কিছু ভুল রঙের ফুল ফুটে আছে রাজপথে, কিছু মিথ্যে কথার রঙ আমাদের হৃদয়ে ...
শরৎকে বলা চলে শুভ্রতার আরেক রুপ! নদীর তীর ধরে সাদা কাশের অপরুপ রাশি সারিসারি, আকাশে কাশফুলের মতোন গুচ্ছ গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা, এই বৃষ্টি ঝরছে অঝোরধারায় আবার ঝলমল করে হেসে উঠছে চারিদিক, মেঘ-বৃষ্টি-রোদের এই আলোছায়ার খেলার মাঝেই হঠাৎ হঠাৎই দেখা দেয় দিগন্ত জোড়া সাতরঙ্গা রংধনু, দোলনচাপাঁর মন আবেশ করা সুবাস, শিউলীর মৌ মৌ করা গন্ধের সাথে তার সিদুঁরলাল-সাদা পবিত্র রুপরাজি, মাতাল করা স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না – সব মিলিয়েই এই তো শরৎ।
মুস্তফা মনোয়ার বলেছিলেন,
“শরৎ হচ্ছে চমৎকার মেঘের ঋতু, স্পষ্টতার ঋতু। কেননা শরতের আকাশ থাকে ঝকঝকে পরিষ্কার। নীল আকাশের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘ যেন ভেসে বেড়ায়। গ্রামের বধূ যেমন মাটি লেপন করে নিজ গৃহকে নিপুণ করে তোলে, তেমনি শরৎকাল প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়”।
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য্যে, মেঘ-বৃষ্টির এই আলোছায়ার খেলার তালেই কিনা মনটাও কখনো মেতে উঠে উচ্ছাসে আবার কালো মেঘেও ভরে যায়। অলস বিকেলটায় এই ইচ্ছা হয় গোধূলির ওপারে হারিয়ে যেতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে কিবা হঠাৎই কষ্টগুলো কুরে কুরে খায়। মনের এই পরিস্থিতিটা বুঝাতে রবীন্দ্রনাথের একটা লেখার অংশটুকু এখানে না উল্লেখ করলেই নয় –
আবার শরৎকাল আসিয়াছে। এই শরৎকালের মধ্যে আমি একটি নিবিড় গভীরতা, একটি নির্মল নিরতিশয় আনন্দ অনুভব করি।... হৃদয়ের মধ্যে স্মৃতি জাগিয়া উঠে। তাহাকে স্মৃতির অপেক্ষা বিস্মৃতি বলিলেই ঠিক হয়। কিন্তু যে বিস্মৃতি বলিলে একটি অভাবাত্মক অবস্থা বোঝায় এ তাহা নয়, এ একপ্রকার ভাবাত্মক বিস্মৃতি। নহিলে ‘বিস্মৃতি জাগিয়া উঠা’ কথাটা ব্যবহার হইতেই পারে না। এরূপ অবস্থায় স্পষ্ট যে কিছু মনে পড়ে তাহা নয়, কিন্তু ধীরে ধীরে পুরাতন কথা মনে পড়িলে যেমনতর মনের ভাবটি হয়, অনেকটা সেইরূপ ভাবমাত্র অনুভব করা যায়। যে-সকল স্মৃতি স্বাতন্ত্র্য পরিহার করিয়া একাকার হইয়াছে, যাহাদিগকে পৃথক করিয়া চিনিবার জো নাই, আমাদের হৃদয়ের চেতনরাজ্যের বহির্ভাগে যাহারা বিস্মৃতি-মহাসাগররূপে স্তব্ধ হইয়া শয়ন আছে, তাহারা যেন এক-এক সময়ে চঞ্চল ও তরঙ্গিত হইয়া উঠে; তখন আমাদের চেতনহৃদয় সেই বিস্মৃতি-তরঙ্গের আঘাত অনুভব করিতে থাকে, তাহাদের রহস্যময় অগাধ প্রবল অস্তিত্ব উপলব্ধ হয়, সেই মহা বিস্মৃতি, অতি বিস্তৃত বিপুলতার ক্রন্দনধ্বনি শুনিতে পাওয়া যায়। ... এক মুহূর্তের জন্য প্রগাঢ় সুখ অনুভব করিলে, সেই মুহূর্তকে যেমন আর মুহূর্ত বলিয়া মনে হয় না— মনে হয় যেন তাহার সহিত অনন্তকালের পরিচয় ছিল ... আমার মনে হয় স্বভাবতই শরৎকাল স্মৃতির কাল এবং বসন্ত বর্তমান আকাঙ্ক্ষার কাল। বসন্তে নবজীবনের চাঞ্চল্য, শরতে অতীত সুখদুঃখময় জীবনের পূর্ণতা।
ইটকাঠ-কংক্রীটের এই নগরীতে থাকা আমরা মনের বাগানের এইসমস্ত আলোছায়ার খেলাটাকে প্রতিনিয়তই নানান ব্যস্ততার অজুহাতে পরিত্যাক্ত ঘোষনা দিয়েই চলি।একবার সেই বিস্মৃতির প্যাটঁরা খুললে পর অথবা উচ্ছাসে মন ভাসিয়ে দেবার হুজ্জোতে মেতে উঠলে হয়তোবা সেই প্রগাঢ় সুখের মূহুর্তটিকে অনায়াসেই অনন্তকালে বন্দী করে ফেলা যায়।
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
বিকেলটা ছিলো শরৎকালের আর দু’চারটা বিকেলের মতোই, বৃষ্টি হবার আভাস দিতেই যাচ্ছিল, হয়তো নেমেই যেত, তবে না নামাতেও বিকেলের সৌন্দর্যটা কোন অংশেই কম হয়নি।ঠিক জানতাম ভেবেছিলে বৃষ্টি নামবে,দেখা করাটা বাদ যাবে!কিন্তু আজ যে ছিলো আমার দিন,নইলে বছরের পর বছর না করে দিয়েও আজ বলা মাত্রই রাজি হয়ে গেলে। অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে আছি কথাটা মনেই নেইনি,আর স্বভাবসুলভ হাজারো প্রশ্ন না করে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললে- “হ্যাঁ, এসো”।
এতটা সময়পর দেখা হতেই কোন প্রীতি সম্ভাষন তো দূর,রীতিমতোন ঝগড়া লেগে গেলো!
- এক জায়গায় দাড়াঁতে বলি গিয়ে থাকিস উল্টাপাশে!আর সেলফোনটা রাখছিস কেন তুলবিই না যদি, আছাড় দিয়ে ফেলে ওটা!
- সময় মতোন না এসে আবার গলাবাজি চলছে যে বড়ো!যাহ ভাগ যাবোই না সাথে!
- ওরে আমার সময়জ্ঞানী রে! ১০মিনিটের হেরফেরে ঢাকার বাইরে থেকে দিব্যি পৌছেঁ গেলাম,এখন ঢং দেখানি চলছে!
দেখা হতেই যে হারে ঝগড়ার শুরুটা হলো লাগছিলো যে কথার ফুলঝুরি বইবে গোটা সময়টা জুড়ে।গোধূলির কালটায় চারপাশ জুড়ে থাকা অফিসফেরতা গাড়িগুলোর বহরের কর্কশ শব্দ ছাপিয়েই যেন বড়ো হয় উঠেছিল গাড়ির মাঝের ওই নিস্তব্ধতা।পথ চলতে চলতে ধীরে ধীরে সন্ধ্যার আলো নিবতে শুরু করা দেখাতেও যেন কি আনন্দ ছিলো।ভিড় করছিলো নিস্তব্ধতায় সরব হয়ে ওঠা সেই সব বিস্মৃতি।বালিতে পা ছড়িয়ে বসে থেকে অন্ধকার হতে থাকা আকাশটা দেখতে দেখতে কিবা টংদোকানের চা খেতে খেতেও যা কিছু কথা হলো তাতে আর সব থাকলেও ছিলো না নিজেদের অনুভূতির ছিটেঁফোটাঁও।
জানি ঠিক যখনি চোখে চোখ পড়ছিলো,পড়তে পারছিলে মনের কথাগুলোও! আর লুকোইনি তো কিছুই কখনোই। তবে সে মূহুর্তে কেন যেন প্রচন্ড লজ্জা গ্রাস করেছিলো, তাইতো খুব করে চেষ্টা করে চলছিলাম এদি্ক ওদিক পানে তাকিয়ে থাকতে। পাশ থেকে আসা দৃষ্টি যে খুব করে বিধঁছিলো, কি দেখতে চাইছিলে মুখে হাসি নিয়ে? আকুল হয়ে যে প্রান চাইছিলো কেবল হাতটা মুঠোয় নিয়ে বসে থাকি, বলা হয়নি, সে কথা বলার অধিকার আর সাহস খুইয়েছি তো নিজেই!
বিদায় নেয়া নয়, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার মাঝ দিয়ে চলে যাবার আগে কাধেঁ আঙ্গুলের টোকা দিয়ে কেবল বললে, “আর কখনো দেখা করো না”।





এটা শরৎ আর বর্ষার একটা লেখা ছিলো, মাথায় মাত্র ঢুকলো বাকি ঋতুগুলো নিয়ে আবজাব গল্প বানাইলে কেমন হয়?
সেরাম হপে!
প্রথমে ভাবলাম আরে শীত নিয়ে না লিখছিলাম লেখা , পরে দেখলাম নাহ!
তবে আইডিয়া মাথায় রইলো
অদ্ভুত, অসাধারণ... কিন্তু আপনার মন খারাপ।
জ্বি নাহ জনাব, মন মোটেই খারাপ না, তবে কিঞ্চিত এলোমেলো নানান টেনশনে, কিন্তু খারাপ না একদমই, ভালো থাকা অনেক মজার, মন খারাপ কইরা সময় নষ্টের টাইম নাই!
মন্তব্যের জন্যে ধন্যিবাদ
সেইটাই আসলে। ভালো থাকাটা অনেক মজার। নিজে ভালো থাকলে ইভেন আশপাশের মানুষদেরকেও ভালো রাখা যায়। অদ্ভুত একটা ব্যাপার না?
আপনের নতুন লেখা কই? খুব তাড়াতাড়ি ছাড়েন, কোনো হাত দেখানোর চেষ্টা করবেন্না।
ছবিটা কার , যে তুলেছে তাকে ১ মিলিয়ন ধন্যাবাদ। পোষ্ট করাতে আপনাকেও।
ছবিটা গুগল মামু'র ভান্ডার থেকে সংগৃহীত, জানি না কার তোলা তবে এই ছবিটার ফটো ক্রেডিট অবশ্যই উল্লেখ করলাম, কারন শরৎকালের সন্ধার এতো চমৎকার ছবি নেটে পাইনি, সবাই কেবল দিনের ছবি তোলে কাশফুল মূলভাব যেখানে।
গল্পটার সাথে ছবিটা যেন কি দারুন করে মিশে গেছে! যাজ্ঞা, রন্টি লেখাটা কেমন হইছে না বললে ১মিলিয়ন ধন্যাবাদের অর্ধেক নিলাম না কিন্তুক!
* ছবিটার ফটো ক্রেডিট অবশ্যই উল্লেখ করতাম
সুন্দর একটি লেখা, ভাল লাগলো।
থ্যাঙ্কস পড়ে মন্তব্যের জন্যে
এই মেয়েটা ক্যান যে নিয়মিত লেখে না...
আমি
ভালো জিনিস কম হৈলেই ভালো @টুটুল
তোমার নিয়মিত লেখা উচিত...
আজকাল সব্বাই অনুচিত কাজকারবার করেই চলেছে, তাই উচিতের কাজের কথাই ভুলে গেছি! দেখো না, তোমার এই কমেন্টের জবার দেওয়া উচিত চিলো ১৯তারিখে দিচ্ছি ২৬শে!!
থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু!
অদ্ভুত, অসাধারণ, মন ছোয়া
আপ্নের মন ছোয়াঁ কমেন্ট পড়েই মাথায় ঘুরতে শুরু করছে-
অদ্ভুত সুন্দর লেখা। একদম শরতের আকাশের মত। একদম অামার মত না।
চলো, মন বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিয়ে আসি।
আফা কি খেয়াল করছেন যে এদ্দিন যে প্রোফাইল পিকটা দিতেছেন তা শরতেরই! এই দারুন ঝকঝকা আর মেজাজ চড়া আবার ঝমঝমাঝম বৃষ্টিতে ভাসিয়ে দিইয়ে সব রংধনুর আলোয় রাঙ্গিয়ে তুলছেন সবাইকে!
আপ্নে কেমন সার্টিফাই করতে কইছে কে আপ্নারে?!!
এহ! আমার এত্তো সাধের মন নদে ফেলুম ক্যান! বালাইষাট!
ভালো লেগেছে আবার পইড়াম।
আবার পড়বেন!
কিন্তু কেনু কেনু কেনু?
পড়ে মন্তব্যের জন্যে থ্যাঙ্কস
ভাল লাগলো। শুভ কামনা।
ফার্স্ট পার্টটা একটু রচনা রচনা হয়ে গেছে।
সেকেন্ড পার্ট টা বেশি ভাল্লাগছে।
লেখতে থাকেন। ভাল থাকেন।
সেকেন্ড পার্টটা এমনি মাথায় ছিলো, তবে শরত নিয়ে রবীন্দ্রনাথের অই লেখাটা পড়ার পরই লাগলো এর সাথে একটা গপ্পো লাগায়ে দেই, অই জন্যেই প্রথম অংশটা রচনা টাইপ হইছে! হুড়াতাড়া করে লেখায় আসলেই সুন্দর করে সাজানো হয়নি গল্পের ধাচেঁ।
থ্যাঙ্কু বর্ণ এমনি করে বলার জন্যে। হ্যা, ভালো থাকলেই লেখা ভালো আসে।
নামের মাজেজা কি?
সেকেন্ড পার্টের অংশটা মাথায় আসাতেই এই 'নির্বান' গানটাও মনে ঘুরছিলো, সেই থেকে পোষ্টের নাম দিয়ে দেয়া।
আমি কোন লেখা মুছে ফেলি না, এডিট(বানান ভুল হলে সেটা ভিন্ন) ও না, তাই আর করা হয়নি।
দেয়ার পর লাগলো, ব্যাপারটা টিভির প্যাকেজ নাটকের ধাচেঁর হয়ে গেছে।
আপ্নের নো ডিলিট নো এডিট রীতি ভাল্লাগছে।
গানের লিঙ্ক দেন।
লেখা সেইরাম হইছে। কিরাম আছেন ?
আমরা সব্বাই ভালো আছি,
আপনাকে তো দেখাই যায় না, আছেন কেমন?
লেখা সেইরাম হইছে। কিরাম আছেন ?
হ্যাপি ব্লগিং। লিখেন সময় পেলেই। ছবি তুলেন হাত খুলে। আর ভাল থাকেন দুশ্চিন্তা পিছনে ফেলে। অসাধারণ লেখা!
সব রকমের দোয়া-খায়েরগুলাও তোমার জন্যেও রইলো।
হ! হ্যাপ্পি ব্লগিং!
মন্তব্য করুন