একটি অসমাপ্ত কামের গল্প
চোখ আটকে গেলো সহজেই! আজকাল সুন্দরী মেয়েরা কবিতা লিখতে আসে না বললেই চলে। হেঁজিপেজিদের দেখতে দেখতে অরুচি ধরে গেছে। একটি দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে মেয়েটির একগুচ্ছ কবিতা। সাথে তার কবিতাভাবনা ও আলোকচিত্র। ছবিটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন তিনি। সুন্দরীই বটে, আগুনসুন্দরী! সাহিত্য সম্পাদককে কল দিয়ে রুহিনা তাবাসসুমের সেলফোন নম্বর চাইলেন কবি সৈয়দ আবু বকর। ছোকরা সম্পাদক প্রথমে ঘাইগুই করলো; পরে নিমরাজি হয়ে নম্বর দিলো।
এই সমস্যা। এরা মনে করে কবিতা ছাপার বিনিময়ে মানুষটির দখল বুঝে নিয়েছে। এখন ঘরের বউয়ের মতো অধিকার খাটানো যাবে।
দেরি না করে কল দিলেন তিনি- 'রুহিনা তাবাসসুম বলছেন?'
ওপাশ থেকে ভেসে এলো সুরেলা আওয়াজ - 'বলছি'।
'আমি কবি সৈয়দ আবু বকর।'
'সৈয়দ আবু বকর! মানে বাংলাদেশের প্রধান কবি?'
'তা বলতে পারেন! আপনার কবিতা পড়লাম, দৈনিক বগিজগি পত্রিকায়...!'
'তাই! কেমন লেগেছে?'
'ভালোই। তবে ছন্দ ও মাত্রাগত কিছু সমস্যা আছে।'
'সমস্যা! তাহলে পত্রিকায় ছাপা হলো কেন?'
'এখনকার সব ছোকরা ছেলে সাহিত্য সম্পাদক হয়। ওরা আর কীই বা বোঝে!'
'ও মা! কী বলেন!'
'হ্যাঁ, এটাই বাস্তবতা। একদিন সময় করে আমার বাসায় আসুন। এ সব নিয়ে আলাপ করবো।'
তরুণীর কণ্ঠে বিরক্তি- 'আমারে পাগলে পাইছে?'
'তাহলে আমিই আপনার বাসায় আসি?' কবির কণ্ঠে অনুরাগ।
'আর চাপা মারতে হবে না। দেশের প্রধান কবি আমাকে ফোন করেছেন এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?'
কবিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে লাইন কেটে দেয় রুহিনা।
এরপর থেকে কবি নিয়মিত কল দেন কিন্তু চিড়া ভেজে না! টানা প্রচেষ্টার একমাস পর কল রিসিভ হলে ভেসে আসে পুরুষ কণ্ঠ- 'এই বান্দির পুত, তোর সমস্যাডা কী?'
অপমানিত কবি নিরাশার অতলে ডুবে যান। যে দেশে সুন্দরী মেয়েদের এত অবিশ্বাস, সে দেশে কবিতা লিখে সুখ নেই!





ভালো লিখেছেন
ভালো লিখেছেন
মন্তব্য করুন