ইউজার লগইন

গল্প বলা ও তার শেষ--

Image0548.jpg

কাল রাতে ছিল প্রচন্ড গরম । সেই সাথে পোকা আর মশা। সমস্ত বাড়ির লাইট অফ করে দিয়ে বারান্দায় শিতল পাটি বিছিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম বাচ্চাদের নিয়ে। আমাদের জায়গা হয়েছে মেঝেতে কারন শীতল পাটি জুড়ে ওরা দুইজন। পিচ্ছিগুলির জ্বালায় নিজেদের কোন কথা বলার উপায় নেই। ওদের কথাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং বিশেষ জিরুরী যা সেই মুহুর্তেই শুনতে হবে। তার জবাবও দিতে হবে।

আমার ছয় বছরের ছেলের প্রশ্ন --আচ্ছা মা ছেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া কি ঢাকায় থাকে?
--- হ্যাঁ ঢাকায় থাকে।
--- ও তাই জন্যে বুঝি সব ভাল ভাল জিনিস ঢাকায় পাওয়া যায়?
--- কি ভাল ভাল জিনিস বাবা? এই ডাইনোছরের ছিডি, খেলনা, বড় গাড়ি, রোবকপ, শুভার্থীর বারবী ছব ছব কিছুই ঢাকায় পাওয়া যায়। তবে বাবা জানো ঢাকায় না পাওয়ার থাকে না। ওদের কার্টুনের অনেক কয়টা চ্যানেল কিন্তু কারেন্ত থাকে না। কি করে দেখবে বল? আচ্ছা বাবা এ্যানাকোন্ডা ছাপ কি আমাদের বাছার চেয়ে বড়? মেছির কি খুব খুব শক্তি? মালিঙ্গার বলের স্পিড কি ছাকিবের চেয়ে বেশি? ম্যারাডোনার জুতায় কি চম্বুক আছে ? তা না হলে কিভাবে বল আটকালো সেদিন? পৃথিবীর ছেছ কোথায়? ডাইনোছার কেন ছেছ হয়ে গেল? এই ধরনের প্রশ্নের তার কোন শেষ নেই।
এখানে বলে রাখি তার অসম্ভব পশুপ্রিতী। ডাইনোসর তার প্রিয় প্রানী।

(আমার ছেলে সৌহার্দ্য স, শ এবং ষ উচ্চারণ এখন ও স্পষ্ট নয়। সে সবগুলিকেই ছ বলে। শুধু নিজের নাম ও বোনদের নাম সঠিক উচ্চারণ করে)
---বাবা একটা গল্প বলো না।
--- আমি তো সব সময় বলি আজ তুমি বলো।
--আমি বলবো ঠিক আছে আমি বলি। কিন্তু বাবা তুমি তো ছুনছো না, তুমি তো মার সাথে কথা বলছো ?
---না না শুনছি বলো না ।
---এক দেছে ছিল, এই যে তুমি আবার ফোনে কথা বলছ ।
--- ঠিক আছে আমি আর বলবো না।
---তুমি ছোন না । ছুধু ফোনে কথা বল আর বল কাজ করি। ফোনে কথা বলা কী কাজ?
আমি বললাম ---আচ্ছা বাবা আমি শুনছি, তুমি বল।
---ঠিক ছুনবা কিন্তু।
---আচ্ছা।
একদেছে ছিল এক ভূত।
--- ওরে বাবা ভূত।
--- না না দুইটা ভূত। একটার নাম মাবাদ ভুত--
--- না বাবা, ওটা মামদো ভূত।
---হ্যাঁ মামদো ভূত আর একটার নাম মামদি ভূত।
--- মামদি নয় হামদো ভূত।
---আরে মা তুমি বুঝনা, এটা তো মেয়ে ভূত তাই মামদি। সেই ভূত না মানুছ খেত।
---ভূত তো বাতাস মানুষ খেতে পারে না, ওরা মানুষকে ভয় দেখায়, রাক্ষস মানুষ খায়।
-- আরে এটা তো ভূত, এটা মানুছ ধরে ধরে খায়। কিন্তু তুমি গল্প বলার সময় ডিছটার্ব করবে না। আর কথা বললে আমি কিক্তু গল্প বলবো না।
--- আচ্ছা সরি সরি আর কোন কথা নয়।
 ---না আমি গল্প বলবো না।
 --- সরি বাবা বলো।
 -- ছেই ভূতের একদিন খুব খিদে পেয়েছে। কোথাও মানুছ খুঁজে পাচ্ছে না। হটাৎ দেখে কি একজন মহিলা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। ওই ভূত দুইটা মহিলাটিকে ডেকে বললো এই ছোনো, আমরা তোমাকে খাব। ওই ভূত দুইটা থাকত ইউক্যালিপটাস গাছে। আমি ভয় পাবার ভান করে তাকালাম গাছের উপরে।
 -- কি আম্মু ভয় পাচ্ছ।
 -- হু পাচ্ছিতো। ভয়ের কিচ্ছু নাই। হি হি হি আম্মু ভয় পায় এত বোকা। ছোন না এই খানে ছিল একটা বড় নদী।

 শুভার্থী---এই গুলবাজ , ইউক্যালিপটাস গাছে কি নদী থাকে?
 ---দেখোতো আম্মু থাকে না?।
 আমি -- থাকে।
 মেয়ে গেল ক্ষেপে--- বাবা বলতো গাছে কখনও নদী থাকে?
 বাবা--না না কক্ষনও থাকে না।
 সৌহার্দ্য---বাবা কিছু জানে নাকি? আম্মু সব জানে। তুমি জানতো যে বাবা কিছু জানে না। যে জানে না সে তো গাধা। বাবাতো একটা গাধা।
 শুভার্থী--ঐ কে তোমাকে বলেছে বাবা গাধা?

সৌহার্দ্য---কেন তুমি তো বলেছ বাবকে কিছু আনতে বলো না বাবা ভুলে যাবে। গাধারাই তো ভুলে তাই না আম্মু!?।
আমি--কে বলেছে ভুলে গেলেই গাধা হয়?
সৌহার্দ্য--কেন তুমি তো বলেছ? আমি পড়া ভুলে গেলে বলনা গাধা কোথাকার? বাবা শুধু ডাইনোছারের বই আর সিডি ছাড়া কিচ্ছু কিনতে পারে না, আচ্ছা বাবা তুমিই বলো, তুমি গাধা কিনা?
শুভার্থী--না বাব তুমি খবরদার বলবে যে না তুমি গাধা ও খুব খারাপ ও তোমাকে গাধা বলছে। কালকে আম্মুকে বলেছে, সবার আম্মু ভাল আমার আম্মুটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।

সৌহার্দ্য---তুমি বুঝি বলনি ? এ্যাঁ এ্যাঁ তুমি বলেছো না পচা আম্মু। বাইরে থেকে আসলেই কোথাও একটু রেস্ট নিতে দেয় না খালি খালি গোসল করায়। ------------------------------------------------------------------------------ ইত্যাদি ইত্যাদি। (এখন স্কুল ছুটি, সারাদিন গাছের নিচে আম কুড়ায়,মাটিতে খেলে, প্রচন্ড গরমে ঘেমে একাকার অবস্থা, তাই বাসার ভিতরে আসলেই ওদের গসল দিয়ে তারপর খেতে দেয়া হয়। তা একবার দুপুরে আর একবার সন্ধ্যায়। ওরা থাকে সেই সময় ক্ষুধার্থ এবং ক্লান্ত তাই গোসলে প্রচন্ড অনিহা।)

ওদের ঝগড়ায় বেশ মজাই পাচ্ছিলাম, কিন্তু ঝগড়া মারামারির দিকে চলে যাচ্ছে তাই তাড়াতাড়ি দু’জনে মিলে হাল ধরলাম। আসো বরফ পানি খেলি।

শুরু হলো--এলোন্ডি লন্ডন ঘরবাড়ি ঠনঠন।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


ফার্স্ট কমেন্ট, ডাবল লাইকি Smile
নাদুস-নুদুস বাচ্চাটা কে?

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমার মামদো ভূত।

লীনা দিলরুবা's picture


হাহাহহাহা। তোমার ছেলের কথা পড়ে খুব মজা পেলাম। ছ ছ করে কি মজা করে কথা বলে।

আচ্ছা বাবা এ্যানাকোন্ডা ছাপ কি আমাদের বাছার চেয়ে বড়? মেছির কি খুব খুব শক্তি? মালিঙ্গার বলের স্পিড কি ছাকিবের চেয়ে বেশি? ম্যারাডোনার জুতায় কি চম্বুক আছে ? তা না হলে কিভাবে বল আটকালো সেদিন? পৃথিবীর ছেছ কোথায়? ডাইনোছার কেন ছেছ হয়ে গেল

ও মেসির ভক্ত? গুড গুড Smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


বড় দুঃচিন্তায় আছি লীনা। আমার ছেলে ছ ছ করতে করতেই সৈয়দপুরে এসেছে। এখানকার সব বিহারী মাড়োয়ারী ছ ছ করে। উচ্চারন যদি শেষ পর্যন্ত ছ ছ হয়ে যায়। ও মেসির এক্কেবারে অন্ধ ভক্ত।

জ্যোতি's picture


মামাদো ভূতের ছবিটা তো গল্প বলার মতোই উমদা।
লেখাটা জট্রিল লাগছে যদিও এতে আপনার গুণ নাই, গল্প তো বলছে ভাইগ্না, আপনি খালি লিখে দিছেন। Big smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


মামদো ভূত যে কত ছক্তিছালী ভূত তাই দেখাবার জন্যই এই ছবি দেয়া হয়েছে। তার হাত মচকে গিয়েছে তো কী হয়েছে সে তো সেতো স্পাইডার ম্যানের ভাতিজা।

রাসেল আশরাফ's picture


আমার এক ভাগিনা আছে প্রায় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে ফরিয়াদ জানায় কেন তাকে জালেম টাইপের একজন মহিলার কাছে পাঠানো হয়ছে??

লেখাটা ভালো লেগেছে।

সামছা আকিদা জাহান's picture


না রে ভাই এখন ও জালেম হই নাই তবে খুব খারাপ মা, কারন যখন হুজুর আসে একদিন ও তাদের ছুটি দেই না, কাশি হলে আইস্ক্রীম খেতে দেই না, মাগরিবের আজানের সাথে সাথে কেন ঘরে ঢুকাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

লিজা's picture


আপনার ছেলে বেশ পাকনু Laughing out loud । বাবাকে গাধা বানায়ে দিলো Laughing out loud । তবে মাত্র ছয় বছর বয়সেই তার ভাবনাচিন্তা বেশ পরিপক্ক । ভালো লাগলো বাচ্চার গল্প ।

১০

সামছা আকিদা জাহান's picture


শুধু পাকনু ভাই। একটা মজার কথা তো বলি নি। আমি একটি ছাগলের ৫ মাস বয়সী বাচ্চা কিনেছি। আমার বাউন্ডারীতে পাশের বস্তির এক লোকের ছাগল নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। সেই বাচ্চা ছাগলের আমার ছেলের আদরে প্রান যায় যায়। ছাগল মালিক এসে জানাতেই আমি ওই ছাগলের দাম মিটিয়ে দিয়ে ছাগলকে চিকিৎসালয়ে পাঠিয়ে সুস্থ্য করলাম। ছাগল রাতে থাকে তার আগের মনিবের সাথে দিনে থাকে নতুন মনিবের সাথে।

১১

নিশ্চুপ প্রকৃতি's picture


খুব মজা পেলাম নৃত্য

১২

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ। আমার ব্লগে স্বাগতম।

১৩

লীনা ফেরদৌস's picture


আপনার মামদো ভুত গ ল্প বলতে চাইলে মন দিয়ে শুনবেন, কথা বলে ওকে ডিসটার্ব করবেন না। Laughing out loud

এরকম ঊদ্ভট গ ল্প বলতে বলতে কখন যে সে মস্ত বড় লেখক হবে সেটা আপনি নিজেও জানেন না। Smile

দোয়া করি মামদো ভুত মানুষের মত মানুষ হোক Smile

১৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


দোয়া করুন ভাই আমাদের সবার সন্তানেরা যেন মানুষ হয়। আমি চাই আমার সন্তানেরা মানুষ হোক। ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার অনেক আছে মানুষ কয়জন আছে? ধন্যবাদ।

১৫

আরিশ ময়ূখ রিশাদ's picture


অনেক অনেক শুভকামনা

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

১৭

সন্ধ্যা প্রদীপ's picture


সত্যি মজা পাইলাম।

১৮

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

১৯

তানবীরা's picture


খুব ভাল লাগলো কথোপকথন। আমার মেয়েটাও সুন্দর সুন্দর কথা বলে, গল্প করে। কিন্তু আজকাল আমরা এতো ব্যস্ত যে গল্পের সময় হারিয়ে গেছে Sad

২০

সামছা আকিদা জাহান's picture


বাচ্চারা যে সব কথা বলে এবং গল্প বলে ঠিক ঠিক মনে রাখতে পারলে মহা কাব্য হয়ে যেত। এত মায়া লাগে যখন ঘুমায়।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সামছা আকিদা জাহান's picture

নিজের সম্পর্কে

যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল
কূড়ি ধরে শুধু নাহি ফোটে ফুল
আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।
পূজা গৌরব পূর্ন বিভব কিছু নাহি নাহি লেশ
কে তুমি পূজারী পরিয়া এসেছ লজ্জার দীনবেশ।
উৎসবে তার আসে নাই কেহ
বাজে নাই বাঁশি সাজে নাই গেহ
কাঁদিয়া তোমারে এনেছে ডাকিয়া ভাঙ্গা মন্দির দ্বারে।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারে বারে।