বই মেলা কড়চা- ১৩
আজ পয়লা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। সকাল বেলায় ঘুম ভেঙ্গেছে একটি মৃত্যু সংবাদ দিয়ে। এমনিতেই নানাবিধ কারনে মন ভাল নেই। পরশু রাতের কোনো এক সময়ে সাগর আর রুনি খুন হয়েছে নিজের বাসায়। তার ধকল সামলানোর আগেই আজ আবার মৃত্যু সংবাদ! এ যেনো একটি নক্ষত্রের পতন হল। এক সময়ের মঞ্চ কাঁপানো অভিনেতা, তারপর টেলিভিশন নাটক, এরপর বাংলা সিনেমা- সব জায়গাতেই ছিল তার অদম্য বিচরন। অভিনয় শিল্পীর তো অভাব নেই এদেশে, অথচ তাঁর মত অভিনেতা হাতে গোনা যাবে...। কত যুগ পরে আবার এরকম একজন অভিনেতার জন্ম হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা, বলা মুশকিল। বলছিলাম হুমায়ুন ফরিদীর কথা। পরম করুনাময় তাঁর আত্মার শান্তি দিক...
আজ ঢাকা শহরের যে দিকেই তাকিয়েছি- শুধু হলুদ আর হলুদ্। তাজ্জব ব্যাপার, কোনো রাজকন্যার আজ যেনো গায়ে হলুদ- বাকী সবাই নিমন্ত্রিত অতিথি। শহরে হলুদ শাড়ি পরা ললনা আর হলুদ পাঞ্জাবী পরা মানুষদের কারনে রাস্তায় রীতিমত যানজট লেগে গেছে। হাজার হাজার লোক রাস্তায়। সে অণুপাতে পরিবহন কম। হাঁটছে অনেকেই। তারপরও কারো মধ্যে কোনো ক্লান্তি নেই। সবার চেহারার মধ্যে একটা সুখ সুখ ভাব। হাত ধরাধরি করে হাঁটছে অনেকে। আহ, দেখেও ভাল লাগছে। হলুদ মিছিলের গন্তব্য টিএসসি, চারুকলা আর সোহরাওয়ার্দী পার্ক...।
দুপুরে খেয়ে-দেয়ে মাসুম ভাইয়ের বইটা নিয়ে পড়তে বসলাম। ৪৪ পাতা পড়ার পর আর পারলাম না। ঘুমিয়ে পড়লাম। যাদের ঘুম পায়না, তারা শুদ্ধস্বর থেকে মাত্র ৯৪ টাকা দিয়ে মাসুম ভাইয়ের রঙ্গরসে জীবনযাপন বইটি কিনে দেখতে পারেন। যেটুকু পড়েছি, তাতে রাগে- দুঃখে আর ক্ষোভে আমার কান্না পেয়েছে। ব্লগে লিখেন, তাও নাহয় মানা যায়। তাই বলে বই আকারে কেউ এমন লেখা লেখে ? লোকটার সাথে দেখা হোক একবার- বুঝাব মজা। শুনেছি আমার মত অনেক পাঠক বইটি কেনার পর তা পড়ে মাসুম ভাইকে খুঁজছেন। কী ভাবছেন পাঠক, বইয়ের লেখা খারাপ ছিল ? নারে ভাই, লেখা মোটেও খারাপ ছিল না। একবারে রগরগে টাইপের লেখা। আমাদের বিমার বৌতো মেলাতেই একটা লেখা পড়ে মন্তব্য করে বসল- এসব কি সত্যি ?
সত্যি মানে, মাসুম ভাইতো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এসব লিখেছেন- সাথে সাথে বিমা তার বৌকে বলল।
বিমার বৌ শুধু বলল- ছিঃ...
এরকম ছিঃ আরো অনেকেই করেছেন। সেসব আর বলতে চাই না। তারপরও আজ মেলায় দেখলাম, মাত্র ৩টি স্টলে বেশ ভিড়। একটি শুদ্ধস্বর (মাসুম ভাইয়ের বইয়ের জন্য)। আর দুইটি হচ্ছে- লিটল ম্যাগের গল্প পত্র এবং কবিতা সংক্রান্তি (ম্যুরালের জন্য)।
আজ মেলায় এসেছে ম্যুরালের দ্বিতীয় সংস্করন। প্রথম সংস্করনে বইয়ের কাটিংয়ে ক্ষাণিকটা সমস্যা দেখা গেলেও এবারে একদম ঝকঝকে আর তকতকে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখছি, যারা এর আগে ম্যুরাল কিনেছেন তাদের মধ্যে কেউ আগের কপি পাল্টাতে চাইলে যে কোনো দিন সন্ধ্যার পরে লিটল ম্যাগ চত্তরে এসে আমাদের কারো উপস্থিতিতে তা বদলে নিতে পারবেন। আজ ম্যুরাল এসেছে ৭.৪০ মিনিটের সময়। যদিও বিকাল থেকেই ছাপাখানার লোক বলছিলো- আসছে...। এর মধ্যে যারা ম্যুরাল না পেয়ে ফিরে গেছেন- তাদের কাছে নির্জলা ক্ষমা প্রার্থণা করছি। আজ থেকে মেলার শেষ দিন পর্যন্ত লিটল গল্প পত্র এবং কবিতা সংক্রান্তি'তে ম্যুরাল পাওয়া যাবে। আর জানেনতো, ম্যুরালের গায়ের মূল্য ২০০ টাকা হলেও আমরা মাত্র ১৫০ টাকায় আপনাকে ম্যুরাল সরবরাহ করছি।
আজকে মেলায় প্রচুর ব্লগারের সমারোহ ছিল। এর মধ্যে- টুটুল, নাজ, শুভ, অদিতি, তাজীন, মৌসুম, ভাস্কর, বিমা, গিয়াস, স্বপন, শাহেদ, গৌতম, বিজয়, কামাল ভাই, মাসুম ভাই, রাসেল, রুম্পা, নজরুল কবীর, লীনা ফেরদৌস, শামীমসহ অনেকেই এসেছে। প্রায় ১০/১২ বছর পর দেখা হল বিলাত প্রবাসী বন্ধু সুমন সুপান্থের সাথে। মৌলভী বাজারের ছেলে। আমরা একসময় ভোরের কাগজ এবং প্রথম আলোতে লেখালেখি করতাম। ও এখন লন্ডনে থাকে। বই মেলার জন্য দেশে এসেছে। থাকবে মাস দুয়েক। স্ত্রী-পুত্রদের আনেনি। ওর একটি ছেলে। তার নাকী স্কুলের ছুটির সাথে মেলাতে পারেনি। হায়রে বিদেশ, হায়রে আমাদের বিদেশি বন্ধুরা ! ওদের জীবনটা কেমন একটা চেইনের মধ্যে জড়িয়ে গেছে। বড় মায়া হয়, ওদের জন্য। অনেকে হয়ত বলবেন, ওদের অনেক টাকা, অনেক সুখ।
আমিও আপনার সাথে একমত। তবে জনাব, সত্যি বলতে কী- ওদের টাকা আছে। প্রাচুর্য আছে। সুখও হয়ত আছে... কিন্তু আমাদের মত স্বাধীনতা নেই। এটাকে আপনি মধ্যবিত্ত সেন্টিমেন্ট বলবেন তো ? তা আপনি বলতেই পারেন। আমি সবসময় বলেছি, আবারও বলি- প্রবাসে যেসব বন্ধুরা আছে, তাদের বেশিরভাগেরই দেশের জন্য মনটা পোড়ে। ইচ্ছে করলেই হুট হাট চলে আসতে পারেনা। অনেক কিছুর সাথে সিডিউল মেলাতে হয়। অর্থের দিক থেকে ওরা হয়ত সবল হলেও হতে পারে... কিন্তু ...
আজকের ভাবনা ছিল, ভাল একটা মুরগা পাওয়া যাবে। কিন্তু লোকজন ম্যুরাল নিয়ে মানে ম্যুরালে অটোগ্রাফ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে- সেদিকে কারোরই তেমন মনোযোগ ছিল না। যতজনই বই কিনছে- সবাই সবার কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিয়ে নিল। একেকটা বইয়ে দেখা গেল ৭/৮ জনে অটোগ্রাফ দিয়েছে। চামে বলে রাখি, আমিও ৪/৫ জনকে অটোগ্রাফ দিয়েছিলাম। যদিও ম্যুরালে আমার কোনো লেখা যায়নি। টুটুল মৌসুমকে সালাম করে একশ টাকা নিল। সেটাই আজকের সম্বল ছিল। তাও ভাগে পেলাম না। সে টাকা আমার কাছে জমা দেয়া হল। ওরা কয়েকজনে মিলে চা খেতে চলে যাবার সময় টাকাটা ওদের দিয়ে দেই। নজরুল কবীর কে ২/১ বার মুরগা বানানোর চেষ্টা করেছিল জয়িতা। সফলকাম হতে পারেনি।
এর মধ্যেও বিমা চুপিসারে মাছরাঙা টিভিতে একটা সাক্ষাৎকার দিয়ে দিল। মাছরাঙা টিভির রিপোর্টার আবার দেখলাম একরামুল হক শামীমের বেশ ঘনিষ্ঠ। আজ মেলার ছোট বন্ধু ছিল আমাদের টুটুল-নাজের ছেলে রিহান (বানানটা লিখতে পারছিনা...)। শুভ সুযোগ পেলেই রিহানের ছবি তুলছিল। এর মধ্যে এর ওর ছবিও কম তোলেনি শুভ। সবার হাতেই তখন ম্যুরাল। দেখতে দেখতে ম্যুরাল প্রায় ২৫/৩০ টা বিক্রি হয়ে গেল। পরিচিত অপরিচিত অনেকের হাতে ম্যুরাল দেখে বেশ ভালোই লাগছিল। কাল ভালবাসা দিবস। আশা করছি, কাল অনেকগুলো ম্যুরাল বিক্রি হবে। রাত বেড়ে প্রায় নটার মত বাজল। রিহান মিয়াও একটু একটু বিরক্ত প্রকাশ করা শুরু করল। একে একে আমরাও বিদায় নিয়ে মেলা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। টিএসসি এসে যে যার গন্তব্যের দিকে...। কাল ভালবাসা দিবস। সবার জন্য ভালবাসা আর শুভকামনা। ম্যুরালের জন্যও...





আজকে অনেকেই হলুদ কাপড় পড়েছে মানে আপনার কমপিটিটর অনেক বেশি ছিল। প্রবাসীদের মর্মযাতনা কেউতো বুঝলো। আপনার এই কড়চা সহকারে রোজ বইমেলা ঘুরে আসি। টিভিতে রোজ বইমেলার খবর দেখানোর সময় আপনাদের খুঁজি, যদি কাউকে দেখা যায়
ভালুবাসা দিবসের গান একটা আপনার জন্যে
থ্যাংকু থ্যাংকু- গানের জন্য
শ্রেয়ার অসুস্থতা না থাকলে... পুরোই মিস করেছি
এবারের ফাগুন উপভোগ করবো অন্যরকমভাবে-কতো আগে এটি ঠিক করা ছিল! গুছিয়ে রাখা শাড়ীটার দিকে কাল করুণ দৃষ্টিতে কতোবার যে তাকিয়েছি... যাহোক,
আমাদের ম্যুরাল পরিপূর্ণভাবে এসে গেছে এরচে' বড় ঘটনা আর নেই। শুভকামনা ম্যুরাল তোমার জন্য।
শ্রেয়া আছে কেমন ? টেক কেয়ার...
গতকাল এই পোস্টটি আমার চোখে পড়ে নাই ক্যান?
আমি কী সত্যি কানা হয়ে গেলাম
সে আর বলতে... প্রতিদিন পড়তে নিশ্চয়ই বোর লাগে ?
আমি টিভিতে বইমেলা দেখি না, আমার শোক আরোগুন বাড়বে বলে। এইযে নিয়মের ফেরে বন্দী প্রবাসীরা এটা ওনেক অনেক সত্যকথা, নিজের মনমতোন কিছু করাতে কত্তো কিছুর বাধা এদের, আস্তে আস্তে মনে হয় এদের মনটাই মরে যায়! খাচাঁতেই গতানুগতিক চলাই হয়ে যায় তার নিরাপত্তায় মোড়া জীবন
তোমার মত বৈদেশিদের জন্য একরাশ সহানুভুতি...
মেসবাহ ভাই কি এক ম্যূরাল ছাপাইয়াই টায়ার্ড হইয়া পড়ছেন? কড়চা ১৪ দেন নাই যে কালকে...
তাইতো দেখতেছি
রোজ 'মাগনা' লেখতে আর মঞ্চায় না
আমিও কেনজানি দেখিনাই এই পোস্ট গতকাল
না দেখাই ভাল
মন্তব্য করুন