বিবিধ বই বিষয়ক হাবিজাবি...
এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে স্মৃতিকাতরতা ঘণ মেঘের মত ভর করে আছে মনে। তার উপর গতকাল মীরের পোস্ট আর সেই পোস্টে নুশেরান্টির দেয়া দু’টো লিংক পুরোই প্রাচীন যুগের শ্রাবণ মাসের মত করে স্মৃতির বৃষ্টি নামিয়ে দিলো। দুজনকেই তীব্র মাইনাস দিয়ে এই পোস্টের শুরু করলাম।
শিশুকালে সবাই কমিক্স-টমিক্স বেশী পড়ে, কিন্তু আমার এগুলা খুব কম পড়া হৈছে। তয় বই পড়া হৈছে প্রচুর। ঈদ-চান্দে রংপুর থিকা খুলনা যাইতাম ট্রেনে। সেই সুবাদে শরতাংকেলের বহুত বই পড়া হৈছে। দেবদাস, শুভদা, রামের সুমতি, কৃষ্ণকান্তের উইল এইসব পড়া হয়া গেছিলো ক্লাস থ্রি’র আগেই। আরো পড়া হইছিলো সেক্সপিয়ার সাবের হ্যাম্লেট, ম্যাকবেথ, রোমিও-জুলিয়েট, মার্চেন্ট অফ ভেনিস এগুলাও। ট্রেনেই একবার কেনা হৈছিলো হিটলারের জীবন কাহীনি। সেইটা পৈড়া আমি হিটলারের ফ্যান হয়া গেছিলাম। ভিত্রে ভিত্রে নাতসীবাদ লালন কর্ছি সেই ইন্টার পর্যন্ত।
প্রগতি প্রকাশনীর বইগুলার লগে ছিলো ভয়াবহ প্রেম। সবগুলার নাম মনে নাই, তয় কিছু কিছু বইয়ের নাম চোখ বন্ধ কর্লে এখনও সামনে ভাসে। এরাম একটা বই হৈল “শিশু” লেখকের নাম হিসাবে লেখা ছিলো “লেভ তলস্তয়” আমি এখনও কনফিউজড যে ওইটা ‘লেভ’ হৈবো না ‘লিও’ হৈবো। দারুণ স্কেচ ইলাস্ট্রেশন ছিলো বইটায়। গল্পগুলাও ছিলো বিচিত্র। হঠাত কৈরা গল্পের মাঝকানে পাঠকরে ছুঁইড়া ফালায়া দেয়া হৈতো বৈলা মনে পড়ে। অদ্ভুত আকর্ষণীয় ইলাস্ট্রেশন অলা আরেকটা বই ছিলো আমার। নামটা এখন আর মনে নাই। তয় বইটার থিম আছিলো সোভিয়েট ইউনিয়নের উন্নয়ন গাঁথা। ঐ বইটা থিকাই জানছি হাইড্রফয়েল, গ্রীন হাউজ, অটমেটিক ওয়াটারিং সিস্টেম এরাম অনেক কিছু সম্পর্কে। এখন বুঝি যে এই বইটাই আমার বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার সম্মপর্কে জাননের আগ্রহটা গইড়া দিছে।
প্রগতির বই “মালাকাইটের ঝাঁপি” “সাগরতীরে” “মুমু” এত্ত এত্তবার পর্ছি, গুইনা বলার মতো না।
মালাকাইটের ঝাঁপির মালাকাইট ঠাকরুন, গুমেশকি খনি, ভুমিদাস, গোমোস্তা, দানিলা-কাতিয়া আরো আরো কত্ত চরিত্র...
সাগরতীরের সাশুক-আনুশ্যা; সাশুকের শৈশব থিকা হঠাত বাস্তবতায় ছিটকায়া পড়া...
মুমুর কুকুরটা; যারে কেন্দ্র কৈরা বইটার পুরা ঘটনা...
সব স-অ-ব কিছুর লগে নিজের কিছুনাকিছু মিল খুইজা পাইতাম। সত্য বলতে এখনও পাই...
সবচে বড় দুঃখ হৈতেছে যে বইগুলার একটাও আমার কালেকশনে নাই। রংপুর আর খুলনার একঝাঁক কুলাঙ্গার উঁইয়ের পেটে চইলা গেছে।
আব্বুর কালেকশনেও ছিলো অনেক বই। যেগুলার ভিতরে মনে পড়ে নিমাই ভট্টাংকেলের মেমসাহেবের কথা; লরেন্স সাবের লেডি চ্যাটার্লিজ লাভারের কথা। মজার বিষয় হৈলো ক্লাস থ্রীর ভিত্রেই বইগুলা পড়া শেষ কৈরা ফেলছিলাম। কিচ্ছু বুঝিনাই, পরেও আর পড়নের আগ্রহ পাইনাই। ছিলো হুমায়ুন আহমেদের নির্বাসন বইটা। শিশুবেলায় পড়া বইটা কিছুদিন আগে আবার পর্লাম। আবেদন সেইরকমই পাইছি। আরেকটা বই ছিলো আমি রাসেল বলছি নামে। ১৫ অগাস্টের ঘটনা আর ছবি ছিলো বইটায়। আমি খালি ছবিগুলা দেখতাম, আর শিশু রাসেলের লাইগা মন খারাপ করতাম।
ক্লাস ফোর ফাইভে একটু বড় হৈয়া সেবা প্রকাশনী ধর্লাম। প্রথম বইটা ছিলো কিশোর ক্লাসিকের “লাস্ট ডেইজ অফ পম্পেই”। খুলনায় আমাগো বাসার কাছে ছিলো মিল্লাত লাইব্রেরী। পড়ার বই-খাতা-কলম-পেন্সিল বিক্রির পাশাপাশি গল্পের বইও ভাড়া দিতো তারা। আমি বেশিরভাগ টাইমেই লাইব্রেরীতে দুইটা র্যানকের মাঝখানে বইসা এক-দুইটা বই শেষ কৈরা ফালাইতাম। লাইব্রেরীটা চালাইতো মিরণ আর কিরণ নামের বিহারী দুই ভাই। গত বছর খুলনা গিয়া দেখি মিরণ ভাই আর কিরণ ভাই আলাদা হইয়া গেছে। দুইজনই বুইড়া হইয়া গেছে সাথে সাথে ভাগ হইয়া গেছে আমার মিল্লাত লাইব্রেরীও। সেবার কিশোর ক্লাসিক পড়ায় ডুইবা ছিলাম। অলিভার টুইস্ট, গ্রেট এক্সপেক্টেশন্স, থ্রী মাস্কেটিয়ারস, কাউন্ট অফ মন্টেক্রিস্টো গোগ্রাসে গিলতেছিলাম এই সময় এক খালাতো ভাই গিফট দিলো তিন গোয়েন্দার কাকাতুয়া রহস্য। মাছের মুখের সামনে লোভনীয় টোপ। পুরা পাগল হইয়া গেলাম। আহা তিন গোয়েন্দা !!! আহা কিশোর-মুসা-রবিন-জিনা !!!
নতুন নেশা কুয়াশা সিরিজ। সেমি সায়েন্স ফিকশন। একটানা মনেহয় ৭৫টা বই বের হইছিলো। সব খুইজা খুইজা পড়ছি।
ক্লাস সিক্সে আবার রংপুর। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচী। বড় বৈনের কলেজ পর্যায়ের বই পড়া কর্মসূচী। মনে আছে ক্লাস সেভেনের বইয়ের লিস্টে দেখছিলাম দীপু নাম্বার টু এর নাম। বড় বৈনরে বলছিলাম ইশ আমি যদি সেভেনে থাকতাম তৈলে এই বইটা পর্তে পার্তাম। বঐন আমারে ঝাড়ি দিয়া বলছিলো সামনের বছরতো পর্তেই পারবি। পরের বছর কোনো কারণে স্কুল পর্যায়ের কর্মসূচী বন্ধ হইয়া গেছিলো। আমার এখনও দীপু নাম্বার টু পড়া হৈলো না। আমার বই পড়া শেষ কৈরা বৈনের বইয়ে হামলা দিতাম। ঐ সময়েই পড়ি ক্রীতদাসের হাসি। বৈনের ম্যাট্রিকের র্যা পিড রিডারে আব্দুল্লাহ উপন্যাসটা ছিলো, বৈনের পাশাপাশি আমিও পইড়া ফেলছিলাম।
আমাদের টাইমে বাচ্চাদের লাইগা পত্রিকা ছিলো দুইটা। “শিশু” আর “নবারূণ”; নিয়মিত পড়া হৈতো। নবারূণের থিকা শিশুর বেশি ফ্যান ছিলাম। কৈশোরে আইসা ধর্চিলাম “কিশোর পত্রিকা” মাঝে মাঝে “কিশোর তারকালোক”। রহস্য পত্রিকা অবশ্য চালু ছিলো শিশিকাল থিকাই।
আস্তে আস্তে বই পড়ার টেস্ট চেঞ্জ হৈতে থাক্লো, আর আমিও বড় হইয়া গেলাম...





আহারে দীপু নাম্বার টু...প্রথম পড়ছিলাম কেজি টু'তে থাকতে...কিশোর বাংলা নামের একটা শিশু কিশোর পাক্ষিক পত্রিকা বাইর হইতো...ঐটার ঈদ সংখ্যায়। জীবনের প্রথম উপন্যাস পাঠ...সে কী অনুভূতি!
বস আমার এখনো বইটা পড়া হৈলোনা

দিপু নাম্বার টু এখনো পড়েন নাই? তাড়াতাড়ি কিনে পড়েন নাইলে এইখান থেকে নামায় নিয়েও পড়তে পারেন -
দিপু নাম্বার টু
নড়বড়ে ভাইকে অশেষ ধইন্যা। বইটার কোনো ভার্সনই কালেকশনে ছিলো না।
নড়বড়ে ভাইরে প্রচুর ধৈন্যা পাতা...
কতদিন পর মালাকাইটের ঝাঁপি আর তিন গোয়েন্দার জিনা'র নামটা শুনলাম। বুকে দোলা দিয়ে গেল পুরোনো দিনের কথা। আপ্নারে প্রচুর ধইন্যাপাতা।
থেংকু থেংকু...
কুয়াশা ছদ্মনামে এক ডাক্তার ভদ্রলোক লেখতো মনে হয়। একবার আব্বার অফিসে ভদ্রলোক আসছিলেন মেডিক্যাল কলেজ বা এই টাইপের কিছু একটা বানানোর জন্য লোন নিতে। তখন স্কুল শেষে আব্বার অফিসে গেছিলাম, অফিসেই বসে ছিলাম। উনি এই বয়সী কাউকে দেখে নিজের পাঠক কিনা জানতে চাইলেন। আমি তখন তিন গোয়েন্দার পাংখা। উনি যখন শুনলেন আমি কুয়াশার নামও শুনি নাই, তখন একটা বই গিফট দিলেন; অটোগ্রাফড। আমি অবশ্য বেজায় নিঠুর, ঐ বই অর্ধেকের মতো পড়ছিলাম। তারপর ফেলে দিছি।
কুয়াশা সিরিজটার নাম আছিলো। কাজীদাই লিখতেন... কুয়াশা নামের লেখকের লেখা পড়িনাই...
কুয়াশা নামেই একজন লেখতো। অতীব ফালতু লেখতো।
কুয়াশা সিরিজ নামে আরেকটা ছিল।
একটা বই মনেহয় জিভে ছুয়াইছিলাম ঐ লেখকের, বিটকেলে টেস্ট; এক্টু এক্টু মনে পড়তেছে এখন...
১। পোস্ট ভালৈসে।
২। দীপু নাম্বার টু পড়ি যখন ক্লাস টুতে। সিনেমাটা দেখসো?
৩। রুশদেশের উপকথা, মালাকাইটের ঝাঁপি, উভচর মানুষ, আমার ছেলেবেলা, কালো খাতা ও সম্ব্রানিয়া, ইশকুল, তোলিয়া ক্লুকভিনের এডভেন্চার- প্রগতি প্রকাশনীর কত বইয়ের নাম বলবো।
৪। সেবা বেশী পড়িনাই। ভালো লাগতো না। কূয়াশা পড়সি কয়েকটা।
৫। একসময় ফেলুদা পড়তাম। শংকু ভালো লাগতো না। সায়েন্স ফিকশন ভালো লাগেনা।
৬। তারাশংকর, দুই বিভূতিভূষণ, মাণিক- এদের লেখা ভালো লাগে, লাগতো।
৭। শরতচন্দ্র ছোটবেলায় ভালো লাগতো। এখন পড়িনা, এখন হুমায়ুন আহমেদ পড়ি।
৮। সুনীল-সমরেশ এদের কিছু লেখা ভালো লাগে। আইডিওলজিক্যালি বিপরীত মেরুর হৈলেও শীর্ষেন্দু আমার খুব প্রিয়। দেশ ছাড়ার সময় গোটা দশেক বই (গোটা তিনেক একাডেমিক) নিয়ে আসছিলাম- একটা হৈল কাগজের বৌ।
৯। এখন হিট হৈল পলিটিকাল/স্মৃতিকথা টাইপ বই। একাত্তরের দিন গুলি কতবার পড়সি জানিনা।
রুশদেশের উপকথা আর উভচর মানুষের নাম ভুলে গেলাম কেম্নে???
ও হ্যা বড় ভাইবোনের বাংলা বই-দ্রুতপঠন সবসময়ই খুব প্রিয় ছিলো।
খিক খিক খিক

পেনসিল ও সর্বকর্মার অ্যাডভেঞ্চার নামে আরেকটা বই ছিলো...ঐটাও জোস!
ইয়েস ইয়েস মনে পড়ছে বস। পর্ছি পর্ছি...
আচ্ছা সবাই খালি মস্কোর বইগুলার কথা বলে ক্যান? ছবিওয়ালা কতগুলা বই ছিল চায়না থেকে আসতো (লেখা থাকত পেইচিং পাবলিকেশনস) এইগুলা কেউ পায়নাই? এইগুলা অবশ্য আরো একটু বাচ্চা বয়সের ছিল...নীলক্ষেত, চারুকলার সামনের ফুটপাত থেকে ঘুরে ঘুরে গত কয়েকবছর কয়েকটা কিনলাম, পুরান স্মৃতি এখন পুরান বইয়ের দোকান থেইকা কিন্না আনতে হয়।
পেইচিং প্রকাশনীর কুনগুলার কথা কন? কমিক্স টাইপের গুলা?
আমার মনে পড়ে কালারফুল ছবি ওয়ালা কিছু বই আছিলো, যেগুলার নামই ছিলো "চায়না"। ঐ বই গুলা স্পেশালি স্কুলের বইয়ের মলাট দিতে বেশি ব্যবহার করা হইতো।
দস্যু বনহুর পড়ো নাই রুমানা আফাজের? কয় কি?
আমার আর একটা ক্রেজ ছিলো, আশাপূর্না দেবী আর আশুতোষ মূখোপাধ্যায়। আশুতোষের একটা বইয়ের জন্য করি নাই এমন কোন কাজ ছিলো না, প্রেমের উপন্যাসতো ...............।
দস্যু বনহুর পড়ছি কয়েকটা। তয় নিয়মিত ছিলাম না। নীহার আংকেলের কিরিটি বেশি পছন্দ ছিলো।
পেইচিং প্রকাশনীর বই আমি স্কুলের বইমেলা থেকে কিনতাম!! পাতা ভর্তি ছবি, আর নিচে এক লাইন টেক্সট। কেউ কি মস্কো থেকে প্রকাশিত "আনাড়ি" সিরিজটা পড়সে? আমার খুব প্রিয় ছিল!
আনাড়ি সিরিজের ঘটনা একটু বলবেন? দেখি মনে কর্তে পারি নাকি...
ওরে কী সর্বনাশা পোস্ট দিলেন আঙ্কেল!
সৈয়দ ইকবালের কুশল ও মৃত্যুবুড়ো... শিশু পত্রিকায় বের হ্ওয়া হাসান আজিজুল হকের লাল ঘোড়া আমি... রুশ গল্পের অনুবাদে রূপের ডালি খেলা...
চাইনিজ একটা প্রকাশনীর জাদুর তুলি, ছেলেটা যা-ই আঁকে বাস্তব হয়ে যায়, নদীসমুদ্র ঝড়বাতাস আঁকলে সেটাও
শিশু-কিশোর জগতের ঈদ সংখ্যা, পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, সেরা সন্দেশ
সংবাদে ছোটদের পাতা ছিল খেলাঘর, ইত্তেফাকে কচিকাঁচার মেলা, দৈনিক বাংলায় সাতভাইচম্পা
শারদীয়া দেশে আসতো ফেলুদা, আনন্দমেলাতে প্রোফেসর শঙ্কু, সত্যজিতের মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে গেল
মুহম্মদ জাফর ইকবালের আগের যুগে কিশোরদের অ্যাডভেঞ্চার মানেই আলী ইমাম আর শাহরিয়ার কবির
ক্যান যেন পেপারব্যাক দেখলে ময়লা-ময়লা লাগতো তাই সেবার বইতে বিশেষ একটা হাত দিতাম না
লাল ঘোড়া আমি পৈড়া কি যে মন খারাপ হৈতো আন্টি...
ইত্তেফাকের কচিকাঁচার মেলার দাদাভাই...
শাহরিয়ার কবিরের নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়; আবির-ললি-বাবু-টুনি দের কথা...
আর আলি ইমামের কেমন গা ছমছম করা উপন্যাস গুলো...
শেষ প্রশ্ন, আম্রা বড় হৈয়া যাই কেনো???
আম্রা বড় হৈয়া যাই কেনো???
এইটা আমারো প্রশ্ন। উত্তর চাই ই চাই।
কেউ উত্তর দেয়না আপা, কেউ দেয়না
:cry: 
সুতীব্র প্রতিবাদ জানাইলাম পেপারব্যাকরে ময়লা বলার জন্য।
আহা এই ময়লা বইগুলা না থাকলে আমার মতো অনেকের বইয়ের জগতে আসাই অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু কি অকৃতজ্ঞ আমি, এত প্রেম সত্ত্বেও পচিশ ত্রিশ বছরের আগের তেনা হয়ে যাওয়া পেপারব্যাক বইগুলো আর বুকশেলফের প্রধান সারিতে জায়গা পায় না। ওগুলো তাকের উপরে এককোনে তেলাপোকার টয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেহায়েত মায়ার জন্য ফেলতেও পারছি না।
মাফ করে দিয়েন নীড়দা। হাত দিতাম না বলে কি চোখও দিতাম না নাকি! অনেস্টলি স্পিকিং, ওই আমলে আমাদের দেশে প্রকাশনা শিল্পের এখনকার মতো ঝাঁ-চকচকা অবস্থা ছিলো না। হার্ডমলাটের বইও খসখসে কাগজে ছাপা হতো, কিছুদিনের মধ্যে লালচে হয়ে যেত সেই কাগজ, বাঁধাই খুলে আসতো। বিপরীতে আনন্দ পাবলিশার্সের সিল্কের মতো কাগজ- ঝকঝকে ছাপা... হাতে এলে শিশুবয়সের নাকখানি কিঞ্চিত ঊর্ধমুখী হওয়া অস্বাভাবিক ছিলো না। তবে বলতে কোন দ্বিধা নেই, থ্রি মাস্কেটিয়ার্স বা স্পার্টাকাস বা প্রিন্স-পপার বা কাউন্ট অব মন্টিক্রিস্টোর অনুবাদের কথা যদি বলি, পশ্চিমবঙ্গেরটা ক্ষ্যাত-ক্ষ্যাত লাগতো, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কবীর চৌধুরীর অনুবাদও আহামরি কিছু না, বরং সেবার সেই পেপারব্যাকের ভিতরের বস্তু ছিলো সবচেয়ে স্মার্ট!
একটু অফটপিক কথা বলি।
স্কুলে একটা লাইব্রেরী থাকা এবং সেই লাইব্রেরীকে ছাত্রছাত্রীর জন্য উন্মুক্ত রাখা যে কি ভীষণ প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার সেটা নিজের স্কুল স্মৃতিকে দিয়ে বিচার করে বুঝি। আমাদের আগ্রাবাদ কলোনী স্কুলে ছোট্ট একটা লাইব্রেরী ছিল। ক্লাস সেভেনে ওঠার পর ওটায় প্রবেশাধিকার, মানে কার্ড করার সুযোগ পাই।
নাম লেখানোর পর কোন বই নেবো ঠিক ছিল না, সারি সারি শোকেসে সাজানো বইগুলো দেখে বুকের ভেতর যে কি শিহরণ জেগেছিল, সেটা আমার লাইব্রেরী স্যারও জানতেন না। প্রথম যে বইটা আন্দাজে তুলে আনি বইটার নাম আমি ত্রিশ বছর পরেও ভুলতে পারি না। থ্রী মাস্কেটিয়ার্স। চাঁদের পাহাড়ের পর, আমার ক্লাসিক বইযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্পূর্ন বই এটি। সেই লাইব্রেরীটা বেশীদিন বাঁচেনি আর নানা রাজনীতিতে তালাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমার ভেতরে যে খিদেটা বুনে দিয়েছিল সেটা এখনো প্রবলভাবে টের পাই।
এরকম পোষ্ট পড়লে আরেকটা লেখা বের হবার জন্য উশখুশ করে।
আমার প্রথম কোনো লাইব্রেরির সাথে যুক্ত হওয়া হইতেছে পাবলিক লাইব্রেরি। বাট বইয়ের কন্ডিশনে কিছুদিন পর আগ্রহ হারায় ফেলছিলাম...
যেইখানেই সুযোগ পাই সেবা প্রকাশনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় যাই। আর কিছু বাদ দিলাম, শুধু অনুবাদ আর ক্লাসিক সিরিজের জন্যই আজীবন কাজীদা এন্ড কোং এর কাছে কৃতজ্ঞ। এত কম দামে, যে রিকশাভাড়া বাচায়া বই কিনা যায়, এত অসাধারণ অনুবাদ কে কবে দিছে?
এছাড়া রাদুগা প্রকাশনের কিছু বই ছিল, আম্মা খুঁজে খুঁজে আমার জন্য কিনত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কিছু অনুবাদ ভাল ছিল, বিখ্যাত রাইটারদের ছোটগল্পের সংকলন ভাল্লাগত।
সেবা আমার মতো পিউর মধ্যবিত্তের যে কত্তবড় হেল্প করছে সেইটা বইলা শেষ করার মতো না...
শিশুকাল ছিলো ভালো...
যৈবন কেনো আসিলো...
ছোটবেলার বই পড়ার নেশা আর ফিরে পাবনা কখনো । পোস্ট আর মন্তব্য পড়ে তবু যেন মনে হল ফিরে গেছি অনেক আগের সেইসব দিনে। সবাইকে ধন্যবাদ।
দস্যু মোহন, দস্যু বাহরাম, মাসুদ রানা আরও নাম ভুলে যাওয়া কিছু সিরিজ পড়েছিলাম। প্রগতি প্রকাশনের বই অনেক কম দামে পাওয়া যেত, কিনে ও পড়ে আনন্দও পেতাম প্রচুর। যাযাবর, অবধূত, তারাশঙ্কর, শঙ্কর, নজরুল, বন্দে আলি মিয়া, জসীম ঊদ্দীন, মঈনূদ্দিন এদের লেখা বই না পড়লে তো শিশুরা বড়ই হয়না । সাপ্তাহিক পত্রিকা, দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য ও শিশুদের পাতার আকর্ষণ ছিল অন্যরকম। "নর-নারী" বা এ জাতীয় যৌনপত্রিকা লুকিয়ে পড়বার বিষয়টিকে পোস্টে ও মন্তব্যে কেউই প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখায় নাই, এটা লেখক ও পাঠকদের একটা দুর্বল দিক ।
মোহাম্মদ মোদাব্বের রচিত 'জাপান ঘুরে এলাম' নামে একটা বই পড়েছিলাম, ভাল লেগেছিল, আর একবার পড়বার ইচ্ছা হয়, পাইনা কোথাও।
তবে সে পাঠক আর বেঁচে নেই, পড়বার আগ্রহ থাকলেও শক্তি ও আসক্তি দু'টোই হারাতে বসেছি।
আমার যৌন বিষয়ক প্রথম বই পড়া ক্লাস ফাইভে, তারপর বিশাল একটা গ্যাপ পড়ছে। আর সেইরকম আকর্ষণীয় কোনো বইয়ের নাম মনে করতে পারছিনা...
কঠিন দ্বিমত হুদাভাই। আপনার যুগের 'পাঠক' পরের যুগে এসে 'দর্শক' হয়ে গেছে। বাফড়ার কোনো পোস্টে মন্তব্যের ঘরে সে নমুনা আছে
আহা বই বই বই।
পাঠক ইজ ডেড। সে এখন ব্যালান্স শিট পড়ে।
পাঠক কি আসলেই মরে যায়?
নাহ! কিন্তু বেশিরভাগ সময় কোমায় থাকে। আপনার এই পোস্ট তার জন্য অক্সিজেন।
এইটা ঠিক বলছেন, বাস্তবতার বিভিন্ন চাপে পইড়া পাঠক আসলে কোমায়ই থাকে...
ক্লাশ সেভেন-এইট পর্যন্ত আমার বলতে গেলে টেক্সট বাদে বই পড়াই হয়নি তেমন। গ্রামে খেলাধূলা/সাতার কাটার এত বেশি সুযোগ ছিল, বইপড়াটা তেমন উপভোগ্য ছিল না। টেক্সটের মধ্যে বাংলা বইকে চরম অপছন্দ করতাম কবিতা মুখস্ত করতে হত আর শব্দার্থ শিখতে হত বলে। নাইন-টেনে উঠার পর বইপড়ার নেশা পেল। তিন গোয়েন্দা তখন আর পড়ার সময় নাই, বনহুর পড়েছিলাম। বাবার কাছে ধরা খেয়ে থামতে হয়েছিল, বাবাকে বলে দিয়েছিল লাইব্রেরীয়ান যিনি সম্পর্কে আমার মামা লাগতেন। টেনে উঠে সুনীলের সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, প্রথম আলো পড়ে কেমন যেন নিজেকে অনেক ম্যাচিয়র হয়ে গেছি মনে হত! ইন্টারে সমরেশের নকশালদের নিয়ে বই পড়ে এবং কলেজের এক শিক্ষকের প্রভাবে বামপন্থা রাজীতিতে হাতেখড়ি, এরপরে রাশান বই পড়া। ম্যাক্সিম গোর্কির "মা" পড়ে সব সংশয় দূর হল যে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাই একমাত্র মুক্তির উপায়। তাছাড়া বিপ্লব করার রোমান্টিসিজম, চে-ফিদেলের এপীল, এসব যেকোন ঘাড়তেড়াটাইপ টিন-এজারের মাথা খাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা থেকে সরে আসলেও এখনও মনে হয় সেই সময়টা অনেক দারুন ছিল, নিয়মিত নিজেকে চে-র জায়গায় বিপ্লবী হিসেবে কল্পনা করার চেয়ে আর ভাল কি হতে পারে? ঢাবি'তে এমন সাবজেক্টে পড়েছিলাম যেখানে সবাই খালি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে কেমনে চাকরি ভাগাবে, কেমনে নিজেকে স্যুট-টাই পড়ে এক্সিকিউটিভের মত প্রেজেন্ট করবে এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকত। নিজের মধ্যে ডেপথ গড়ে তোলার বা গভীর জীবনবোধ নিয়ে ভাবার কারো কোন সময়ই ছিলনা কারো। নিজেকে মিসপ্লেসড মনে হত আর তাই বই-ই ছিল ভরসা। নেটে আসার পর বই পড়ার সংখ্যা এবং স্বভাব অনেক কমে গিয়েছে।
তবে বই-ই একমাত্র বন্ধু, এতে সন্দেহ নেই।
মফস্বলের পোলা হিসাবে পুকুরে দাপানির চাইতে বইয়ের ভিত্রে মুখ গুইজা পুরা পৃথিবী দেখার মজাই ছিলো আলাদা...
মন্তব্য করুন