সাপ... ভয়....!!
ধন্যবাদ। মৃদুল ভাইকে। সেদিন শুক্কুরবারে অদ-ভুতুড়ে আড্ডা না শুরু করলে কখনোই স্মৃতি হাতড়ে এই গল্প বের হতো না। মাঝে মাঝে এসে নিজের কিছু গল্প বলে যাই। কড়া বা কঠিন কথা বলতে পারিনা, গল্প ছাড়া। কি আর করা।
শুনুন, নতুন গল্প।
তখন আমার দেড় বছর। সিলেটে গিয়ে বিখ্যাত বন্যায় পুরো পরিবার আটকে গেছি। বেশ পিকনিক পিকনিকভাব। বিশেষ করে আমার বড় বোন খুশিতে আটখানা। ইশ্কুলে ক্লাস করতে হচ্ছেনা। আমিতো তখন দুধভাত। কোন কিছুই বোঝার উপায় নেই। ছোটবেলা থেকে একটি অভ্যাসে ছিলাম সেটা হলো বাউণ্ডেলপনা।
হামাগুড়ি, গুড়ি-গুড়ি পায়ে হাটা..যেই পন্থাই হোক না কেন, উঠোন-টুঠোন পেড়িয়ে কই কই পই পই করে চলে েযতাম আল্লাহ মালুম।
আমাদের বাড়ির পাশেই কিছু দূরে একটি বিরাট আকারের তেতুল গাছ ছিল। দূরে মানে বাড়ির সীমানা লাগোয়া।
তেতুল গাছটা এতোই বুড়ো ছিলো যে আদতে আকারে আকৃতিতে তা পরিণত হয়েছিল বটগাছে। ইয়াব্বড় গুড়ি। শিকড় গুলো হাতের রগের মত ফুলে ফুলে আছে মাটির চামড়া ভেদ করে। গোড়ার বিভিন্ন জায়গায় ছোটবড় গর্ত। যেহেতু আমার মাঝে বানর হবার প্রবণতা জন্ম থেকেই আছে, হয়তো সেকারণেই ঐ গাছটির দিকেই ছিল আমার অন্যতম আকর্ষণ। আমার মা যখন যথারীতি তার দুইচোখের দুই মণির মারপিটে ব্যাস্ত থাকতো তখন আমি চলে যেতাম ঐ গাছটির দিকে। গিয়ে গাছ ধরে দাড়াতাম। বা হেলান দিয়ে বসতাম।
তেমনই আমার ভাই বোনের কোন্দলের অন্য একটি দিনে। হঠাৎ আমি উধাউ। সাড়া বাড়ি খুঁজে পাওয়া গেলোনা। পুকুর পাড় চষে ফেলা হলো। শেষ পর্যন্ত, তেঁতুল গাছের যেখানে হেলান দিয়ে ঐ বয়সে কবি হওয়ার চেষ্টা করতাম সেখানে গিয়ে দেখে আসা হলো। আমি নেই।
অবশেষে আমার ফুপু আমাকে খুঁজে পেলেন। তেতুল গাছের পিছনে। একটি গর্তের সামনে আমি বসা। মুখ গম্ভীর। স্থির। আসন করা অবস্থায়। দৃষ্টি সামনে। আর িক সামনে ফনা তোলা একটি সাপ। সাপটির দৃিষ্ট যেন আমার দিকে। আর আমি তাকানো সাপের চোখ বরাবর। সাপটিও স্থির। দুই বন্ধু আলাপ করছে এমন অবস্থা। যারা আমাকে খুঁজতে এসেছিল তারা স্তম্ভিত। আমার সেই ফুপুটিই হঠাৎ সজাগ হলো। হৈ হৈ করে উঠলো সবাই। সাপটি গিয়ে ঢুকলো পাশের গর্তে। গর্তটি আসলে সাপের। আমি তখনো বসা। আমাকে আনা হলো।
তারপর থকে আমার শুরু হলো আকাশ পাতাল জ্বর। কিছুতেই থামেনা। আম্মাজানের হোমিওপ্যাথি থকে ঝাড়ফুঁক সব গেলো বিফলে। অ্যালোপ্যাথিও ব্যর্থ । তখন অব্যর্থ হলো আমার লক্ষ্মি ফুপুর পদক্ষেপ (তাদের মতে।)। সেই সাপটিকে মারা হলো। গর্ত ঢেকে দেয়া হলো স্থায়ীভাবে। আর, খু্বই আশ্চর্যজনকভাবে তারপর মুহূর্তে আমার জ্বর নেমে গেল। আমি যে লাউ সেই কদু হয়ে গেলাম। আবারো...
এরপর বহুদিন গ্যাছে। এই স্মৃতি অবশ্যই আমার মনে নেই। সবই গ্রামের আত্মীয় আর আম্মার কাছ থেকে শোনা। খালি আম্মার কথা শেষ হয় এভাবে- আমি যে তার দৃষ্টিতে "বেখাপ্পা- আউলা" হয়ে আছি, সেটা ঐ কারণে।
তবে কিছু কথা আজো সত্য। যেমন, আমি সাপ ভয় পাইনা। (হতে পারে অ্যনাকন্ডা দেখলে ভয় পামু।
..)
এবং সাপের চেয়েও বেশি বিষধর মানুষদেরও পাত্তা দেইনা। কারণ এরা ফণা তুললেও ঠিকই দৌড়ে গর্তে ঢুকবে, যখন ধাওয়া খাবে।
আর আমিতো সাপের চোখে চোখ রাখা মানুষ..আমি কি ডরাই সখা...
..................





সাবাস বীর বাঙ্গালী নারী
ব্যাপক অভিজ্ঞতা!! সাপের মুখ থেকে ফিরে আসা মেয়ে
সাপটা কামড় দেয় নাই কেন কে জানে । মনে হয় মা সাপ, শিশু দেখে মায়া করছে ।
কথিত ছিল যে সেটি অতি প্রাকৃতিক কিছু ছিল..
....আর কামড় দিল কে লিখতো কন দেহি?
অসাধারণ বর্ণনা, মনে হলো আমার চোখের সামনে ঘটছে সবটুকু। শেষ লাইনটা দারুণ মজা পেলাম।
এতো কম লেখেন কেন?
কম লেখি..কারণ আমি তো তুলা-লেখা লেখি...তাই..
ডরাইলাম
বর্ননা খুব সুন্দর করে দিয়েছেন। দেড় বছর বয়সের ঘটনা। আপনাকে যখন আপনার মা বলেছেন বড় হবার পর খুব চমৎকার করে বলেছেন। আর আপনিও লিখেছেন বেশ চমৎকার।
আম্মা যখন বলছে তখন তো পিছে একটি গালমন্দ এবং সামনে একটি গালমন্দ করে বলেছেন..ঐটা না হয় নাই বা কইলাম..
খাইছে। এত্ত সাহস! এই পোষ্টের শিরোনাম দেখে ভয়ে ভয়ে পোষ্টে ঢুকলাম। এই একটা জিনিসের নাম শুনলেই আমি ভয়ে কুঁকড়ে যাই। নিয়মিত আপনার লেখা চাই।
কপাল ভালো।একটা ছবি দেন নাই।দিলে আরো জমতো।
আমি সাপ দেখে প্রচন্ড ভয় পাই।
সাপের একখান ছবি দেই তাহলে...
শিরোনাম দেখেই ডরাইছি
আপনে মিয়া কথা কইয়েন না..আমি আপনাকে আর ভালো পাইনা...এমন ক্যান করলেন কন দেহি...
রুম্পা'পুর পোস্ট এবং যথারীতি গ্রেট।

অত্তোটুকুন পিচ্চির সাহস দেখে বলিহারি যাই।
ধন্যবাদ মীর...আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় ছিলাম..
আর আমি আপনের পোস্টের অপেক্ষায় ছিলাম।
ইন ফ্যাক্ট এখন আবার আছি।
মনেহয় কিছুদিন আগে কয়জনের মুখে শুনছিলাম যে, তারা সবাই আপনার পোষ্ট খুব মিস করে। আশা করি, এটা জেনে অন্তত নিয়মিত লেখবেন।
লাস্ট লাইনটা অনেক ভালো লাগলো।
সাহস বটে!
লেখা দারুণ লেগেছে।
রুম্পাকে নিয়মিত দেখতে চাই, এতদিন কোথায় ছিলেন?
গ্রেট সিম্পলি গ্রেট
মন্তব্য করুন