ফিফথ সেপ্টেম্বর
আজ সেপ্টেম্বরে ৫ তারিখ। আজকের দিনে চ্যালেঞ্জটা না নিলে 'থ্রি ইডিয়টস' ছবির জন্ম হতো না। ভারত থেকে 'থ্রি ইডিয়টস' ছবির জন্ম না হলে এত প্যাশনের ভুত জাগ্রত হতো না। সব এলিট নবাবপূত্ররা নর্থ এন্ডে বসে ডায়লগ দিতে পারতো না, ' জীবন এতটা সহজ ছিল না।'
মেজর (পরবর্তীকালে লে. কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে ডেপুটেশনে চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত তৎকালীন ৪র্থ ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি কাজে ২৫ মার্চ তিনি কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে রাতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ২৬ মার্চ সকালে কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত পাকবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গায় নিজ ইউনিটে ফিরে যান। সেখানে পৌঁছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, পদ্মা-মেঘনার পশ্চিমাঞ্চলকে দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গন নামকরণ করে নিজেকে অধিনায়ক ঘোষণা, ৪র্থ ইপিআর সদর দফতরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে লাল সূর্যের মাঝে মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সালাম প্রদান করেন। পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তার এ সিদ্ধান্ত দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য এক বিরাট সাহসী পদক্ষেপ।
২৪শে এপ্রিল বেনাপোলের কাছে পাকিস্তানীদের সাথে প্রবল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আবু ওসমানের বাহিনী। এক পর্যায়ে তার সৈন্যরা খুব বেকায়দায় পড়েন, তাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসে। তখন তা দেবার জন্য এগিয়ে যান সুবেদার মুজিবুর রহমান, তিনি ২৫শে মার্চের রাতেই চুয়াডাঙ্গায় বিদ্রোহ করেছিলেন। শেষে অন্যদের রক্ষা করার জন্য নিজেই মেশিনগান চালাতে শুরু করেন। এক সময় তারও গুলি ফুরিয়ে যায়। ব্যাক্তিগত পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন। তাও যখন ফুরিয়ে যায়, তখন গুলির আঘাতে শহীদ হন সুবেদার মুজিবুর রহমান। মেজর ওসমান এই শহীদকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়ার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু ওসমানী তা রাখেন নি। মেজর ওসমানকে পছন্দ করতেন না জেনারেল ওসমানী। তাই মুক্তিযুদ্ধের একেবারে প্রথমদিকে অগ্রনী ভুমিকা পালন করা এবং একজন সেক্টর কমান্ডার( সেক্টর ৮) হওয়া সত্তেও ওসমানী তাকে কোনো উপাধি দেন নি। তিনি অন্যতম সেক্টর কমান্ডার যিনি ওসমানীর কারনে উপাধি পান নি।
দূর্ভাগ্যের শেষ এখানেই নয়। দেশ স্বাধীন হবার তাঁকে কোনঠাসা করা হয়। সাতই নভেম্বর কথিত সিপাহি জনতার বিপ্লবে তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। বাসায় না থাকার কারনে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। সবাই বলতো সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে নাকি পছন্দ করতেন, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে সেই পছন্দের জানান দেন। দীর্ঘ জীবনেও তিনি ছিলেন একরোখা জেদি এক মানুষ। কাউকেই কখনো হুজুর হুজুর করতেন না। এইদিনে তিনি সিএমএইচে ৮২ বছরে মারা যান। সমাপ্ত হয় এক অভিমানী সেক্টর কমান্ডারের জীবন।





মন্তব্য করুন