সমঝোতা বা অস্থিরতায় কাবু- আমরা যারা হাবু
আমারই কোন এক লেখায় একটি মন্তব্য ছিল, "রেগে গেলে লজিক এলোমেলো হয়ে যায়"..কথাটা মানি..তাই অনেকদিন পর আবার লেখার চেষ্টা। আসলে বোঝার চেষ্টা- প্রেক্ষাপট আর পরিস্থিতি নিয়ে.. ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন। অন্তত এখনো কিছু মানুষ অতীতে কে কত "বড় ভুল" করেছে তা নিয়ে অযথা তর্ক এড়িয়ে ভুল শুধারােনার চর্চা করে। আমি বিশ্বাস করি আমি তাদের দলে..
১.
লেখার সুত্রপাত কিছুদিন ধরে দেখা অনলাইন কার্যক্রম। আসলে সেসব মানুষদের নিস্পৃহতা থেকে যারা হঠাৎ করে সরব হয়েছিল তারেক মাসুদ, মিশুক মনীেরর অকাল মৃত্যুতে। আরো কিছু ইস্যুতে। যেমন, আদিবাসী, তিস্তাচুক্তি, শেয়ার বাজারের ধ্বস, রাস্তাঘাটের আবুলাবস্থা, উড়াল সেতু থেকে পাতাল সেতুর রূপকথা, সম্প্রচােরর নীিতমালা, শহীদ িমনারের ঈদ- ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গঠণমূলক সমালোচনা মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে শুধু এই কারণে যে, এখনো আমাদের মানবিক বোধ জীবিত। আমরা বুঝতে জানি। বলতে জানি। সঠিক মত বিনিময় করতে জানি। বিশেষ করে তাদের, যারা সপ্তাহজুড়ে গাধার মতো খাটে সপ্তাহে একদিন যেন হাসিমুখে দিন কাটানো যায়। যেন নিরাপদে বাসায় আসা যায়। স্বাভাবিক মৃত্যুতে যেন তাদের আত্মীয়রা সেই প্রস্থান মেনে নেয়। অথচ, এখন কিছুদিন ধরে অনেকগুলো ঘটনা হয়ে গেলেও কারো মুখে রা নেই। একমাত্র শ্রদ্ধেয় আরিফ জেবতিক ভাই তার "প্রভুকে" নিয়ে সরব আছেন বিভিন্ন ইস্যুতে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই নীরব সমঝোতা আসলে কেন?
ক. এই নীরবতা আমাদের নিরাপদ রাখবে? সত্যি তা বিশ্বাস করেন?
খ. সৎসাহসের অভাব?
গ. সৎসঙ্গের অভাব?
ঘ. আসিফ মহীউদ্দিন আমাদের কাছে চুপ করানোর সীল-গালা??
ক, খ এবং গ- এর ক্ষেত্রে আমি একমত নই.. আমি বিশ্বাস করি, একজন বন্ধুও যদি আরিফ জেবতিকের মতো হয়, একজন বক্তাও যদি আসিফ নজরুলের মতো হয় (কারো দ্বিমত থাকতে পারে) তাহলে আমরা সৎসাহসী মানুষের সাথেই আছি..
ঘ- বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে, সত্যি ভাবাচ্ছে তাহলে! চোখ রাখা হচ্ছে অনলাইন কমর্কাণ্ডে। তাই সবাই বেলুনের হাওয়া ছাড়ার মত চুপসে এদিক ওদিক দিশাহীন হয়ে ধাক্কা খাচ্ছে। আজেবাজে বিষয় নিয়ে সময় ক্ষেপণ করে অনলাইনে মানুষকে বিরক্ত করছে। ফলে এই অনলাইনের মানুষ- যারা ভাবতো এখনো বিবেক জাগ্রত আছে, তারা এখন কোন লিংক ক্লিক করেও দেখার প্রয়োজন বোধ করে না। এরপর শহীদ মিনারে অনলাইন আহবানে কজন যাবে সেটা নিয়ে আমি বেশ সঙ্কিত।
২.
সমঝোতা মানুষকে বিরক্ত করে, দূবর্ল করে এবং পরবর্তীতে অসহায় করে। তার একটি প্রমাণ হতে পারে মিউজিশিয়ান নাহিয়ান নিজেই। যখন নাহিয়ানকে ধরে নেয়া হয়। বাজি রেখে বলতে পারি, তরুন সমাজ ফুসে উঠে ছিল। মানববন্ধন করার জন্য অফিস থেকেো তরুনরা দ্রুত বের হয়েছিল সেই নীরব অন্যায় প্রতিবাদে অংশ নিতে। জানামতে অনেকে সঠিক সময়ে পঁৌছে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছে। পরে জানা যায়, "সমঝোতার মাধ্যমে শীর্ষ শিল্পীরা তার আর ফাহিমের বেল করায়।" আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধি বলে- সমঝোতা মানে, যা অভিযোগ করা হচ্ছে তা মেনে নেয়া। আর বেল করানো মানে হলো কেস বতর্মান, কেস উইথড্র করা হয়নি। ফলে, তাকে নির্দিষ্ট সময় পরপর হাজিরা দিতে হবে। সরকারি সার্ভিস বা বিদেশে পড়তে যেতে চাইলে তাকে কি ঝামেলা পোহাতে হতে পারে তা আল্লাহ মালুম। আমার প্রশ্ন হলো ছেলেটি যদি নির্দোষই হয় তাহলে সমঝোতা কেনো? আর সৎসাহসের এতো অভাব থাকলে মানব বন্ধন ডাকা কোন? তাও কাউকে না জানিয়ে আবার ক্যােন্সল করা!! সেটার স্বপক্ষে আবার একগাদা ঠুনকো যুক্তি প্রদর্শন! মানুষের সৎসাহস নিয়ে এমন তামাশা করার পিছনে কি শুধুই সমঝোতা?
না, এর কারণ একমাত্র আমাদের অদূরদর্শিতা।
আমার ভয়, এই ভীরু কিছু মানুষের অনলাইনে ব্যর্থ কর্মকাণ্ড আমাদের শক্তিকে দূর্বল করেছে। এখন কেউ ডাকলে আরেকজন অংশগ্রহণের আগে দুইবার ভাববে। আমার ভয় আবার আমরা একসাথে আকাশের নীচে ঈদ করতে পারবো কি না!. আমার ভয়, অনলাইনে আমরা শুধু তামাশার পাত্র হয়ে থাকবো কিনা। অন্তত আমি, নাহিয়ানের মতো আরো ১০০ টা ছেলে/ মেয়ে এমন "সন্দেহ" উদ্রেক করা ঝামেলায় পড়লে পাত্তা দিবোনা, সেটা নিশ্চিত। কারণ এরা নিজের ভালোর জন্য অন্যের আবেগকে ব্যবহার করে কিন্তু শ্রদ্ধা করেনা।
৩.
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, বাজে এবং ভুল চিকিৎসা নিয়ে অনলাইনে সরব প্রতিবাদ মানুষের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিল। আমরা ভাবলাম, যাক বাবা, কোন হাসপাতালে অনিয়ম হলে অন্তত তারা ভয় পাবে। ভয় পাবে এই ভেবে যে সাধারণ মানুষ এখন সেই অনিয়ম জেনে যাবে এক সেকেন্ডে, একটা ক্লিকের মাধ্যমে। এখানে এসেো এক পর্যায়ে সব ঠাণ্ডা হয়ে গেল। হয়তো হাসপাতালও জানে এখন সমঝোতা কাকে বলে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-এর মূল্য ৫০ লাখ, নবজাতক শিশুর মূল্যও হবে এমন কিছু। যখন টাকা কথা বলবে, তখন তো সমঝোতায় পিষ্ট জাতি বোবা হবেই। "হায়াৎ মওৎ আল্লাহর হাতে" বলে হাতে টাকা নিয়ে কেটে পরাই উত্তম! আবার নিজেদের কেউ মারা গেলে অনলাইন উত্তপ্ত হবে আশা করা যায়।
৪.
বিষয়টি অনেকের কাছে ছোট। কিনতু আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। সিলেটে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ডাক্তার নিখোজ হবার খবরটি নিয়ে। কারণ, প্রথমত বিদেশী গোয়েন্দারা দেশে আছে বলে। দ্বিতীয়ত, ঠিক এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এর ফুটেজ থেকে। যেখানে হাস্যজ্জ্বোল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এখন যেেকান সময়ের চেয়ে ভালো। আমি বুঝি কম, তাই এখনো বুঝতে পারছি না, ভালো কোন দিক দিয়া। এখন এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ডও নিয়ে বের হইনা। ক্যামেরা বা ল্যাপটপ নিয়ে বের হওয়ার আগে ৫ বার চিন্তা করি। আমি গাধা, তাই প্রতিটা অচেনা মানুষকে খুনি, ইভ টিজার, মাস্তান বা হাইজ্যাকার মনে হয়..
৫.
এবার জাতি আমাকে গালি দিবে। কারণ আমি খুব বিরক্ত "শিরচ্ছেদ"মূলক ভিডিও েশয়ারিং নিয়ে..। অবশ্যই বিদেশে প্রকাশ্যে এমন দন্ড কার্যকর করা অমানবিক। কিন্তু, বিদেশে গিয়ে ডাকাতি বা খুন করে দেশের নাম কতটা উজ্জ্বল করা হয়েছে- তা বুঝিনি। নাহিয়ান, ভিকারুন্নেসা ইত্যাদি ইস্যুতে মিডিয়া মনভোলা হলেও, এই ইস্যুতে বেশ মন দিয়ে কাজ করছে। হতে পারে এটা আমাদের দেশের গ্রুমিং..যত বড়ই অপরাধ করো, আমাদের দুটো হাতিয়াড় আছে, প্রথমত- সমঝোতা, দ্বিতীয়ত- রাষ্ট্রনায়কের ক্ষমা..
আরো অনেক কিছু লেখার আছে। ২৪ ঘণ্টার মাঝে আরেকটি "সমঝোতায় সচেতন" নাগরিকের গালি খানেওয়ালা পোস্ট দিবো। আগে এখন এই গালি গুলো হজম করে নেই.. ক্ষোভ প্রকাশের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী..





সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ।
১-৪ পয়েন্টে তোমার পর্যবেক্ষণ আর চিন্তার সাথে সংহতি (আসিফ নজরুল নিয়ে দ্বিমত )।
দ্যাটস ইট ।
বসে আছি আইজুদদিন
২৪ ঘণ্টার মাঝে না আপু..২৪ ঘণ্টা পর..ব্লগের নিয়মানুসারে..
..কেনু বসে আছেন?
২টা পোস্ট দেয়া যায় তো
পরিস্থিতি কোনোদিক থেকেই সুবিধার না।
আরো অনেক অনেক ব্লগার ও ব্লগিং প্লাটফর্মও সকল বিষয় নিয়েই সোচ্চার আছে। আপবার মনে হয় চোখে পরেনি !
বাকি সবকিছুর সাথে একমত
কি আর বলবো 
চোখে পড়েনি- আমার দুভার্গ্য ..আমি কিন্তু বলেছি তাদের কথা, যারা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে সরব হয়ে উঠেছিলেন..যারা আমার বন্ধু-সীমানায় আছেন- তাদের কথা..যখন হঠাৎই কেউ কথা বলা শুরু করে বন্ধ করে দেয়-তখন খটকা লাগে। তাই নয় কী?
সবকিছুর একটা নিজস্ব গতিধারা আছে। জনমত জিনিসটাও যে সবসময়ই একটা ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ নিয়েই গড়ে উঠবে, এমন নয়। অগ্রসরতার পথে পশ্চাৎপদতা থাকবেই। স্থিতি না চলে আসলেই হলো।
আর আরেকটা জিনিস হচ্ছে, আমার মনে হয় না অনলাইন কমিউনিটি কোনো স্থির একটি শ্রেণী। অনেক বড় কোনো বিন্যাস চিন্তা করলে হয়তো তা হতে পারে। সেজন্য অনেক বড় কোনো ঘটনাই দরকার পড়বে। সামাজিক ইস্যূগুলোর পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। ভিন্নমত কিংবা শত্রুপক্ষও থাকবে। এ নিয়েই গতিশীলতা ধরে রাখতে হবে।
তবে সবগুলো পক্ষকে এক বিন্দুতে নিয়ে আসার মতো ঘটনাও যে খুব বেশি দূরে, তা নয়। হয়তো অচিরেই এমন কিছু ঘটবে, যখন মানুষ জাতি-ধর্ম-পেশা নির্বিশেষে একক একটা সিদ্ধান্তে সম্মিলিত হবে। সে সময় অনলাইন বা অন্য কোনো কমিউনিটি আসলে বিশেষ এগিয়ে থাকবে- এমন মনে করি না। অনলাইন তার নিজস্ব লাইনে এবং অন্যরা তাদের নিজস্ব পন্থায় একক সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করে যাবে।
তবে হ্যাঁ সচেতনতার প্রচেষ্টা চালানো অবশ্যই জরুরি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত একমত।
চারপাশে মন ভালো রাখার কোন ঘটনা দেখি না। আভাগা আমরা।
এসব নিয়েই আমাদের বসবাস।
আর কিছু ভাল্লাগে না
ধন্যবাদ......
:glasses এই সমঝতার সুযোগেই আমাদের চারপাশের দুর্নীতিবাজ।, দুস্ক্রিতিকারি ও অপরাধিরা তাদের সকল অপকর্ম নিশ্চিন্তে চালাচ্ছে.। আমাদের পুলিশকে কিনতে দুই আনা, প্রশাসনকে কিনতে চার আনা, রাজনিতিকদের কিনতে বারো আনা লাগে আর জনগণকে হালকা ফাঁপরেই কাজ হয়ে যায়, পয়সা লাগেনা।
মন্তব্য করুন