি ফুচকার হাঁকডাক

সদ্য গজানো তরুনীদের পরনে

নতুন তাঁতের শাড়ির মাড়ের ঘোচঘাচ

কাঁচের চুড়ির টুংটাং

বইমেলা তুমি ফিরে ফিরে এসো

এই ফেব্রুয়ারীতে, আমিও অপেক্ষায় থাকবো

আগুন ঝরা এই ফাগুনে

তোমার জন্যে শুধু তোমার জন্যে।

তানবীরা

০৮।০১।১০

জেবীন's picture


কমেন্টে বলতে চেয়ে ছিলাম, শাড়ি, কাচেঁর চুড়ি, যে কোন ড্রেসের সাথে রঙ মিলুক কি না মিলুক লাল বা কালো বড়ো টিপ পরে, খোঁপায় গোজা ফুল, সাজ দিয়ে মেলায় যাবার মজাটাও অন্যরকম, আবার ভিড়ে হাটতে গিয়ে সাথের জনের হাতটা চেপে চলা, ভিড় সরে গেলেও হাত না ছেড়ে হাটা - আহা Laughing out loud

মিস করবো তোমাকে প্রিয় বইমেলা

রাসেল আশরাফ's picture


বাসী কচড়া পড়ার জন্য নাম লেখালাম।

ম্যুরালের মোড়ক উন্মোচনের অপেক্ষায়।

জেবীন's picture


সেইকোনার কথা বললেন না, কাপের পর কাপ চা, আর ভাজাপোড়া খাইতেই থাকে সব্বাই অর্ডার কয়টার দেয়া হইছে হিসাব যে কেম্নে রাখা হয়!! Shock
হলুদ বাইকের কাহিনি আহেই শুঞ্ছিলাম যদিও আবার শুনতে খারাপ লাগে নাই Smile

মেলা মিস করবো খুব। আসর দারুন জমুক এই আশাই করছি।

১০

সাঈদ's picture


মেসবাহ ভাই যেখানে , সকল আছান সেখানে ।

চলুক বই মেলার দিনলিপি

১১

মামুন ম. আজিজ's picture


প্রথম দিন মেলায় গিয়ে খুব একটা লাভ হবে না জানতাম। তবুও এবার যেতে হয়েছে। মেলা শুরু হবে আর আমি দেখব সাতদিন পরে। এ কিহয়। মন মানেনা। কাল সকাল যাব সিলেট। আজকেও মেলায় যাওয়া হবেনা। তাই প্রথম দিন এক নজর চেহারাটা দেখে এলুম। .....মুরাল কবে আসবে ...আপনার এই রোজনমাচা পড়ে নিশ্চয়জেনে যাব।

১২

মাহবুব সুমন's picture


Sad

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


টাটকা লেখা বাসি করে পড়লাম Sad তবে একটা তাজা তাজা গন্ধ কিন্তু পেলাম...

মেলার প্রতিদিনের গল্প পড়বো... সবার মতো অামি-ও নাম লেখালাম মেজবাহ ভাই।।

আমাদের ম্যুরাল বেরুবে... বন্ধুরা প্রাণান্ত খাটছে বইটির জন্য-এই বইমেলা তাই অনন্য- সবদিক থেকেই।।

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চলুক বই মেলার দিনলিপি Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।