ইউজার লগইন

বই মেলা কড়চা- ১৫

মেলায় ঢোকার আগে ভাবলাম, এক কাপ চা খেয়ে যাই। সে মোতাবেক ব্যাচেলার কোয়াটারের দিকে রওয়ানা হলাম। এটি হচ্ছে- দোয়েল চত্তর থেকে মেলার দিকে রওয়ানা হলে প্রথম যে গেটটি পড়বে- তার পাশেই। এখানে মেলার সময়টাতে বিকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চা ছাড়াও ভাজাপোড়া যেমন- আলুর চপ, পাকুরা, বেগুনি, পুরি, পিঁয়াজু এসব পাওয়া যায় গরম গরম। বিড়িতো পাওয়া যায়ই। আমি যেহেতু টিএসসির দিক থেকে যাই- সেহেতু প্রথমে আমাকে RAB ভাইদের স্টলটা পার হয়ে যেতে হয়। সেখানে প্রতিদিন দেখি কয়েকজন RAB সদস্য বসে থাকেন বেশ গম্ভীর ভাবে। ওদের স্টলে একটা বড় সড় টেলিভিশন আছে। সেখানে তাদের নিজেদের কর্মকান্ডের কিছু চালচিত্র দেখানো হয়। যাতে এসব দেখে তারা অনুপ্রানিত হয়। লক্ষ্য করলাম, মাশাল্লাহ তারা বেশ মনযোগ দিয়েই সেসব দেখেন। আর তাদের স্টলের পাশ দিয়ে যাবার সময় মানুষজনের দিকে রক্ত হিম করা দৃষ্টিতে তাকান...। রাতের বেলাতেও এদের অনেকের চোখে কালো সানগ্লাস দেখে আমার প্রায়ই ইচ্ছে করে- ওদের কাউকে ডেকে জিজ্ঞেস করি, ভাই আপনারা রাতের বেলায় কালো সানগ্লাস পরেন কেনো ? সেটা যদি সাধারন মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য হয়ে থাকে- তাহলে আমার মনে হয় মানুষ ভয়তো পায়ই না বরং এরা মানুষের কাছে হাসির পাত্র হন। জানতে চাইলে যদি মাইর শুরু করে ? এই ভয়ে জানার তীব্র ইচ্ছেকেও দমন করি।

তো চা খেতে যেয়ে দেখা হল, আরিফ জেবতিক, লীনা ফেরদৌস আর অন্য এক বালিকার সাথে। ওদের চা অফার করলাম, কেউ খেতে রাজি হলোনা (যাক বাবা, বেঁচে গেলাম...)। একাই চা শেষ করে মেলায় ঢুকলাম। কেউ নেই আমাদের আড্ডায়। কী আর করা। একটা চক্কর মারতে গেলাম মেলায়। পুরো মেলা ঘুরে আবার যখন আড্ডায়- ততক্ষণে দেখলাম, ভাস্কর আর গৌতম এসেছে। পর পরই এল- শুভ আর টুটুল। আরিফ, সেই বালিকা আর লীনাকেও পেলাম। আলাপ পরিচয় শেষে আড্ডা আস্তে আস্তে জমে উঠল। এর মধ্যে সেখানে এল- লীনার এক বান্ধবী। বিদেশ থাকেন। আরিফ ভেবেছে- তাকে মুরগা বানাবে কিনা ? তার পরিচয় জানার পর জেবতিক আর সেদিকে মানে এই মহিলাকে মুরগি বানানোর দিক থেকে সরে গেল। কারন: ইনি একজন মহিলা কবি। তার একটা কবিতার বই বেরিয়েছে এই মেলায়। পাছে ইনিই না আবার আমাদের সবাইকে মুরগা বানিয়ে ফেলেন (তার কবিতার বই কিনতে বলেন...) এই টেনশন তখন আমাদের সবার মধ্যে। ভদ্রমহিলার খুব শখ হল ছবি তুলবে। জেবতিক, লীনা ফেরদৌস এবং তার ছবি তোলা হল আরিফের মোবাইল ক্যামেরায়। মহিলা নিজের ক্যামেরা বের করে দিলেন আমার হাতে। তাদের ছবি তুলে দিতে। দিলাম। তারপর তার শখ হল লীনার সাথে একটা ছবি তুলবেন। আমাকে অনুরোধ করলেন, আমি তুলে দিলাম। ছবি দেখে তার পছন্দ হলোনা। তিনি লীনাকে বললেন- লীনার চশমা খুলতে। ছোট টিপ সরিয়ে কপালে বড় টিপ দিতে। ওমা, লীনা ফেরদৌস তাই করল। ব্যাগ থেকে টিপের পাতা বের করে তা লাগাল। আমাকে বলল, টিপটা ঠিক করে দিতে...। আমি টিপ ঠিক করে দিতে গেলাম... আরিফের মোবাইল ক্যামেরা ক্লিক করে উঠলো। ভদ্রমহিলা নিজেও ক্ষাণিকটা সাজুগুজু করে নিলেন। আমি ক্যামেরা হাতে বোকার মত দাঁড়িয়ে...। অবশেষে তাদের সাজুগুজু শেষ হল। আমি আবারো তাদের ছবি তুলে দিলাম...। কী করব বলুন, আমি যে কাউকে না বলতে পারিনা ...। এইসব ছবি তোলাতুলির মধ্যে হঠাৎ করে তিনি এলেন এবং এরপর যতক্ষণ মেলায় ছিলাম- তিনি ছিলেন বিশেষ আলোচার বিষয়...।

তিনি জেবতিকের পরিচিত। দোস্ত টাইপের সম্পর্ক। এসেই জেবতিককে- আরে দোস্ত কী খবর টাইপের সম্বোধন করলেন। দুএকটা থাপ্পড়ও দিলেন আরিফকে। তা তিনি দিতেই পারে। দোস্ত বলে কথা। আরিফ পরিচয় করিয়ে দিল আমাদের সাথে। ফাজলামো করে বলল- আমার বড় আপা। ব্যস, আর যায় কোথায় ! জেবতিকের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লেন তিনি। বললেন, আরে না না, আরিফ আমার বড় ভাইয়ের মত...। তাইলে যে দোস্ত বলে ডাকলো আরিফকে ? এরপর ভদ্রমহিলা যতক্ষণ ছিলেন- তার ঘুরে ফিরে একটাই কথা, এখনও ১৫ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত লোকজন তার প্রেমে পড়তে চায়... তাকে দেখলেই অফার করে...!! আমিতো প্রায় বলেই ফেলেছিলাম-
যেই না চেহারা
নাম রাখছে পেয়ারা
করে আবার কুয়ারা...

মুখে শুধু বললাম, কিছু মনে করবেন না- আমার বয়স ওই ১৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে যে কোনো একটা হবে। তার বেশি বা কম কোনটাই হবেনা। আমার কিনতু সেরকম কিছু মনে হয়নি এখনও...
তিনি বল্লেন, বিশ্বাস করেন ১৫ থেকে ৮০ পর্যন্ত যে কেউ এখনও আমার সাথে প্রেম করতে চায়...। মানে ঘুরে ফিরে তিনি ১৫ থেকে ৮০... এর বাইরে আর কোনো কিছুই বললেন না। বিরক্ত লেগে উঠল। যেহেতু জেবতিকের দোস্ত- সো সে বিব্রত বোধ করল ক্ষাণিকটা। অবশেষে ১৫ থেকে ৮০ উঠে চলে গেলেন। যাবার পরে পরিচয় জানতে চাইলাম জেবতিকের কাছে। জেবতিক বলল, এই ১৫ থেকে ৮০ মহিলা ভোরের কাগজের প্রদায়ক ছিলেন। সেই সূত্রে আরিফের সাথে পরিচয়। আমরা অড্ডায় ফিরি। প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গে যাই। ওমা, আধা ঘন্টাখানেক পরে দেখি আবার ১৫ থেকে ৮০ ফিরে এলেন আমাদের আড্ডায়...। নাহ, আর বসা যায়না। তারপরও মিনিট পনের ছিলাম। এর মধ্যেও তিনি অন্তত তিনবার অপ্রাসঙ্গিকভাবে বললেন- ১৫ থেকে ৮০ বছর....!! চরম বিরক্তি লাগছে আমাদের। ১৫ থেকে ৮০ জেবতিককে বললেন, দোস্ত তুমি আমার একটু লিফট দিও...। জেবতিক রাজি হল লিফট দিতে। মনে মনে জেবতিকের প্রতি সহানুভুতি জানিয়ে মেলা থেকে বেরিয়ে পড়লাম আমি, টুটুল আর শুভ...

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


আজ মেলা মিস করলেও কড়চা থেকে আড্ডার স্বাদ পেলাম। তবে যা যা লিখছেন তা নিয়া কিছুই কমু না। কইলেই দোষ।
একটাই আফসুস, এই জীবনে কেউ কুনুদিন আমার প্রেমে পড়লো না। আফসুস।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


তোমার বয়স কি ৪০ প্রায়...
তুমি কি বেশরম...
উত্তর না হৈলে সম্ভাবনা আছে এখনও

জ্যোতি's picture


বেঁচে থাকলে ৪০ তো হবে!

মেসবাহ য়াযাদ's picture


তা না হয় হলো। তাই বলে এরকম বেশরম হতে পারবা ? Wink

শাপলা's picture


দাদা, যা লিখলেন....।

ভয়ে তো কথাই কইতার্সিনা.।
আল্লার দোহাই লাগে, বয়স জিগাইয়েন না.। Sad( Sad( Sad(

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ঠিকাছে জিগামুনা। তয় এটা নিশ্চিত করেন যে, ১৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যেতো ??? Wink

ভাস্কর's picture


আপনে তো ভালো্‌ই খেপছেন মনে হইতেছে...ঐ ভদ্রমহিলা যা ইচ্ছা তা ভাইবা শান্তি পাক। তার কোটার মধ্যে থাকা আপনে তো তার প্রেমে পড়েন নাই, নাকি?

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমার রুচির প্রতি নিজের আস্থা আছে Wink

লীনা দিলরুবা's picture


এরপর ভদ্রমহিলা যতক্ষণ ছিলেন- তার ঘুরে ফিরে একটাই কথা, এখনও ১৫ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত লোকজন তার প্রেমে পড়তে চায়... তাকে দেখলেই অফার করে...

Steve

১০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমিতো হেসেই সারা। বলে কী সমগ্র বাংলাদেশ ৩ টন... Big smile

১১

অতিথি জালাল's picture


লেখাটা তিনি পড়লে আপনার খরর আছে!

১২

মীর's picture


আলুর চপ, পাকুরা, বেগুনি, পুরি, পিঁয়াজু

Crying Crying Crying Crying

১৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আজকে যা খাইলাম Big smile

শর্মা / চিকেন পেটিস / হট ডগ / বার্গার / পানি / কোক / চটপটি / আইসক্রিম... Tongue Wink Laughing out loud Smile

১৪

তানবীরা's picture


লীনার সাথে মহিলা কবি কে ছিলেন? মনিকা রাশিদ?

১৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


না না, কী যেন স্নেহময়ী বা মমতাময়ী নাম ছিল... Tongue

১৬

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


আনন্দময়ী Wink

~

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।