ক্যানবেরা; তাতে ঘুরাফেরা ...
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে প্রতি বসন্তকাল উদযাপন করা হয়ে থাকে ফুলের উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে, যার নাম Floriade। টিউলিপ ফুলের মেলার কথা শুনলেই মনে ভেসে উঠে “সিলসিলা” মুভির সেই গানের দৃশ্য। ফুলের সারি অতটা বিস্তৃত না হলেও অনেক অনেক টিউলিপ ফুলের সমাহার ঘটানো হয় এই “ক্যানবেরা ফুলের উৎসবে”। এবারের উৎসবের থিম ছিলো “এ ফিষ্ট ফর দা সেন্স’স”। সেই ১৯৮৮ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব প্রতিবছর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আরম্ভ হয়, যার মূল আকর্ষনই হচ্ছে রংবেরঙ্গের হাজারে হাজার টিউলিপ ফুল। মাসব্যাপি চলা এই মেলায় ফুল প্রদর্শনীর পাশাপাশি পুরো সময় জুড়ে নানান বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, নানান জাতের আর্টের - গাছ, খাবার, গ্লাস, ফুলের ডিজাইন ইত্যাদির প্রদর্শনী,সার্কাস, বাচ্চাদের জন্য মজার মজার ইভেন্ট এবং আরো অনেককিছু, যা কেবল দিনেই নয় রাত জুড়েও চলে। ক্যানবেরার কমনওয়েলথ পার্ক এই ফুলের উৎসবের সময় দিনরাত আলোকিত থাকে অনন্য সাজে।

সিডনী থেকে ক্যানবেরার উদ্দেশে রওনা দিয়ে ধু ধু প্রান্তর পেরিয়ে ঘন্টা দেড়েক পরে যাত্রা বিরতিতে থামলাম “Mose vale” নামের শহরে। ছোট্ট একটা শহর সুন্দর সাজানো ছিমছাম, অতোটা সময় জনমানব না দেখে দেখে এটাকেই দেখতে দারুন ভালো লাগছিলো।

ঘুরেফিরে দেখে সকালের নাস্তা শেষ করে ফুল উৎসবের পথে রওনা দিলাম, আবারো দেড় ঘন্টা যাবত গরু, ঘোড়া, ভেড়ার বিশাল বিশাল খামার দেখতে দেখতে বিরক্তি যখন চরমে উঠছিলো, সেইসময়ই পৌছেঁ গেলাম ক্যানবেরা সিটিতে। শহরটা দেখে লাগছিলো বিরাট বড়োলোকের কোন ড্রইংরুম, দামী দামী শোপিস গুলো থরেথরে সাজানো, ব্যবহারের চিহ্নমাত্র নেই! সিটি সেন্টার থেকে ৫মিনিটের দুরত্বে সেই কমনওয়েলথ পার্ক, শহরের রাস্তায় যেখানে লোকজন দেখা যাচ্ছিল কদাচ, সেখানে এই পার্কের আশপাশ জুড়ে কেবল মানুষ আর মানুষ, যার মাঝে আবার এশিয়ানই বেশি! পথ চলতে দেখি বাঙ্গালী আর ইন্ডিয়ানে তো পার্ক গিজগিজ করছে!





ফুল নিয়ে বলার কিছুই নাই, দারুন সুন্দর সব রঙের ফুলের নানান ঢঙ্গের মন ভোলানো উপস্থাপন কারোরই খারাপ লাগার কথা না। চারপাশের একটা পিকনিক, ফুলের মেলা ঘুরে ঘুরে অনেকেই বাড়ি থেকে নিয়ে আসা খাবারদাবার নিয়ে দলেবলে বসে গেছেন লেকের ধারে পার্কের খোলা মাঠে।
ফুলের প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিশাল ফেরি’স হুইল, নানান স্বাদের চা টেষ্টিং বুথ, ক্যাফে, বিভিন্ন ডিজাইনে বাগান সাজানোর জন্যে এক্সপার্টদের মতামত নেয়ার সুযোগ, আরো কত কি!

মেলার মাঝে একটা বড়ো অর্গান সবার নজর কেড়ে নেয়। যেটাতে আপনাআপনি বেজে চলছে দারুন সুর, পুরো যেন অর্কেষ্ট্রা!

সামনে দেখে পেছনের দিকে যেতেই দেখি কত্তো কল্কব্জায় জিনিষটা ঠাশা। একজন কর্মী আছেন, যিনি অর্গানটার কালেকশনের মধ্য থেকে দর্শনার্থীদের পছন্দের সুর জিজ্ঞেস করে স্বরলিপি জাতীয় একটা কার্ডবোর্ড নির্দিষ্টস্থানে বসিয়ে দিতেই বেজে উঠে সুর।
মেলার একপাশে স্টেজে চলছে শিল্পীদের বিভিন্ন পারফরমেন্স - ট্যাপ ডেন্সিং, বেলি ড্যান্সিং, গান ইত্যাদি।



কথায় আছে ‘রথ দেখা আর কলা বেচা’, তেমনি ফুলের মেলা দেখতেই যখন এলাম বাকি সময়টা ক্যানবেরা ঘুরে দেখি। এখানে দুইটা পার্লামেন্ট হাউস, নতুনটা চালু করার পর পুরানোটাকে জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে।

এমনভাবে নতুনটাকে তৈরী করা হয়েছে যে এর সামনে দাড়ালেই ঢালের মতো জায়গা থেকে দূরে পুরানোটাকে দেখা যায়।


তবে এই কেবলি বাড়িঘর জাতীয় জিনিশ মানে মনুমেন্ট দেখতে ভালো লাগে না। আমাদের সংসদ ভবন এই জাতীয় হলেও তাতেও একটা প্রান আছে যেন, লোকজনে ভরা, কি কি চলছে তাকে ঘিরে। কিন্তু এদের সব শুনশান নিস্তব্ধ! বিশাল খাঁ খাঁ চত্ত্বর! হ্যাঁ, অনেক দারুন ভিউ, কিন্তু আমি মানুষের কিউ দেখতেই মজা পাই।

পুরানো পার্লামেন্টের কাছে তাবু টাঙ্গায়ে প্রতিবাদে বসেছে এক গ্রুপ, পুরা ঘরসংসার পাতছে যেন!
রাস্তা পেরুলেই বিজ্ঞান জাদুঘর। সময়স্বল্পতা আর টিকিটের দামের বিশালতার কারনে ভেতরে যাওয়া হয়নি। যদিও জাদুঘরের চত্ত্বরেই অনেক টুকটাক জিনিষ রাখা, যেগুলো দেখতে ভালো লেগেছে। কাছেই এদের পাব্লিক লাইব্রেরী, এলাহি এলাকা নিয়ে তৈরী কিন্তু বিরান ভূমি! আমি দেখি আর ভাবি, কই আমাদের প্রানের পাব্লিক লাইব্রেরী, প্রানের মেলা বসে যেখানে, আর কই এদের এই ভূতের বাড়ি নাহ ভুতেরাও নাই মনে হয় এখানে এত্তো খালি সবটা এলাকা।


বিশাল এই পাথরটাকে পানির প্রচন্ড প্রেসার দিয়ে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে, আঙ্গুলের টোকা দিয়েই ঘুরিয়ে ফেলা যায় এই পাথরটাকে!
এরপরে গেলাম ডাইনোসর মিউজিয়ামে। ডাইনোসরের ফেলে রেখে যাওয়া হাড়গোড় গুলো প্রদর্শনীতে রাখা ছাড়াও ছিল বাচ্চাদের জন্যে নানান কুইজ, খেলার ব্যবস্থা।



এটা নাকি মানুষের খুলির বিবর্তনের ধাপ!


সেই ১৮৮৩ সালের লগকেবিন দেখলাম, পুরানোটার পাশ ঘেষে বসার স্থান বানিয়ে ক্যাফে দেয়া হয়েছে, সাথে আরো কত কি।
ক্যানবেরার ফুলের উৎসব থেকেও ভালো লেগেছে যে জায়গাটা তা হলো ‘ককিংটন গ্রীন গার্ডেন’। মিনিয়েচার বাড়িঘর, শহর, বিশ্বের নানান বিখ্যাত মনুমেন্ট ইত্যাদি দিয়ে সাজানো এই বাগান। নানান জাতের ফুলে ফুলে সাজানো এই বাগান, মন কাড়া সুন্দর, লোকে লোকারন্য। বাগানের চারপাশ ঘিরে একটা ছোট্ট ট্রেন চলছে ঘন্টায় ঘন্টায়। মজার কথা হল এখানেও বাঙ্গালী আর ইন্ডিয়ানে ভরা!




এই বাগান থেকে বেরিয়ে পুরা রাস্তা জুড়ে লাইন ধরে রেপ্টাইল, পাখি আরো কি কি অনেককিছুর একেরপর এক প্রদর্শনী। টাইম নাই তাই যাওয়া নাই। হাটতে হাটতে দেখি একটা গিফটশপ, সেকাহ্নের জিনিষপত্রের দামের সাথে দোকানের নামটা দারুন মিলে যায়!


রাতের ক্যানবেরার সিটি সেন্টারের আশপাশ অনেক লাইটিং করে সাজানো, উৎসবের কারনেই কিনা কে জানে। তবে ওটা পেরিয়ে ভেতরের দিকে যেতেই দেখি ৯টা বাজে নাই তাতেই দোকানপাট সব বন্ধ!





একটা ফটুক সুন্দর হইছে
কোনটা?
দুইটা ফটুকের কম্পোজিশন দারূণ লাগছে...
কোন দুইটা সেইটা তোমার লাইগা কুইজ...
যাক, ১ম কমেন্ট থেকে ছবি পছন্দের সংখ্যা একটা বাড়ছে!

মডু মারপে নইলে পছন্দসই ছবি কি কম আছে নাকি!
আমার মোট ১০ টা ছবি দারুণ লাগছে।
কার কোনটা ভাল্লাগছে না বলে, সব্বাই খালি আমারে কুইজ দিয়া যাচ্ছে ক্যান রে!
হুমম......।
ঘুরাঘুরি ভালই চলিচ্ছে!
নাহ, আমি ঘুরাঘুরিতে নাই। এটাতে ঘরের সবাই গেলো বলেই যাওয়া!
থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরা তুমার ছবি নাই কেন? মাইনাস পোষ্টে।
বৈদেশ যাইতে মন্চায়।
বেড়ানির জন্যে হইলে ঠিক আছে, থাকনের উদ্দেশ্যে হইলে মন না চাওয়াই ভালো!
আর ক্যমেরা দেখলেই ছবি তুলার হাউশ বাতাসে মিলায়ে গেছে ক্যেন জানি! মন টানে না। 
মামা আমার পিছনে শুয়ে আছে ছবি গুলো দেখিয়ে বলতেছিলাম ''দেখছো মামা কত সুন্দর" মামা বললো "যত সুন্দরই হোক আমগো দেশ সাজায়া গুজায়া রাখলে এর চেয়েও বেশি ভালো দেখতে"
আমি বললাম আংগুর ফল টক।তবে সারাজীবন ভাবতাম রাজধানী সিডনী কিন্তু অনার্স এডমিশনের পড়ার সময় সাধারন গেয়ানের বইয়ে দেখলাম রাজধানী ক্যানবেরা।তখনি ভাবতাম কি মিল ক্যাঙ্গারু আর ক্যানবেরা!
মামু ঠিকই বলছে, এত্তো সাজানি দিলে আমাদের দেশও এর চেয়ে অনেক অনেকগুন সুন্দর লাগবে।

তুমি তো তাও অনার্সে থাকতে জানছো, আমি তো তাও জানতাম না.।.।।
ক্যনাবেরার এতো জায়গা আমিও ঘুরি নাই
সব কালা আদমি সিডনী থেকে আসা।
ভাইরে, এই শোপিসে শোরুমে কেম্নে থাকেন! সব ঝকঝকা, ফকফকা! মানুষজনের এত্তো কমতি ক্যান ওইখানে!!
মানলাম দেখতে কালা, তাই বইলা এম্নে কইরা বলবেন!
শো পিসকে যেমনে রাখে তেমনেই থাকে। আম্রাও থাকি তেমন।
একটা কথা বলতেই হয় যে বিদেশ গিয়া তোমার ছবি তোলার হাত খুলছে
টুটুলবামাসুম্বাইয়ের কাছে কুইজ, বলুল্তো ক্যানবেরা মানে কী?
সত্যি?


আমার টুনিট্যাক ক্যামেরাটা বাসায় ফেলে আসছিলাম ভুলে, এখন অন্যের ক্যামেরা দিয়া ছবি তুলছি!
প্রচুর ছবি শেয়ার করার লিগা

আর দেশ থেকে দূরে আছেন, তাই শুভকামনা। ভালো থাইকেন।
ছবি আপলোড করতে গিয়া আমার ধৈর্য্য শেষ! সেই সময়ের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হইলো - "আমার সারাটাদিন আর দুপুরে না খাইয়া থাকন ব্লগ তোমারে দিলাম!"
শুভকামনার জন্যে ধন্যবাদ মীর। ভালো থাকার চেষ্টায় আছি। আপনিও ভালো থাইকেন।
যাইতে মঞ্চায়
আপ্নের দুনিয়ার আর কোন কোন দেশে যাওন বাদ আছে ভাইজান?

রায়হানভাইয়ের দেয়া কুইজের জবাব দিলেন না যে?
টুটুলবারায়হান্বাইয়ের কাছে কুইজ, বলুল্তো ক্যানবেরা মানে কী?
মিটিং প্লেস
ফাষট ওয়ারলডের দেখি দেশ সাজানোর কায়দায় অনেক মিল আছে।
ভালো লাগলো ঘোরা হয়ে গেলো
ঘুরেফিরে কিছু জায়গা দেখে লাগছিলো যে, আরে, এটা সেই আগে দেখা জায়গাটার মত না! .। সেই একই ধাচেঁর ফুলের সারি, একই কালার কম্বিনেশন।
ক্যানবেরা যাইতে মঞ্চায়।
ইচ্ছে তো আমার ও করে । কিন্তু যাওয়া যে হয়না ।
ফ্লোরিয়েডে রাতে আলোক সজ্জা করা হয় শুধয় মাত্র নাইট ফেস্টের সময়, যা মাত্র ৫ দিন থাকে। অন্য সময় আঁধার।
এবার ১ মিলিয়ন+ টিউলিপ ছিলো ফ্লোরিয়েডে।
ওল্ড পার্লামেন্ট হাইসের সামনে অস্ট্রেলিয়ানদের আদিবাসীদের টেন্ট এমবেসী। এরা সেই সত্তরের দশক থেকেই এখানে স্থায়ীভাবেই আছে যদিও সরকার অনেক বারই চেস্টা করেছে নানাভাবে তুলে দিতে। কনটেইনার এর গায়ে যে পতাকা সেটা এবরোজিনীদের পতাকা।
শহরের মাঝে এরকম লাইটিং সব সময় থাকে না। সাধারন সময়ে ক্যানবেরা একটি মৃত শহর যেখানে শহর মারা যায় সন্ধ্যা ৬ টার পরই। যা কিছু হয় তাও শুক্র-শনিবার রাতে।
ব্যাপক সব ফটু !!
আমিও একটা কুইজ দেই
- কন তো সবাই কুন ফটুটা দেখে রান্ধা কামেলের কথা মনে পড়ছে?
উত্তর - ডায়নোসরের পায়ের হাড্ডির ফটুটা (রান্ধার কোমরের মতন পুরা)
ব্লগ পোষ্ট বা প্রান টোষ্ট কিছুই তো আর দিতেছেন না!
মন্তব্য করুন