ফণি-মনসা
পুড়ছে উপাসনালয়, পুড়ছে মন্দির। দাউ দাউ আগুন জ্বলছে মঠে মঠে । মধ্য রাতে মন্দির, উপাসনালয়গুলিতে অবস্থিত মানুষগুলি অসহায় চিৎকার ক্রন্দন আর ছূটোছুটি। কদিন ধরে শুধু তাই দেখছি। কি অসভ্য বর্বর আমরা? জাতী হিসাবে কোন সমিকরণেই ফেলা যায় না আমাদের। এই মানুষগুলি কি বোঝে না শুধু উপাসনালয় পুড়ছে না সেই সাথে পুড়ছে শত শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য। এই ইতিহাসই আমাদের অতীত কে খুঁজে এনে দেয়। আমাদের পরিচয় দেয়।
ধর্ম কী? আগে মানুষ নাকি আগে ধর্ম। মানুষ না থাকলে তো ধর্ম পালন করার কেউ থাকবে না। আগে মানুষ। ধর্মটা মানুষেরই সৃষ্টি। তার আনন্দ বেদনার সাথী, তার আশ্রয়। সে তার সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করে, এক এক নামে এক এক ভাবে। সবার আগে তাদের পরিচয় তারা মানুষ। আমার চেয়ে আপনারা অনেক অনেক জানেন। তা কয়েকদিন ধরেই ব্লগ ফেসবুক খবরের কাগজ পড়েই জানা যাচ্ছে।
বড় মন খারাপ নিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা নিয়ে বসেছিলা। চোখ আটকে গেল এই কবিতাটায়। কবি কবিতাটি লিখেছিলেন পরাধীন জাতীর জন্য। তারা নিজেদের মাঝে যুদ্ধ করছিল বৃটিশদের বুদ্ধিতে। কবি তাদের উৎসাহ দিয়েছিলেন কারন তবুতো তারা জেগেছে। সেই জাগা যে এমন প্রয়লঙ্কারী হবে তা কি তিনি বুঝেছিলেন। আমি কয়েকটি শব্দ বদলিয়ে করে দিলাম এই সময়ের জন্য। দুঃসাহস কাকে বলে? নিজেকে যে কি ভাবা শুরু করেছি আজকাল? হে বিদ্রোহী কবি আমাকে ক্ষমা করুন।
হিন্দু-মুসলমান
মাভৈঃ ! মাভৈঃ এতদিনে বুঝি জাগিল বাংলার প্রাণ
সজীব হইয়া উঠিয়াছে আজ মহান গোরস্থান!
ছিল যারা চির-মরণ-আহত,
উঠিয়াছে জাগি’ ব্যথা- জাগ্রত,
কাসেম আজ ধরিয়াছে অসি, রফিক ছোঁড়ে বাণ।
জেগেছে বাংলা, ধরিয়াছে লাঠি জাগ্রত মুসলমান!
মরিছে হিন্দু, মরে বৌদ্ধ তাহাদের ঘায়ে আজ,
মরেবাঁচা মুসলিম মরে বাঁচে তারা, - এ মরণে নাহি লাজ।
জেগেছে শক্তি তাই হানাহানি,
অস্ত্রে অস্ত্রে নব জানাজানি!
আজি পরীক্ষা-কাহার হস্ত হয়েছে কত দরাজ!
কে মরিবে কাল সন্মুখ-রনে, মরিতে কা’রা নারাজ।
মুর্চ্ছাতুরের কন্ঠে শুনে যা জীবনের কোলাহল,
উঠবে অমৃত, দেরি নাই আর, উঠিয়াছে হলাহল।
থামিসনে তোরা, চালা মন্থন!
উঠেছে কাফের, উঠেছে যবন;
উঠিবে এবার সত্য বাংলার মানুষ মহাবল।
জেগেছিস তোরা জেগেছে বিধাতা, ন’ড়েছে খোদার কল।
আজি ওস্তাদে শাগ্রেদে যেন শক্তির পরিচয়।
মেরে মেরে কাল করিতেছে ভীরু বাংলারে নির্ভয়।
হেরিতেছে কাল,-কব্জি কি মুঠি
ঈষৎ আঘাতে পড়ে কি-না টুটি’-
মারিতে মারিতে কে হ’ল যোগ্য, কে করিবে রণ-জয়।
এ ‘মক ফাইটে’ কোন্ সেনানীর বুদ্ধি হয়নি লয়!
ক’ ফোঁটা রক্ত দেখিয়া কে বীর টানিতেছে লেপ-কাঁথা!
ফেলে রেখে অসি মাখিয়াছে মসি বকিছে প্রলাপ যা’তা!
হায়, এই সব দুর্বল-চেতা
হবে অনাগত বিপ্লব নেতা!
ঝড় সাইক্লোনে কি করিবে এরা! ঘূর্ণীতে ঘোরে মাথা?
রক্ত-সিন্ধু সাঁতরিবে কা’রা-করে পরীক্ষা ধাতা।
তোদেরি আঘাতে টুটেছে তোদের মন্দির উপাসনালয়
পরাধীনদের কুলষিত করে উঠেছিল যার আলয়
খোদা খোদ যেন করিতেছে লয়
সংখ্যালুঘুদের উপাসনালয়!
স্বাধীত হাতের পূত মাটি দিয়ে রচিবে বেদী শহীদ।
টুটিয়াছে চূড়া ? ওরে ঐ সাথে টুটেছে তোদের নিদ!
কে কাহারে মারে, ঘোচেনি ধন্দ, টুটেনি অন্ধকার,
জানে না আঁধার শত্রু ভাবিয়া আত্মীয়ে হানে মার
উদিবে অরুন, ঘুচিবে ধন্দ,
ফুটিবে দৃষ্টি, টুটিবে বন্ধ,
হেরিবে মেরেছে আপনার ভায়ে বন্ধ করিয়া দ্বার।
বাংলার-ভাগ্য ক’রেছে আহত বন্দুক ও তরবার!
যে লাঠিতে আজ টুটে বুদ্ধু, পড়ে মন্দিরচূড়া,
সেই লাঠি কালি প্রভাতে করিবে তোমার দুর্গ গুঁড়া!
প্রভাতে হবে না ভায়ে-ভায়ে রণ,
চিনিবে আপনারে চিনিবে স্বজন!
করিস না কলহ- আপনারে জাগা- বিজয়-কেতন উড়া!
ল্যাজে তুই নিজে লাগাসনে আগুন, থামা আপনারে পুড়া!
মূল কবিতা ------
হিন্দু-মুস্লিম যুদ্ধ
কাজী নজরুল ইসলাম
মাভৈঃ ! মাভৈঃ এতদিনে বুঝি জাগিল ভারতে প্রাণ
সজীব হইয়া উঠিয়াছে আজ শ্মশান গোরস্থান!
ছিল যারা চির-মরণ-আহত,
উঠিয়াছে জাগি’ ব্যথা- জাগ্রত,
খালেদা আবার ধরিয়াছে অসি, অর্জুণ ছোঁড়ে বাণ।
জেগেছে ভারত, ধরিয়াছে লাঠি হিন্দু- মুসলমান!
মরিছে হিন্দু, মরে মুস্লিম ে উহার ঘায়ে আজ,
বেঁচে আছে যারা মরিতেছে তারা, - এ মরণে নাহি লাজ।
জেগেছে শক্তি তাই হানাহানি,
অস্ত্রে অস্ত্রে নব জানাজানি!
আজি পরীক্ষা-কাহার হস্ত হয়েছে কত দরাজ!
কে মরিবে কাল সন্মুখ-রনে, মরিতে কা’রা নারাজ।
মুর্চ্ছাতুরের কন্ঠে শুনে যা জীবনের কোলাহল,
উঠবে অমৃত, দেরি নাই আর, উঠিয়াছে হলাহল।
থামিসনে তোরা, চালা মন্থন!
উঠেছে কাফের, উঠেছে যবন;
উঠিবে এবার সত্য হিন্দু-মুস্লিম মহাবল।
জেগেছিস তোরা জেগেছে বিধাতা, ন’ড়েছে খোদার কল।
আজি ওস্তাদে শাগ্রেদে যেন শক্তির পরিচয়।
মেরে মেরে কাল করিতেছে ভীরু ভারতেরে নির্ভয়।
হেরিতেছে কাল,-কব্জি কি মুঠি
ঈষৎ আঘাতে পড়ে কি-না টুটি’-
মারিতে মারিতে কে হ’ল যোগ্য, কে করিবে রণ-জয়।
এ ‘মক ফাইটে’ কোন্ সেনানীর বুদ্ধি হয়নি লয়!
ক’ ফোঁটা রক্ত দেখিয়া কে বীর টানিতেছে লেপ-কাঁথা!
ফেলে রেখে অসি মাখিয়াছে মসি বকিছে প্রলাপ যা’তা!
হায়, এই সব দুর্বল-চেতা
হবে অনাগত বিপ্লব নেতা!
ঝড় সাইক্লোনে কি করিবে এরা! ঘূর্ণীতে ঘোরে মাথা?
রক্ত-সিন্ধু সাঁতরিবে কা’রা-করে পরীক্ষা ধাতা।
তোদেরি আঘাতে টুটেছে তোদের মন্দির মসজিদ,
পরাধীনদের কুলষিত করে উঠেছিল যার ভিত!
খোদা খোদ যেন করিতেছে লয়
পরাধীনদের উপাসনালয়!
স্বাধীত হাতের পূত মাটি দিয়ে রচিবে বেদী শহীদ।
টুটিয়াছে চূড়া ? ওরে ঐ সাথে টুটেছে তোদের নিদ!
কে কাহারে মারে, ঘোচেনি ধন্দ, টুটেনি অন্ধকার,
জানে না আঁধার শত্রু ভাবিয়া আত্মীয়ে হানে মার
উদিবে অরুন, ঘুচিবে ধন্দ,
ফুটিবে দৃষ্টি, টুটিবে বন্ধ,
হেরিবে মেরেছে আপনার ভায়ে বন্ধ করিয়া দ্বার।
ভারত-ভাগ্য ক’রেছে আহত ত্রিশূল ও তরবার!
যে লাঠিতে আজ টুটে গম্বুজ, পড়ে মন্দিরচূড়া,
সেই লাঠি কালি প্রভাতে করিবে শত্রু দুর্গ গুঁড়া!
প্রভাতে হবে না ভায়ে-ভায়ে রণ,
চিনিবে শত্রু, চিনিবে স্বজন!
করুক কলহ জেগেছেতো তবু- বিজয়-কেতন উড়া!
ল্যাজে তোর যদি লেগেছে আগুন, স্বর্ণলঙ্কা পুড়া!





আমার জীবনে সনধ্যার কেমন যেন একটা ভূমিকা আছে। এক সনধ্যায় বিয়ের পর পর আমি আর সে রামুর চা বাগান ঘোরা শেষ করে মনদির দেখতে গিয়েছিলাম। অনেকটা সময় ছিলাম। একজন বয়সকা মহিলা আমাদের সব ঘুরে দেখালেন। বারবার তার মুখটা ভাবি। কি দিলাম সেই ভালবাসার বদলে আমরা।
ঐতিহ্য রিপলেস করে ফেলবে। মসজিদ বানিয়ে। অন্য ধরমের কোন অমানুষ বাংলাদেশের কোথাও কখনো ছিল না। সব ঈমানদারদের বাসভূমি এটি
রামুর মন্দিরের ভিতরে থেকেছি ঘুরেছি বিশ্রাম করেছি। শুধু রামু কেন ? সীতাকুন্ডের সেই পাহাড় চূড়ার মন্দিরটা সোম্নাথ মন্দির উলটা কালীর মন্দির এমন কি সিলেটের স্বর্নমন্দির সবগুলিইর জন্যই মন কাদঁছে। এগুলি তো আমাদের সংস্কৃতি আমাদের পরিচয়।
প্রভাতে হবে না ভায়ে-ভায়ে রণ,
চিনিবে আপনারে চিনিবে স্বজন!
করিস না কলহ- আপনারে জাগা- বিজয়-কেতন উড়া!
ল্যাজে তুই নিজে লাগাসনে আগুন, থামা আপনারে পুড়া
ভালো লাগলো।
ভাল লাগার জন্য লিখিনাই ভাই লিখেছি অত্মউপলদ্ধির জন্য।
দিন দিন আমরা বিবেকশূন্য হয়ে পড়ছি ! জানিনা এই শেষ কোথায় ?
শুধু বিবেকশূন্য না আত্মধ্বংসকারী ও।
ইহাই প্রমান করে, মানুষই ধর্ম, বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
এটাই।
কাজটা ঠিক হয় নাই। একদমই ঠিক হয় নাই।
এটা কঠিন অপরাধ। এর বিচারে খোদা এদের কি শাস্তি দেবেন?
অমানুষের দলের এক তাণ্ডব চলছে ।আমরা শুধুই দেখছি । কি লজ্জা!
পরকালে এদের জন্য কি শাস্তি রয়েছে?
ভয়াবহ এক দুঃসময়ে আছি!
আর কিভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকবে? করে রুখে দাঁড়াবে?
শুধু মন খারাপ হলেই চলবে?
বর্নবাদ, সাম্প্রদায়িকতা কে দূর করবে? যারা দূর করবে তারাও এসবের সাথে লিপ্ত। মানুষ দু পক্ষের কাছে ঠকে যায় বলেই এত অবিশ্বাসের দেয়াল।
অবিশ্বাসের বীজ একবার রোপিত হলে যতই চেষ্টা করা হয় না কেন মহীরুহ হবেই যার ফলাফল এই রামু!
মন্তব্য করুন