শুভকামনা
অনেক কথা বলার আমি খুব খুশির কথা কিবা দুঃখের কিছু জানাতে পারি খুব কম মানুষকেই, সেগুলো লুকিয়ে রাখতে পারাতেই আমার আনন্দ। তাই Organizational Behavior সংক্রান্ত কথাবার্তায় হল ভর্তি লোকের মাঝে যখন নিজের এমন কারো কথা বলতে বলা হলো সবাইকে যাএ কথা মনে এলে এক অর্থে মন ভার হয়ে যায় আবার আনন্দে উদ্বেলিত হয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম এলেবেলে বোকামি, হাসির কিছু বলে কাটিয়ে উঠতে পারবো। একের পর এক কাহিনী শুনছি আর ম্যাডামের ব্যাখ্যা জানছি আর মজা নিচ্ছি আবার অনেকের গল্প থমকে দিচ্ছিল সবাইকে। অনেক আগে এমনিই শোনা গল্প নিয়ে একটা লেখাও লিখেছিলাম। যাক, ঘুরেফিরে আমার হাতে যখন মাইক্রোফোন এলো, নিজেকে অবাক করে প্রসংগ না এড়িয়ে গিয়ে বলা শুরু করলাম আমি তোর কথা।
তোকে ঘিরে কত কথাই তো আছে, বলে কি শেষ করা যাবে সেইসব ছোট্ট ছোট্ট স্মৃতি, নাকি বলা যায়? সবটা না, কিন্তু ছোট্ট করে যেটুকুই বলেছি, কথা শেষে ধরে আসা গলা , মুখে হাসি আর চোখভর্তি পানি ছিলো। আমার সবচেয়ে হাসিখুশি থাকা বন্ধুটার এতোদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার (যেটা আমার কাছে অবিশ্বাসেরই কিছু ছিলো) বেদনা, সেটার পারিপার্শ্বিক কষ্টগুলো যেমন সবাইকে ছুয়েঁ গিয়েছিলো আবার ওইসব মনোকষ্ট অন্যদের না দেখিয়ে জীবনটাকে সাজানোর, তুই যে হেলাফেলার কিছু না সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর দৃঢপ্রত্যয় নিয়ে তোর ঘুরে দাড়াবার সেই প্রচেষ্টা যেটা জেনেই আমি প্রচন্ড গর্বিত, সেটাও সবাইকে আনন্দিত করেছে।
মনে পড়ে তোর, ইকনোমিক্সের ফাইনাল প্রেজেন্টেসনে কেসটা নিয়ে কথা বলতে হবে, অন্যদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, এই জেনে, পেপারওয়ার্ক করে দেব, প্রেজেন্ট করতে পারবো না বলা শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমাদের গ্রুপের পালা এলে শুরুটা অমনভাবে করে দিলি, বাকিটা টেনে নেয়ার দারুন স্পিরিট পেয়ে গিয়েছিলাম। ওমনি যেন ওই হল ভর্তি লোকের মাঝে তোকে নিয়ে বলা কথাগুলো বলতে কি দারুন স্বতস্ফূর্ততা এলো, এবং সত্যি বলছি, কথার কোন গুবলেট করিনি, অবিশ্বাস্য না?
সেই যে বেশ বড়োদিনের চিল্লায় গেলি, আর রাত করে ফোন করে কথা বলছিলি, জিজ্ঞেস করলাম “এতোরাতে কি রে? তুই না চিল্লাতে আছিস?” তোর ঝটপট উত্তর, “আশেপাশে এত্তো ছেলে দেখে হাপিয়ে গেছি রে!! মেয়ের গলা শুনতে ফোন দিছি!!” পরে শুনেছি সবারই খোজঁ নিয়েছিস সেই রাতে। অনেকদিন ক্লাশে ঢোকার মূহুর্তে কিবা অফটাইমে মামু’র দোকানের সামনে তোকে দেখেই আমাদের ৪জনের সমস্বরে চিৎকার, “মাসুদ রে, খিদা লাগছে!!” কখনো গালি দিতি, বকা, পচাঁ কথা বলতি কিন্তু ঠিকই খাবারের টাকা মিটায়ে দিতি। সবচেয়ে জঘন্য পচাঁনি দিতি কিন্তু ক্লাশের পরে ঠিকই বাসায় যাবার বাস পর্যন্ত সাথে থাকতি। একটা ছেলেও আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে পারে, যার কাছে সব সুখ-দুঃখ মেয়েবন্ধুটার মতোনই শেয়ার করতে পারবো নিজের প্রতি এই ধারনাটা পেয়েছি তোর সাথে মিশে।
সেই অতোগুলো বছর আগে, শেষ যেদিন দেখা হলো, যোগাযোগ রাখবো বলেছিলাম দুজনেই। জীবনের নানান ব্যস্ততায় আমরা আমাদের খোজঁ নেইনি কতোকাল। যদিও আমার মনে ছিলি ঠিকই তুই, বিশ্বাস ছিলো তোরও মনে ছিলাম। সেই জন্মদিনে কথা বলতে গিয়ে তোর বিয়েতে যেতে পারিনি, তোর খুশিতে আমি নাই জানতে পেরে এতো কষ্ট পেয়েছি বলার মতোন না। কষ্টটা থাকবে মনে কিন্তু মজা পেয়েছি তোর বলাটা, - “দোস্তরে, আউট অব সাইট তাই আউট অব মাইন্ড হয়ে গেছিস”। এরপর থেকে ঠিক করেছি, “যাহ ব্যাটা তোর খোজঁই আর নিবো নাহ”...
এর মাঝে ঠিকই তোর খবর পেয়েছি এর ওর থেকে, ব্যবসার উন্নতি হয়েছে, ডানেবামে ২/৩টা গাড়ি হাকিয়েঁ বেড়াস, সেই দারুন ভাবসাব এখনও বজায় আছেই ... গা করিনি। আর গতক’দিন বেশ অসুস্থ ছিলাম, কিন্তু এর মাঝে এতো দারুন খবর দিলি, সব রাগ উবে গেছে। অনেক খুশি হয়েছি জানতে পেরে তুই বাবা হচ্ছিস! খবরটা আসলেই মনকে দোলা দিয়েছে অনেক, হাস্পাতালে থাকার শারীরিক কষ্টটা ছাপিয়েও হাসছিলাম বেশ।
অনেক দারুন বাবা হবি তুই আমি নিশ্চিত। এত্তো এত্তো হাসি, মজায়, দুষ্টুমিতে ভরা থাকবে তো্র সন্তানের জীবন। অনেক অনেক শুভকামনা রইল একটা সুস্থ সুন্দর সন্তানের মুখ দেখার।
- তোর ডেট এক্সপায়ার্ড দোস্ত





মাসুদ বা মাসুম-এই নামের ছেলেগুলো সবসময়ই ভাল হয়।
কই জানি পড়ছিলাম "মা" দিয়া শুরু হওয়া নামের ছেলেগুলা হৃদয়বান হয়!!!... সত্য কিনা মালুম নাই...
হ। ঠিকই কইছো। আমারও শুরু "ম" দিয়াই।
ওম্মা, হেতে দেখি "ক"কইলে কানমলা বুঝে?... কইছি 'মা' বুঝছে 'ম'...
মাসুদ বা মাসুম নামের ছেলে গুলাই এরকম লুল হয়, চিল্লায় গিয়াও মেয়ে মানুষরে ফুন দেয়।
ফুন দেই, কারণ বন্ধুদের আমরা ছেলে বা মেয়ে আলাদা কইরা ভাবি না।
সাঈদ@ ধুর মিয়া! এতো কথা কইলাম, পইড়াও "মেয়ে মানুষ" "লুলফুল" মনে আসলো!!! ... " সব ফুলই নয় ধুতুরা "
মাসুম্ভাই@ সেটাই...
জব্বর লেখা হৈছেরে বইন। মাসুদ পোলাটা বড় ভালা, আমার লাহান...
হয়তো আপ্নের দোস্তরা আপ্নেরে নিয়া লেখতে গেলে এর চেয়েও দারুন লেখা আসতো...
থাঙ্কু পড়ার জন্য...থুক্কু কমেন্টের জন্য...
উপ্স। ভয়াবহ সুগঠিত আর জমাট একটা লেখা। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো এই ডেলিভারীটা -
এইরম ডেলিভারী যে দিতারে তারে ভুলা কঠিন।
লেখিকাকে এরকম দুর্দান্ত লেখা উপহার দেয়ার জন্য ছয় কেজি ধইন্যা।
মীর, গল্প লেখার সাথে সাথে দারুন করে কমেন্টও করেন!...
৬কেজি ধইন্যা'র জন্য ধন্যবাদ, ধইন্যাপাতা দিলে তো ভর্তা করতাম, এখন খালি ধইন্যা শেষ হতে তো মেলা দিন লাগবে!!!... দেখি কি হয়
ভাই ধইন্যাপাতাই দিছি। আপ্নে তো ব্যাগটা খুইলাও দেখেন নাই। একদিকে খালি সরায়ে রাখছেন। যেই কারণে এই অবস্থা।
যাউক্গা, প্রশংসা করলেন দেইখা আবারো ছয় কেজি ধইন্যাপাতা দিলাম। এইবার কিন্তু শুকায় যাওয়ার আগেই প্রসেস কৈরা ফালায়েন।
শুভকামনা, শুভকামনা।
কি নিদারুণ বন্ধুত্ব। এমন বন্থুত্ব থাকুক চিরদিন। কত্ত ভালো লিখো তুমি! হিংসা হয়।
শুভকামনা'র জন্যে থাঙ্কু...
তুমি যেটা লিখো, সেটাও হিংসা'র যোগ্যই... এটা সবাই জানে
বন্ধুতার স্মৃতিকাতরতা হৃদয়ছোঁয়া ।
এইরকম বন্ধু, বন্ধুতা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার ।
শিপনকে দেখলাম অনেকদিন পর... ভালো আছেন আশা করছি,... লেখেন না কেন?
লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ...
লুকজন দেখি মাসুদ হইতে চায়
জেবীন ফানপোস্ট দাও!!!!!
খালি কি মাসুদ নাকি।। "মাসুদ রানা" হবার খায়েশই বেশি... কত্তো ফ্যাসিলিটিজ তাইলে...
মাথায় কিছছু নাই... আসলেই বান্দ্রামি করার ভাবটাই পাচ্ছি না...
ডেট এক্সপায়ার্ড দোস্ত.....নতুন টার্ম শিখলাম। ধন্যবাদ জেবীন.......
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ নীড়'দা
আমারও একটা বন্ধু ছিল মাসুদ নামের। হা করলেই হাসি পেত। খুব খুব ভালো ছেলে। কিন্তু কোন যোগাযোগ নেই।
এবং আমরাও কিন্তু আড্ডা দিতাম, ইকোনোমিক্স ডিপার্টমেন্টের সামনে। ডিপার্টমেন্টের সামনেই ছিল মামুর দোকান।
সিঙ্গারা আর গরম চায়ে জমত আমাদের আড্ডা।
পৃথিবীটা কত বিচিত্র!!!!
আমার বন্ধু মাসুদ ও ভালো থাকুক।
দেশে মাসুদ মনে হয় অনেক... আমার আরো ২টা বন্ধু ছিলো মাসুদ নামের, বোন জামাই আছে ১টা, খালতোভাই আছে ১টা...।
সকল মাসুদ ভালো থাকুক...
তোমার খপর কি? প্যাঁচ কি কমছে? আপডেট জানাইয়ো
খবর খারাপ না, ভালোই আছি, :) কতো কষ্টে প্যাচ লাগাইলাম সব কাইট্টালাইছে
... দোয়া কইরেন ভালো থাকি যেন...
খবর খারাপ না, ভালোই আছি, :) কতো কষ্টে প্যাচ লাগাইলাম সব কাইট্টালাইছে
... দোয়া কইরেন ভালো থাকি যেন...
আগেও কুইশ্চেনটা করছিলাম, এখনও আবার করি...
মাজেজা কি??
আসলে টার্মটা ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছি, দুইকাজে হইছে, একেতো যেহেতু আমাকে ভুলে গেছে আর আমাকে এইটা বলতো আমার মাসুদ।
আমার সেই জ্ঞানী(!) দোস্তের মতে যারা ভার্সিটি লাইফের প্রেম করেনা তারা ডেট এক্সপায়ার্ড(!)। কারন এইসময় প্রেম হয় চিন্তাভাবনা না করে নিঃস্বার্থ টাইপ, "তারই বলে প্রেম, যখন থাকে না কোন ফিউচারের চিন্তা, থাকে না কোন শেম, তারেই বলে প্রেম"!! এমনটা ভার্সিটি পেরুলে করা সম্ভব না, তখন হয় নানান দিক চিন্তা করে সম্পর্ক গড়া! সো, তার মতে আমি ডেট এক্সপায়ার্ড!
সো, তার মতে আমি ডেট এক্সপায়ার্ড!
সিউর ? কনফিডেন্ট ?? লক...???

খুব ভালো লাগলো পড়তে
আমারো আছে এমন বুন্ধু!
মন্তব্য করুন