অসামাজিক
▄▀▄ এই লেখাটা ১৩ বছর আগের। গ্রাজুয়েশন করতেছি, মগবাজার থিকা প্রতিদিন মীরপুর বাংলা কলেজে যাই ক্লাশ করতে। সেদিনও যাইতেছিলাম। ফার্মগেইট থিকা ডাবল্ডেকারের দোতলায় সিট পাইছি। জানালার পাশে। ফার্মগেইটের পার্কের ভিতরে চোখ চইলা গেলো, দেখি একজন নারী ঘুমাইতেছেন। পোশাক আশাকে বুঝা যাইতেছে যৌনকর্মী। তার ঘুমানোর ভিতর কেমন জানি একটা পবিত্র ভাব দেখতে পাইলাম। মাথার ভেতর এই লেখাটার প্রথম তিনটা লাইন তৈরী হইলো। পরে বাসায় ফিরা বাকিটুকু। সেদিন লীনাপু বলতেছিলেন লেখায় বিষয় বৈচিত্র আননের জন্যে। সেইটা মাথায় রাইখা এত পুরানা লেখাটা শেয়ার করতেছি...
▄▀▄
▀▄▀
অশ্লীল রাতের পরিশ্রম শেষে
শ্লীলতার শয্যায় শায়িত
বেশ্যা!
প্রকাশ্য দিনের আলোতে
অপ্রকাশ্য মনের বেদনা।
উদয়াস্ত পরিশ্রম তার ক্ষেত্রে অসাড়,
বরং অস্তোদয় পরিশ্রম করে সে।
কে দায়ী?
আমি?
তুমি?
না এই অশ্লীল, অসামাজিক
সমাজ ব্যবস্থা?
প্রশ্ন করি নিজের কাছেই।
কোনো উত্তর খুঁজে পাইনা।
আসলেই কি এর কোনো উত্তর পাবো?
মনে হয় না।
এভাবেই থেকে যাবে তারা,
আমাদের মতো বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষের,
বিকৃত লালসার, ভোগ বিলাসের,
উপভোগের মাধ্যম হিসাবে।
এই আমিই
এই তুমিই
এই অসামাজিক সমাজই
ধর্মের ধুয়া তুলবো দিনে,
আর রাতে রমনায় জিজ্ঞাসা করবো
একশ' কেনো পঞ্চাশে হয় না?





হুম.. লেখাটা ভালো হইসে। এ বিষয়ে কিছু ভিন্ন মতামত আছে, অন্য কোন দিন আড্ডা হবে সেটা নিয়ে।
ভাল থাকবেন।
ঠিকাছে, আরেকদিন কোমর বাইন্ধা আড্ডা হইবো এই টপিকে। আশায় থাকলাম
চা আপনি খাওয়াইবেন কিন্তু।
ইমনের দুকানের
গুড়ের চা! আহা!
গুড়ের চা'রে এত্তো মাহাত্ব দেয় কেন লুকে? ক্যাটক্যাটা মিষ্টি লাগে অই চা!
কি কন! আমার তো খুবই ভালো লাগে!
আচ্ছা যান, ইমনকে বইলা আপনাকে জন্য স্পেশাল চিনি-চা দিবার ব্যবস্থা করা হবে। এটাও শুভ পন্সর করবে বলে অঙ্গীকার করেছেন।
ইয়ে মাইনে শুভ কেডা

রায়েহাত শুভ, যে চায়ের দাম দিবো।
ভালো লাগলো শুভ। নিশিকন্যাদের নিয়ে আমার মনে অনেক কথা ঘুরে। বিষন্ন সুন্দর কিছু অনুভূতি। আপনার লেখাটার জন্য স্পেশাল থ্যাংকস।
ফ্রী হইলে আপনার মনের ভিতরে ঘুরা লেখাগুলা শেয়ার কইরেন একদিন। পড়ার জন্য ধইন্যা...
ভাল লাগছে
থ্যাংক্স মাসুম ভাই...
১৩ বছর আগেও অসাধারণ লিখতেন আপনি।
এইভাবে লজ্জা দেওয়া ঠিক না...
এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই। সত্য কথা মেনে নেয়া ভালো।
নিচের কমেন্টগুলা পড়েন মিয়া
পড়েও আমি পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে আসার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না।
আপ্নে ভালৈ ঘাউড়া আছেন

জ্বি জনাব, কথা সত্য। তদুপরি বলিবো ইহা একটি অসাধারণ কবিতা!
অশ্লীনতার সজ্ঞা আসলে কে ঠিক করে দেয়? সমাজ না ব্যাক্তি? একদিকে আদিম প্রবৃত্তি অন্য দিকে নৈতিকতা বোধ। মাঝখানের নারীর অসাহায়ত্ব (এটা অবশ্যই সমাজ কতৃক সৃষ্ট) । সমাজ আসলে ভালো কোন জিনিস নয়। সম্ভবত ঠিক ভালো খারাপের মাঝামাঝি। দলবদ্ধমানুষের মধ্যে দ্বৈততা সৃষ্টি করাই এর কাজ মনে হয়।
ভালো লাগল আপনার লেখা।
অশ্লীলতা বা শ্লীলতারে আসলে সংজ্ঞায়িত করা সহজ ব্যাপার না। তারপরেও আমার নিজের বোধে যেইটারে অশ্লীল লাগে সেইমতেই আসলে লিখছি।
পড়ার জন্য ধইন্যা...
যারা বেশ্যাদের ১০০/৫০ বা ১০০০/২০০০০ টাকায় কয়েক মুহূর্ত বা কয়েক ঘন্টার জন্য কেনে তাদের একটা নাম দাও না কবি। ছোট্ট নাম যা উচ্চারণে খুব সুবিধা। যেটা উচ্চারণ করা যাবে বেশ্যা, বেজন্মার মত সহজে। আমি সেটা সমাজে খুব দৃঢ় ভাবে প্রচলিত করব। বাংলা ভাষা একটা শব্দ পাবে। বেশ্যা নামটা মুছে যাবে ঐ নামের আড়ালে।
আপু এই লেখাটায় বেশ্যা শব্দটা একেবারে ইন্টেনশনালি ইউজ করা হয়েছে। কারণ এই শব্দটা ব্যবহার না করে আমি সমাজের অবস্থানটা বুঝাতে পারছিলাম না।
আর ঐসব ক্রেতাদের নাম নিয়ে আসলে ভাবতে হবে।
বক্তব্য ও ভাব পছন্দ হয়েছে। কবিতা আকৃষ্ট করে নি!
এইটা অনেকাংশেই এমেচারিশ একটা লেখা
কবিতাটা নিয়ে বলার মতো বিশেষ কিছু মাথায় আসছে না। প্রথম তিনটি লাইন দিয়েই কবিতাটা শেষ হলে আমার ভালো লাগতো। এরপর কবিতা প্রলম্বিত হয়ে আকার বাড়িয়েছে কেবল। ইনফ্যাক্ট, স্লোগানধর্মী বা বিপ্লবী আশ্রয় থেকে আধুনিক কবিতা অনেক আগে বেরিয়ে এসেছে।
আপনাকে আমার বয়েসটাও দেখতে হবে
ঐ বয়েসে এরকম টাইপের কবিতাই বের হয়েছিলো 
আমরা সবাই বেশ্যা... কেউ বেচি শরীর, কেউ মন, কেউ মগজ... এই যা ফারাক
~
আপনার কথাটা ভাল্লাগছে...
সূচনাতে বেশ্যা শব্দটা কবিতাটাকে আহত করেছে। এটা কোন পেশাজীবীর নাম নয়, গালি হিসেবেই প্রচলিত সেই সমাজেও।
হু। আমি আসলে ইন্টেনশনালি সমাজের অবস্থানটা পয়েন্ট আউট করতে চেয়েছি বলেই এই শব্দটা ব্যবহার করেছিলাম
এই কবিতায় অল্প বয়সের আবেগ আছে বোঝাই যায়। শুরুতে ভূমিকাটা না দিলে বুঝতেই পারতাম না, এটা আপনার কবিতা। হয়তো ভাবতাম - কোনো তরুণতর কবির প্রথম কবিতা।
বোঝাই যাচ্ছে, এই এক যুগে আপনার লেখায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে উপস্থাপনের ঢঙে এবং শব্দ ব্যবহারের ধরনে আপনার এখনকার লেখাগুলো সহজেই আপনাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
দুর্বোধ্যতা নিয়ে আপনার সঙ্গে আমার কিছু আলাপ ছিলো, কিন্তু দুজনে একসঙ্গে ব্লগে না থাকলে আলোচনাটা জমে না।
একেবারে ঠিক কথা বলেছেন। পুরান কবিতার খাতা থেকে লেখার টাইমে আমার নিজেরো এইটাইপের কথা মনে হইছে, টু বি ফ্র্যাংক, অনেক বেশীই এমেচারিশ লাগছে
আজকে রাতে যদি উপস্থিত থাকেন, তাহলে দুর্বোধ্যতা নিয়ে আলাপ হইতে পারে...
আজকে আর হবে না শুভ। মুড নাই। তবে আলাপটা জরুরী। আপনার লেখার ব্যাপারে দুর্বোধ্যতার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। আপনার কোনো একটা পোস্টে আমিও কমেন্ট করেছিলাম - 'এবার বুঝিয়ে দেন' - বা এইরকম কিছু। সেখানে আলাপের সূত্রপাত হতে পারতো। বিষয়টা নিয়ে ইন জেনারেল আলাপ হতে পারে; মানে শুধু আপনার লেখা নিয়ে না, বরং পুরো বিষয়টি নিয়েই।
আপনাদের আলাপটা হোক । আমরাও উপকৃত হব ।
সামছা আকিদা জাহান, যারা বেশ্যাদের কয়েক মুহূর্ত বা কয়েক ঘন্টার জন্য কেনে তাদের একটা প্রচলিত নাম আছে সেটা হচ্ছে লুচ্চা বা লুইচ্চা বেডা.। এদেরকে আমরা ভদ্র ভাষায় বলি চরিত্র হীন যা অন্য সব অন্যায়কারীদের সাথে একাকার করে ফেলে।এদেরকে নরখাদক বা নারীখাদক বলা যায়।
নীড় সন্ধানী বাস্তবতা যত অশ্লীলই শুনাক না কেন এইটাই বাস্তব তাই সম্মান করে দেহপসারিনী বলুন আর বেশ্যাই বলুন, ওই নারীদের জীবনে তার কোন প্রভাব পরবেনা। সম্মান দেখাতে হলে একজনকেও যদি এই পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন সে চেষ্টা করতে পারেন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ...
অন্যবিষয়ঃ আরে, আপনে দেখি কলেজ ভাই!
ভালো লাগলো শুভ।
বুঝতে পেরেছি পুরো গলপটা
তুমি ১৩ বছর আগে গ্রাজুয়েশন করছো? আমার মায়ের ভাষায় এবার, বিয়ে করবা কবে?
না মানে তখন কেবল ভর্তি হইছি
আর বাকি অংশের জবাব খবরের পর 
ভাল লাগছে জেডা। ১৩ বছর আগে থেকে কবিতা লেখতা?
তোমারতো তাইলে কয়েক ডজন কবিতা বই বাইর হওনের কথা।
হরে জেডা। কিন্তুক কপালের ফের, এক খানও বের হয়নাই
১৩ বছর আগেও ১৩ বছরের পরের মতোই সুন্দর লিখতেন!
এত্ত প্রশংসা করায় এত্ত গুলা ধইন্যা বুইঝা নিয়েন...
চ্রম...
ধইন্যা...
মন্তব্য করুন