শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় চে গুয়েভার
চে গুয়েভার আমার নেতা। যখন বুঝতে শিখেছি তখনই তার ভক্ত বা শিষ্য হয়ে উঠেছি। সেই সময় আমরা পেয়েছিলাম আমাদের স্বৈরশাসক এরশাদকে তাড়ানোর আন্দোলন। বুকের রক্ত প্রতিদিনের শ্লোগান, কবিতা, পথ নাটক, মিছিল , মিটিং--- আমাদের অন্তরে চে, চেতনায় চে, তখন আমাদের হাতে নিকলাই আস্রেভোস্কির ইস্পাত থেকে শুরু করে বিমলের কড়ি দিয়ে কিনলাম পর্যন্ত। কত বিপ্লবী নেতা এই বিশ্বে বারবার আসেছেন তার একটি জাতিতে সীমাবদ্ধ কিন্তু চে সারা বিশ্বের নেতা । ইতিহাস কত মর্মান্তিক । সেই সময় চে কে হত্যা করে যারা হিরো হতে চেয়েছিল সেই তারা সেই তাদের মানুষ কি চরম ঘৃণা করে।
চে কে আমি কি দেব বা তাকে নিয়ে আমি কি লিখব। তিনি দিয়েছে আমাকে আমার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ সময়। তার প্রতি শ্রদ্ধায় সূনীলের এই কবিতাটি লিখলাম।
চে গুয়েভারার প্রতি
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা
আত্মায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ
শৈশব থেকে বিষন্ন দীর্ঘশ্বাস
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়--
বোলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরা
তোমার ছিন্নভিন্ন শরীর
তোমার খোলা বুকের মধ্যখান দিয়ে
নেমে গেছে
শুকনো রক্তের রেখা
চোখ দুটি চেয়ে আছে
সেই দৃষ্টি এক গোলার্ধ থেকে ছুটে আসে অন্য গোলার্ধে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
শৈশব থেকে মধ্য যৌবন পর্যন্ত দীর্ঘ দৃষ্টিপাত--
আমারও কথা ছিল হাতিয়ার নিয়ে তোমার পাশে দাঁড়াবার
আমারও কথা ছিল জঙ্গলে কাদায় পাথরের গুহায়
লুকিয়ে থেকে
সংগ্রামের চরম মুহুর্তটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার
আমারও কথা ছিল রাইফেলের কুঁদো বুকে চেপে প্রবল হুংকারে
ছুটে যাওয়ার
আমারও কথা ছিল ছিন্নভিন্ন লাশ ও গরম রক্তের ফোয়ারার মধ্যে
বিজয়-সংগীত শোনাবার--
কিন্তু আমার অনবরত দেরি হয়ে যাচ্ছে!
এতকাল আমি একা, আমি অপমান সয়ে মুখ নিচু করেছি
কিন্তু আমি হেরে যাই নি, আমি মেনে নেই নি
আমি ট্রেনের জানালার পাশে, নদীর নির্জন রাস্তায়, ফাঁকা
মাঠের আলপথে, শ্মশানতলায়
আকাশের কাছে, বৃষ্টির কাছে, বৃক্ষের কাছে, হঠাৎ-ওঠা
ঘূর্ণি ধুলোর ঝড়ের কাছে
আমার শপথ শুনিয়েছি, আমি প্রস্তুত হচ্ছি, আমি
সব কিছুর নিজস্ব প্রতিশোধ নেবো
আমি আবার ফিরে আসবো
আমার হাতিয়ারহীন হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়েছে, শক্ত হয়েছে চোয়াল,
মনে মনে বার বার বলছি, ফিরে আসব!
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়--
আমি এখনও প্রস্তত হতে পারি নি, আমার অনবরত
দেরি হয়ে যাচ্ছে
আমি এখনও সুড়ঙ্গের মধ্যে আধো-আলো ছায়ার দিকে রয়ে গেছি,
আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়!
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা
আত্মায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ
শৈশব থেকে বিষন্ন দীর্ঘশ্বাস
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়--
বোলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরা
তোমার ছিন্নভিন্ন শরীর
তোমার খোলা বুকের মধ্যখান দিয়ে
নেমে গেছে
শুকনো রক্তের রেখা
চোখ দুটি চেয়ে আছে
সেই দৃষ্টি এক গোলার্ধ থেকে ছুটে আসে অন্য গোলার্ধে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
শৈশব থেকে মধ্য যৌবন পর্যন্ত দীর্ঘ দৃষ্টিপাত--
আমারও কথা ছিল হাতিয়ার নিয়ে তোমার পাশে দাঁড়াবার
আমারও কথা ছিল জঙ্গলে কাদায় পাথরের গুহায়
লুকিয়ে থেকে
সংগ্রামের চরম মুহুর্তটির জন্য প্রস্তুত হওয়ার
আমারও কথা ছিল রাইফেলের কুঁদো বুকে চেপে প্রবল হুংকারে
ছুটে যাওয়ার
আমারও কথা ছিল ছিন্নভিন্ন লাশ ও গরম রক্তের ফোয়ারার মধ্যে
বিজয়-সংগীত শোনাবার--
কিন্তু আমার অনবরত দেরি হয়ে যাচ্ছে!
এতকাল আমি একা, আমি অপমান সয়ে মুখ নিচু করেছি
কিন্তু আমি হেরে যাই নি, আমি মেনে নেই নি
আমি ট্রেনের জানালার পাশে, নদীর নির্জন রাস্তায়, ফাঁকা
মাঠের আলপথে, শ্মশানতলায়
আকাশের কাছে, বৃষ্টির কাছে, বৃক্ষের কাছে, হঠাৎ-ওঠা
ঘূর্ণি ধুলোর ঝড়ের কাছে
আমার শপথ শুনিয়েছি, আমি প্রস্তুত হচ্ছি, আমি
সব কিছুর নিজস্ব প্রতিশোধ নেবো
আমি আবার ফিরে আসবো
আমার হাতিয়ারহীন হাত মুষ্ঠিবদ্ধ হয়েছে, শক্ত হয়েছে চোয়াল,
মনে মনে বার বার বলছি, ফিরে আসব!
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়--
আমি এখনও প্রস্তত হতে পারি নি, আমার অনবরত
দেরি হয়ে যাচ্ছে
আমি এখনও সুড়ঙ্গের মধ্যে আধো-আলো ছায়ার দিকে রয়ে গেছি,
আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়!





আমি এখনও সুড়ঙ্গের মধ্যে আধো-আলো ছায়ার দিকে রয়ে গেছি,
আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়!
সত্যি তাই।
যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই ছিল চে-র; সেই সাম্রাজ্যবাদই সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে চে-কে নিয়ে।
শিরোনাম!
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
চে,র জন্য শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।।
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
All-ways for Freedom...
Homeland or Death...
----------------------------------- Che...
মন্তব্য করুন