রাসেল'এর ব্লগ
Ekakitto
এই তুমি একটু বাবুকে ধরবে আমি মায়ের সাথে কথা বলছি।
হ্যাঁ, মা, বলো
জামাই কি এখনই বাসায় আসলো?
এইতো আসলো, ওর সাথে কথা বলবে?
না, আমি তাহলে পরে ফোন করবো, তুই জামাইয়ের কি লাগবে দেখ।
বুঝলা মা, তোমাদের মতো মা আর শ্বাশুড়ীর জন্য ছেলেরা নিজেদের দায়িত্ন নিতে শিখে, ওর বয়েস তো কম হইলো না, এখন যদি নিজেকে দেখে রাখতে না পারে তাহলে বাবুকে দেখবে কিভাবে? তুমি কবে আসতেছো?
আমার তো ঐদিকে যাইতে ইচ্ছা করে না, এত ফাঁকা চারপাশ, কথা বলার মানুষ খুঁজে পাই না। দম বন্ধ দম বন্ধ লাগে।
তুমি একা বাসায় থাকো আমারও তো টেনশন হয়।
আমরা আর আছি কয় দিন, তোরা ঐদিকে ভালো আছিস এইটা জেনেই ভালো লাগে, তোরা কবে আসবি?
বিড়ম্বনা
বাবা হওয়ার সবচেয়ে বড় যন্ত্রনা প্রতিমুহূর্তেই একটা না একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সার্বক্ষণিক সংশয়ে থাকতে হয় সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে, পরবর্তী মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো কি না সেটাও যাচাই করতে হয় এবং এই সম্পূর্ণ বিষয়টা অনেক সময়ই বোঝার মতো মনে হয়, আমাদের শৈশবে এত বেশী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিলো না, আমাদের চাহিদা ছিলো কম, আমাদের বিধিনিষেধও ছিলো কম। সিদ্ধান্তগুলো ছিলো খুব সাদামাটা, দুপুরে ঘুমাবে না খেলবে? খেললে কোথায় গিয়ে খেলবে, কার সাথে মেশা যাবে কার সাথে মেশা যাবে না সিদ্ধান্তগুলোও হয়তো ছিলো তবে সেসব সিদ্ধান্ত দৈনন্দিন নিতে হতো না।
আমার না লেখা গল্পগুলো
আমি বিভিন্ন সময়ে গল্প লিখতে চেয়েছি, সুযোগ পেলে উপন্যাসও লিখতে চেয়েছি কিন্তু দীর্ঘ সময় কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে লেখার ধৈর্য্য না থাকায় কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয় নি, দুইটা উপন্যাস ভুলে শুরু করে এত দিন পর উপলব্ধি করেছি সেসব উপন্যাস শেষ করবার মতো ধৈর্য্য আমার হবে না। লেখালেখি করবার মতো নিমগ্নতা আমার নেই। উপন্যাস লেখার মতো কষ্টকর কোনো প্রয়াসে যাওয়া আমার জন্য নয়।
আমাদের আবেগ আমাদের বিশ্বাস
আমরা আদতে ছিলাম মুর্তিপূজারী, আমাদের রক্তে এখনও সেই মুক্তিপূজারী জীন, মাদল শুনলেই ভক্তিরসে টইটুম্বর হয় হৃদয় আর আদ্র হয়ে যায় চোখ, আমরা শ্রদ্ধাস্পদ পূণ্যবান মানুষ খুঁজি চতুস্পদের মতো আর যার তার উপরে অহেতুক মাহত্ব্য আরোপ করি। আমরা যাদের উপরে ভক্তি শ্রদ্ধা এবং মাহত্ব্যআরোপ করি তাদের মৃত্যুর জন্য আমরা অপেক্ষা করি প্রতিদিনই। আমাদের ভক্তিরসের চুড়ান্ত প্রকাশ ওরসে।
বাবার পোশাক
বাবাকে নিয়ে কিছু লেখা আমার জন্য কঠিন,বাবার সাথে আমার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিলো না, বরং বলা যায় আমি তাকে চিনতাম না। যে বয়েসে অন্তরঙ্গ নির্ভরতার সম্পর্ক গড়ে উঠে, যে বয়েসটাতে আবদার আর প্রশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয় সম্ভবত সরকারী চাকুরে বাবার অনুপস্থিতিতে সেই সম্পর্কটা তৈরি হতে পারে নি। বাবার সাথে আমার সম্মানজনক দুরত্ব ছিলো এবং এখন মনে হয় এই দুরত্বটা পারস্পরিক নির্লিপ্ততার চেয়েও বেশী ছিলো সম্পর্কহীনতার দুরত্ব। তার সাথে আমার যে সম্পর্কটা তৈরি হয় নি শৈশবে পরবর্তী জীবনে সে সম্পর্কের ছায়াটা আর দীর্ঘ হতে পারে নি।
গত পর্বের অলিখিত কথাগুলো
এটা গত লেখার ধারাবাহিকতা, যে কারণে মনে হয়েছিলো হাসান সাঈদের ঘৃণার একটা অংশ আমার উপরেও চলে আসতে পারে:
বাংলাদেশে শতকরা ৬০ জন বিবাহিত নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন, পারিবারিক সহিংসতার এ হিসেব শুধুমাত্র শাররীক নিগৃহনের। থাপ্পড়, ধাক্কা, কিল ঘুষি এবং বিকলাঙ্গ করে ফেলার মতো নির্যাতনকেই শুধু পারিবারিক সহিংসতার নজির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদি পারিবারিক কলহ এবং এ জনিত মৌখিক নিগৃহন আমলে আনা হতো তাহলে শতকরা ১০০ জন নারীই পারিবারিক সহিংসতার শিকার এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেতো।
সবার জন্যে নয়
আবেগাক্রান্ত এবং যারা ব্যক্তিগতভাবে রুমানা মঞ্জুরের সাথে সম্পর্কিত তারা অনুগ্রহ করে এ লেখাটা পড়বেন না, তাহলে সাঈদের প্রতি ঘৃণার একটা অংশ আমার উপরেও বর্ষিত হতে পারে। আবেগাক্রান্ত সময়ে এমনটাই স্বাভাবিক আর চলমান ঘটনার ভেতরে থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে নিরাবেগ হতে পারাটা কঠিন এবং মানবিকতার জন্য অপ্রয়োজনীয়।
বৌ পিটিয়ে পৌরুষ জাহির করার প্রবনতা সব সমাজেই আছে, সভ্যতার একপর্যায়ে সম্পদ হিসেবে নারীর ভুক্তি নারীকে শুধুমাত্র পণ্য করেছে, মানুষ হিসেবে তার স্বীকৃতি সীমিত , গেরোস্থালী আসবাব কিংবা নিছক গৃহসজ্জ্বা এবং রমণ ও সন্তান উৎপাদনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের বাইরে পৃথক মানুষ হিসেবে তার অস্তিত্বের স্বীকৃতি মেলে নি এখনও।
এলোমেলো ভাবনাগুলো
পর্ব একঃ
মানুষ যখন থেকে ইতিহাস লেখা শুরু করেছে তারও অনেক আগেই মানুষ বিশেষত সামাজিক মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা এবং শাররীক নিরাপত্তার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলো, এটা আমার একটা সাধারণ অনুমাণ, ইতিহাস রচিত হওয়ার আগে থেকেই মানুষ স্থানীয় নেতা ও সম্ভবত আদিম গণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের রাজন্যবর্গও নির্বাচন করতে শুরু করেছিলো, অনুমাণ করে নেওয়া যায় শাররীক দক্ষতা ও শিকারের যোগ্যতা নেতা নির্বাচনে বিশেষ ভুমিকা রাখতো। যুথবদ্ধতার শর্ত মেনেই গোত্রভিত্তিক মূল্যবোধ এবং ক্রমশঃ সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছিলো, এরই কোনো এক পর্যায়ে মানুষ ভাষা আবিস্কার করে এবং তারও পরবর্তী সময়ে ভাষার চিহ্ন আবিস্কার করে ভাষা ও ঐতিহ্যকে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করে।
সর্বদলীয় ধুমপায়ী জোট
অবিশ্বাসীদের তুলনায় পৃথিবীতে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা্ অনেক অনেক বেশী, দুরের নক্ষত্রের মহাকর্ষ অভিকর্ষ পৃথিবীর সামান্য কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না এই বৈজ্ঞানিক সত্যে বিশ্বাসী মানুষও পত্রিকার পাতা উল্টে ভাগ্যগননা দেখে, বছর শেষে " এ বছরে আপনার ভাগ্য কেমন যাবে" পত্রিকার পাতা উল্টে বাৎসরিক ভাগ্য পরিসংখ্যানকে আমলে নেয়। অধিকাংশ মানুষই নিজের রাশি সম্পর্কে জানে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো বিবৃতি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্বাস করে কিংবা তার উপরে আস্থা স্থাপন করতে চায়।
ফিমেল পার্ভারসন এবং অসম্পূর্ণ ভাবনা
বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা নারীর উপরে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করতে চায়, তাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারী পুরুষতন্ত্রের ছাঁচে বিভিন্ন ভাবে নিজের স্বপ্ন-অভিলাষ বিন্যস্ত করে এবং এভাবেই নিজেকে মানিয়ে নেয়, এই মানিয়ে নেওয়া, বিকালঙ্গ জীবনযাপনের মোহে অবশেষে যখন নারী মধ্যবয়সে নিজেকে আবিস্কার করে, সে তখন পুর্নাঙ্গ মানুষ নয়, মানুষের অভিক্ষেপ হয়তো, সভ্যতা এভাবেই বিকৃত মানুষের জন্ম দেয়। আমাদের প্রতিটি নারী এক একজন বিকৃত মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বিবেচনা
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিলো গত বছর ২৫শে মার্চ, প্রথম থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যুৎসাহ এবং তদন্ত কমিটি এবং ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের গণমাধ্যমমুখীনতা মাঝেমাঝেই ট্রাইব্যুনাল বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। গণমাধ্যমে এটাকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বলে বিশেষ প্রচারণার ফলে ট্রাইব্যুনালের কর্মপরিধি যতটাই সীমিত হোক না কেনো সেটা নিয়ে বিতর্কের প্রবনতা তৈরি হয়েছে সেটা অস্বীকার করা যাবে না।
শিরোণামবিহীন শিক্ষাপ্যাচাল
ইংরেজী মিডিয়াম থেকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বুয়েটে ভর্তি হচ্ছে তাদের সবার একটা সাধারণ অভিযোগ
কিছুতেই এডাপ্ট করতে পারছি না, পড়াশোনার ধরণ সম্পূর্ন আলাদা, পাতার পর পাতা অর্থহীন মুখস্ত করে যাওয়া, সংজ্ঞা আর ব্যাখ্যা মুখস্ত করে উগড়ে আসা পরীক্ষার খাতায়, মেধা কিংবা প্রজ্ঞা কিংবা উপলব্ধি যাচাইয়ের কোনো প্রক্রিয়া নয় এটি, বরং একটা অর্থহীন প্রতিযোগিতা যেখানে শেষ পর্যন্ত যে ছেলেটা পাতার পর পাতা অবিকল লিখে আসতে পারে সেই প্রথম হয়। আমাদের কারোই এমন পাতার পর পাতা মুখস্ত করবার অভ্যাস নেই, স্বভাবতই আমরা পিছিয়ে পড়ছি, এমন না ক্লাশে যে ছেলেটা টপ করছে সে আমার চেয়ে বেশী বুঝে, কিংবা এমনও না যে আমরা পরিশ্রম করছি না, কিন্তু পরীক্ষার নিয়মের কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি, চেষ্টা করছি পাতার পাতার বর্ণনাত্মক ধাঁচে মুখস্ত করে যাওয়া, কিন্তু অভ্যাস নেই বলে রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না। ফ্রাস্ট্রেশন চলে আসছে।
মুক্তিযুদ্ধের সাদা কালো ইতিহাস রচনার প্রেক্ষাপট ও পরিণতি শেষ পর্ব
অতিকথনের ও অপ্রয়োজনীয় কথনের ভারে পর্যুদস্ত পূর্বের লেখাটার প্রয়োজনীয়তা হয়তো ছিলো না, আমি সরাসরিই মুক্তিযুদ্ধের সাদাকালো ইতিহাস রচনার পরিণতিতে আলোচনা শুরু করতে পারতাম। কিন্তু সে সময়ের বিশাল রাজনৈতিক জটিলতার সামান্য অংশও তাতে উঠে আসতো না। আমি যে খুব বেশী অভিজ্ঞ এ বিষয়ে এমন দাবী করাটাও অন্যায় হবে, কিন্তু যখন লেখাটা শুরু করেছিলাম তখন আমার আলোচনার আমার নিজের একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণের উপরে ভিত্তি করেই আলোচনাটার বিস্তার করবো এমন ধারণা আমার ছিলো। প্রেক্ষাপটটা নির্দিষ্ট ছিলো কিন্তু অতিসাধারণ অনুভুতি কিংবা অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রান্তিকীকরণের বিষয়টি তাতে পরিস্কার বলা যেতো না। মুক্তিযুদ্ধের লড়াইটা মূলত ছিলো অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে ধনভিত্তিক সমতার লড়াই যা একই সাথে মানুষের আত্মমর্যাদা এবং অস্তিত্বের স্বীকৃতির লড়াইও ছিলো। "মুক্তিযুদ্ধ ছিলো শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মরিয়া লড়াই" এই বাক্য
মুক্তিযুদ্ধের সাদা কালো ইতিহাস রচনার প্রেক্ষাপট ও পরিণতি প্রথম পর্ব
আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এখনও প্রবল জাতীয়তাবাদী উচ্চ্বাসেই লেখা হচ্ছে, সেসব লেখায় স্মৃতিচারণে ঘটনা বিশ্লেষণেও জাতীয়তাবাদী মানসিকতার স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায়, একদল বামনাকৃতির মানব, একজন দুইজন মহামানব এবং মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন দানবের রূপরেখা তৈরীর এই জাতীয়তাবাদী প্রকল্প কেনো জনপ্রিয় সেটা আমার জানা নেই। হয়তো অতিজাতীয়তাবাদী উৎসাহে লেখা সাদা কালোর ইতিহাস সহজপাচ্য, সহজবোধ্য, সহজেই বিপণনযোগ্য এবং অধিকাংশ সময়েই সেটা সরল এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন। হয়তো এই ইতিহাস রাজনৈতিক ব্যবহারের যুৎসই উপাদান, হয়তো এভাবে জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরির রাজনীতিতে সাদা কালো ইতিহাস গ্রন্থগুলো ব্যবহার উপযোগী এবং সেটা গ্রহন করতে তেমন পরিশ্রম করতে হয় না লেখককে কিংবা পাঠককে।
আবারও এলেমেলো
ইন টু দ্যা ওয়াইল্ড ছবির ভবঘুরে নায়কের জন্য কিংবা তার এমন নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য কিছুটা কষ্টবোধ ছিলো, জীবনের অপচয় মনে হতে পারে বিষয়টাকে, কিন্তু সে নিজেই এই জীবনযাপনের ধারা বেছে নিয়েছিলো। সে চাইলেই অন্য রকম একটা জীবন যাপন করতে পারতো, তার নিজের আগ্রহেই সে নিজের মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছে, সে নেশাসক্ত ছিলো না, কিংবা অন্য কোনো ভাবনার ব্যধি তার ছিলো না, কিন্তু তারপরও সে এমন ঠান্ডা কষ্টকর মৃত্যুর পথটা নিজেই বেছে নিয়েছিলো।