ইউজার লগইন

বই মেলা কড়চা- ১২

মাত্র এক দিনের ভেতর শেষ হয়ে গেল ম্যুরাল প্রথম সংস্করন। সবাইকে বার বার করে বলেছি- বেশি করে বই ছাপাই। না, ওরা রাজি হল না। বলল, এত বই কিনবে কে ? এখন বুঝ মজাটা। আবার প্রেসে দৌড়াও। কাগজ কিনো। আবার কভার ছাপ। ভাগ্যিস, মেশিন খালি পাওয়া গিয়েছিল। তো, এত সব কাজ করবে কে ? কে আবার ! যখনই কোথাও আটকে যাবে, তখনতো একজন আছেই...। এই একজনটা কে, সেটা আর ঘটা করে বলার কি দরকার আছে ? তারপরও...। সেতো মানুষ একজনই। তারতো আর মা দূর্গার মত ১০ টি হাত নেই। সুতরাং তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন- লীনা দিলরুবা, জয়িতা, গৌতম আর শুভ। গতকালই ছাপা হয়েছে ২য় সংস্করন। আজ বাঁধাই করতে দেয়া হল...। প্রেসের সেলিম মিয়া ভরসা দিয়েছেন- কাল (সোম বার) দুপুরের পর পাওয়া যাবে নতুন ম্যুরাল।

আগামীকাল (আসলে আজ) ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন। আমার একটা পরিকল্পনা আছে। এখানে সেটা বলা যেতে পারে। কেননা, আমার একমাত্র স্ত্রী ব্লগ পড়েন না। অতি উৎসাহি বা খুঁতখুঁতে কেউ আবার বলে বসতে পারেন, অযথাই স্ত্রীর কথা টানছি। এও বলতে পারেন, আরে ভাই- আপনার বৌ ব্লগ পড়লে কী আর না পড়লেই বা কী ! আমরা কি সেই কাহিনী শুনতে বসেছি ? না, জনাব- আপনারা সে কাহিনী পড়তে বসেননি যেমন ঠিক, তেমনি আমার পরিকল্পনার সাথে আমার স্ত্রীর একটা সম্পর্ক আছে- সেটাও ঠিক। তো এসব প্যাঁচাল বাদ দিয়ে পরিকল্পনার কথাটাই নাহয় বলি ! এই অধমকে যারা জানেন- তাদের অনেকেই অবগত আছেন যে, আমার এক খান হিমু কালারের বাইক আছে। তার সাথে আমার গোটা দুয়েক টি-শার্ট, একটা উইন্ড ব্রেকার (বাতাস ঠেকানোর কাজে ব্যবহৃত পাতলা জ্যাকেট), একটা আড়ংয়ের শার্ট, আছে। সবগুলোই হিমু কালারের। আমার স্ত্রীর অন্তত দুই সেটা সালোয়ার কামিজ, ছেলেদের অনেকগুলো করে টি-শার্ট আছে, সেই হিমু কালারের। সবাই একই কালারের জামা-কাপড় পরে কাল বাইকে চড়ে হাওয়া খেতে খেতে বই মেলায় যাব। ঘুরব, খাব-দাব, সুযোগ পাইলে টেলিভিশনে চেহারা দেখাব। মেলায় যারা কাজ করছে- বেশির ভাগই চেনা-জানা-ইয়ার দোস্ত ! তো এই ফাগুনের প্রথম দিনে আমারে আর পায় কে ! মনে একটা প্রেম প্রেম ভাব জাগছে। বসন্তের প্রভাব আর কী !

মুশকিল হল, সবাইতো আর এক বাইকে যেতে পারব না, তাই আজ রোদ্দুরকে নিয়ে এলাম বই মেলায়। তাকে অনেকগুলো বই কিনে দেবার শর্তে। এটি ছিল তার শর্ত। আমি রাজি হলাম তবে তাকে একটা শর্ত দিলাম- কালকে আমাদের সাথে সে বের হবেনা। তাহলে আর বাইকে সমস্যা নেই...। যথারীতি রোদ্দুরকে নিয়ে মেলায় গেলাম- ৫ টার দিকে। আটটা বই কিনে দিতে হল ঘুষ হিসাবে (জানি, ঘুষদাতা এবং ঘুষখোর উভয়েই দোজকের আগুনে জ্বলবে...)। এর মধ্যে সাতটাই মুহম্মদ জাফর ইকবালের। টুকুনজিল, গল্প সমগ্র, প্রেত, বুবুনের বাবা, আকাশ বাড়িয়ে দাও, লিটু বৃত্তান্ত এবং রাতুলের রাত রাতুলের দিন। অন্যটি মুনতাসীর মামুনের কিশোর সমগ্র- ৪। নিজের জন্য কিনলাম- শেখ আব্দুল হাকিমের বিষবৃক্ষ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের বেলা অবেলার গল্প ও সুখ দুঃখের গল্প, সোনালী ইসলামের- নিশীথিনী সম, মোস্তাক শরীফের- সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে, শওকত হোসেন মাসুমের- রঙ্গরসে জীবন যাপন।
বই কিনে নাকি কেউ দেউলিয়া হয়না... আমি শেষ রে ভাই... এখনওতো বাকী আছে...

বই কেনা শেষ করে মেলা থেকে বেরিয়ে যাব- এর মধ্যে দেখলাম, হাসতে হাসতে মেলায় ঢুকছেন- লীনা দিলরুবা, জয়িতা, বিমা আর শুভ। আবার ব্যাক করলাম। আমাদের আড্ডায়। সেখানে বসে আছেন রায়হান ভাই। আধা ঘন্টাখানেক আড্ডা মেরে বাসার দিকে ছুটলাম। রোদ্দুরকে পৌঁছে দিতে হবে। ওকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আবার ছুটলাম। এবার আর মেলায় নয়, ছবির হাটে। সেখানে বসে আছে- রায়হান ভাই, ভাস্কর, শুভ, উজ্জ্বল আর বিমা। একটু পরে এল টুটুল। শুরু হল আড্ডা। এর মধ্যে দু'বার চা শেষ। সাথে বিড়িও। উজ্জ্বল ব্যাগ থেকে বরই বের করে দিল। পকেট থেকে সিগারেটও। কী ভাগ্য আজকে। মুরগা দেখি আপনিই ধরা দেয়...

ঘন্টাখানেক চলল এভাবে। বিমা গেল কী একটা প্রোগ্রামে গান শুনতে। রায়হান ভাই বাসার দিকে। আমি, ভাস্কর, টুটুল আর শুভ পাবলিক লাইব্রেরির দিকে হাঁটা শুরু করলাম। সেখানে বিডি নিউজ২৪ ডট কম ব্লগের একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে। আজ তাদের ব্লগের এক বছর পূর্তি। ইচ্ছে ওদেরকে শুভকামনা জানানো। হল রুমে ঢুকেই বিপদে পড়ে গেলাম। তখন চলছে ওদের খাদ্য বিরতি। আমাদের সবার হাতে পিঠাঘরের পিঠার প্যাকেট তুলে দিল। সাথে একটা করে টি-শার্ট। সব্বোনাষ ! আজতো দেখি চারিদিকে মুরগায় মুরগাময়...। সেখানে অনেক পুরানো ব্লগারের সাথে দেখা হল। দেখা হল- সামহয়ার ইনের জানা আর আরিলের সাথে। ওদের ফুটফুটে রাজকন্যা কিন্নরীও ছিল অনুষ্ঠানে। আরো যারা ছিল- তাদের মধ্যে খুব বেশি মানুষকে আমি অবশ্য চিনিনা। যাদের চিনি- একরামুল হক শামীম, লীনা ফেরদৌন, কৌশিক, আইরিন সুলতানা, আবু সুফিয়ান প্রমূখ। কৌশিকের হাতে মাইক্রোফোন। নাম ঘোষনা করে আমাদের ৪ জনকে স্টেজে তুলে দিল। আমি, ভাস্কর, টুটুল আর লীনা। তারপর ব্লগার হিসেবে অনুভূতি জানালাম একে একে সবাই। শুভকামনাও জানাতে ভুললাম না। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে - রাত বাড়ছে। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আবার ছবির হাট। সেখানেই রাখা আমার আর টুটুলের বাইক। দুজনেই ছুটলাম বাইক নিয়ে বাসার পথে। টুটুল আর শুভ যাবে শ্যামলী, আমি ফার্মগেট...।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ভাস্কর's picture


মুর্গা বিষয়ে প্যাচাল ছাড়া আসলেই কড়চা'রে কেরম খালি খালি লাগে। বড়ইটা উজ্জ্বল অফিসের পিকনিকের পয়সায় কিনছে, ঐটারে মুর্গার মাংস ভাবলে ডিমেরও অপমান...

Anisuzzaman Ujjal's picture


ভাস্কর দা,
বরই কিন্তু আমি অফিসের টাকায় কিনি নাই। পিকনিক আয়োজনের সময় যারা বেশি কাজ করেছে বলে অফিস মনে করেছে, তাদের কে ওই বরই দেয়া হয়েছে।

আরাফাত শান্ত's picture


সামান্য বড়ই খেয়ে কী আর মুরগার স্বাদ মিটে?

রায়েহাত শুভ's picture


আইজকার কড়চা "বড়ই" টেস্টি লাগলো Wink

টুটুল's picture


আজকের কড়চা পরে যেটা জানলাম...

  • ভাবী ব্লগ পড়ে না
  • আপনার এক খান হিমু কালারের বাইক আছে।
  • গোটা দুয়েক টি-শার্ট, একটা উইন্ড ব্রেকার, একটা আড়ংয়ের শার্ট, আছে। সবগুলোই হিমু কালারের।
  • ভাবীর দুই সেটা সালোয়ার কামিজ, ছেলেদের অনেকগুলো করে টি-শার্ট আছে, সব হলুদ।

Smile

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


যখনই কোথাও আটকে যাবে, তখনতো একজন আছেই...

Laughing out loud

গৌতম's picture


মুরগা ছাড়া করচার বেইল নাই।

উচ্ছল's picture


যাক চিন্তা দূর হইল....সবার কথাবার্তা শুনে আর ১ম সংস্করন েশষ হয়ে যাবার কারনে.... ভাবছিলাম ম্যুরাল মনে হয় িকনতে পারবো না......২য় সংস্করন। এর অপেক্ষায়... Smile

তানবীরা's picture


আজকের কড়চা পরে যেটা জানলাম...

ভাবী ব্লগ পড়ে না
আপনার এক খান হিমু কালারের বাইক আছে।
গোটা দুয়েক টি-শার্ট, একটা উইন্ড ব্রেকার, একটা আড়ংয়ের শার্ট, আছে। সবগুলোই হিমু কালারের।
ভাবীর দুই সেটা সালোয়ার কামিজ, ছেলেদের অনেকগুলো করে টি-শার্ট আছে, সব হলুদ।

১০

লীনা দিলরুবা's picture


মুরগা ছাড়া করচার বেইল নাই।

Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।