একটা ভদ্রলোকীয় স্মৃতিকথা (উৎসর্গ: মাসুম্ভাই)
তখন ইন্টারমেডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। এখন যেমন, তখনো তেমন ভদ্রলোক ছিলাম। বন্ধুগো লগে রাইতের বেলা হাঁস কিম্বা ছাগু চুরি কৈরা রাইতে রাইতে রাইন্ধা খাওনের মত আকাম কখনো করি নাই। মাঝে মইধ্যে বন্ধুগো লগে শেয়ারে অল্পসল্প বিড়ি টানি। বদ অভ্যাস বলতে এই একটাই।
সে যাই হোক। কলেজের মেয়েদের মধ্যে আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো। সাহিত্য, দেশ বিদেশ নিয়া ওর লগে আমার মিলতো ভালো। নোয়াখালী কলেজে ইন্টারের ক্লাস হইতো কলেজের পুরান ক্যাম্পাসে। ছুটির পর ওর লগে হাঁইটা হাঁইটা মাইজদী বাজার পর্যন্ত আসতাম। প্রচুর আড্ডা দিতাম। বন্ধু দেখতে শুনতে বড়ই সৌন্দর্য। এই নিয়া পুলাপান আমারে ত্যক্ত করতো।
যাউগ্গা, সে আবার নোয়াখালীর লুক না। বাবার চাকরী সূত্রে ভাড়া থাকতো আমাগো পাড়ায়। তো একদিন হইলো কি, দুপ্রে আমি পাড়ার রাস্তা দিয়া হাইটা যাইতেছিলাম। তাগো বারান্দার দিকে তাকাইতে দেখি বন্ধু আমারে হাত নাড়াইয়া ডাকতেছে। তো গেলাম তার বাসায়। এর আগেও তার বাসায় গেছি কয়েকবার অন্যান্য বন্ধু বান্ধব মিল্যা। তার বাসার সবার লগেই পরিচয় আছে।
বাসায় গিয়া দেখি সে একলাই। আন্টি গেছে বেড়াইতে। বাসায় আর কেউ নাই। ভালৈ হইলো। দুইজনে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। তার ছবির অ্যালবাম সব দেখাইলো। ঘন্টাখানেক পর তার ছোট ভাইটা আসলো। তারে পাঠাইলো চানাচুর কিন্যা আনতে। এর মধ্যে সে চা বানাইলো। তার ছোট ভাইসহ কেক, চানাচুর, চা খাইয়া আরো অনেকক্ষণ গল্প কইরা আমি বাসায় ফিরা আসলাম।





বাসায় গিয়া দেখি সে একলাই। আন্টি গেছে বেড়াইতে।
বাসায় আর কেউ নাই। ভালৈ হইলো। দুইজনে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। তার ছবির
অ্যালবাম সব দেখাইলো। ঘন্টাখানেক পর তার ছোট ভাইটা আসলো। তারে পাঠাইলো
চানাচুর কিন্যা আনতে। এর মধ্যে সে চা বানাইলো। তার ছোট ভাইসহ কেক, চানাচুর, চা খাইয়া আরো
অনেকক্ষণ গল্প কইরা আমি বাসায় ফিরা আসলাম...।
আফসুসজনিত ভদ্রলোকীয় গল্প...!!!
এখানে আফসুসের কী দেখলেন ? সবাই কি আপনার মত নাকি ?
তাছাড়া এইটা গল্প না, স্মৃতিকথা।
স্মৃতি তুমি বদ্না...
খিক খিক
গরম দিয়া বানানো চা? :পি
জ্বী না। মাইজদী শহরে ম্যালা আগ থিকা গ্যাসের লাইন আছে। এইটা খান্দানী এলাকা।
কুর-আন তেলোয়াত করছিলা নিশ্চয়?
না। তার স্কুলের গল্প করতেছিলো।
টুটুল, আয় ভাই বুকে আয় ! ইরাম মন্তব্য করনের লাইগা আরেকটা মিষ্টি পাওনা হৈলি...
তার মানে আগামী বছর আপ্নের আরেকটা ওঁয়া ওঁয়া আসবো ?
তাতো আইতেই পারে... আমরাতো আর কোরান তেলওয়াত করিনা
মোসলমানের পোলা কোরআন তেলাওয়াত করেনা, এইটা কোন ভালো কথা না। বচ্ছর বচ্ছর এইরাম কর্তে থাক্লে তো দেশটা কচিকাচার আসরে ভৈরা যাইবোগা! আল্লাহ পাক আপনাদের হেদায়েত করুক।
তুমি মেসবাহ ভাইরে কি ভাবো?

নয়া ভাইস্তা উপলক্ষ্যে মাসব্যাপি মিষ্টি খাওন কর্মসূচী
চলছে... চলপে
ধইন্যা।
কত কি গোপন থাকলো! এইটা শিশুতোষ গল্প। শিশুতোষ গল্প মাসুমভাইরে উৎসর্গ করছে মুকুল!!!!!!!!হাসতে হাসতে মারা যাচ্ছি।
ক্যান, সমস্যা কী? মাসুম্ভাইরে উৎসর্গ করতে হৈলে বড়মনিদের গল্প হৈতে হৈবো ?
বন্ধু সুন্দর আছিলো বুঝলাম কিন্তু আপনেরে কেন পুলাপান ত্যক্ত করতো?
ভাইরে, কারণ হেলো ইর্ষা! বুঝছেন?
পেলাপাইন তখন থেইকাই মুক্লার স্বভাব চরিত্র সম্মন্ধে অবগত ছিলো, তাই ত্যক্ত করতো...
আপনে জানলেন কেমনে?
ব্লগের নাম চেঞ্জ কইরা দেখি "আমরা ভদ্রলোক" রাখতে হইব।
বন্ধু মানে তো ভদ্রলোক-ই!
তাই নিকি? (:
২০১০ সালের সেরা রসিকতা...
বলেছেন মুকুল ভাই
বন্ধু মানে তো ভদ্রলোক-ই!
ভুল কী কৈলাম ? অভদ্রের মত আচরণ কর্লে তো মডু ঘ্যাচাং কৈরা দিবো।
সুন্দর স্মৃতিকথা ,পড়ে আবেগাপ্লুত হলাম ।
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ইহা একটি ভদ্দরলোকীয় কমেন্ট )
আবেগাপ্লুত হলে কিছু নিজের ভান্ডার থেইকাও উপুড় কৈরা দেন। স্মৃতি তো আপনারও নিশ্চয়ই আছে !
কলেজের মাইয়াগো মইদ্ধ্যের বন্ধু আছিলো তো তাই ইরাম ভদ্দরলুকের গফ হইছে... ঐডা যদি বান্ধবী হইলে গল্পডা অন্য রকম হইলেও হইতে পার্তো... আফসুস...
হ। আম্রা কত বুকা ছিলাম!
তুমি মাসুম ভাইরে ভদ্রলোক মনে কইরা উৎসর্গ করছ এইটা শুনলে মাসুম ভাই কহুব মাইন্ড করবে।
নাউজুবিল্লাহ। মাসুম যদি ভদ্রলোক হয় তাইলে হিসাব ত মিলে না। জ্ঞানীরা কি কন?তব্দা খাইলাম।
হবে মাসুম ভাই। বেয়াদবী মনে কইরেন না। মুকুলের কথায় তব্দা খাইয়া গরু হারানোর মত হইছে ।
ভদ্রলোকত্ব হারানির আগে নিশ্চয়ই ভদ্রলোক ছিলো!
ভদ্রলুক বুঝি একলা বাসা থেকে কেউ ডাকলেই সাড়া দেয়
আমি ক্যাম্নে কমু একলা না গুষ্টিশুদ্ধা আছে!
লাইক করছি
কী শুরু হৈলো এই সব!
উপ্রে বেবাকতে ভদ্দরলোক, তলে তলে দেখি এক একটা লুল-সম্রাট!
ব্লগ এখন লুলে লুলে লুলাকার...........
ব্লগ এখন লুলে লুলে লুলাকার...........
কতা পছন্দ হৈছে
উরে বাবা ..কি জটিল ঘটনা!
হা হা হা
আপনে তো জেনুইন ভদ্রলোক!
অভদ্র হইবার সাহসই নাই।
আমার অবশ্য একটা প্রশ্ন আছে...ছোট ভাইটা না আসলে কি মুকুল ভদ্রলোক থাকতে পারতো?
হা হা হা। সময় কিন্তু যথেষ্টই ছিলো ভাস্কর ভাই।

এখন এই ২০১০ সালে আইসা, বিষয়টা হয়তো অন্যরকম হৈলেও হৈতে পারে! কিন্তু ৯৬/৯৭ সালে ওই সময়ে অভদ্র হওয়ার চিন্তাটাই মনোজগতে ছিলোনা কিংবা এইরাম কিভাবে হৈতে পারে, এই জ্ঞানটুকুও ছিলোনা।
বুঝলাম নোয়াখালিতে মুকুলের কোনো ভবিষ্যৎ নাই। এখানকার সবাই মুকুলরে ভদ্রলোক বইলাই জানে। আর তাই তা কিছুই হইতাছে না। মুকুল জায়গা পালটান।
অ্যাঁ ! তাইলে চলবে ক্যাম্নে ?
হে হে। এইরকম কাহিনি আমারো আছে। তবে মুকলাভাই যে ভালো লোপাট ভালো পোলা তা দেখলেই বুঝা যায়।

কি জানি বাপু !!! আসলে কি ঘটেছিল ।
খালি একটা জিনিষ বুঝলাম না, সব ভদ্রলোকের গল্পে খালি পানিই গরম হয় কেন?
মাইনাস + মাইনাস = পিলাস...
গরম + গরম = ভদ্রলোক ???
কারণ পানির অপর নাম জীবন। আম্রা পানিপ্রার্থী।
আমরা ভদ্রলোক না দিয়া ব্লগের নাম আমরা লুল দেওনের কাম
তোমরা কি মুখোমুখি বসে গল্প করছো নাকি পাশাপাশি বসে ?
মুকুল ভাই, এই পোস্টটা একটা অমর হা হা প গে পোস্ট।
প্রিয়তে নিলাম।
অ্যাঁ!!
আসলেই ...মীর !
মন্তব্য করুন