একটি উত্তরাধুনিক ছোট গল্প
১.
উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট জানার জন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব চষে বেড়াই। টানা কয়েক ঘন্টার চেষ্টার পর ঠিকুজি মিলে। অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও ছিলো তাতে! দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ডাটাবেজ চেক করতে করতে কয়েক লক্ষ এন্ট্রির মধ্যে এক সময় মিলে যায়। আশানুরূপ রেজাল্টই। জিপিএ-৫।
২.
ফাঁকে ফাঁকে খোমাখাতায় চোখ রাখি। নাম দিয়ে সার্চ দিই; শহরের নামে দিই, কলেজের নামে দিই। নাহ্ ! মিলে না। তবুও হাল ছাড়া ছাড়ি নাই। নামের ইংরেজী বানানের সম্ভাব্য সব বিন্যাস ট্রাই করে দেখি। মিলে না। হয়তো এখনো নিবন্ধন করে নাই! তবু চেষ্টা থামে না। কয়েক মাস পর অবশেষে সফলতা। বানানে সামান্য পরিবর্তন করা একটা নাম দেখি। ফ্রেন্ডলিস্ট দেখি। সন্দেহ নেই। সেই!
৩.
তারপর ভূয়া পরিচয় তৈরি। ফ্রেন্ডলিস্ট ধরে ধরে ফ্রেন্ডের ফ্রেন্ডকে রিকোয়েস্ট পাঠানো। কেউ গ্রহণ করে, কেউ করেনা। এক সময় ফ্রেন্ডলিস্টের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রেন্ড হয়ে যায়। এবার বোধহয় তাকে পাঠানো যায়! অতপর: রিকোয়েস্ট। এবং সন্দেহের অবকাশ তৈরি না করেই অ্যাপ্রুভ!
৪.
নকল পরিচয়ের নকল বন্ধুত্ব চলে। নেটে ঢুকলেই লগইন করে খবর নেয়া। নতুন কোন কলেজে ভর্তি হলো, কী খাচ্ছে দাচ্ছে, নতুন করে কার সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব ঠিক ঠিক খবর পাই। স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাসে, নোটে, অ্যালবামে তথ্য হালনাগাদ হয়। কষ্টগুলোও হালনাগাদ হয়।
৫.
ধুর বাল! কত কী করার আছে জীবনে!





অবশেষে কি তাহাকে পাওয়া গেলো
সব পাওয়া পাওয়া নয়!
রয়ে সয়ে মুকুল ভাই
সেই জন্য কবি বলিয়াছেন... কষ্ট করিলে কেষ্ট মিলে
টুটলায় কি ভালো কৈরা পড়ছেন ?
আমাদের মুকুল ভাই অনেক পরিশ্রমী ছেলে
নাইলে কৈলাম ক্যাম্নে?
আহারে...দুনিয়ার সব লুল দেখি একই সিস্টেমে চলে
@ পেন্সিল,
গল্পে লুলামী আইলো কৈত্থেইকা?
এই যে কমন ফ্রেন্ডদের আগে এড করা, তারপরে কাংক্ষিত কাউরে এড রিকুয়েস্ট পাঠানো...এটা তো আমার লুল দোস্তরা করে(আমি করি না
)
@ পেন্সিল,
আপনে কি গল্পের মত ভিন্ন পরিচয়ে করেন, নাকি নিজ নামেই করেন?
কি যে কন...আমি ভালু পুলা
মোটে ইন্টার !!!!!!!!!!!!
.. মুকুল ভাই .......

@ শুভ, এটা একটা গল্প। খিয়াল কৈরা!
তাছাড়া সময়টা কিন্তু নির্দিষ্ট না।
মুকুল্ভাই মিষ্টি কবে খাওয়াবেন কন
শাতিল, ৪ নাম্বার প্যারাটা আরেকবার মনোযোগ দিয়া পড়ার রিকুয়েস্ট করি।
নাহ্ মানে এখন তো ০৯ এর ভর্তি মৌসুম ... তাই কইলাম , ০৯ না তো আবার
....
গল্প ভালো হইছে ......
সকলের লুলামির প্রক্রিয়া নিয়া একটা পোস্ট থাকলে খারাপ হইতো না। ভবিষ্যতে সুবিধা হইত!!!

এইবার মুকুল্ভাই সফল হবেই ইনশাআল্লাহ
ওপ্স!! লেখা নিয়া মন্তব্য করতে ভুইলা গেসলাম।

লেখা বড়ই উমদা হইছে।
++
আগেই সন্দেহ হৈছে পোলাটার নজর ভালো না ... ব্যাটা শেষ মেষ হাঁটুর বয়সি কলেজ পড়ুয়ারে বগলদাবা কর্তে চাইতাছে ... হায়রে মুক্লা !!
মুকুল্ভাই আপনার নামে এহেন অভিযোগ। ছি ছি ছি
হায়রে বোকা! তুমার কি ধারমা এইটা ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা ?
লেখা ভালো হইছে তয় উত্তরাধুনিক হইছে কীনা সেই বিষয়ে কিঞ্চিত সন্দেহ আছে...
হে হে হে। লেখা উত্তরাধুনিক, সেটা বলতে চাই নাই। ঘটনাটা হয়তো উত্তরাধুনিক! কিম্বা কে জানে, এই কয়েক বছরে হয়তো সবকিছুই উত্তরোত্তর আধুনিক হৈছে! আমিই পিছনে পৈড়া আছি!
তার পর কি হলো? পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলো নাকি অপরিচিতই রয়ে গেলেন?
তার কোন পর নাই।
মুকুল কি জিপিএ আমলে পাস দিছে নাকি? সন্দাইলাম।
ফেইসবুক নিয়ে কে যেন উপন্যাস লিখলেন...
@ নুশেরা'পু,
আমারে নায়ক বানায়ে দিলে চল্বে ক্যাম্নে ? আমি দলিল লিখক।
কতকিছূ?
৫ নম্বরটা সবচে পছন্দ হইছে
হ। গল্পের মোরাল!
ঘৎনা তাইলে এই!
সবাই দেকি গায়ের দিকে আইতে চায়! গল্প গল্পই!
ওকে দেন। কষ্টের গল্প ভালো লাগছে।
কোনো সম্পর্ক তৈরীতে (তা সে যে ধরণের সম্পর্কই হোক না কেনো) মিথ্যা একটা বিরাট ঝামেলা তৈরী করে... মিথ্যার বেসাতি করার চেয়ে সত্য সম্পর্কহীন থাকা অনেক শ্রেয়... যখন হবার তখন হবে... ট্রাই, ট্রাই এন্ড ট্রাই।
গো এহেড, প্রিয় মুক্লা
ঘটনা কী? লুগ্জন দেহি মনোযোগ দিয়া পড়তাছে না গল্পটা! গল্পে কিন্তু নতুন কোন সম্পর্ক তৈয়ার হয় নাই।
মুকুল্ভাই তুমি এগিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার পিছে
পুরান ট্রিক্স, আজ কালকার মাইরা এই সব বুঝে, মাগর তারপরো ধরা খায়।
মজা পাইলাম
ধুর বাল! কত কী করার আছে জীবনে!--হ আঙুর ফল টক
জিপিএ আমলের ম্যাট্রিক!!!! নাতির সমান বয়সী দেখছি।
@ তানবীরা, তাই বৈলা ২০১০ সালের কাহিনী ধৈরেন না আবার! গল্পের কাহিনী আরো আগের।
সব জায়গায় দেখি লুলে ভরপুর!!!
খোমাখাতা মানুষ জনকে পুরাই লুল বানায়া দিছে!
(আগে হাফ ছিল! )
বোহেমিয়ান কে ? চিনি নাকি ?
খুব খ্রাপ...........!!
অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়ার সুযোগ হলো..............
কী খবর? কেমন আছেন?
মুনীর ভাই, আছি ভালৈ। এখানে দেখবেন মাঝে মাঝে। আপনারও নিয়মিত লেখা আশা করছি।
মন্তব্য করুন