------এর হাতে যখন মাইক
আমার বাসার সামনে একটি মসজিদ আছে । প্রতি শুক্রবার সেখানে খুতবা পাঠ হয়। বাধ্য হয়ে তাদের বক্তৃতা শুনতে হয়। বিশেষ যখন বারান্দায় যাই তখন শুনতেই হয়। আমি বিভিন্ন ওয়াজে দেখেছি সেখানে ৮০% থাকে মহিলাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। এই মসজিদে প্রতি শুক্রবার মোটামুটি এই বিষোদ্গারটা কম বেশী থাকবেই।
একবার এক বক্তা বললেন --এই যে সমাজে ইভটিজিং হচ্ছে এর জন্য কে দায়ী? দায়ী আপনাদের বিবি, মেয়েরা। তারা স্কুলে যায়, কলেজে যায়। আমাদের ছেলেদের মাথা নষ্ট করে। তারা রাস্তায় মাটি কাটে, পাতা কুড়ায়, পুরুষদের দেখলে হাসি দেয়। তাতে কি পুরুষের মাথা ঠিক থাকে? তারা বাজারে যায় দোকানদারি করে , দোকান থেকে সওদা কেনার নামে দোকানীর সাথে হাসে, তাতে কি তারা ইভটিজিং করবে না? তারা তো রক্ত মাংসের মানুষ, অবশ্যইইইইইইইইইইইই করবে। আমাদের উচিত মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাইতে না দেয়া। দেখবেন, ছেলেদের মাথা ঠিক, তারা আর ইভটিজিং করবে না। মহিলারা বেড় হবে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে। যেন তাদের কেউ না দেখে, তাদের বয়স কত তা যেন কেউ না বোঝে, তাদের শরীরের ভাঁজ যেন কেউ খুঁজে না পায়, সে শুকনা না স্বাস্থ্যবতী তা যেন কেউ টের না পায়। আর তার সঙ্গে অবশ্যই একজন পুরুষ সঙ্গী থাকবে। খোদার দুনিয়ায় এত কাজ থাকতে তাদের দোকানদারী করার কি দরকার! রাস্তায় কাজ করার কি দরকার! অফিস আদালতে যাওয়ার কি দরকার? তাদের রাস্তায় পাঠাইয়া দিয়া আমরা খালি কই ইভটিজিং বন্ধ করো?? তাইলে হবে ??? মেয়েরা বাড়ির বাইরে না আসলে দেখবেন এই দেশে আর ইভটিজিং হবে না ইনশাল্লাহ।
ধর্মের কথা বাদ দিলাম----ঐ মূর্খকে কে বোঝাবে যার কোন ঘর নাই, যার পেটে ভাত নাই, পাতা না কুড়ালে যার চুলায় আগুন জ্বলে না সেখানে ঐ মূর্খ কি যেয়ে যেয়ে মুখে মুখে খাবার তুলে দেবে???? বাদ দেই এই সব আজাইরা কথা বলা। কারন শুধুই কালক্ষেপন।
আজ যার জন্য লিখতে বসলাম তাই বলি। খুতবা শুনতে শুনতে লেখার ইচ্ছা আর দমন করতে পারলান না। আজকের বিষয় নারীনীতি। পবিত্র কোরযানে কি উল্লেখ আছে তা বলে গেলেন আরবীতে। আর নারীনীতিতে কি আছে তা আমরা জানি না কিন্তু উনি জানেন। কেন নারীনীতি মানা যাবে না তার বর্ননা তিনি দিতে শুরু করলেন ---- আল্লাহ মেয়েদের জন্য জুম্মার নামাজ নিষিদ্ধ করেছেন, মেয়েরা ঈদের জামাত পড়তে পারে না, মেয়েদের জানাজা পড়তে নিষেধ করেছে---তাই সমাজের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ব নেই। তাদের দাড়ি, মোছ গজায় না, দাড়ি মোছ হল বংশের ধারক। তাই পুরুষই সমস্ত কিছুর দাবীদার। মেয়েরা তাদের জীনবের প্রতিটি দিন নামাজ পড়তে পারে না শারিরীক কারনে, বলেন ও্যাস্তাগফেরুল্লাহ, তারা বছরে একটি সন্তানের জন্ম দিতে পারে, আর পুরুষ পারে বছরে ১০০০/১২০০এর বেশী বলেন মাশাল্লাহ। -------আর শুনতে পারলামনা, ধৈয্যের বাঁধ ভেঙ্গে চৌচির।





হাসবো না কাদঁবো বুঝতেছি না।
ছোটবেলায় একটা কথা কইতাম পোলাপাইনের হাতে লোহা আর শয়তানে মারে... পরে ঐটারে এডিট করে কইতাম ‘’পোলাপাইনের হাতে লোহা শয়তানে খায় টোস্ট বিস্কুট’’
হারামজাদা গুলা সেই টোস্ট বিস্কুট খায়তেছে আমাদের মতোন মমিন মসুলমানদের মাথার ক্রিম দিয়ে।
কানদেন ভাই কানলে বুক হাল্কা হয়।
এরকম ভয়াবহ খুদবা জীবনে শুনি নি! মসজিদে কী মানুষ বসে তখন এই বক্তব্য উপভোগ করছিল!
তা জানি না তবে মসজিদের বাইরে ফুচকা, চটপটি ওয়ালারা বসে, পোলাপাইনে খালি খায়। আমার বাচ্চারাও খুব খায় ঐ চটপটি যা খাইতে বা দেখতে সেই রকম।
লিজা আপনার বন্দুকের গুলি তো দেখু ফুরায় না। আমার পোস্টের সাথে এই গুলির ইমোটা দারুন মানাইছে।
এই কাঠমোল্লার মত সমান ধারণা পোষণকারী অনেক শিক্ষিত লোককেও এই ধরণের কথা বলতে শুনেছি। এদের হেদায়াত করার চেষ্টা করা বৃথা বন্ধু।
তবে এইটা ঠিক, চরম বিনোদনের খুতবা শোনার জন্য হলেও তোমার বাড়িতে বেড়াইতে যাইতে হবে
এ তো বন্ধু কাঠমোল্লা না এ যে কাটমোল্লা-----
ভয়েস রেকর্ড করে কোনো টিভি চ্যানেলে দেয়া গেলে ভাল হতো। জনসচেনতার জন্য এগুলো নিয়ে পাবলিকলি কথা বলা দরকার। ব্যাখ্যা করা দরকার যে কেন দেশের মূর্খ হুজুরদের কথা শুনে জিহাদি জোশে রাস্তায় নামা উচিত না।
গতকাল এক হুজুরকে দেখলাম পুলিশের বুকে পুরা কারাতের স্টাইলে লাথি মারছে। সত্যি দুঃখজনক।
খুতবার সময় রাস্তায় মাইকের সামনে দাঁড়াইলে রেকোর্ড করা যাইতো। একদিন করতেই হবে।
শাড়ি নাভির নীচে না ওপরে সেটা নিয়ে কিছু বলে নাই হুজুর? ব্লাউজের কাটের কথা ভুলে গেছে? এগুলোতো মূখ্য সাবজেক্ট ওয়াজ আর খুতবার। স্বামীর কথা না শুনলে মেয়েদের কি কি হবে সেই বয়ান দেন নাই?
খিকজ

হু, এই বয়ান দেন নাই কেন হুজুরে? আমার আবার এইটা জানা খুব জরুলী আছিলো
এগুলান তো কমন কথা , তারা তো সারাদিন এই গুলাই দেখে। অন্য কিছু তো দেখে না। খুদবার বেশীর ভাগই থাকে নারীদের নিয়ে আর বেহেস্তের হুরপরী দের নিয়ে।
এই সব তো কর্ন কুহরে হামেশাই প্রবেশ করে তাই কমন বিষয় আর বললাম না।
মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ, মাশাল্লাহ
তয় মাত্র ১০০০/১২০০ কেন? আরেকটু বেশি হইলে কি খুব দোষ হইতো?
আর হাসাবেননা প্লিজ। আমি ততক্ষনাৎ কেলকুলেটর দিয়ে গড়ে দিনের হিসাব বের করেছি।
হুজুরের খুতবা শুনা হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গেলো...
চিটাগাং কলেজের প্যারেড মাঠে দেলু সাঈদীর বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল হতো...চিটাগাং কলেজে পড়তাম, একদিন প্যারেড মাঠের সামনে বসে আড্ডা মারতে মারতে মাইকে শুনছি সাঈদীর কথাবার্তা...শয়তানের নানা বদ আচরণ বর্ণনা করতে গিয়া ওয়াজের প্রচলিত নীতির মতোই ব্যাটা নারী সংক্রান্ত আলোচনায় আসলো...পরের দশ মিনিটের রগরগা বর্ণনা শুনে মনে হলো আসলেই কি একটা ওয়াজ মাহফিলে আছি না মেলোডি ছি:নেমা হলের সামনে একটিকেটে দুই মুভির টিকেট ব্লাকারের মুখে ছবির বর্ণনা শুনছি...
হুজুরদের কথা আর কি বলবো, বেশী খারাপ লাগে যখন অনেক শিক্ষিত কিংবা সুট টাইওলা ভদ্রলোকের মুখেও একই কথা বার্তা শুনি....
খুদবার বিশেষ আকর্ষন ই এটা। এদের এই বর্ননা দেবার জন্য টাকা দিয়ে ভাড়া করে আনা হয়। যে হুজুর যত সুন্দর রগ রগে করতে তার সম্মানী তত।
এই হুজুররে ব্লগে আনা যায় না? একটু কথা বইলা দেখেন না

পিলিজ লাগে
আপনে একটা ট্রাই নেন ভাই। আমিতো প্রকাশ্যে তার সাথে কথা বলতে পারবো না কারন আমি নারী পুরুষকে বিপথে চালিত করার একমাত্র অস্ত্র।
হ এই হুজুররে ব্লগে চাই। ট্রাই করেন, পিলিজ লাগে।
একে তো আমি মহিলা (ত্থুক্কু পাপের বস্তা) ।
সুবাহানাল্লাহ।
সুবাহানাল্লাহ। সুবাহানাল্লাহ। সুবাহানাল্লাহ। সুবাহানাল্লাহ।
মোটে ১০০০-১২০০???
হুজুর হিসাবে দেখি ন্যাক্কারজনক পার্ফমেন্স।
আজকাল মসজিদে দেখি ব্যাপক বিনোদন। তাহলে তো মসজিদে যাইতে হয়
মাশাল্লাহ্
শুকুরাল্হামদুল্লিলাহ্ একজনকে মসজিদ মুখি করা গেল।
আল্লাহ মেয়েদের জন্য জুম্মার নামাজ নিষিদ্ধ করেছেন, মেয়েরা ঈদের জামাত পড়তে পারে না, মেয়েদের জানাজা পড়তে নিষেধ করেছে---তাই সমাজের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ব নেই। তাদের দাড়ি, মোছ গজায় না, দাড়ি মোছ হল বংশের ধারক। তাই পুরুষই সমস্ত কিছুর দাবীদার। মেয়েরা তাদের জীনবের প্রতিটি দিন নামাজ পড়তে পারে না শারিরীক কারনে, বলেন ও্যাস্তাগফেরুল্লাহ, তারা বছরে একটি সন্তানের জন্ম দিতে পারে, আর পুরুষ পারে বছরে ১০০০/১২০০এর বেশী বলেন মাশাল্লাহ।
আহা... কি তামশা!!
মেয়েরা জুম্মার নামাজ পড়ে, মসজিদে যেয়েই পড়ে, মেয়েরা জানাজার নামাজ পড়ে শুধু লাশের সামনে দাঁড়ায় না কারন সেখানে পুরুষেরা থাকেন, তারা একটু আড়ালে দাড়িয়ে নামাজ পড়েন, ঈদের নামাজ অনেকেই মসজিদে যেয়ে পড়ে এবং বেশীর ভাগ মহিলা বাড়িতে পড়েন। ----- কিন্তু মোল্লাদের কথা আর কি বলবো??
মন্তব্য করুন