বই মেলা কড়চা- ১৪
গতকাল ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন। মানে স্বীকৃতভাবে এদিনে যার সাথে যত খুশি ভালবাসাবাসি করা যাবে। এই ভালবাসার দিন বা ভ্যালেন্টাইনস ডে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করে তোলেন (আমার যদ্দুর মনে পড়ে) শফিক রেহমান। অত্যন্ত রোমান্টিক এ মানুষটি যায়যায়দিন পত্রিকার মাধ্যমে ভালোবাসা নিয়ে বিশেষ সংখ্যা করেন। যাতে তিনি জানান দেন যে, ভালোবাসার জন্যও একটা স্পেশাল দিন আছে। সারা বিশ্বে সেটা পালন করা হয়। এদিনে প্রিয় মানুষটিকে/পছন্দের মানুষটিকে 'তোমাকে ভালোবাসি' বলা হয়- অনুষ্ঠানিক ভাবে। তার পছন্দের উপহার সামগ্রীও কিনে দেয়া হয়। এ ভালোবাসার মানুষটি যে প্রেমিক বা প্রেমিকা হতেই হবে তা নয়। ভালোবাসার যে কোনো একজন হলেই হবে। মা-বাবা- ভাই-বোন-স্ত্রী-পুত্র-কন্যা- বন্ধু...।
গতকাল ঢাকার রাজপথ ছিল লালে লাল...। না, কোনো রক্তারক্তি হয়নি। তরুন-তরুনীদের সাজটাই ছিল লালময়। ছেলেদের লাল পাঞ্জাবী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। মেয়েরা লাল শাড়ি, লাল টিপ, হাতে রেশমী চুড়ি... কী আনন্দময় ঘোরাঘুরি তাদের। দেখেও সুখ। গোলাপ ফুলের এত চাহিদা ছিল যে, শাহবাগ এলাকার ফুলের দোকানগুলোতে বেলা বারোটার পরে একটাও গোলাপ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দোকানীরা কী করবেন। দৈনিক চাহিদার চেয়েও অন্তত ৫ গুন বেশি ফুল এনেছিল। তাতেও কুলাতে পারেনি। অনেকেই ফুল কিনতে এসে না পেয়ে মন খারাপ করে চলে গেছে। সব মানুষের মিলনমেলায় পরিনত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। টিএসসি, চারুকলা, ছবির হাট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শিশু পার্ক...। ঢাবির মল চত্বরে মাছরাঙা টিভি এয়ার টেলের সৌজন্যে আয়োজন করেছে ওপেন এয়ার কনসার্ট। হাজার হাজার শ্রোতাদের মধ্যে ছিল- প্রায় সবাই তরুন তরুনী। বিভিন্ন দলের গানের সাথে সেকী উদ্যাম নাচানাচি তাদের...
সকাল থেকে শুরু হওয়া তরুন তরুনীদের এই ঘোরাঘুরি সন্ধ্যার পর আস্তে আস্তে কমতে শুরু করল। ঘরে ঘিরতে শুরু করল তরুনের দল। তবে টিএসসি এলাকার ভিড় কমলেও ভিড় কমেনি চারুকলা আর ছবির হাট এলাকায়। হাত ধরাধরি করে হাঁটছে কপোত কপোতিরা। দেখতে ভালোই লাগছে। প্রায় সবাই ছবি তুলছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে- ডিজিটাল ক্যামেরা সহজলভ্য হবার পর থেকে যেখানে সেখানে, যখন তখন দেখি, লোকজন ক্যামেরার শার্টার টিপছে। ছবি পছন্দ না হলে সাথে সাথে তা ডিলিট করে দিচ্ছে। কোনো খরচ বা ঝামেলা নেই। তারচেয়েও মজার ব্যাপার হচ্ছে- মোবাইল ফোন। যুগের এক যুগান্তকারী আবিস্কার। বিশেষ করে চিন থেকে আসা এমন অনেক মোবাইল ফোন আছে- যা অতি অল্প মূল্যে বা বলা যায় নাম মাত্র মূল্যে সেসব কেনা যায়। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর হিসাব মতে দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটিরও অধিক। এটা অবশ্য তাদের সিমের পরিসংখ্যান। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ ভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী দুটো করে সিম ব্যবহার করেন। অনেকে আবর দুটো সেটও ব্যবহার করেন। মনে হয় মোবাইল সেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এই ৩ কোটি মোবাইল সেটের প্রায় ৯০ ভাগেই ক্যামেরা আছে। ছবি তোলা যেহেতু সহজলভ্য সেহেতু ছবিতো তারা তুলবেই...
আজকাল টিএসসি এলাকায় বাইক রাখার মত জায়গা পাওয়া যায়না। ফলে ছবির হাটে বাইক রেখে মেলায় ঢুকি। আজও তাই করলাম। মেলা পর্যন্ত যেতে প্রায় ১৮/২০ মিনিট লেগে গেল। যেখানে ৬/৭ মিনিট লাগার কথা। লম্বা লাইন। ভেতরে গিয়ে প্রথমেই লিটল ম্যাগ চত্তর। ম্যুরালের খবর নিলাম। কোথাও কেউ নেই... মানে আমাদের কেউ নেই। হাঁটতে হাঁটতে সূবর্ণ প্রকাশনীর সামনে পেয়ে গেলাম ওদের। বিমা, তার বৌ, বিজয়, লীনা দিলরুবা, জয়িতা, ভাস্কর আর সামী মিয়াদাদকে। ওরা চটপটি খাচ্ছে। মুরগা কে ? জানতে চাইলাম। না, না কেউ মুরগা না... সবাই প্রায় একসাথে বলল। যার যার তার তার পয়সায় খাওয়া হচ্ছে। শুনে খেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। যদিও জয়িতা খাওয়াতে চাইল...। খাবারের প্রথম পর্ব শেষ করে সবাই রওয়ানা হল- আমাদের আড্ডাখানার দিকে। যেতে যেতে সেকী জোরে জোরে কথা বলা ওদের...। বিশেষ করে জয়িতা আর লীনার গলাই বেশি শোনা যাচ্ছিল। আমি বেশ জোরে ধমক দিলাম। 'এই যে আপারা, মেলায় এত জোরে কথা বলছেন কেন ? জানেননা, এতে শব্দ দূষন হচ্ছে ?' ধমকটা দিলাম সুবর্ণ প্রকাশনীর ঠিক সামনে। বালিকাদের এই ধমক দেয়াতে জাহাঙ্গীর ভাই (সুবর্ণ'র মালিক) বেশ খুশি হলেন। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, 'খুব ভাল করেছেন ধমক দিয়ে। এরা অনেকক্ষণ থেকে জোরে জোরে কথা বলছিল। আসেন, চা খান। এই মেসবাই ভাইকে চা দে...'। দোকানের ছেলেটা চায়ের সাথে বিস্কুটও দিল। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে চা-বিস্কুট হাতে নিয়ে চলে এলাম। চেয়ে চেয়ে দেখল ওরা... ওদের বলার কিছু ছিল না...
আবার লিটল ম্যাগে আড্ডা। ওমা এই মাত্র খেয়ে আসা ছেলে মেয়েগুলো আবার খেতে গেল ব্যাচেলর কোয়াটারের দিকে। রয়ে গেলাম আমি, বিজয় আর ভাস্কর। একটু পরে এল গৌতম, কৌশিক আর তার কন্যা এবং কন্যার মা। আমরা আড্ডাতে থাকি। এল নজরুল কবীর। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির এক সুন্দরী বালিকার সাথে মধুর ঝগড়ায় লিপ্ত হলেন নজরুল। বিষয়: জাহাঙ্গীর নগর বনাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা শ্রোতা হিসাবে বেশ এনজয় করলাম অনেকক্ষণ। এর মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত খেয়ে ফিরে এল ওরা কয় জন। এবার কে মুরগা হয়েছে- জানিনা। কারন আমি যাইনি ওদের সাথে। এত খাই খাই আমার ভাল লাগেনা... এর মধ্যে চ্যানেল ৯ থেকে ক্যামেরা নিয়ে এল। প্রযোজক ভদ্রলোক আমার পরিচিত। আগে দেশ টিভিতে ছিলেন। তার ক্যামেরার সামনে যেয়ে কিছু বলতে বল্লেন। বললাম আমি আর বিমা। বিমাকে আজ বেশ ফুফুরে মেজাজের মনে হল। নব্য স্ত্রীর সাথে মিলিয়ে চমৎকার মেরুন কালারের পাঞ্জাবি পরেছে বিমা। বিমা সেদিন ম্যুরাল কিনেছিল। বলল, কিছু লিখে দিতে। দিয়েছিলাম। পরে মনে হল- ওই লিখাচা ঠিক ছিল না। আজ সুযোগ পেয়ে যা লিখতে চেয়েছিলাম বইতে সেটা এখানে লিখে দেই- 'একজন ছিলে। দুইজন হলে। এবার দ্রুত তিনজন হও বিমা...।'





আমি থাকলে এমনটা হতেই পারতো না, তাই না মেসবাহভাই! সব্বাই জানে এই সত্যটা! আমার হাউকাউ'রে ছাপায়া যাবে এমন গলা কার আছে!
বিমা'রে অটোগ্রাফ দেওনের ভালো আইডিয়া পাইলাম! তবে অন্য ডায়ালগ দিয়া।
কতা হাছাই কৈছো। তয় দুই জনের জ্বালায় বাঁচতেছিনা- তুমি থাকলে কী যে হৈত... ! তয় সত্য কতা হৈল, তোমারে মিস করি মিস জেবীন
অবশেষে কড়চা-১৪ এলো! কড়চা ছাড়া ব্লগ পানসে লাগছিলো... আর মুর্গা ছাড়া কড়চা...
হ, মুরগা ছাড়া কড়চা...! ভাবতাছি, যেইদিন মুরগা ধরতে পারমু না, সেইদিন কড়চা বন
কড়চা বন হলে জ্বলবে আগুন ব্লগে ব্লগে
আগুনটা সন্ধ্যার পরে পরে জ্বালাইও...
। আগুন পোহাইতে নেঞায়েত খারাপ লাগবোনা 
শীতের শেষে এই ফাগুনের প্রথমে এসে সন্ধ্যার পরে একটুশখানি শীত শীত লাগে...
সারা বছর বই মেলা চলতে পারে না?
তাইলে আর কী হৈত ? আপনের রঙ্গরসের যৌবন বইটার ৫ম সংস্করন বাইরাইতো
আমীন
তুমি মিয়া আরেক জনরে আমিন আর কয়দিন কৈবা ? নিজে এইবার একজন থেইকা দুজন হও
আপনিতো আগে আগে চলে গেলেন। শেষ বেলায় মেলাতে কালকে কত প্রেম-প্রণয় ঘইটা গেছিলো...
তা যদি যানতেন

ভেজ না ননভেজ ডায়ালগ ছিল, লীনা
কত্ত কী যে আছিলো... মধু, চৌখের ইশারা, এক ফুল তিন চার মালী... আরো কত্ত কি...
হায় হায় কও কি মিয়া। গ্রেট মিস করছি মনে হয়...
( মানিনা, মানবো না। আজকেও সেরাম ডায়ালগ হৈতে হৈব 
এই জিনিস জীবনে বারবার আসেনা, পুরাই মিস করছেন
কেউ ছুডুবেলা মধু না খাইতে পারে নাই তাই নাকি বড় হইয়া ফুলের মধূ খুঁজে
হ, নজরুল কবীর আমারে একদির কৈছিল, হেয় নাকী ছোডবেলায় মধু খায় নাই... কিন্তু তাই বৈলা ফুলের মধু... ! (বুঝলাম না, এখানে ফুল বলতে কারে বুঝানো হৈছে
)
কী হৈছিল, কওতো ? নাহ থাক, বিকালে শুনুমনে... লাইভ
আইচ্ছা
শুধু এক্টা কই...
ওগো তুমি এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে কেনো?
কে, কাকে, কখন, কেন, কোন উদ্দেশ্যে বলেছিল ? আলোচ্য সংলাপ বলার সময় অন্য দর্শক/শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিলো... বিস্তারিত জানাও... তথ্য সঠিক এবং মনপুতঃ হলে আজ বিকালে চটপটি খাওয়ামু
এগুলো তো প্রাইভেটলি বলতে হৈব, ভরা মজলিশে বললে আমার কল্লা কাটা যাবে
শুধু বলো... মাসুম ভাই কি কালকে মেলায় গেছিলেন ?
ওই সময় কি নজরুল কবীর আর জয়িতা ছিল ??
মাসুম ভাই যায় নাই, আর কিছু কমুনা
হাত ধরে ব্যাগ ধরে ওড়না ধরে টানাটানির কথাগুলো আর বল্লুম না
লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজীম। এইসব বেশরিয়তি তথা বার্তা কী কও !
হাত-ব্যাগ-ওড়না দৈরা টানাটানি ?
কেউ উল্টা পাল্টা কোলাকুলি করে নাইতো আবার
হহাহহাহাহাহা্। সে কি দৃশ্য...
তুমি বা শুভ কি ফটুক তুইল্যা রাখছো
ফটুক তুলবো কি! আমি আর শুভ হাসতে হাসতে আর কাশতে কাশতে শেষ
কিন্তু এত্তো মালি'রে এপয়েন্ট করলো কেডা!!
লিনা'পু ভরা মজলিশে না হোক, অন্যকোথাও হইলেও জানতে চাই কাহিনি!
আমার ঘাড়ে একটাই মাথা, শুভ বলুক
তুমি কৈতে চাইতেছো, শুভ'র ঘাড়ে একাধিক মাথা ...
হ!
আমার ডর লাগে। নায়ক-নায়িকা আমারে গুল্লি মারবে 
খাইছে! কত্ত কাহিনী! মিস করলাম। আফসুস।
এখানে আবার নায়ক-নায়িকা আসলো কোথ্থেইকা ? হায় আল্লা, কত কী হৈয়া গেল
নজ্রুল ভাইয়ের ডায়লগ এখনো কানে বাজতেছে...

নজরুলরেতো তোমরা চিনো না ! ওয়ান পিস মেড, কারিগর ডেড টাইপের লোক...

আপনের কথাই মনে হয় সত্যি। তবে হাসাইয়া মানুষ মাইরা ফেলার যোগাড়।
আমার জানা মতে নজরুল বেশ প্রানবন্ত এবং সৎ সংবাদকর্মী। ভাল ছেলে হিসাবেই আমরা তাকে চিনি। তবে দোষের মধ্যে হচেজ্ছ- মেজাজ একটু কড়া...। অবশ্য সেটা প্রফেশনের ক্ষেত্রে। অন্যদের ক্ষেত্রে মাই ডিয়ার...
মাই ডিয়ার কওনের দর্কার নাই।
আমি তারে বালা পাই, সেও আমারে বালা পায়... মাই ডিয়ার কৈলে প্রব্লেম কী ?
কড়চা বন হলে জ্বলবে আগুন ব্লগে ব্লগে
তাইলে বই মেলা শেষ হওনের পরে কী হৈবো...
আমি জোরে কথা কইছি? কখন কইলাম? আমি তো কত্ত সুইট কইরা কথা কই!

আরে না, তুমিতো ফিসফিস কৈরা কতা কৈছো... রাইতে কারো বৈদেশথন ফোন আইলে যেমনে কতা কও আর কী

বিদেশ যাইতে মন্চায় মেসবাহ ভাই
আমারো বৈদেশ যাইতে মঞ্চায়

তবে সেটা থাইল্যান্ডের পাতায়া বিচ টাইপের জায়গায়
চলুক।
সন্ধ্যার দিকে আপনের কড়চা পোস্টগুলা পড়া ঠিক না। খালি খিদা লাগে।
আচ্ছা জরুরি কথা হচ্ছে ১৬ নম্বর কড়চায় কিন্তু মোড়ক উন্মোচনের ছবি চাই। নাইলে জ্বলবে আগুন ব্লগে ব্লগে। (এইটা সামাজিক আন্দোলনের হুমকি না, সন্ত্রাসী হুমকি।)
এই ব্যাপারে আমি নির্দোষ। ছবি তুলেছে শুভ আর টুটুল
মন্তব্য করুন