বছরে ২৫ হাজার টাকার সিগারেট...
সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিলাম ৮৪ সালের শেষের দিকে। সবেমাত্র কলেজে উঠেছি। নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ। নাবালক থেকে বালক হয়েছি। বই- খাতা নিয়ে কলেজে যেতে হয়না। পোষাকের ব্যাপারে তেমন কোনো ধরা বাঁধা নিয়ম ছিল না। ৩২ ইঞ্চি ঢোলা প্যান্টের সাথে প্রায় ৩ ইঞ্চি উঁচু হিল। টাইট শার্ট। সে শার্টের আবার কলার বেশ বড়। এই ছিল সে আমলের ফ্যাশন। কলেজে যাবার সময় মা ৫/১০ টাকা দিতেন। আমরা তখন নারায়ণগঞ্জে। কিল্লারপুলের ড্রেজার কলোনীতে থাকি। কলেজে যেতে রিকশা ভাড়া ছিল ২ টাকা। কলোনীর আরেক বন্ধুর সাথে যেতাম শেয়ারে। যাওয়ার ভাড়া আমি দিলে আসার ভাড়া ও দিত। ওর নাম ছিল বাবু। বাবু এখন আর্মিতে। ১৫ লং কোর্চে পরীক্ষা দিয়ে আমি মারলাম ফেল। পরেরবার ১৬ তে পরীক্ষা দিয়ে বাবু পাশ করল। ও এখন কর্ণেল।
বলছিলাম সিগারেট খাওয়ার কথা। বাবুর সাথে কলেজে গেলেও বাবু সিগারেট খেত না। আমিও না। ক্লাসে এক ছেলের সাথে ভয়ানক দোস্তি হয়ে যায়। ওর নাম স্বপন। সেই স্বপনের পাল্লায় পড়ে আমার সিগারেটে হাতে খড়ি। স্টার সিগারেট খেতাম দুজনে। প্রথম প্রথম বেশ কড়া লাগত। কাশ হত। স্বপন বলত- আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। সিগারেট খাওয়ার পক্ষ্য স্বপনের যুক্তি ছিল- ওটা না খেলে নাকী মেয়ে মেয়ে লাগে ! নাক দিয়ে কীভাবে ধুয়া বের করতে হয় সেটাও স্বপনের কাছে শেখা আমার। দিনে ৩/৪ টির বেশি সিগারেট খাওয়ার সুযোগ ছিল না। যতক্ষণ কলেজে থাকতাম- ততক্ষণই। বাসায় ফেরার পর সাহস হত না। কলোনীর সবাই ছিল পরিচিত। কার সামনে পড়ে যাই- সেই ভয়েই খেতাম না। আমাদের কলোনীর দেয়ালের ঠিক বাইরেই ছিল নদী। শীতলক্ষা। কলেজ থেকে ফিরে সেখানে নিয়মিত গোসল করতাম। কলেজ না থাকলে ১১/১২ টার দিকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। দুপুর দেড়টার পরে বাসায় ফিরতাম দল বেঁধে। ২ টার সময় বাবা ফিরতেন অফিস থেকে। দুপুরে খেয়ে বাবা আবার অফিসে যেতেন। অফিসও ছিল কলোনী সংলগ্ন।
একদিন বাবার বদলির সুবাদে আমরা নারায়ণগঞ্জ ছাড়লাম। চলে এলাম ফেণীতে। সেখানেও কলোনীতে থাকতাম। মহিপাল, মানে ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের সাথে। তখনও স্টার সিগারেট খাই। কলোনীতে এসে প্রথম বন্ধুত্ব হয় আশফাকের সাথে। ও একদিন বলল, কী স্টার সিগারেট খাও... গন্ধ্য লাগে। আমি খাই ক্যপাস্টেন। তুমিও ক্যাপাস্টেন শুরু কর। তখন ক্যাপাস্টেন সিগারেট ৪ টাকা প্যাকেট। স্টার বদলে ক্যাপাস্টেন খাওয়া শুরু করলাম। সেটাও চলল ৯০ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে আমি চলে এলাম ঢাকায়। বাবা আবার বদলি হলেন কুমিল্লাতে। ঢাকায় আসা মানে আমি স্বাধীন। ভাইয়ার বাসায় থাকি। পড়ালেখার নাম নেই। সারাদিন আড্ডাই। পত্র পত্রিকায় দুই হাতে লিখি। মাঝে মাঝে ক্লাসে যাই। ভাইয়া প্রতিদিন অফিসে যাবার সময় আমার জন্য ২০/৩০ টাকা রেখে যেতেন। তাতেই আমার দিব্যি চলে যেত। ৩ বেলা খাবার আর রাতে থাকার চিন্তা নাই। এরচেয়ে সুখের জীবন আর কী হতে পারে ?
৯০ সালে এসে বন্ধুদের সবাই মিলে সিগারেটের ব্র্যান্ড পাল্টালাম। তখন সিগারেটের পেছনে ফিল্টার না থাকলে কেমন খেত খেত লাগত। ফিল্টার সিগারেটের মধ্যে কমদামি এবং সহজলভ্য ছিল জন প্লেয়ারস গোল্ড লিফ। এক টাকা করে প্রতিটি। তবে খুব কমই একজনে একটা সিগারেট খেতাম। একটা খেতাম ২/৩ জনে ভাগ করে। এটা যে শুধু পয়সা বাঁচানোর জন্য করতাম, তা নয়। এর মধ্যে অন্য এক আনন্দ পেতাম আমরা। একজন ধরালেই অন্যজন 'বুক' দিতাম। অর্থাৎ প্রথমজনের টানা শেষ হলে দ্বিতীয়জন টানবে। সত্যি কথা বলতে কী, সিগারেট ছাড়া বাজে কোনো অভ্যাস ছিলোনা আমাদের বন্ধুদের। হঠাৎ হঠাৎ কখনো কখনো গাঁজা খেতাম। সেটাও বছরে ২/১ বার। ইনোক্টিন ট্যাবলেট খেয়েছি- তাও হাতে গোনা। কিন্তু কোনো কিছুর সাথেই সখ্যতা গড়ে উঠেনি আমাদের। একমাত্র সিগারেট ছাড়া। সে সখ্যতা আজো রয়ে গেছে সমান ভাবে।
গোল্ডলিফ খেয়েছি একনাগাড়ে ৯৬ পর্যন্ত। তারপর একদিন হঠাৎ করে সিগারেট ছেড়ে দিলাম। তখন আমার অ্যানগেজমেন্ট হয়ে গেছে। আমার হবু বউ সিগারেট ছাড়ার ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেনি। শুধু একদিন বলল- আমার ভাই বোন এবং তাদের বন্ধু-বান্ধব নাকী আমার বউকে বলেছে, যদি সে আমার সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে পারে- তাইলে তাকে কী জানি 'বিশেষ' পুরস্কার দেবে। আমি কি চাইনা, সে পুরস্কারটা পাক ? এমন করুণভাবে বললো- আমার খুব মায়া হল। সেসময় আমার পকেটে গোটা তিন চারেক গোল্ডলিফ। আমি তাকে কিছু না বলে পকেট থেকে সিগারেট প্যাকেট বের করলাম। সেটা দুরে ছুঁড়ে মারলাম...। বউ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ফিক করে হেসে দিলো...
৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সিগারেট বিহীন জীবন আমার। ২০০১ সালে কুমিল্লা ছেড়ে আমাদের পুরো পরিবার ঢাকায় এল। আমি শ্রীমঙ্গলে চাকরী করতাম তখন। আমিও ঢাকায় এলাম। এবং অনেকদিন পরে পুরোনো সব বন্ধুদের ফিরে পেলাম। তাদের সাথে আড্ডাতে যেয়ে আবার সিগারেট ধরলাম। এবার গোল্ডলিফ ছেড়ে ব্যানসন। আমার বউ অবাক হলেও কিছুই বলেনি। না বলারও কারন আছে। একজন মানুষের কত রকমের বাজে স্বভাব থাকে। সে দেখল, সিগারেট খাওয়া ছাড়া আমার মধ্যে বাজে কোনো স্বভাব বা নেশা নেই । তাই বেচারি কষ্ট হলেও মেনে নিল। পাছে ভয়, ঢাকায় এসে তার জামাই আবার অন্য কোনো বাজে নেশায়/স্বভাবে না জড়িয়ে যায় ! সেই থেকে চলছেতো চলছে। দিনে ১০/১২ টা সিগারেট খাই। তবে বাইরে ট্যুরে গেলে সেটার পরিমান বেড়ে যায়। ১৫/১৬ টা হয়ে যায়। কখনো এক প্যাকেট।
এইত সেদিনের কথা। বেনসন প্রতিটির দাম ছিল ৫ টাকা। এভাবে কয়েকদিন গেল। হঠাৎ করে হয়ে গেল সাড়ে ৫ টাকা। খুচরা পয়সার দোহাই দিয়ে একদিন দেখলাম বেনসন ৬ টাকা হয়ে গেল। পরিচিত অনেকে বেনসন ছেড়ে পলমল সিগারেট ধরল। আমি বেনসনেই রয়ে গেলাম। ৬ থেকে সাড়ে ছয়...। এরপর ৭ টাকা প্রতিটি। গত দুই দিন থেকে বেনসনের দাম ৮ টাকা। অনেক যায়গায় পাওয়াও যাচ্ছে না। বুঝতে পারছি- এটা দাম বাড়ানোর জন্য দোকানীদের একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ছাড়া অন্য কিছুনা। আজ হঠাৎ করে কেনো জানি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসলাম।
প্রতিদিন যদি গড়ে ১০ টা সিগারেট খাওয়া হয় তাহলে আমার শুধু সিগারেটের পেছনে খরচ হচ্ছে- ৭০ টাকা। মাসে ২ হাজার একশ টাকা। বছরে ২৫ হাজার দুই শ টাকা... সব্বোনাষ ! বছরে ২৫ হাজার টাকার সিগারেট.... শ্রেফ ধোঁয়া খেয়ে উড়িয়ে দেই.... তাহলে.... ধুমপায়ীদের/ অধুমপায়ীদের মতামত প্রার্থণা করা ছাড়াতো কোনো গতি দেখছিনা.....





এমনে অপচয় করেন ধুয়া ছাইড়া? ধিক্কার।
অপচয়কারী শয়তানের ঘনিষ্ঠ আত্নীয়।
কও কী বেলি ? শয়তান বৈলা আমার কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আছে বৈলাতো মনে পড়তাছেনা
ঠিক করে চিন্তা করেন দাদাভাই

চিন্তা আবার বেঠিকভাবে কেমনে করে ক্যাপ্টেন ?
আপনে কি বলতে চান বেলি আপনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় না!!!!!!

আমি অপচয়কারী, মানলাম। বেলি আমার ঘনিষ্ঠজন, এটাও মানলাম। তাইলে কী দাঁড়াইলো ক্যাপ্টেন ? বেলি শয়তান
১৯৮৮ সন থেকে শুরু করেছিলাম ।ছেড়েছি ৫ মাস হল।
কই মরি নাইতো। দিব্যি বেঁচে আছি।
মেসবাহ ভাই, সিগারেট কিনে খাওয়া বন্ধ করেন। কিনে খাওয়া মানে নিজে কিনে খাওয়া, নিজে কিনে অন্যকে অফার করাও বন্ধ করেন মানে ওপরের উপর দিয়া চালান আপাতত আরকি।দেখবেন মোটামুটি নিযন্ত্রনে আসবে।
অনেকে বলে, সিগারেট ছাড়ার জন্য নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট।

আমি বলি,সিগারেট ছাড়ার জন্য ইচ্ছার কারনই যথেষ্ট।অর্থাৎ ইচ্ছা তৈরী হওয়ার জন্য একটা কারন লাগবে অবশ্যই। যেমন, অসুস্থতা ।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন: ধূমপায়ীদের ধূমপান ছাড়ার কথা সহজে বিশ্বাস করতে নাই।
আইডিয়া খারাপ না। সকাল থেকে দুইটা খেলাম। পরের টাকায়। দেখি, বাকী দিন কীভাবে যায়...
আমার ব্র্যান্ড নিয়ে ঝামেলায় আছি। বেনসন লাইট। মূল শহরের একটু বাইরে গেলে এই সিগারেট পাওয়া যায় না। এতে অবশ্য অর্থ ও স্বাস্থ্যের দুটোরই উপকার হয়।
গত কয়েক বছর ধরে সিগারেট ছাড়ার ক্রমাগত চেষ্টা করেই যাচ্ছি কিন্তু হচ্ছে না। আমিও ভাই এরকম একটা হিসাব করেছিলাম। আমরা দৈনিক অনেক টাকা সিগারেটের পিছনে ঢালি।
তবে, মনের কঠিন ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবই সম্ভব।
এই সব কথা কৈয়েন না ভাই। শুনলে টেনশন হয়। আর টেনশন হৈলে সিগারেট খাইতে ইচ্ছা হয়...
সমস্যা একটাই, প্রথমে মানুষ সিগারেট খায় তারপরে সিগারেট মানুষরে খায়।
রিটায়ারমেন্টে যেতে পারলে ভাল...
~
সেইটাই
হিসাব কইরা দেখলাম বছরে ৭০ হাজার টাকার বাতাসে উড়াই
৮ বছর আগে যখন দেশ ছাড়ি তখন বেনসন ছিলো ৩ টাকা/স্টিক। ৭ টা কিনতাম একসাথে, দোকানদার রাখতো ২০ টাকা। ১ প্যাক কিনলে ১ টা ম্যাচ ফ্রি দিতো। এখন ৮ টাকা !!
হ বস, এখন বেনসন প্রতি শলাকা মাত্র ৮ টাকা। তাও খাই, খাইতে হয়। সম্প্রতি আমগো অর্থমন্ত্রী কৈছে- তেলের দাম আবার বাড়াইবো। একখান বাইক আছে আমার। এখন প্রতি লিটার ৯৩ টাকা। এই হালার মন্ত্রী মনে লয় এইটারে ১০০ টেকা কৈরা ছাড়বো। আমগো ট্যাক্সের টেকায় চলেতো... টের পায়না

এই এবি থেকেই আসুন আমরা সিগারেট বর্জন কর্মসূচি আরম্ভ করি
ছি ছি ভাইয়া, আপনি সির্কেট খান?
না, না কক্ষনোনা...
সহমত
একদিন একটা সিগারেট খাইছিলাম । তিতা আর বিশ্রী গন্ধ । এরপর আর খাইনাই । মনে হইছে এইরকম একটা বিশ্রী জিনিষ মানুষ কেন খায়? এইটা তো স্বাদ বাজে তাই না, অস্বাস্থকরও ।
সিগারেট ছাড়েন ভাইয়া । আপনি ভালো থাকবেন আপনার পরিবার সহ আশেপাশের সবাই ভালো থাকবে ।
সিগারেটের উপকারিতা নিয়া একশ পাতার একটা থিসিস লিখতে পারি, নিতান্তই আলসেমিবশত লেখা হয় না! এইরকম একটা নির্দোষ ব্যাপারকে খামোখাই নিন্দনীয় ব্যাপার হিসাবে প্রচার করা হৈছে! আফসুস!
সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!
সিগারেট খায় মাইনষে
সিগারেটের মধধে কি আছে আমি এখনো বুঝি নাই। বুঝনের আসায় খায়া চলতাসি।
সিগারেট খায় মাইনষে
I think 25 thousand is so many less. The apostille.
মন্তব্য করুন