কাল বৈশাখী
আকাশ জুড়ে ধুসর মেঘ ভোর থেকেই। মাঝে মাঝে অভিমান ভেঙ্গে উজ্জ্বল হচ্ছিল আকাশটা। বৈশাখে প্রথমদিনেই সূর্যের সাথে তার দারুন অভিমান। সূর্য হঠাৎ করেই হেসে উঠলো। বাতাসেরা যে সব আসা যাওয়া করছে। আকাশকে ছেড়ে সূর্য বাতাসদের নিয়েই বুঝি বেশি ব্যাস্ত। সূর্যে অবহেলায় আকাশ গুমরে উঠলো। অভিমানে আকাশ হয়ে উঠলো ঘনকালো। বেজে উঠলো রণডংকা । ভয়ে বাতাসেরা শুরু করলো মাতম।
ঝড় যেন প্রচন্ড হুংকার তুলে ডাকছে --সীমাহীন গতিতে নাচ আর ছন্দে তুমি এসো। আমার রক্তের নাচন সব রক্ত চক্ষুকে কটাক্ষ করে আমায় নিয়ে যায় তার কাছে। ঘর থেকে ছুটে বেড় হয়ে এলাম।
আমার চারিদিকের গাছগুলি নেচে উঠলো। ডালিয়া ফুলের গাছগুলি বাতাসের তালে নাচতে না পেরে শুয়ে পড়ল মাটিতে। গাছেদের মাথা আছড়ে আছড়ে ঝড়ের কাছে অবনত আকুতি যেন এক অপূর্ব নৃত্য। গাছের পাতার উড়াউড়ি তার সাথে পাখিদের উড়াউড়ি।
কাঁঠাল পাতার নুপূরের শব্দের সাথে মেলেনা আম ও লিচু পাতার শব্দ। আর চিকন পাতার ইউক্যালিপটাস এর শব্দ একেবারেই অন্যরকম জলতরঙ্গ। টুপটাপ পড়ছে আম। আমি দিশেহারা কাকে ছেড়ে কার কাছে ছুটি নাকি নিজের রক্তের আহ্বানে নেজেই উল্লাসে মাতি।
ভেঙ্গে পড়লো ইউক্যলিপটাসের ডাল। চাবুকের মত সপাৎ সপাৎ করে মাটিতে আঘাত করছে পেয়ারার ডাল। বেল গাছ থেকে সশব্দে বেল পরছে থপ থপ। নারিকেলের পাতা আর তালি পামের পাতা যেন আবেগ আবদমিত করতে না পেড়ে উপর থেকে দিল লাফ। বেল গাছের ডাল উড়ে গিয়ে পড়লো আতা গাছে। যেন বলছে দূর থেকেই শুধু তোমায় দেখেছি আজ কাছে এলাম। কি আনন্দ কি আনন্দ চারিদিকে।
উহ্ এত তীব্র নাচের গতি সহ্য করতে না পেড়ে ভেঙ্গে গেল একটি বর্ষিয়ান কাঁঠাল গাছ। বাতাসও যেন এবার একটু থমকে গেল। ছিন্নভিন্ন প্রকৃতি দেখে আকাশ প্রথমে অবাক হল। বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই আঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করে দিল। সেই কান্না আজ থেমে গেলেও তার মান এখনও ভাঙ্গেনি। সূর্যের সাথে তার অভিমান কখন যে অনুরাগে পরিনত হবে, সেই প্রতিক্ষায় আমি।





তোমাকে হিংসাইলাম, প্রকৃতির কাছাকাছি বসবাস করার কারণে তার বর্ণনা কত সুন্দর হয়ে উঠতে পারে তা দেখতে পেয়ে
গাছেদের যে আলাদা আলাদা ভাষা রয়েছে তা-ও টের পেলাম। বনবাদাড়ে এতসব কাহিনী ঘটলো সঙ্গে দু'একটা ছবি জুড়ে দিলে না কেন?
ঝড়ের সময় ছবি তোলার কথা মনেই আসেনি। ঝড় আমার খুব প্রিয় একটি সময় আর বৃষ্টি উহ্ কি আর বলবো। তবে সেই বৃষ্টিকে হতে হবে মুষুলধারা। ধন্যবাদ।
আগে বলেন, সেই সময় কোথায় ছিলেন?

কালকে রাতের মনোদৈহিক অনুভূতি ফিরে পেলাম আরেকবার। রুনা আপু আপনাকে প্রচুর পরিমাণ
আমি ঝড়ের মাঝে ছিলাম। মাঠে ছিলাম, বাগানে ছিলাম। ঝড় হবে আর আমি ঘরে থাকবো কক্ষনও না, কক্ষনও না, কক্ষনও না। এখন আমার বাচ্চারাও আমার সাথে ঝড়ের তালে ছুটে। খুব ভাল লাগলো। ধন্যবাদ।
বাহ! বাহ ! কী সুন্দর বর্ণনা
ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।
চমৎকার বর্ণনা
বাহহ
অসম্ভব মিষ্টি একটা লেখা
নতুন লেখা কই? আজব!
মন্তব্য করুন