হরতাল বনাম..…।
এস এস সি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। আর এ উপলক্ষ্যে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে টিভিতে দেখলাম করুণ স্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রার্থনা করছেন তারা যেন পরীক্ষার সময়ে কোন হরতাল না দেয়। এটা দেখে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল, মেয়ে যখন গণধর্ষনের শিকার হচ্ছে তখন তার মা তাকে ধর্ষণ থেকে বাঁচানোর কোন উপায় না পেয়ে ধর্ষকদের কাছে করজোড়ে মিনতি করছেন, "বাবারা! ধর্ষণ করছ কর, কিন্তু দেখো আমার মেয়েটা যেন মরে না যায়।" কিন্তু বিধাতার (পড়ুন রাজনৈতিক দলগুলোর) কি লীলাখেলা! শিক্ষামন্ত্রীর এই আকুল আবেদনের এক সপ্তাহ না পেরোতেই একটি রাজনৈতিক দল লাগাতার হরতাল দিয়ে বসল। সত্যি বিচিত্র এই দেশ! বাংলাদেশই মনে হয় পৃথিবীর একমাত্র দেশ যে দেশে হরতালের কারনে পাবলিক পরীক্ষা নির্ধারিত দিন থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশ বলেই সম্ভব। অথচ এই দেশের রাজনীতিবিদ্দরাই দেশের উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় গালভরা ফাঁকা বুলি আওড়ান। আসলে এক শ্রেণীর ভন্ড সাধু আছে যারা কখনোই চায় না আমাদের দেশটার উন্নতি হোক। চাইবে কিভাবে? দেশের যুবসমাজ যদি শতভাগ শিক্ষিত হয়ে যায় তাহলে এসব ভন্ড সাধুদের কুকর্মে সহায়তা করবে কারা? যুবসমাজ শিক্ষিত হয়ে গেলে তো ওরা আর দেশটাকে লুটেপুটে খেতে পারবে না। হরতাল আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা ট্র্যাডিশন আর ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে এটা বহু পুরনো ও সবার জানা কথা। কিন্তু তাই বলে পাবলিক পরীক্ষার সময়েও কেন আমাদের মত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এর শিকার হতে হবে? এটি একজন পরীক্ষার্থী আর তার অভিভাবকদের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। এটি যে শুধু পরীক্ষার্থীর মানসিক ক্ষতি করে তা নয়, রাষ্ট্রের জন্যও যে কত বড় আর্থিক ক্ষতি করে তা কি এরা কখনো ভেবে দেখেছে? ভাববে কেন, অত সময় ওদের আছে নাকি? দেশের আরো অনেক বড় বড় সমস্যা নিয়ে ওদের ভাবতে হয়, এসব ছোটখাট সমস্যা নিয়ে ওদের না ভাবলেও চলে। আমরা শিক্ষার্থীরা মরে গেলেও এদের কিছু এসে-যায় না।যে দেশে পাবলিক পরীক্ষার সময় হরতাল দেয়া নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও সেই দেশ যে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশ হয়ে থাকবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যে দেশের রাজনীতিতে মেধাবী ছাত্রদের প্রবেশাধিকার নেই সে দেশের উন্নয়ন যে বার বার বাধাগ্রস্ত হবে তা বলা বাহুল্য বৈ কিছু নয়। তারপরও আমরা তরুণরা স্বপ্ন দেখি, আমরা স্বপ্ন দেখি একটা সুন্দর, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। আমরা স্বপ্ন দেখি একটা সুশিক্ষিত নতুন প্রজন্মের। আমরা শুধু স্বপ্নই দেখি না বিশ্বাস করি এটি সম্ভব, কারণ আমাদের তরুণদের দিয়েই সম্ভব এই কাজগুলো করা। আর সেই সব সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের বলছি তোমাদের দিন শেষ হয়ে আসছে। সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন দেশটা দাপিয়ে বেড়াবে অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী তরুণরা। তরুণরাই ফিরিয়ে আনবে সুদিন, তরুণরাই ছিনিয়ে আনবে সাফল্যের সোনালি সূর্য। সেদিন আর ঐসব সুবিধাবাদী, শোষক, জাতির সম্পদ লুণ্ঠনকারী মানুষ নামের অমানুষগুলোর বাংলার মাটিতে ঠঁআই হবে না। সেদিন বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম জ্বলজ্বল করে সুবাস ছড়াবে।





সেইজন্যই তো। যারা হরতাল ডাকতেসে সেইসব শুয়োরের বাচ্চাদের ঠ্যাঙাতে হবে। শাহবাগে আসেন। ঠ্যাঙানোর প্রস্তুতিতে যোগ দেন। জয় বাংলা।
আইতাছি কুত্তাগুলার লেংগুর আইজকা সোজা করমুই।
মন্তব্য করুন