বিবিধ নিজস্ব হাবিজাবি...
-
ইদানিং, কেন জানিনা, সব কিছু থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। সময় বয়ে যাচ্ছে, আমিও বয়ে যাচ্ছি সময়ের সাথে। যেন যেতে হয় বলেই।
-
সিগারেট জ্বালাই অভ্যেসে। কিছুক্ষণ পর আর স্বাদ পাইনা, ছুঁড়ে ফেলে দেই।
-
অফিসের ছাদে উঠলে কিনারে গিয়ে দাঁড়াই। নীচে তাকালে পেটের ভেতর শিরশির করে। হাঁটুর পেছনের শিরশিরে অনুভূতিটা মেরুদন্ড বেয়ে উঠে আসে। উচ্চতা ভীতি আমার সারাজীবনই। তবু, চাদের কিনারে দাঁড়িয়ে কেমন বিচিত্র আনন্দ পাই। নীচে রাস্তাতে লাফিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়। পারিনা। হয়তো দায়িত্ববোধ বেশী, নয়তো সাহস হয় না। বিল্ডিং ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা রড এক হাতে ধরে মাথাটাকে বের করে দেই ছাদের সীমানার বাইরে। হয়তো আশা করি একদিন মাথা ঘুরে পড়ে যাবো। পেটের ভেতরের, হাঁটুর পেছনের শিরশিরানি উপভোগ করি।
-
সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে, নীচে নেমে যাওয়া সর্পিল সিঁড়ি দেখে আমারও সেই সর্পিলতাকে অনুভব করতে ইচ্ছে হয়। মনেহয় উড়তে উড়তে সর্পিলতাটাকে হয়তো সবচে ভালো উপভোগ করা যাবে। চোখ বুজে নিজেকে দেখি হাতে সিগারেট নিয়ে ভাসছি সিঁড়ির সর্পিলতায়। সিগারেটের ধোঁয়া সর্পিল ভাবে উঠে যাচ্ছে উপরে আর আমি সিঁড়ির নামছি নীচের দিকে।
-
রাস্তা পার হতে, আগে ডান-বামে তাকাতাম। এখন... রওনা হয়ে যাই। গাড়ির কান ফাটানো হর্ণে, রক্ত জুড়ে এড্রিনালিনের ছোটাছুটি উপভোগ করি। লোকজন বিরক্ত হয়, থুথুর মত করে গালি ছুঁড়ে দেয়, আমার মনে কোনো ছাপ পড়ে না।
-
বেঁচে থাকার জন্য একটা মটো তৈরী করে নিয়েছি বেশ কিছুদিন হ’লো। খ্যাতনামা কেউ একজন হয়তো বলেছিল “অতীত অর্ধমিথ্যা, ভবিষ্যত পুরোটাই মিথ্যা, বর্তমানটাই শুধু সত্য”। পছন্দ হওয়ায় নিজের করে নিয়েছি। আমি সত্যতেই বাঁচি, কিংবা বলা যায় বর্তমানেই বাঁচি।
-
কিছুদিন ধরে খুব অর্ধমিথ্যায় বসবাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে। পুরোনো পেটমোটা কাঁচের বোতলে ভরে রাখা অর্ধমিথ্যার আচার গুলো তারিয়ে তারিয়ে খেয়ে চলেছি...
▀প্রথম স্কুল ছিলো রংপুর ক্যান্ট পাব্লিক। কেজিতে। স্পোর্টসের আনন্দে সবাই মাতোয়ারা। আমি নিজেও। বিস্কুট দৌড়ে নাম দিয়েছি। যতগুলো হিট হয়েছে, প্রত্যেকবার ফার্স্ট। ফাইনালের আগে ক্লাসটিচার ম্যাডাম জুতো খুলে ফেলতে বললেন, যুক্তি হিসেবে অন্যদের খালি-পা গুলো দেখিয়ে দিলেন। দৌড়ে দু-তিন পা যেতে না যেতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম। ইগোতে বড় লাগলো। আবার দৌড়ানোর চেষ্টা না করে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসলাম।
▀রংপুরেই, আব্বুর সাথে স্টেডিয়ামে গিয়েছি কিছু একটা দেখতে। হঠাত গ্যাঞ্জাম। একটা ঢিল এসে পড়ল মাথায়। সব কিছু অন্ধকার।
▀একটা স্বপ্ন দেখতাম শিশুবেলায় বারবার। চারদিক সাদা, ধুধু মরুভুমি। আমি দৌড়াচ্ছি। পিছনে একটা দৈত্য আছে। দেখিনি, কিন্তু জানি। অনেক দূরে কালো একটা বিন্দু দেখা যাচ্ছে। সাহায্যের আশায় প্রান হাতে নিয়ে ছুটছি কালো বিন্দুর দিকে, বিন্দুটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। একসময় দশদিক, বিশ্ব চরাচর ঘণ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। আমি দৌড়ানো থামাচ্ছি না। আমার বুকের ভেতর ভয়ের চাপ। গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় না, আমি চেঁচিয়ে সবাইকে ডাকি, কেউ শুনতে পায় না। এক পর্যায়ে আর কিছু মনে থাকে না।
স্বপ্নটা অনেকদিন দেখিনা, তবে অনুভব করি বাস্তবেই...





আমিও রংপুর ক্যান্টে পড়েছি, কেজি ২ তে
কত সালে? আমি ছিলাম ৮৩'র দিকে
৮২ এর দিকে মনে হয়। ক্লাশটা ছিলো নিচ তালায় , ঢুকতে গিয়ে বাম পাশে এটা মনে আছে।
এইটা তো আমারও মনে আছে।
ক্লাশের ভিতরে একটা শোকেস ছিলোনা? যেটার ভিতর বিভিন্ন ধরনের খেলনা মজুদ থাকতো? ক্লাসটিচার ম্যাডামটা ছিলেন খুব সুন্দর দেখতে।
বৃত্ত ভায়ার যত লেখা পড়েছি সবগুলোই অদ্ভুত। এইটাতো ডাইরেক্ট প্রিয়তে গেল।
হায় হায়? আমি কোনো দোষ করিনাই কিন্তু...
আপনের বিয়ার বয়স হইছে, আবারো প্রমাণ হইল।
মুক্ত, তুমি খালি বিয়া খুইজা পাও। আমার্তো মোনায় তুমারই বিয়া করন দর্কার
আমারও তো মুকতর মতই মনে হৈলো। আবার কইও না আমারেও বিয়া করায় দেয়া দরকার (আস্তাগফিরউল্লাহ মিন জালেক)
আরেহ্??? কেম্নে কি???
খাইছে, এসব কি কন?
কোনসবের কথা বলেন শখত মামা???
এ স্বপ্নটা বোধহয় অস্থিরতার সময় অনেকেই দেখে থাকেন।
ব্যাপার না বস। সুস্থির সময়ের মতো অস্থির সময়ও কেটে যাবে
তানবীরান্টি, এই স্বপ্নটা দেখতাম শিশুকালে, এরাউন্ড ৮/৯ বছর বয়েস পর্যন্ত। ঐ সময় অস্থিরতার কি বুঝি? ঐ সুমায় তো পুরা দুইন্যাটাই স্বর্গ টাইপের কিছু একটা। চিন্তা নাই, দায়িত্ব নাই, টেমশম নাই...
আগে স্কুলগুলিতে মাঠ থাকতো, তার খারাপ দিক ছিল পিটি বা গেম টিচারদের যন্ত্রণা।
বেত্য ম্যালদিন বাদে। লেখা ভাল্লাগছে। থুতুর মতো গালি ছোঁড়ার উপমাটা অমানবিক রকম পার্ফেক্ট হইছে।
বেশি বেশি আইসেন, লেইখেন
মাঠের তুলনায় পিটি স্যার ম্যাডামদের যন্ত্রণা আমার মতো অনেকের কাছেই নগন্য ছিলো।
লিখতে ইচ্ছা করেনা কেনো জানি না...
ঠিক না এসব।পৃথিবীটা, জীবনটা এখনও অনেক সুন্দর। সুন্দরের খোঁজ পান এই প্রার্থনা।
নিয়মিত লিখেন না কেন?
লাফিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়, লাফিয়ে তো পড়িনা জয়িতাপা। দায়িত্ব এভয়েড কর্তে শিখিনাই এখনো...
মিছা কথা কইলেন যে!নিয়মিত পোষ্ট দেয়া কি আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?
পড়েগো আপা। বাট লেখা না আসলে কি কর্বো???
ভাল লেগেছে।
ধন্যবাদ পলাশ...
মন্তব্য করুন