আলোর মিছিল চাই- চাই আলোকিত মানুষ- বিসাকে কলেজ কর্মসূচি ২৫ বছরপূর্তি
নিজের নদী সবার থাকে। কেউ চায় সেই নদীতে ভেসে যেতে, কেউ চায় স্রোতের টানে ভেসে আসা খরকুটোকে সম্বল করে নতুন গতি বেছে নিতে। চিরায়ত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন ধারাকে অবলম্বন করাটা অনেকেরই কাছেই অসম্ভব। আর সেই না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় নানা রকমের আফসোস। আর ভাবে আমার দেশ কেনো এমন নেই, কেনো ওমন হলোনা! অথচ জীবনকে নতুন গতি দেয়ার, নিজের মতো করে চালানোর যে আলোকিত পথ সবাই খোঁজে, তা কিন্তু ছিল চোখের সামনে।
ছিলেন, আছেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আর ইন্দিরা রোডের ছোট্ট একটি কামড়া থেকে আজ বাংলা মোটরের আকাশ ছোয়া বাড়িতে যে স্বপ্নের কারখানা, তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে লেখা শুরু করা যায়, শেষ করা মুশকিল। আজ যারা আজকালকার সিনেমা নিজের মতো করে বাঁচার স্বপ্নকে হাতড়ে বেড়ায়, সেই স্বপ্নকে ১৯৮৪ সাল থেকে বাস্তব করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এক একজন সভ্য। বিশেষ করে তারা, যারা কলেজ কর্মসূচি (ঢাকা মহানগরী)-এর সভ্য ছিলেন।যারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত করেন, তারা একনামে চিনেন, “জাভিক কর্মসূচি" নামে। স্কুলের লাইব্রেরিতে বিসাকের বই পড়া উপভোগ করতো, তাদেরই একাংশ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সোজা চলে আসতো বাংলামটর। সেই ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভ্যিনিউ। সামনে ছোট্ট লন।আর গেট দিয়ে ঢুকতেই সুরঞ্জনা। অতঃপর রেজিস্ট্রেশন এবং যাত্রা শুরু কেন্দ্রবেলার।
১৯৮৪ থেকে ২০০৯ সাল। সায়ীদ স্যারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে জাভিকের কলেজ কর্মসূচির সভ্যসংখ্যা প্রায় দশ হাজার। এই দশ হাজার সভ্যের মাঝে যারা কেন্দ্রবেলা উপভোগ করেছেন, তারা মনে প্রাণে স্বীকার করতে বাধ্য, এই কেন্দ্র সেই সকল আলোকিত মানুষকে দিয়েছে নিজের মতো করে বাঁচার সাহস।তাই আজ কেন্দ্রের আলোকিত মানুষের অনেকেই ডাক্তার হয়েও সেরা বিতার্কিক, প্রকৌশলি হয়েও নাট্য কর্মী, কর্পোরেট হয়েও চারুশিল্পপ্রেমি। সামাজিক অসামাজিকতার এই অস্থির সময়ে আজো "কেন্দ্রের সভ্য" এই পরিচয়টি দুরত্ব মিটিয়ে দেয় বয়সের।"আপনি" পরিচয়টি দূর হয়ে যায় "তুমি" বা কখনো কখনো "তুই" বলে ডাকার আন্তরিকতায়।
আজ 'বিশ্বায়নের চাপ'-এ পিষ্ট মানবজাতি অবিরাম দৌঁড়াতে বাধ্য। তারপরও ব্যস্ততার মাঝে কিছু আলোকিত মানুষ আবার এক হতে চায় প্রাণের টানে। বড়দের কাছে আশ্রয়, ছোটদের হাত ধরে নিয়ে চলা আর নিজের বন্ধুদের সাথে আবার সেই আলোর বন্ধন তৈরিতে আজ আবার হাতছানি দিচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। কি হবে, যদি একটি ছুটির দিন উৎসর্গ করা হয় নিজের জন্য! কি ক্ষতি যদি একদিন ব্যস্ততা ভুলে গেলে! কি ক্ষতি অন্তত একটি দিন নিজের মতো করে বাঁচালে, না হয় "ইডিয়ট" হয়েই!
যদি আবার আলোকিত মানুষেরা এক হয় শুরু করে আলোর আন্দোলন তাহলে ক্ষতি কি!!
আবার এসেছে আলোর আহবান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০১০, শনিবার, বড়দিনটিকে আরো বড় করতে নিমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে সকল আলোকিত মানুষকে।যারা ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচি (ঢাকা মহানগরী)-এর সভ্য ছিলেন তাদের সবাইকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে সারাদিনব্যাপি মিলনমেলার। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার, কেন্দ্রের সকল সহযোগী আর একদল মানুষ আবার মেতে উঠতে আলোর মেলায়।
দশ হাজার হয়তো নয় অন্তত পাঁচ হাজার আলোকিত মানুষের মিছিল চাই।
রেজিস্ট্রেশন চলছে অস্থায়ী কেন্দ্রে। প্রতি শুক্র এবং শনিবার সারাদিন। ৩০ নভেম্বর ২০১০ পর্যন্ত। ঠিকানা একই। ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভ্যিনিউ, বাংলামটর ঢাকা।
যাবতীয় যোগাযোগ, এই ঠিকানায়
bsk25reunion@gmail.com
http://www.facebook.com/#!/group.php?gid=156831907678441





এখনো সায়ীদ স্যারের কথা শুনতে অসাধারণ লাগে।
কর্মসূচীর সফলতা কামনা করছি।
হয় নাই। একটা ভালো পোস্ট দেন।
এইটা থাকুক। ভালো হইসে। কিন্তু এইরকম না। ভালো দেইখা একটা কিছু পোস্টান।
সিষ্টার, আপনার হাসপাতাল বিষয়ক পোষ্টটা মুছে ফেলা ঠিক হয় না। ব্যাপক আলোচনা জমত বলে আমি মনে করছিলাম। কত জনে কত কথা বলবে, তাতে ক্ষোভ নিবেন না। ব্লগে গন্ডারের চামড়া নিয়ে এগুতে হয়। সব কথা ধরলে কি করে লেখক হবেন!
'আমরা বন্ধু' বলে অধিকার আরো বেশী হয়ে পড়ে! শুভেচ্ছা আপনাকে।
আপনার এই লেখাটা অন্য এক ব্লগে আরেকজনের নাম দিয়ে প্রকাশ হয়ছে। বুঝলাম না কিছুই??????
http://www.somewhereinblog.net/blog/tasfi/29275309
টাস্কি খাইয়্যা গেলাম, কাকা!
তব্দা মাইর্যা গেলাম। আমরা বন্ধু বাগ নয় তো!
ভাই আমি নিষ্পাপ। এটা আমাদের এক ছোটভাইয়ের কাণ্ড। মনে হয় সে ব্যাপারটা বুঝে নাই। এখন কি করবো সে প্লিজ বলে দেন।..
ভাইয়া, আমি এখান থেকে লেখাটি নিয়েছি, ১ম বার ব্লগটি পোস্ট করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মূল লেখক ও ব্লগ এর নাম না দেবার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এখন ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। চাইলে আবার দেখতে পারেন---
http://www.somewhereinblog.net/blog/tasfi/29275309
তাশফী মাহমুদ, ক্ষমা নাই! ইস্কাটনের কেএফসিতে দাওয়াত দিলে বিষয়টা নিয়ে আবার ভাববো! এমন ভুল না করা উচিত।
দারুন।
সাহাদাত ভাই: লেখা আবার আগামীকাল দিবো..ইনশাল্লাহ জমে উঠবে
মীর ভাই: আচ্ছা..আসলে আপনার অত প্রশংসা আর সহ্য হচ্ছিল না..
রাসেল আশরাফ: ভাই, এটি নিতান্তই আমার লেখা। যে নিজের মনে করে কাইট্টা ছাইপ্পা দিয়েছে সে আমার কেন্দ্রর এক ছোট ভাই। এতে আমার দোষ নাই।
আবার সাহাদাত ভাই: এখন কি করে এটা ঠিক করবো বলেন।
বাকিদের ধন্যবাদ। আমি দুঃখিত আপনাদের এই অস্বস্তি তৈরি করার জন্য।
যারা ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচীর (ঢাকা মহানগরী) সদস্য ছিলেন তাদের সবাইকে নিয়ে সারাদিনব্যাপী মিলনমেলার যে আয়োজন করা হচ্ছে, তাতে যারা সদস্য ছিলেন না তারা রেজিষ্ট্রেশন করে অথবা না করে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি ?
এটা হবে ইনশাল্লাহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচীর (ঢাকা মহানগরী) সদস্যদের পুনর্মিলনী বলে যারা সদস্য নয় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছেনা।
সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রের আরো নানা রকমের আয়োজন থাকে। যেমন বিসাকে জন্মদিন, স্যারের জন্মদিন, ইত্যাদি। সামনেই আসছে কয়েকটি। ইনশাল্লাহ জানাবো।
ধন্যবাদ ।
ব্লগটি আমি www.somewherinblanglablog.com এ ব্যবহার করেছি।১ম বার ব্লগটি পোস্ট করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মূল লেখক ও ব্লগ এর নাম না দেবার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আমি বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে শুধু একবারই গিয়েছিলাম আমার বন্ধু প্রবালের সাথে। প্রবালের সাথে আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের ভাল খাতির ছিল। ভাল লেগেছিল খুব। এই প্রচারবিমুখ মানুষটা খুবই খাঁটি মানুষ। তাঁর নিষ্ফলা মাঠের কৃষক খুবই সুখপাঠ্য। আপনাদের পূণর্মিলনের সাফল্য কামনা করি। বিশ্ব ভরে যাক আলোকিত মানুষে।
সায়ীদ স্যার দারুন হ্যান্ডশামও। স্কলাসটিকার সামনে আগে মাঝে মাঝে দাড়াতেন, লম্বা পাঞ্জাবী পরে। কি ষ্টাইলিশই না ছিলেন সেই যুগেও।
মন্তব্য করুন