৩ পিস বোয়াল মাছ এবং নতুন ইতিহাস
আমার নতুন অফিসের একটা কাজ চলছে সিটি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে। ৫/৬ দিন আগে গুলশানের সে কার্যালয়ে যাই। পরিচয় হয় ব্যাংকের পিআরও ইয়াহিয়া ভাইয়ের সাথে। ভদ্রলোককে দেখে মনে পড়লো, তাকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। যখন সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ছিল দিলকুশায়। আমার এক বন্ধু কাজ করত সে অফিসে। সেই সুবাদে তার সাথে পরিচয়। সিটি ব্যাংকের সাথে আমাদের অফিসের কিছু কাজ হচ্ছে। এমডি/চেয়ারম্যানের ফ্লোরে কিছু ইনটেরিয়রের কাজ করছি আমরা। তার অংশ হিসাবে বেশ কিছু ছবি লাগানো হচ্ছে সেখানে। আর সেকারনেই সেই অফিসে যাওয়া আমার।
প্রথম দিন ওদের অফিসে ঢুকেই মনটা ভাল হয়ে গেল আমার। সুন্দরী দুটো মেয়ে বসে আছে ফ্রন্ট ডেস্কে। সামনে দাঁড়ানোর সাথে সাথে এমন চমৎকারভাবে সাহায্য করতে চাইলো...। ভালো লাগলো। সচরাচর ফ্রন্ট ডেস্কের মেয়েদের চেয়ে একটু আলাদা মনে হল। আমার আগের অফিসের কথা মনে পড়ল। কত ফারাক ওদের আর এদের আচরন ! কর্পোরেট বিহ্যাবিয়ার বোধ হয় একেই বলে। ওদের কাছ থেকে পাশ নিয়ে সোজা এমডির ফ্লোরে গেলাম। সেখানে কাজ করছে অফিসের কয়েকজন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে বেরিয়ে আসলাম।
একদিন পরে আবার গেলাম। এখনও কাজ শেষ হয়নি। আজ আমার সাথে বসও আছেন। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর একদিনের কাজ বাকী আছে। কাজ করতে করতে দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল। এতক্ষণ পরে বসের খাবারের কথা মনে পড়ল। আমার ক্ষুধা পেয়েছে অনেকক্ষণ। কিন্তু বস না গেলেতো আমিও যেতে পারিনা। বস আর আমি খেতে বেরুলাম। গুলশান দুইতে বেশ কটি খাবারের দোকান। আমরা গেলাম ধানসিঁড়িতে। বসকে বসতে বলে আমি গেলাম ওয়াশরুমে। এসে দেখি বস খাবারের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। আমরা মানুষ তিন জন। তিনটা শুটকি ভর্তা, একটা শাক, তিন পিস বোয়াল মাছ, এক ডিস ভাত, একটা ২ লিটারের পানি, তিন কাপ দধি। বেশ আয়েশ করেই খেলাম। খাওয়া শেষ। বিল আসলো। বস বিল দেখে আমাকে বললেন, দেখেনতো ঠিক আছে কিনা ? বিল দেখে আমার গলা দিয়ে সব খাবার বেরিয়ে আসতে চাইলো। সব্বোনাষ ! তিনজন মানুষের ভাত খাওয়ার বিল ৫,৬৩০ টাকা। শুধু বোয়াল মাছের দাম দেখলাম- প্রতি পিস ১৪৫০ করে...। এমন আহামরী কোনো পিস নয়। সাধারন পিসের চেয়ে একটু বড়...। বিরস মনে বস টাকা বের করে দিলেন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, বিলটা আমাকে দিতে হয়নি।
আবার ফিরে এলাম ব্যাংকে। লোকজন কাজ করছে। আমাদের তিনজনের কারোই কাজের প্রতি আগ্রহ নেই। মিনিট ত্রিশেক পরে বসের কী একটা 'জরুরি কাজের' কথা মনে পড়লো। তিনি বেরিয়ে গেলেন। আমরা সন্ধ্যা নাগাদ বাকী কাজ শেষ করে বেরিয়ে আসলাম। আমি ছুটলাম বাসার পথে। আজ ভারত পাকিস্তানের খেলা। বাসায় এসে ভারতের ব্যাটিংটা দেখলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম ভারত আজ হারবে। ৩৩২ রানের টার্গেট। ছেলে খেলা না। আমি আজম্ম পাকিস্তান বিদ্বেষী। আজও মনে প্রানে চাইছি- পাকিস্তান হারুক। কিন্তু এক বড় টার্গেট টপকাবে কী করে ? তাছাড়া ভারত জিতলে আমাদেরকে শ্রীলংকার সাথে জিততেই হবে... তারপরও আছে নানান হিসাব নিকাশ (তখনও জানতাম না, বাংলাদেশ শ্রীলংকার সাথে শুধু জিতলেই ফাইনালে যাবে)। তারপরও চাইছি- পাকিস্তান না জিতুক। এরপর যা হবার হবে। পুরোটা সময় টিভি সেটের সামনে। অবশেষে অসম্ভবকে সম্ভব করে ছাড়লো ভারত। জিতলো তারা। আমার মাথার মধ্যে তখন একটাই আনন্দ। পাকিস্তান হেরেছে। পাকিদের এক একটা হার, আমার ব্যক্তিগত এক একটা জিৎ...
কাল অফিসে আসিনি। দুপুরে তাড়াতাড়ি খাবার সেরে ব্যাপক আয়োজন করে খেলা দেখতে বসে পড়লাম। বৌ আর ২ পুত্রকে নিয়ে। হঠাৎ বসের ফোন। ততক্ষণে বাংলাদেশ ৩ উইকেট খেয়ে ফেলেছে লংকানদের। বস জানতে চাইলেন, শরীর খারাপ কিনা ? বললাম, শরীরটা বেশি ভাল না। গতকালের বোয়াল মাছ খাবার পর থেকে কেমন জানি পেট ব্যথা। বস তাড়াতাড়ি বললেন, ঠিকাছে- বাসায় বিশ্রাম নিন। আজ আর অফিসে আসার দরকার নাই। আমি সাধারনত অফিসে আসি ১১ টা ১২ টার দিকে। বেরিয়ে যাই ৬ টার দিকে। বসের সাথে কথা বলার সময় টিভির সাউন্ড মিউট করে রেখেছিলাম। পাশে আমার বৌ আর রোদ্দুর আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। হুররে.... বলে টিভির সাউন্ড আরো বাড়িয়ে দিলাম। তারপরের ঘটনাতো ইতিহাস। ২৩২ রানের বিপরীতে বাংলাদেশ মাঠে নামার আগে তুমুল বৃষ্টি মিরপুরে। ক্রিকেটের কীসব হিসাব নিকাশ শেষে দেখা গেল- বাংলাদেশ ৪০ ওভার খেলতে পারবে। টার্গেট ২১২। রোদ্দুরতো ক্ষেপে গেলো। ওর কথা হচ্ছে- ১০ ওভার কমেছে ঠিকাছে, কিন্তু মাত্র ২০ রান কমবে কেনো ? কী বলবো ওকে ? আমিও ছাই অত হিসাব বুঝিনা। বললাম, আল্লাহ ভরসা। চল খেলা দেখি। তারপর যা হবার তা ইতিহাস। বাংলাদেশ পুরো ৪০ ওভার না খেলেও লংকানদের হারালো। এবং প্রথমবারের মত এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠলো। আগামীকাল ফাইনাল। পাকিস্তানকে বধ করে বাংলাদেশ ঠিকই এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হবে...। আরেকটা ইতিহাস কি আমাদের শাকিব- মুশফিক- তামিমরা গড়বেনা ? নিশ্চয়ই গড়বে... আমরা যে ১৬ কোটি মানুষ ওদের দিকে তাকিয়ে আছি- সেটা কী আর ওরা জানেনা !!





১ম কমেন্ট
এইটারে কমেন্ট কয় ?

অফিসের বস এই ব্লগ পড়লে আপনার খবর আছে।
সেদিন বোয়াল মাছ মনে করে কিনে এনে দেখি সেইটা পাঙ্গাস মাছ।
(গঠনমুলক ১ম কমেন্ট)
পড়ার সম্ভাবনা নাই
সিটি ব্যাংকের এমডিরে কন কালকের টিকেট দিতে
টিকেট নাই। ৪০০ টাকার টিকেট বলে ২০০০ টাকা
ভাই, ১৪৫০এ এক পিস বোয়াল মাছ খাইতে পারলে, ২০০০ টাকার টিকেট কি বেশি মনে হইল!

দেহেন ভাইবা, মাঠে গিয়া ইতিহাসের সাখখি হউয়া।
আমার বিশ্বাস জিতবই...
ভাইরে, বোয়াল মাছের বিলতো আমি দেই নাই।
জিতবোই, জিততেই হবে...
১৪৫০ টাকার বোয়াল খাইছেন!
তাও ভাল ....
"দেড় ইঞ্ছিমেদে ডাকা, লিলামে উঠা- যেন কোন বৃহত নদীর পাঙ্গাশ" খান নাই
হ, খাইয়া এখন বুঝতাছি
বিমাকে ঝাঝা।

এত দাম !!!! এতো
(
হ বস, শালারা ডাকাতের চেয়েও খারাপ
ইন শা আল্লাহ..
ইটস্ টাইগার টাইম অফ দ্যা ইয়ার!
ইনশাল্লাহ
ধানসিঁড়িতে দাম সব সময়ই গলা কাটা। কিন্তু ক্যান যে মানুষ ওখানে খেতে যায় কে জানে!
আপনার বস আবার ব্লগে টগে ঘুরে না তো?
যা দিন কাল আসতেছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেট-বিহীন বস লাগবে
~
নাহ, বসের অত টাইম নাই
নতুন চাকরী... অভিনন্দন জানাই আগে।
বোয়াল মাছের পিসের এত দাম! কয়েকদিন আগে একজায়গায় খেয়েছিলাম, বেশ বড় বড় টুকরো ছিল, বিল আমি দেই নাই্, যিনি বিল দিয়েছেন তার গলা কেমন কাটা গেছে খোদায় জানে
থ্যাংকু, থ্যাংকু
আজকে আইবানা ?
অফিসতো
সন্ধ্যায় শ্রেয়া আমার অপেক্ষায় থাকে, মেয়েটার জন্য অফিস করেই বাসায় দৌঁড় লাগাই। আপনারা সাপোর্ট দিয়েন ভালো করে, আমরা জিতবোই আজকে।
ঠিকাছে......
জয় ঠেকায় কে ?
শুধু দোয়া কৈরো
কয়দিন আগে খাইলাম বিশাল সাইজের বোয়াল পিস।
পুরা প্লেট জুড়েই পিস । খাইতেছিলাম আর গলা শুকাইতেছিল । পরে বিল দেখে পানি পাইলাম। ২৫০ টাকা পিস নিছে। বাইচা গেছিলাম ।
আপনে দামী মানুষ , দামী জায়গায় খান, দাম তো বেশী নিবোই।
সত্যি কৈরা কনতো, সবসময় এরকম গলা শুকান ক্যান ? আপনার এত টাকা- পয়সা খাইবো কে ? একটাইতো শরীর নিয়া আইছেন। এখনো একলাই আছেন...
কুন দেশী বোয়াল? আমগো দেশী না এইটা কনফার্ম।আমাদের দেশী হলে এক টুকরা মাছে ২কেজি মশলা দিলে ১৪০০ টাকা দাম হতে পারে। যাই হোক, খেয়ে হজম করলেন কেমনে?
অন্যের পয়সায় খাওয়ার কারনে মনে হয় হজম হৈছে। নিজের পয়সায় খাইলে হজম ? ইম্পসিবল...
এইটা বোয়াল মাছ হইতেই পারে না! কি না কি খাওয়ায়া আপনেগো বোয়াল বইলা ধোঁকা দিছে!
ক্যান, বোয়াল মাছের দাম কি আরো বেশি ?
নতুন চাক্রি উপলক্ষে খাওয়াইবেন কবে?
আরেকটা চাক্রির কাগজ হাতে পাইয়া লই, সবতেরে খাওয়ামু
সবই কোপাল বটে!
তবুও পাঙ্গাস থেকে বেঁচে থাকুন!
সবই 'কোপাল'
ওহ
আহ !
্বলছেন আপ্নে বোয়ালের কথা মনে পড়লো পাঙ্গাস'রে তথা গুলনাহারকে! আপ্নের বোয়ালের মতোন সেও অনেক দামী ছিলেন না?!
কিন্তু এত্তো বিচ্ছিরি দামের কেন মাছের পিস? আলাদা কিছু মানে রেসিপিতে আলাদা কিছু কি দেয় নাকি দোকানের নামের কারনেই?
বিশ্বাস কর জেবীন, আমি জানিনা। আমি নির্দোষ। আমার বসের বোয়াল মাছ খাইতে ইচ্ছা করছে- খাইছে...। লগে আইক্কাওয়ালা বাঁশও খাইছে... আমার শুধু এত্তগুলান টাকা বিল দেওনের সময় বুকের বামপাশে কেমন জানি ব্যথা করছিল
মন্তব্য করুন