ইউজার লগইন

মানুষ কেনো নয়!

নিজেকে বড় ভাবার মতো বড় হয়েছি বলে মনে হয় না কখনো। তাই চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করি বড়দের ভীড়ে। আজ একটু নীরবতা ভাঙতে ইচ্ছা হলো। কারো অনুভূতিকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য।

সারা জীবন গার্লস স্কুল, কলেজ- এ পড়ার সুবাদে বিভিন্ন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে। এমনকী অনর্স-মাস্টার্সেও গালর্স কলেজে পড়ার জন্য একে বারে ছেলেবেলা থেকে বেড়ে ওঠার বিভিন্ন ধাপে দেখেছি মেয়েরা কিভাবে বড় হয়।
কিছু ঘটনা এখানে শেয়ার করবো সেই অভিজ্ঞতা থেকে।

কোন একজনের বিয়ে হয়েছিল বেশ ঘটা করে। দেখতে বেশ সুন্দরী। পাত্র ভালো (মধ্যবিত্তদের চোখে ভালো পাত্র বলতে যা বোঝায়)। মেয়েটি ছুটি কাটিয়ে আসার পর শোনা গেল, তার স্বামী পুরুষটি তার সাথে যাচ্ছেতাই ভাবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে, বল প্রয়োগ এবং যথেষ্ট অশ্লীলতার সাথে। আজ ৭-৮ বছর কেটে গেছে। মেয়েটি জানা মতে আজো তার ঘর করছে। স্বস্তীতে আছে কিনা জানিনা, তবে বেঁচে আছে।

চার বছরের প্রেমের পর বিয়ে। অতপর স্বামীর প্রাক্তণ প্রেমিকার আগমণ। স্বামীর বাজে আচরণ শুরু। ডিভোর্স দেয়ার জন্য চাপ। কারণ, স্বামী ব্যক্তিটি ডিভোর্স দিলে ভরণ পোষণের খরচ দিতে হবে যা ঐ চতুর ব্যক্তি মানতে নারাজ। স্ত্রী ডিভোর্স দিলে সেটা দিতে হবেনা। কিন্তু স্ত্রী কেস ফাইল করতে নারাজ। কারণ সমস্যাটা লোকটির। ফলাফল, সেই লোকটি মেয়েটির চরিত্র নিয়ে আজে বাজে ইঙ্গিত করে কেস ফাইল করলো। স্ত্রী ও তার পরিবার এসব সহ্য করতে না পেরে ডিভোর্স ফাইল করে দেয়। লোকটি খরপোশ দেয়া থেকে মুক্তি পেয়ে সে বছরই আবার বিয়ে করে সেই প্রাক্তণ প্রেমিকাকে। আর মেয়েটি আজো একা।

এমন ঘটনা নিজের চোখে দেখা। দেখেছি আরো বেশি। সব বলে শেষ করা যাবেনা। মূল বক্তব্যে আসি।

আমার প্রশ্ন দুটি ভাগে বিভক্ত-

১. রুমানা মঞ্জুর ম্যাডামের খবর আসার পর থেকে কিছু পত্রিকা বা সংবাদ পত্র তার "চরিত্র" নিয়ে নান প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন হলো, ধরুন ম্যাডামের চরিত্র জটিলতায় ভরা, কিন্তু তাতে কি নাক কামড়ে খাওয়া বা চোখ তুলে নেয়া সঠিক বিচার হয়েছে? এটাইকি বেশি নয় যে একজন মানুষ আরেক মানুষের উপর এমন বর্বর আচরণ করেছ- একারণে তার শাস্তি হওয়া উচিৎ? ( মানুষ বলছি, কারণ কোন নারী এমন করলেও তাকে শাস্তি দেয়া বাঞ্ছণীয়)

২. এমন সংসার জীবনের কি মানে আছে, যেখানে জীবনসঙ্গীর জন্য সামান্যতম সম্মানও থাকবে না? মানুষ পরিণত হবে পশুতে? কি কারণে এমন সংসারে থেকে জীবন শেষ করে দিতে হবে?

নিজের দর্শন:
"পুরুষদের ধিক্কার" দেয়া চলছে।
ভাবতে খারাপ লাগে, এখনো আমরা নারী-পুরুষ ভাগাভাগিতেই ব্যস্ত। মানুষ হিসেবে ভাবতে ক্ষতি কোথায়! একবার মানুষ ভাবতে পারলেই কিন্তু সঠিক বিচারটা করে ফেলা সম্ভব। এখন প্রশ্ন, মানুষ ভাবতে ভুলে যাওয়া কবে থেকে? এসেছে জন্ম থেকে, দুর্ভাগ্যবশত পরিবার থেকে। একটি মেয়ে শিশু এবং একটি ছেলে শিশু যখন একসাথে বড় হয়, এক পর্যায়ে মা বাবা মনের অজান্তেই ছেলে সন্তানের উপর মেয়ে সন্তানের শাসনের ভার ছেড়ে দেয়। অপ্রয়োজনে ভাইদের মার খেয়েছ, মায়ের নালিশে কজন- হাত তুলতে বললে কম হাত তুলবে বলে মনে হয়না। ভাই ছোট হোক বা বড় হোক, তাকে দেয়া হয় অলিখিত ক্ষমতা। যে ক্ষমতারই হয়তো কিছুটা চলে আসে পারিবারিক জীবনে। (স্ত্রী নির্যাতন নিয়ে কথা হয়, বোনের উপর অত্যাচার নিয়ে কয়টা কথা হয়!)

এসব ধিক্কার দিয়ে আদৌ কোন লাভ তাই আছে কিনা সন্দেহ জাগে। যেখানে পরিবার থেকেই এর সুত্রপাত। যেখানে আছে হয়তো আপন মা।
আর নারীর সামাজিক অবস্থানও দুই নৌকায় পা দেয়ার মতোই। নিজের পরিবারে "ভালো" মেয়ে না হয়ে থাকতে পারলে আপন মা "চরিত্রহীন" উপমা দেয় শুধু বশে রাখার জন্য তা দেখেছি নিজ চোখে। (ভালো= ?=সংজ্ঞাটা জানিনা)
ম্যাডামের উপর আমার ক্ষোভ একটি কারণেই, কেনো তিনি এতোগুলো বছর এমন স্বামীর সাথে ঘর করছেন যার সাথে হয়তো অনেক আগের থেকেই বনিবনা ছিলনা! সমাজের ভয়ে?

ম্যাডাম, আজ সেই স্বামী আপনার একাডেমিক অবস্থানকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে চোখ উপড়ে, আর আপনার সমাজ ইরানি যুবকের সাথে আপনার প্রেম নিয়ে বেশ সরগরম আছে।

এবার বিয়ে নিয়ে কিছু কথা, যা বলার উপযুক্ত আমি একদম নই বলে মনে করি। মানুষ নানা কারণে বিয়ে করে। কাউকে পছন্দ হলে, কারো টাকার জন্য, কেউ স্ট্যাটাসের জন্য, কেউ এক্সপেরিমেন্টের জন্য, আবার কারো মন চাইলো তো করে ফেললো।
যেকারণেই হোক, বিয়ে মানে এটি মানুষের বাথরুমে যাওয়া থেকে হয়তো নাকা ডাকা হজম করার মতো একটি বাস্তব বিষয়। এটি একটি চর্চা, যা মানুষকে দিনের পর দিন আয়ত্ত করতে হয়।
কিন্তু যদি আয়ত্ত্ব নাই-ই হয়, তাহলে একসাথে থেকে দুই নৌকায় পা দেয়ার কোন মানে নেই।
পরস্পরকে মানুষ বিবেচনা করে দূরে সরে গেলে ক্ষতি কি? সমাজ দুই দিন কথা বলবে..তৃতীয় দিন অন্য বিষয় পেয়ে যাবে।

আমি নারীবাদী নই। নারী দিবস মানি-টানি না। অধিকার আদায়-এর ধার ধারিনা। কারণ আগে আমি মানুষ, আমার অধিকার আমি নিয়ে জন্মেছি। নিজে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে কেউ এসে আমাকে ভিক্ষা দিবে - সে আমি চাইনা।

আরেকটি গল্প। সত্যি তবু কাল্পনিক...

খুব পছন্দের একটি মেয়ে। বয়সে ছোট। কিন্তু বন্ধু। ওর যখন বিয়ে হয়- বাচ্চা মানুষটি বিয়ে করেছে বলে অবাক লেগেছে। আজ ও বড় হয়ে গেছে। স্বামী পছন্দ করে না বলে আমার বাউণ্ডেলে ছোট্ট বন্ধুটি অফিস করে আর বাসায় যায়। মাঝে মাঝে ভাবে- ভুল করেছে, আসলে ভুল নয়, ছিল বড্ড তাড়াহুড়ো। সে বিয়ে করেছিল হঠাৎ দেখার মুগ্ধতায়। দুজনের পছন্দ আদৌ মিলবে কিনা তা যাচাইয়ে কোন প্রয়োজনই বোধ করেনি। আজ দুজনেই কষ্ট পাচ্ছে। একজন অবহেলিত হচ্ছে ভেবে, আরেকজন নিজেকে বন্দী ভেবে। ...

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

রুম্পা's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি তো ভালো মানুষ। বেড়াতে, বই পড়তে আর ঘুমাতে পছন্দ করি। আর অন্তত তিন মাস পর পর একদিন একদম একা থাকতে পছন্দ করি।