বই মেলা কড়চা- ৮
বই মেলা নিয়ে প্রতিদিন একটা কড়চা লিখার ইচ্ছে মেলা শুরুর আগে থেকেই ছিল। সে মতে শুরুও করেছিলাম। সেটা দিন দিন কিঞ্চিত জনপ্রিয়ও হয়ে ঊঠার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আজ কাল আমি শংকিত। কড়চার মুল বিষয় হয়ে উঠছে- মুরগা ধরা। এ কারণে ব্লগারের উপস্থিতি ক্রমান্নয়ে কমে যাচ্ছে। মেলায় গেলেও অনেকে আজকাল লিটল ম্যাগ চত্বর এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। ফলে মুরগা হবার ভয়ে আর অনেকেই আড্ডায় যায় না। আজ মেলায় ঘুরতে ঘুরতে দেখলাম আনিস ভাই, নূপুর আর লীনা ফেরদৌসকে। মেলায় গিয়ে শুনলাম- জয়িতা আর লীনা মেলায় গিয়ে দ্রুত মেলা ত্যাগ করেছে। সেটাও মুরগা হবার ভয়ে...। কী সব্বোনাষ ! এভাবে চললেতো মুরগা পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়বে। তবু হাল ছাড়ছিনা। আল্লাহ ভরসা...।
আজ মেলায় যেতে যেতে বেশ দেরি করে ফেলেছি। কেন দেরি হল সেটা পরে বলছি। মেলায় ঢুকেই প্রথমে গেলাম লিটল ম্যাগ চত্বরে। গিয়ে দেখি- ভাস্কর, কৌশিক, গৌতম আর বিজয় বসে কফি খাচ্ছে। ওরা তখনও আমাকে দেখেনি। হঠাৎ শুনলাম, কে যেন বলছে- 'আশে পাশে মেসবাই য়াযাদ নাইতো...?' গলার স্বরটা আমি ঠিক ঠাওর করতে পারলাম না। সংলাপ শুনে মনে পড়ে গেল রনিকে। আরে রনিকে চিনলেন না ? রনি হচ্ছে নাটোরের ছেলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার ছাত্র। ইদানীং রনিকে দেখা যায় ভারতের জি বাংলা চ্যানেলের 'মিরাক্কেল আক্কেল' অনুষ্ঠানে। তো, সে অনুষ্ঠানে রনি জোকস্ শুরু করার আগে বলে- 'আশে পাশে শুভঙ্কর'দা নেইতো ?' শুভঙ্কর হচ্ছেন মিরাক্কেলের প্রযোজক...। মিরাক্কেলের সবাই শুভঙ্কর আতঙোক থাকে, আর বই মেলায় এবার সব ব্লগাররা মেসবাহ আতঙ্কে আছেন। তাই আজকে সিদ্ধান্ত নিলাম, আর মুরগা ধরা হবেনা। তারপরও হে প্রিয় ব্লগাররা, আপনারা মেলায় আসুন, আড্ডান। আর কেউ ইচ্ছে করলে আমাদেরকে এটা সেটা খাওয়াতে পারেন। স্বইচ্ছায় কেউ খাওয়ালে আমরা তাকে অবশ্যই ইজ্জত করে মুরগা না বলে স্পন্সর বলব- প্রমিজ...।
আজ মেলায় দেরিতে যাবার কারনটা এবার বলি। গতকাল মেলা থেকে তিনটা বই কিনেছিলাম (আল্লার কসম নিজের টাকায় কিনেছি, এব্যাপারে কাউরে মুরগা বানাইনি...)। দুপুরে খাবারের পর সে বইয়ের একটি নিয়ে পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে কখন জানি ঘুমিয়ে পড়েছি। আর ঘুমানোটাইতো স্বাভাবিক। রাত ১/২ টা পর্যন্ত জেগে ব্লগে কড়চা লিখে প্রতিদিন ঘুমাতে যাই ২/৩ টার দিকে। ফলে ঘুমের তৃপ্তি হয়না। ঘুম ভাঙলো বন্ধু স্বপনের ফোনে। ও বলল- মেলায় যাবার সময় ওকে যেন অবশ্যই নিয়ে যাই। মুখে একটা বিশ্রী ধরণের গালি আসলেও সামনে স্ত্রী-পুত্র থাকায় তা চেপে যাই। চিবিয়ে চিবিয়ে শুধু বলি, আমি কি তোর ড্রাইভার নাকি যে তোকে প্রতিদিন বাইকের পেছনে বসিয়ে মেলায় নিয়ে যাব ? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে নিজেকে কিঞ্চিত বেকুব মনে হল। সাড়ে পাঁচটা বাজে। সর্বনাষ ! চারটার সময় প্রেসে যাবার কথা...। মনে মনে স্বপনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। ও ফোন না করলে হয়ত আরো পরে ঘুম ভাংতো..। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ফার্মগেট টু আরামবাগ। প্রেসে গিয়ে ম্যুরালের ডামি কপি দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। মাপের ক্ষেত্রে কোথায় জানি একটা ঝামেলা হয়েছে... প্রেসের সেলিম সাহেবও চিন্তিত। 'আমি এসবের কিছুই জানিনা, কালকে বিকালের মধ্যে বই চাই, ব্যস' বলে প্রেস থেকে বেরিয়ে পড়লাম।
মেলায় একচক্কর মেরে আড্ডার জায়গায় এসে দেখলাম- কৌশিক, ভাস্কর তখনও বসে আছে। নজরুল কবীর ও আছে। নজরুল জানতে চাইলো আজকের মুরগা কে ? বললাম, এখনও পাইনি। সে বললো- প্লিজ, আজকে আপনিই মুরগা হয়ে যান...। কৌশিকও বললো। বলে কী, এতো দেখি নিজের ফাঁদে নিজেই ধরা পড়ার দশা। আজ আমার কাছে লিটল ম্যাগ চত্বরটা বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছেনা ...। মানে মানে কেটে পড়লাম সেখান থেকে। বেরিয়ে যাবার সময় দেখা হল- কবি, সাংবাদিক রঞ্জু রাইমের সাথে। মেলাদিন পরে দেখা। ভদ্রলোক বর্তমানে কাজ করেন ভোরের কাগজে। একসময় ছিলেন যুগান্তরে। কী এক কারনে আমাকে বেশ পছন্দ করেন। ডেকে নিয়ে কুশলাদি জানতে চাইলেন। লিটল ম্যাগে তার একটা স্টল আছে। নাম- কবিতা সংক্রান্তি। শুনেতো আমি গদ গদ। বললাম- ম্যুরালের কথা। তিনি বললেন- কোনো সমস্যাই না বস। আমার স্টলে রেখে ম্যুরাল বিক্রী করবেন। শুনে বড় ভাল লাগলো। স্টলে যে ছেলেটা নিয়মিত বসে- তার সাথে আলাপ করিয়ে দিলেন আমাকে। আমি বললাম- কাল আসবে ম্যুরাল। তিনি কাল থেকেই তার স্টলে ম্যুরাল রাখতে বললেন।
শুদ্ধস্বরে দেখলাম মাসুম ভাইয়ের বই এসেছে। আজই। কিনতে গিয়ে মনে পড়ল- মাসুম ভাই পই পই করে বলে দিয়েছেন- গতবার মেলায় তার অর্থনীতির উপর অখাদ্য যেই বইটা আমি আপন টাকা দিয়ে কিনেছি, সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এবার যেন তার কোন বই না কিনি। তিনি অটোগ্রাফসহ আমাকেসহ অন্যদের (যারা গতবার আপন টাকা দিয়ে কিনেছিলেন) তার রম্য রচনাটি গিফট করবেন। তারপরও মাসুম ভাইয়ের একটা বই আমি কিনতে পারি। কিন্তু এতবার করে বলেছেন যে, তাকে কষ্ট দিতে চাইনি। জগতে আসলে এখনও অনেক ভাল মানুষ আছে...। শুধু একটু চোখ-কান খোলা রেখে খুঁজে নিতে হয়...।
তো, ব্লগার বন্ধুরা। আজ এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। কাল (মানে আজকেই, এখন রাত ১.৫২ মিনিট বাজে) দেখা হবে। বই মেলায়, লিটল ম্যাগ চত্বরে। আমাদের ম্যুরাল আসছে মেলায়...। অনেক ব্লগার বন্ধুও আসবেন। এদের মধ্যে কেউ না কেউ নিশ্চয়ই আমাদেরকে খাওয়াবেন। অন্যথায় মুরগা ধরার প্রজেক্টতো রইলই...





আরে! আমরা কেন মুরগা/মুরগী হবার ভয় পাব। ঘরের মুরগী জবাই দিতে নাই। বিমার ভাষায়। কাল ম্যুরাল আসবে, সেই উপলক্ষ্যে বড়সড় কোন মুরগা ধইরেন। থাক এসব না বলি। লোকজন ভয় পায়।
'মুরগা' বাদ দিয়ে 'স্পন্সর' নামকরণ শুভবুদ্ধির পরিচায়ক।
আপনেরে আগেই বলছিলাম... তবে নামটা আরেকটু কাব্যিক হইলে ভালো হয়। এ ব্যাপারে বৃত্ত ওরফে শুভর পরামর্শ নেয়া যায়!
সন্ধ্যায় দেখা হচ্ছে। আমিও যাবো।
আপনিই না হয় একটা কাব্যিক নাম দিয়ে দেন, কামাল ভাই ।
না, এইটা শুভর কাজ। উনি নাম বিশেষজ্ঞ।
মুরগা'র অভাবে মেসবাহ ভাইয়ের শোকগ্রস্ত কড়চাটা পইড়া মনে হইলো আজকে আমারই মুরগা বইনা যাওয়া উচিৎ ছিলো (আজকে মুরগা হইলে মনে হয় সর্বনিম্ন খরচে এই পোস্টে নাম তোলা যাইতো...
)।
সন্ধ্যয় অবশ্যই মুরাল কিনতে হবে।
মামুন ভাই আপনার বইগুলো নিয়ে একটা ডিটেইলস পোস্ট দেন ।
আহারে এইরকম ছাড় দেয়ার মানসিকতা যদি আমাদের হাসিনা-খালেদার থাকতো তাইলে দেশটা অন্যরকম হইতো।


=================
ফেরীওয়ালা ভাই আর লাবণী যেদিন মুরগা হবে সেদিন সচিত্র পোস্ট দিবেন এই দাবী জানিয়ে গেলাম
=================
মুর্যাল আজ আসতেছে আহা ভাবতেই ভালো লাগতেছে
হায় আল্লাহ্!! এগুলা কি কন রাসেল ভাই!!!??
======================
যেদিন যে মুরগা হবে তারে সেদিনের কড়চা উৎসর্গের ঘোষণা দিয়া দেখতারেন পাবলিক আগ্রহী হয় কিনা।
বইমেলা কড়চা নাম না দিয়া মুরগা ধরা অভিযান কড়চা দেন ।
একদিন কামাল্ভাই স্পন্সর হয়ে পরে একটা কাব্যিক নাম সাজেষ্ট করেন, এই মতে জোর দাবী জানাইয়া গেলাম
আরে আমি তো রাজই খাওয়াইতে চাই
কিন্তু মেসবাহ ভাই'র এক কথা - এইরম সহজসরল আলাভোলা মানুষরে মুরগা বানায়া মজা নাই 
সরল মুরগাই খামু
দেখেন ছাড়া টাইপ মুরগার চাইতেও ফার্মের মুরগার কাটতি কিন্তু অনেক বেশি!
আমি কিন্তু স্পন্সর কইছিলাম মুরগা নিজেই বল্লেন!@কামাল্ভাই
সেইটাই রায়হানভাই, সবকিছুরই টেষ্ট থাকা দরকার!
মুরগা নামকরণ এখনও বাতিল করা হয় নাই তো, কেবল প্রস্তাব দেয়া হইছে!
@জেবীন
রাহয়ান ভাই, মুরগা বিষয়ক যাবতীয় সিদ্ধান্ত দাদাভাই নিয়ে থাকেন, আপনে চার্জ বুইঝা নিলেন কবে?
জাতির একটা দাবী আছে না
সরল মুর্গা নামে, কথায় বিরাট গরল। এই মুরগাই ধরার প্রস্তাব দিলাম।
সরল বা গরল কোনো মুরগায়ই আমার আপিত্তি নাই
এই মুরগা (কাব্যিক নামে কি কমু?) কথার প্যাচে বিরাট বিপদে ফালায় দেয়।
যেহেতু আমি নাম প্রস্তাবের আগেই ভোট পইড়া গেছে, সেহেতু "কুক্কুট" নামটি জয়যুক্ত হইয়াছে
কুক্কুট বিরাট কঠিন নাম। কইতেই দাঁতে কড়কড় করতাছে। এমন কঠিন জিনিস খাইবেন কেমনে?
কুক্কুট কইতে কস্ট হইলে কুটকুট কইবেন
কুটকুট মানে কি? গলা কুটকুট করে মানে গলা চুলকায়। এইটা খাইলে গলা চুলকাবে না তো!
আরেহ। কুটকুট হইলো বিস্কুট
যাহ, বিস্কুট নাম হইলো নাকি!
আদুইরা করে নাম দিয়ে ফেলাও কুটু
আইজ দেখি বিকালে টিভির সামনে চক্ষু মেলিয়া বইসা থাকুম।
ইস!! আজ ঢাকায় থাকলে ম্যুরাল-কে ওয়েলকাম করতে পারতাম!!
=======================================
থাক! আপাতত দুঃখ বাদ দেই
আজ ম্যুরাল আসছে--এটাই পার্টি নিউজ!!
=======================
মেজবাহ ভাইর পারফরম্যান্স দেখি তলায়মান! দাদাভাই রাখে আল্লা মারে কে, আজকে বড় বড় রুই পাবেন, একটারে খপ করে ধরে ফেইলেন
একটা মজার কথা কই। এখন পর্যন্ত মেলায় যাই নাই। এইবার কেন জানি মেলায় যাওয়ার আগ্রহ পাইতেসি না। (মনে হয় আপনের কড়চাগুলা পড়েপড়েই মেলা ঘোরা হয়ে যাচ্ছে।
)
আসলে তা না মেসবাহ ভাই। মন-মেজাজ ভালো নাই।
আপনে কেমন আছেন ব্রাদার?
মেলায় না গিয়ে কী রাজকাজ করতেছেন?! মনের এসব হাবিজাবিরে পাত্তা দেবার দরকার নাই... ম্যুরাল নেবেন না?
ম্যুরাল নেয়ার জন্য তো যাবোই। হাবিজাবির ফাঁকে খুব কমই ভালো কিছু আসে। হাবিজাবিরে তাই কেমনে পাত্তা না দিই বলেন?
এই পিছলা মীর শিং মাছ'রে ধরার মতো ছাই এখনো পাইলাম না আমরা, আফসুস!
আল্লাহ ভরসা...।
মন্তব্য করুন