জামায়াত আর শিবির বড় নাস্তিক।
যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে সে আস্তিক আর যে না রাখে সে নাস্তিক , তাই না ? নাকি যে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে আর তার কথা মেনে চলে সে আস্তিক ? জামায়াত আর শিবির কি করে ? ধর্ম কে ঢাল করে রাজনিতী , মানুষ খুন , জিহাদের নাম এ মানুষ হত্যা , ওরা কি জানে আল্লাহ তার বান্দাদের কি করতে বলেছেন আর কি করতে বলেনি ? বিদায় হজ্বের ভাষন কি ওরা ভুলে গেছে ?
সব ভুলে গেছে ওরা জামায়াত আর শিবিরের আল্লাহ হল গোলাম আজম আর নবী হল সাইদি,মুজাহিদ,কাদের মোল্লা । কারন জামায়াত আর শিবির আমাদের আল্লাহ,মহানবী(স:) আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফ কোনোটাই মেনে চলেনা তাদের রাজনৈতিক গুরু যাদের তারা তাদের আল্লাহ মানে তাদের কথা তারা মেনে চলে । তাহলে ভেবে দেখুন জামায়াত আর শিবিরের থেকে বড় নাস্তিক কোথাও আছে কি ? যেসব জামায়াত আর শিবিরের নাস্তিক রা এ পোস্ট টা দেখবেন তাদের জন্য আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর বিদায় হজ্বের ভাষন টি নিচে তুলে ধরলাম। কোনো কমেন্টর করার আগে একবার পরবেন।
¤ বিদায় হজ্বে আরাফার মাঠে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ঐতিহাসিক সেই ভাষনের কিছু অংশঃ
৯ যিলহাজ্জ শুক্রবার সকালে তিনি মিনা হ’তে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং ওয়াদিয়ে নামেরাহ’তে (وادي نمرة) অবতরণ করেন। যার একপাশে আরাফাত ও অন্যপাশে মুযদালিফাহ অবস্থিত। অতঃপর সূর্য ঢলে পড়লেতিনি ক্বাছওয়ার পিঠে সওয়ার হয়ে আরাফাত ময়দানের বাতনে ওয়াদীতে (بطن الوادي) আগমনকরলেন। এটি ছিল একটি পাহাড়ী টিলা। যা জাবালে রহমত (جبل الرحمة) বলে খ্যাত। তার উপরে উটনীর পিঠে সওয়ার অবস্থায় তিনি সম্মুখে উপস্থিত ১ লক্ষ ২৪ হাযার অথবা ১ লাখ ৪৪ হাযার ভক্ত মুসলমানের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। আরাফাতের ময়দানের উক্ত ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বলেন,
أَيّهَا النَّاسُ اسْمَعُوْا قَوْلِيْ، فَإِنِّيْ لَا أَدْرِيْ لَعَلِّيْ لاَ أَلْقَاكُمْ بَعْدَ عَامِيْ هَذَا بِهَذَا الْمَوْقِفِ أَبَدًا -
(১) ‘হে জনগণ! তোমরা আমার কথা শোন! কারণ আমি জানি না এরপর আর কোনদিন তোমাদের সঙ্গে এই স্থানে মিলিত হ’তে পারব কি-না’। [5]
َإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْهَذَا، فِيْ شَهْرِكُمْ هَذَا، فِيْ بَلَدِكُمْ هَذَا،
(২) ‘নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও মাল-সম্পদ, তোমাদের পরস্পরের উপরে এমনভাবে হারাম, যেমনভাবে তোমাদের আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহর তোমাদের জন্য হারাম’ (অর্থাৎ এর সম্মান বিনষ্ট করা হারাম)।
أَلاَ كُلُّ شَىْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَىَّ مَوْضُوْعٌ وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوْعَةٌ وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِى بَنِى سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ-
(৩) ‘শুনে রাখ, জাহেলী যুগের সকল কিছু আমার পায়ের তলে পিষ্ট হ’ল। জাহেলী যুগের সকল রক্তের দাবী পরিত্যক্ত হ’ল। আমাদের রক্ত সমূহের প্রথম যে রক্তের দাবী আমি পরিত্যাগ করছি, সেটি হ’ল রাবী‘আহ ইবনুল হারেছ-এর শিশু পুত্রের রক্ত; যে তখন বনু সা‘দ গোত্রে দুগ্ধ পান করছিল, আর হোযায়েল গোত্রের লোকেরা তাকেহত্যা করেছিল’।
وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوْعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوْعٌ كُلُّهُ-
(৪) ‘জাহেলী যুগের সূদ পরিত্যক্ত হ’ল। আমাদের সূদ সমূহের প্রথম যে সূদ আমি শেষ করে দিচ্ছি সেটা হ’ল আববাস ইবনু আবদিল মুত্ত্বালিবের পাওনা সূদ। সূদের সকল প্রকার কারবার সম্পূর্ণরূপে শেষ করে দেওয়া হ’ল’।
فَاتَّقُوا اللهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوْهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوْجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لاَّ يُوْطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُوْنَهُ. فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوْهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ -
(৫) ‘তোমরা মহিলাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর।কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহ্র আমানত হিসাবেগ্রহণ করেছ এবং আল্লাহ্র কালেমার মাধ্যমে তাদেরকে হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের প্রাপ্য হক হ’ল এই যে, তারা তোমাদের বিছানা এমন কাউকে মাড়াতে দেবে না, যাদেরকে তোমরা অপসন্দ কর। যদি তারা সেটা করে, তবে তোমরা তাদের প্রহার করবে যা গুরুতর হবে না। আর তোমাদের উপরে তাদের প্রাপ্য হক হ’ল সুন্দর রূপে খাদ্য ও পরিধেয়।
وَقَدْ تَرَكْتُ فِيْكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوْا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ كِتَابَ اللهِ.
(৬) ‘আর জেনে রাখ, আমি তোমাদের মাঝে ছেড়ে যাচ্ছি এমন এক বস্ত্ত, যা মযবুতভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেটি হ’ল আল্লাহ্র কেতাব’। [6]
أَيُّهَا النَّاسُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِيْ، وَلاَ أُمَّةَ بَعْدَكُمْ؛ فَاعْبُدُوْا رَبَّكُمْ، وَأقِيْمُوْا خَمْسَكُمْ، وَصُوْمُوْا شَهْرَكُمْ، وَأعْطُوْا زَكَاتِكُمْ، وَأطِيْعُوْا وُلاَةَ أَمْرِكُمْ؛ تَدْخُلُوْا جَنَّةَ رَبِّكُمْ-
(৭) ‘হে জনগণ! শুনে রাখ আমার পরে কোন নবী নেই এবং তোমাদের পরে কোন উম্মাত নেই। অতএব তোমরাতোমাদের পালনকর্তার ইবাদত কর, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় কর, রামাযান মাসের ছিয়াম রাখো, সন্তুষ্ট চিত্তে তোমাদের মালের যাকাত দাও, তোমাদের প্রভুর গৃহে হজ্জ কর, তোমাদের শাসকদের আনুগত্য কর, তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ কর’। [7]
وَأَنْتُمْ تُسْأَلُوْنَ عَنِّىْ فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُوْنَ. قَالُوْا نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ. فَقَالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ، اللَّهُمَّ اشْهَدِ اللَّهُمَّ اشْهَدْ. ثَلاَثَ مَرَّاتٍ -
(৮) আর তোমরা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। তখন তোমরা কি বলবে? লোকেরা বলল, আমরা সাক্ষ্যদিব যে, আপনি সবকিছু পৌছে দিয়েছেন, দাওয়াতের হক আদায় করেছেন এবং উপদেশ দিয়েছেন’। অতঃপর তিনি শাহাদাত অঙ্গুলি আসমানের দিকে উঁচু করে ও সমবেত জনমন্ডলীর দিকে নীচু করে তিনবার বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক’। [8]
উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ)-এর উক্ত ভাষণ উচ্চ কণ্ঠে জনগণকে শুনাচ্ছিলেন রাবী‘আহ বিন উমাইয়া বিন খালফ। আল্লাহ্র কি অপূর্ব মহিমা! [9] মক্কায় হযরত বেলালের উপরে লোমহর্ষক নির্যাতনকারী, রাসূলকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী ১৪ নেতার অন্যতম নিকৃষ্টতম নেতা ও বদর যুদ্ধে নিহত উমাইয়ার ছেলে আজ রাসূল (ছাঃ)-এর দেহরক্ষী ছাহাবী।
ইসলামের পূর্ণাঙ্গতার সনদ নাযিল :
সারগর্ভ ও মর্মস্পর্শী বিদায়ী ভাষণ শেষে জনগণের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ অতঃপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখার এই অনন্য মুহূর্তের পরপরই আল্লাহ্র পক্ষ হ’তে নাযিল হয় এক ঐতিহাসিক দলীল, ইসলামের সম্পূর্ণতার সনদ, যাইতিপূর্বে নাযিলকৃত কোন এলাহী ধর্মের জন্য নাযিল হয়নি। ‘অহি’ নাযিলের ভার বহনে অপারগ হয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর বাহন ‘ক্বাছওয়া’ আস্তে করে বসে পড়ে। এ সময় ‘অহি’ নাযিল হ’ল-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِيْناً-
‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপরে আমার নে‘মতকে পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম’ (মায়েদাহ ৫/৩) ।
রাসূল (ছাঃ)-এর মুখে এই আয়াত শ্রবণ করে ওমর ফারূক (রাঃ) কেঁদে উঠলেন। অতঃপর লোকদের প্রশ্নের জওয়াবে বললেন, إِنَّهُ لَيْسَ بَعْدَ الْكَمَالِ إِلاَّ النُّقْصَانُ ‘পূর্ণতার পরে তো কেবল ঘাটতিই এসে থাকে’। [10] বস্ত্ততঃ এই আয়াত নাযিলের পর আল্লাহ্র নবী (ছাঃ) মাত্র ৮১ দিন ধরাধামে বেঁচে ছিলেন।





লেখাটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে আপনার নিজের পাতায় রাখা হইলো। সাথেই অনুরোধ থাকলো নীতিমালা মেনে এবি তে পোস্ট করার জন্য!
মন্তব্য করুন