খেরো খাতা
শ্বশুর রাতে ঘরে ঢুকেছিল, কোন রকমে ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে গেছে সোহাগী। সারা রাত বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ে বসে ছিল। সেই অপরাধে সকালে শ্বশুর, দেবর, শ্বাশুরী, ননদেরা মিলে পিটিয়ে দুঃশ্চরিত্র অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। দুঃশ্চরিত্র মেয়ের ঠাঁই আর কোথাও হয় না এ কথা কে না জানে। বড় আদর করে দিনমজুর বাবা মেয়ের নাম রেখেছিল সোহাগী। না সোহাগীর জীবন কাহিনি বা হনুফা ,মরিয়্, গেদী, কইনুর, আন্নি, আঙ্গু, খাদিজা, সেতারা, লতিফা এদের নিয়ে লিখে পাতা ভরার ইচ্ছে আমার কখনই হয়নি এখনও নেই।
অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন ভিকারুন্নেসা/হলিক্রস ইত্যাদি স্কুল/কলেজের মেয়েদের যৌন নির্যাতন বা যৌন হয়রানির হাত থেকে রক্ষার জন্য। শুধু শহর ভিত্তিক স্কুলগুলিকে নিয়ে ভাবনাতে আমি একমত নই। আমাদের শহরের বাবা/ মা অনেক সচেতন। তারপরও এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সচতন কোথায় হতে হবে তাই তাদের ভাবনাতেই নেই। তারা শিক্ষককে দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছেন, যেমন রেখেছেন মেয়ের বান্ধবীর বাবাকে বা মেয়ের চাচা, মামা, খালুকে। তবুও এই যৌন হয়রানি গ্রামাঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। শহরের ঘটনা দু একটা প্রকাশ পেলেও গ্রামের এই সব ঘটনা প্রকাশ পায় খুব গোপনে।
যৌন হয়রানি বা সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট খুব সুন্দর এবং শ্রতিমধুর শব্দ। শব্দটি আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি একজন পুরুষের দেয়া কারন পুরুষরাই লেখাপড়ায়, জ্ঞানচর্চায়, সমাজ পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে বহু আগ থেকে এবং এখনও । মেয়েরা এখনও অনেক দূরে। যৌন হয়রানি একটা মেয়েকে/শিশুকে যেমন বিব্রত, লজ্জিত এবং বিপদে ফেলে ঠিক ততটাই আনন্দ পায় একজন পুরুষ। এ নিয়ে আলচনায় আরও আমোদিত হয় তারা। আর এই বিষয় নিয়ে আলচনা যদি কোন নারীর সাথে করতে হয় তবে তো কথাই নেই তার চোখ চকচক করে তার মুখ তেলতেলে হয়ে যায় সে খুব অমায়িক হয়ে পরে বিষয়টি বারবার বলে খুব ভাল্ভাবে বুঝতে চায় মুখ বলে ছিঃ ছিঃ ছিঃ মন বলে আমি যদি এখন প্রাকটিক্যালি করতে পেতাম। মেয়েরা বা নারীরা ধোয়া তুলসী পাতা নয়। এর সাথে জড়িত নারীরাও আছে। একই চিত্র, শুধু অনুপাতে কম ৯০% পুরুষ ও ১০% নারী ।
যৌন হয়রানির অর্থ আমাদের সবারই জানা। এখন আসি এর প্রতিকারের বা প্রতিরোধের ব্যাপারে। এ ব্যাপারে সবার আগে মায়েদের সচেতন করতে হবে। তারও আগে আমাদের বাবা/মাদের বন্ধ করতে হবে বাচ্চাদের অল রাউন্ডার বানাবার বিকৃত মানসিকতা। বাচ্চাকে স্কুল বা কলেজের সেরা হতে হবে তাই এই কোচিং থেকে ওই শিক্ষকের বাসা, সেখান থেকে অন্য কচিং এ দৌড়ান বন্ধ করতে হবে। প্রথম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক বাচ্চা পরিক্ষার হল থেকে বেরিয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে সে নাকি একটা শব্দার্থ দিতে পারেনি তার বাবা/মা তাকে খুব মারবে। আপনারাই বলুন এই বাচ্চাটি কি এখন বাচ্চা আছে? বাচ্চা পরিক্ষা দিয়েছে এই কি ঢের নয়।? এই যে অসুস্থ মানসিকতা এ থেকেই শিশুরা মানসিক ভাবে হারাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়,বাবা/মা হয়ে যাচ্ছে ফ্রাঙ্কেস্টাইন। সেই সুজোগটাই নিচ্ছে শিক্ষকসহ অন্যান্যরা। হচ্ছে যৌন নির্যাতনের শিকার। বাচ্চা সময় মত শিক্ষকের কাছে যেতে পারেনি বা বুঝেনি এটা তাকে যে কোন কিছুর বিনিময়ে পেতে হবে তা না হলে তার যে আশ্রয় বাবা/মা তাদের নর্যাতন সহ্য করতে হবে তাই এই শিশুটি অসহায়। শিক্ষকদের কাছে পড়লে শিক্ষকেরা ভাল নাম্বার দেয়। এই আশায় শিক্ষকদের কাছে পড়া। এই নাম্বারটা কি খুব দরকার নাকি দরকার বাচ্চার সুস্থ স্বাভাবিক বিকাশ, পড়াশুনার নিজস্ব স্বাধিনতা। শিক্ষক স্কুলে ক্লাশে নাম্বার দিলেন কিন্তু বোর্ড পরিক্ষায় কি সেই শিক্ষক নাম্বার দেবেন? নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে বাচ্চাকে তারা সাহায্য করবে? বা চাকুরির ক্ষেত্রে? বাচ্চাকে সাবলম্বি হতে দিলে শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। সব বাবা/মাকে বুঝতে হবে একটি ছয় বছরের বাচ্চার জন্য ক এর পাশে আ-কার দিতে শেখাই যথেষ্ট। সে তবে দুইদিন পর নিজেই কাক লিখতে পারনে যে কাক লিখতে পারবে সে একদিন মা/বাবাকে ম্যাসেজ পাঠাবে
Don’t worry I will passed all the barriers.
বাচ্চাকে ক্লাশ নাইন টেনে এ টিউশন দিতে হবে সে ক্ষেত্রে বাচ্চার অভিভাবক অর্থাৎ বাবা মা কে হতে হবে বাচ্চার বন্ধু সবচেয়ে নির্ভরশীল বন্ধু। শুধু অভিভাবক ভেবে যাচ্ছেন আমি বাচ্চার ভাল বন্ধু কিন্তু বাচ্চা তা ভাবছে না তা হলেও হবে না। বাচ্চার মনকে পড়তে হবে বুঝতে হবে যা সে গ্রহন করতে চায় না তা যতই দৃষ্টি কটু হোক তার উপর জোর না করে তার বিবেচনায় ছেরে দিতে হবে। সে নিজে বুঝেই সরে আসবে শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাচ্চাকে খুব ছোট বেলাতেই শিখাতে হবে কার দৃষ্টিভঙ্গী কেমন। কতটুকু দুরত্ব কোথায় দরকার। কে কেমন আচরন করেছে তা যেন অকপটে সে বলতে পারে তার ভাবনায় যেন না আসে স্যার, চাচা, মামা, চাচী, মামীর কথা বললে আমাকেই খারাপ বলে রাগারাগি করবে।
আমাদের এতিমখানাগুলির কথা আর কি বলব। সেখানকার বাচ্চারা যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার প্রতিকার কিভাবে সম্ভব হবে আমি জানি না। ব্রেথেলের শিশুদের একই অবস্থা। জন্মই তাদের আজন্মের পাপ। মনবিজ্ঞানীরা বলছেন এই সকল নির্যাতনকারীরা নাকি মানসিক ভাবে অসুস্থ। আমি তা মনে করি না । মনবিজ্ঞানী নির্যাতনের শিকার নন। মনবিজ্ঞানীর কথা মেনে নিলে তো এককথায় বলা যায়- ঠগ বাছতে গা উজার।
একজন নামকরা মানসিক চিকিৎসকের একটি গল্প বলি। গল্পটা আমাদের এই দেশের। একটি মেয়ে বয়স ১২/১৩। মানসিক সমস্যার কারনে সে একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করল। সেই সময় মেয়েটি তার এক বোনের কাছে কিছু কথা শেয়ার করলো। এই বোনটি তার সমবয়সি। এই বোনটি বলল -আমি ডাক্তারের সাথে ওর ব্যাপারে কথা বলব সেখানে আমি আর ডাক্তার শুধু থাকব। ডাক্তার রাজি অভিভাবক ও রাজি।
মেয়েটি তার বক্তব্য বলবার পর ডাক্তার তাকে অনেক কথা বললো। দুই তিনটি কেস হিস্ট্রিও বলল। ডাক্তারের এক এই বয়সি রুগী ছিল যে ইয়াবায় এডিক্টেড। সে এক সচিবের মেয়ে। সে সঙ্গদোষে এই পর্যায়ে গেছে। ডাক্তারের ভাষায় গল্পটা মোটামুটি এমন ------ যেহেতু ইয়াবা নেয় তাই তার প্রচন্ড যৌনক্ষুধা। সে একসাথে চার/পাঁচ জন ছেলের সাথে সেক্স করতো। তবু তার তৃপ্তি হত না। সে শেরাটন হোটেলে যেত বিদেশীদের সাথে থাকতে অবশ্যই পয়সার বিনিময়ে। ----বিদেশীদের তো দেখেছ ওরা কত বড় বড় আমাদের দেশের মানুষের চাইতে ওদের সব কিছুই বড় আর ভয়াবহ মোটা ও তাদের সাথে গ্রুপ সেক্স করত। একবার যে গ্রুপ সেক্সের মজা পায় সে সেখান থেকে ফেরা না। দাঁড়াও আমার কাছে বিদেশীদের চেহারার ছবি আছে কারেন্ট এলে তোমাকে দেখাব। তুমিতো কখন ও সেক্স করনি এর মজা বুঝবে না। সেই মেয়েকে আমি সুস্থ করেছি আর তোমার বোন তো খুবই ভাল। অভিভাবকরা এখনও খুঁজে পান না ডাক্তারের এই সমস্যার চিকিৎসা কাকে দিয়ে করাবে।
এক প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে কত প্রসঙ্গে চলে এলাম। মনটা বড় বিক্ষিপ্ত। কতগুলি বাচ্চা মেয়ে জোরে জোরে হাসতে হাসতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, স্কুল ছুটি হয়েছে। এই অনাবিল আনন্দ এই হাসি এই সমাজ কি পছন্দ করে ? সমাজ কি বলছে না যেভাবে দাঁত বেড়িয়েছে সে ভাবেই বন্ধ হবে।
সব শেষে বলি কার কাছে যাব কোথায় পরিত্রাণ, শুধু পূর্ন হল আমার খেরোখাতা।





আমির খান একটা সিরিজ শুরু করছে স্টারে... রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে ২য় সিরিজটা দেখলাম... অসাধারণ একটা এপিসোড ছিল...
আমাদের মিডিয়াগুলোতো পয়সার ধান্ধা ছাড়া আর কিছু করে না... মিডিয়ায় থাকা আমাদের বন্ধুবান্ধবদের অনুরোধ থাকবে... এই সমাজের প্রতি তাদের দায় আছে... তাদেরও উচিত সমাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরেশোরে ভাবে চালানো... হোক সেটা সড়ক দূর্ঘটনা রোধে মানুষকে সচেতন করা... হোক সেটা নারী শিশুদের নির্যাতন বন্ধে সচেতন করা...
হ, আমি ২ টা প্রোগ্রামই দেখেছি।
সিম্পলি অসাধারন...
একটা ছিলো, অ্যাবারশান নিয়ে। অন্যটা শিশু/নারী নির্যাতন নিয়ে...
কবে যে আমাদের মিডিয়াগুলো এরকম প্রোগ্রাম করবে ???
ভয় লাগে সারাক্ষণ ভয় লাগে
কী বলবো আর।
আমাদের মিডিয়া গুলা এরকম প্রোগ্রাম করবে কবে জানিনা ।
মা-বাবার সব সময় সতর্ক থাকা দরকার... এমন কি খুব কাছের আত্মীয়-প্রতিবেশীদের থেকেও।
আর যৌন হয়রানির শিকার শুধু মেয়েরা না কম বয়সী ছেলেরাও হয় কিন্তু সেটা আরো কম প্রকাশিত।
~
আমাদের মিডিয়া মালিকেরা এরকম প্রোগ্রাম চায় না, কারণ তারা প্রায়শই এরকম ঘটনা ঘটায়।
সুপার লাইক
সুপার লাইক
লেখাতে

নারী ও শিশু নির্যাতন। শিশু বলতে এখানে আবার শুধু মেয়েশিশুকেই বুঝায় না। ছেলেশিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার এবং এই হারটা অনেক বেশিই।
মোরাল ভ্যালুজ এর দিক গুলো ঠিকঠাক করার পিছনে মিডিয়া'র ভূমিকা নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে; তাদের আদতেই কোন ভূমিকা আছে কী না তা ই প্রশ্ন সাপেক্ষ।
সাবধানে পোলাপাইনরে রাখার ব্যাপারে স্বপ্নের ফেরীওয়ালা যা বলেছেন, তাও আমার কাছে ভালো কোন সমাধান বলে মনে হয় না।
বরং পারিবারিক ভাবে যদি ছোটদের সাথে খোলামেলা ভাবে এই সব জিনিস আলোচনা করা যেত তাতে অনেক বেশী কাজ হত বলে আমার বিশ্বাস।
সুপার লাইক
মন্তব্য করুন