রেখেছো বামন করে মানুষ করোনি!
মাকাল ফল বলে একটা প্রবাদ আছে! কর্মস্থলের সুবাদে এই মাকাল ফলের দেখা সবচেয়ে বেশি পেয়েছি সিলেট অঞ্চলে। বিদ্যা-বুদ্ধি যা-ই থাক, অর্থকড়িতে এরা কেউ কেউ তুলনামূলক এগিয়ে- নিঃসন্দেহে। আজকাল শিল্প-সাহিত্যেও ভালো 'অবদান' রাখতে শুরু করেছে এরা। দেশীয় কিংবা বিদেশে অর্জিত অর্থে কোরবানির গরুর মতো মোটা-তাজা অনেক লিটলম্যাগ বের হয় সিলেট থেকে...।
সাবেক কর্মস্থলে সংস্কৃতিসেবক বেশ ক'জন সিলেটির দেখা পেয়েছিলাম। পত্রিকার প দূরে থাক, অ-ও না বুঝে এরা পত্রিকা সম্পাদনা করতে আসে। কাজ করার সময় আমার কাছে আবদার আসে- 'ভাইসাব, সম্পাদকীয় লেকিয়া দেউক্কা' কিংবা 'ভাইসাব, লেখক তো লেখার শিরোনাম দিছুইন না, এককান শিরোনাম বানাইয়া দেউক্কা' টাইপ অনেক কিছুই...!
তারপর সময়ের প্রয়োজনে একসময় আমি চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।
গ্রামে শিক্ষা সংক্রান্ত একটা প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীকে ফোন করার প্রয়োজন বোধ করলাম। পরোপকার আর কি। যেহেতু মন্ত্রী বা এমপি লেবেলের কেউই আমার কােনো কাজে লাগেন না, তাই কারো নম্বরও সেভ রাখি না। এ মুহূর্তে শিক্ষামন্ত্রী ফোন নম্বর কোথায় পাই! মনে পড়লো, আমড়া কাঠের ঢেঁকিমার্কা সম্পাদকের কথা। তার কাছে শিক্ষামন্ত্রীর ফোন নম্বর চাইলাম। তিনি উল্টা প্রশ্ন করলেন- আপনি তো এখন অমুক প্রতিষ্ঠানে নাই?
না বোধক উত্তর শুনে বললেন, 'ঠিক আছে, নম্বরের বিষয়টা আমি দেখছি।'
তার এই 'দেখা' থেকে বুঝে গেলাম, দেখা শেষ হবে না! তিনিও বুঝে গেছেন, আমার কাছে তাকে আপাতত আর আসতে হবে না! 'কিতা খবর, বালানি' বলারও দিন ফুরিয়েছে!
নিম্নমানের স্টুপিড বলেই তিনি বুঝতে পারেননি, একজন সাংবাদিকের কাছে কেউই অধরা নন, যত বড় ব্যক্তিই হোন না কেন।
ভবিষ্যতেও যদি প্রয়োজন পড়ে, তিনি 'ভাইসাব, সম্পাদকীয় লেকিয়া দেউক্কা' জাতীয় আবদার করা থেকে বিরত থাকবেন বলে মনে হয় না।
এ ধরনের দেউলিয়ারা চিরদিনই দেউলিয়া!





ভাইসাব, সম্পাদকীয় লেকিয়া দেউক্কা
আশাকরি blood pressure এখন নরমাল?
মন্তব্য করুন