১২ এপ্রিল সৈয়দপুরের স্থানীয় শোক দিবস।
আগামীকাল ১২ এপ্রিল সৈয়দপুরের স্থানীয় শোক দিবস। স্মাধীনতার ৪০ বছর চলে গেল। প্রতি বছর এই দিনটি স্থানীয় শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হয়। সৈয়দপুরে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল ২৫মার্চের কাল রাত্রি থেকেই। সে এক ভয়াবহ সময়। বিহারী অধ্যুষিত নগরী। একে একে কিছু বুঝবার আগেই মানুষ হারিয়ে ফেলেছে তাদের ধন-সম্পদ, বসতবাট, প্রান ও সভ্রম।
২৫শ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্য মেরে ফেলা হয় ২৯৭ জনকে। যাদের অনেকে জননেতা আবার অনেকে দিনমজুর অনেকে সাধারন খুব সাধারন মধ্যবিত্ত।
১২ এপ্রিল রংপুরের বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করে মোট ২১জনকে। এর মধ্যে এই বধ্যভূমি থেকে গুলি খেয়ে বেঁচে ফিরে আসেন দুই জন। আর সারা শহরজুড়ে চলে বিহারিদের হত্যাযজ্ঞ । সেদিন বধ্যভূমিতে নিয়ে যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলে জনপ্রিয় জননেতা শহীদ ডাঃ জিকরুল হক, শহীদ মোহয়াম্মদ আয়েজ উদ্দিন, শহীদ বদিউজ্জামানা সহ ১৯ জন। আর গনহত্যার শিকার শহীদ টগরু, শহীদ হাফিজুর, শহীদ অক্ষ্যমণি, শহীদ জমির উদ্দিন সহ আরও অনেকে।
চল্লিশ বছর ধরে সৈয়দপুরবাসী শহীদদের স্মরনে ১২ এপ্রিল শোক দিবস পালন করে। এইদিন কোন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হয় না। প্রতিটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে, অফিস-আদালতে কালো পতাকা তোলা হয়। সারা দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। এই দিনটিতে সৈয়দপুরের তিনটি বদ্ধভুমিতে সর্বস্তরের জনগন শ্রদ্ধা জানাতে যান। সকাল শুরু হয় কালো পতাকা উত্তলনের মাধ্যমে। তারপর প্রভাতফেরী। বিভিন্ন দলের মতের জনগনের জনসমাবেশ, সেখানে পালন করা হয় একমিনিট নিরবতা, মসজিদে, মন্দিরে, গির্জায় বিশেষ দোয়া, প্রার্থনা, মিলাদ মহফিল। প্রত্যেকে কালো ব্যাজ ধরন করে। স্থানিয় প্রত্যেক বাড়িতে কালো পতাকা উত্তলন করা হয়। বিকাল থেকে শুরু হয় পথ নাটক রাস্তার মোড়ে মোড়ে। রাতে সকল দল মত একত্রে মিলে এক মঞ্চে সবাই। একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়।
আমি সৈয়দপুরে আসার আগে এই বিষয়টি একেবারেই জানতাম না। অবাক আমি, অভিভূত, আনন্দিত যতবার ভাবছি চোখ ভরে উঠছে জলে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে যাবেনা, এই বাংলার মানুষ কিছুতেই তা মুছতে দেবেনা। সৈয়দপুরের মানুষ জানে --জাতীয় দিবসগুলি ছাড়াও এই সৈয়দপুরের আছে নিজস্ব দিবস।





বাংলাদেশে আটকেপড়া বিহারীদের অবস্থা এখন খুবই করুণ। বিশেষত ঢাকায় তাদের ক্যাম্পগুলোর যে দূর্দশা- তা অকথ্য। তাই ওদের প্রতি এক ধরনের সিমপ্যাথী গ্রো করেছিলো। কিন্তু আপনের এই পোস্টগুলো পড়ে তো মেজাজ-টেজাজ সবকিছু বিলা হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।
যাক, রুনা আপু কৈ থাকেন? সৈয়দপুর? যে কাজটি করছেন, তার জন্য আপনি অনেকগুলো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। ভার্চুয়ালি দিলাম না, সামনাসামনি দেখা হলে দেবো। আর আপনার লেখনী খুবই শক্তিশালী।
চমৎকার লেখাটির জন্য রিয়েল থ্যাংকস্।
ভাই আমি মিরপুরে বিহারীদের দেখেছি খুব কাছ থেকে। ওরা অন্য রকম। ভীষণ হিংস্র। তখন ও ছিল এখন ও তাই। সুজোগ পেলেই ছোবল দেবেই। হয়ত উদবাস্তু বলে দিন দিন হিংস্রতা বাড়ছে। আবার মনে প্রানে বাংলাদেশী হতে চাইছে প্রকাশ্যে পূর্ব পুরুষের কৃতকর্মের জন্য লজ্জা প্রকাশ করে কিন্তু মূহূর্তেই নিজেরা একাট্টা।
শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সৈয়দপুরের সকল শহীদদের জন্য শ্রদ্ধা
শ্রদ্ধা জানাই সৈয়দপুর বাসীদের...
আজকের শোক দিবসের কিছু ছবি আপলোড করা যায় না?
৭১ এ সৈয়দপুরে যারা ছিলো এক মাত্র তারাই জানে কি ভয়াবহ সময় পার করেছে তারা।
বাংলাদেশে যেকোন দিবস মানেই ছুটি। আনন্দ - শোক পালন করার এমন চমৎকার উপায় পৃথিবীতে বিরল।
সৈয়দপুরের লোকদের জন্য শ্রদ্ধা।
মন্তব্য করুন