পুনশ্চঃ কাজী নজরুল ইসলাম
গতকাল ব্লগার সাঈদ ভাইয়ের পোষ্টে আমি নিচের মন্তব্য করি এবং পোষ্টটি ফেসবুকে শেয়ার করি ।

এ প্রেক্ষিতে অনেকে আমাকে অনুরোধ করেছেন আরেকটু বিস্তারিত জানাতে । এই মুহুর্তে বিস্তারিত লেখার সুযোগ নেই (অফিসে বসে ব্লগিং করলে চাকুরী কি থাকবে ? ) তবে, জরুরি কিছু কথা না বললেই নয় ।
প্রথমেই বলে নেই , সাঈদ ভাইয়ের পোষ্টটি গতকাল দৌড়ের উপর নজর দিয়ে আমি মন্তব্য করি । আজ পুরোটা পড়লাম । মাফ চাইছি সাঈদ ভাই, আপনি এটি কোথায় পেয়েছেন বা কোথা থেকে কপি করেছেন আমার জানা নেই কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , এটি নজরুলের মূল অভিভাষণ নয় । কারণ আমি আপনার পোষ্টের টেক্সটে একাধিক ভাষণের মিশ্রন দেখছি । যেমন নিচের টেক্সটগুলি (যা দেখে আমি কমেন্ট করেছিলাম ) তা' ১৯২৯ সালে সংবর্ধনায় দেয়া -
আপনারা যে সওগাত আজ হাতে তুলে দিলেন আমি তা মাথায় তুলে নিলুম। আমার সকল দ্যোন মন ও প্রান আজ বীনার মত বেজে উঠেছে । তাতে শুধু একটি মাত্র সুর ধ্বনিত হয়ে উঠছে - আমি ধন্য হলুম, আমি ধন্য হলুম। আমায় অভিনন্দিত আপনারা সেই দিনই করেছেন যেদিন আমার লেখা আপনাদের ভালো লেগেছে।
বিংশ শতাব্দির অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে আমি জন্মগ্রহন করেছি, এরই অভিযান সেনা দলের তূর্য বাদকের একজন আমি, এই হোক আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই শুধু এই দেশের, এই সমাজেরই নই, আমি সকল দেশের সকল মানুষের।।
কেউ বলেন আমার বানী জবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিম কে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালি কে গলাগলি তে পরিনত করার চেষ্টা করেছি। সে হাত এ হাত মেলানো যদি হাতাহাতি থেকে অশোভন হয়ে থাকে তাহলে ওরা আপনিতেই আলাদা হয়ে যাবে। আমার গাঁটছড়ার বাঁধন কাটতে তাদের কোন বেগ পেতে হবেনা, কেননা একজনের হাতে আছে লাঠি আরেকজনের আস্তিনে আছে ছুরি।
কিন্তু নিচের টেক্সটগুলি এমনকি শিরোনাম ১৯৪১ সালে প্রদত্ত :
যদি আর বাঁশী না বাজে, আমি কবি বলে বলছিনে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন, আমায় ভুলে যাবেন। বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি আমি নেতা হতে আসিনি, প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সেই প্রেম পেলাম না বলে এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব ও অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।।
যেদিন আমি চলে যাব, সেদিন হয়তবা বড় বড় সভা হবে, কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে হয়ত আমার নামে। দেশপ্রেমি, ত্যাগী, বীর, বিদ্রোহী - বিশেষনের পর বিশেষন । টেবিল ভেঙ্গে ফেলবে থাপ্পড় মেরে, বক্তার পর বক্তা।
এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রাদ্ধদিনে বন্ধু তুমি যেন যেওনা। যদি পারো, চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরন কর। তোমার ঘরের আঙিনায় বা আশে পাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেশা ফুল পাও সেইটিকে বুকে চেপে বল, বন্ধু, আমি তোমায় পেয়েছি।
তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিবনা
কোলাহল করি সারাদিনমান কারো ধ্যান ভাঙিবনা
নিশ্চল নিশ্চুপ আপনার মনে পুড়িব একাকী
গন্ধ বিধুর ধুপ।
কাজী নজরুল ইসলাম
আবার নজরুলের অন্য কিছু প্রবন্ধের উপাদানও লক্ষ্য করছি । যা হোক, এবার তথ্যগুলি দিয়ে কেটে পড়ি-
১। নজরুলের সম্পাদনায় অর্ধ সাপ্তাহিক ধূমকেতু প্রকাশিত হয় ১২ আগষ্ট ১৯২২ । ধূমকেতুতেই নজরুল সর্বপ্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি করেন :
সর্বপ্রথম ‘ধূমকেতু’ ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায় । স্বরাজ-টরাজ বুঝি না.........ভারতের এক পরমানু অংশও বিদেশীর অধীনে থাকবে না । ভারতবর্ষের সম্পুর্ণ স্বাধীনতা , শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে । তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না ।
( ধূমকেতুর পথ )
উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসে নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে ’ ও অন্য একটি রচনার জন্য ধূমকেতু খানাতল্লাশি, নজরুল গ্রেফতার ও বিচারে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয় ।
২। নজরুল ও মুজাফফর আহমেদের উদ্যোগে ১৯২৫ গঠিত হয় The Peasants and Workers Party of Bengal যা ভারতের কম্যুনিষ্ট পার্টির সূচনা করেছিল । সভাপতি হন অধ্যাপক নরেশ সেনগুপ্ত । দলের মূখপাত্র হিসেবে নজরুলেরই পরিচালনায় প্রকাশিত হয় লাঙ্গল পত্রিকা ।
৩। ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর রবিবার কলিকাতার এলবার্ট হলে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে নজরুলকে সংবর্ধনা ও জাতীয় কবি অভিধায় ভূষিত করা হয় । সভাপতিঃ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ; অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতিঃ এস ওয়াজেদ আলী ; প্রধান বক্তাঃ নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু । অভনন্দনের জবাবে নজরুল এক অসাধারণ প্রতিভাষণ দেন । এই প্রতিভাষণের সবটাই উদ্ধৃতিযোগ্য । কিছু কথা সাঈদ ভাইয়ের পোষ্টে এসেছে ।
৪। নজরুলের ’যদি আর বাশি না বাজে’ অভিভাষণটি ছিল নজরুলের জীবনের শেষ ভাষণ । ১৯৪১ সালে ৫-৬ এপ্রিল কলিকাতা মুসলিম ইনষ্টিটিউট হলে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির রজত জুবিলি উৎসবে সভাপতির ভাষণ হিসেবে তিনি অভিভাষণটি প্রদান করেন । তিনি কি বুঝতে পেরেছিলেন অচিরেই বাকরুদ্ধ হবেন তিনি ?
আপাতত এটুকুই থাক । এবার দাপ্তরিক কাজে নামতে লগ আউট হই ।





অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ।
অনেক কিছু জানলাম। এটা কাজী সব্যসাচীর কন্ঠে শুনেছি, সিডি তে সেটা আছে আরো কিছু কবিতার সাথে, সেটাই টাইপ করে দিয়েছি জন্মবার্ষিকী তে।
অনেক কিছু জানতে পারলাম ভাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ শেয়ারের জন্য।
চাকরী বাঁচিয়ে নজরুল কে নিয়ে আরো তথ্য দিবেন সেই আশা করছি।
পুনশ্চঃ লেখাটা ২ বার এসেছে মনে হয়, একটু দেখবেন কি ?
ধন্যবাদ। ঠিক করে দিলাম ।
আমি সন্তুষ্ট না, মানিক ভাইয়ের ঝোলায় আরও অনেক তথ্য আছে যেগুলো সবার জানা দরকার। আশাকরি সময় করে বিস্তারিত একটা পোস্ট দিবেন। আগাম ধন্যবাদ।
ঠিকাছে
অনেক কিছু জানলাম। মানিক ভাইকে ধন্যবাদ তথ্যগুলি শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ মানিক ভাই। আরও ছাড়তে থাকেন
আমার নিজের নাম নজরুল, হয়তো একারণেই ব্যাটারে ঠিক পছন্দ হয় না। ছোটবেলা থেকে তার প্রতি একটা অবজ্ঞা আছে। তাই তার সম্পর্কে খুব কমই জানি।
মানিক ভাইরে ধন্যবাদ
শুনে মর্মাহত হইলাম ভাই। এরকম একটা ব্যক্তি এই জাতির ভাগ্যে আর আসবে কি না সন্দেহ।
যারপর নাই অবাক হলাম
অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ দোস্তকে
এরপরে কি হইলো? টেনশনে পড়ে গেলাম তো ভাই।
Shandha, Chakravak, Agni-Bina, Shiulimala, Sindhu Hindol, Bulbul, Sarbahara, Mrittukhuda aro boi @ http://banglainternet.com/legends_kazi_nazrul_islam.html
মন্তব্য করুন