নর-নারী
সেই কবে আদীম বিধাতা খেয়ালের বসে লিঙ্গ ভাগ করলেন আমাদের। একটি দানের জন্য। অন্যটি কেবল সেই দান ধারণ করবে তার শরীরে। ক্রমে সেই ধারণকৃত দান জন্ম সাতারের যুদ্ধ শেষে পরিপুষ্ট হয়ে আবার সৃষ্টি হবে নতুন লিঙ্গে। কত সুদীর্ঘকাল এই একই প্রকৃয়া। একঘেয়ে, বিস্ময়হীন আর কান্তিকর। এই নীলাকাশের পৃথিবী, উঁচু ঘন বনস্পতি সৌন্দর্যের আবির বিলায় সে কতকাল! কার জন্য, সবই আমাদের? তাই জন্মই তথাস্তু, জন্মই পূণ্য, জন্মই চীর সত্যের আলোড়ন। তবে মৃত্যু কি মিথ্যা, সে কি কেবলই ক্ষয়? কেবলই জন্মে গড়ে উঠা প্রাণ প্রাচুর্যের কাল ক্ষয়ে ক্ষয়ে লিঙ্গ কি পূর্ণতার অনিবার্য অপচয়! এ সত্যটুকুও প্রাণী এড়ায় কিভাবে? ভুলোমন বসে থাকে আকর্ষর্ণে। জাগতিক আকর্ষণ, প্রেম আর ক্ষুধা। এ ক্ষুধা সর্বগ্রাসী। এক লিঙ্গ বলে যা কিছু ভালো, যা কিছু সুন্দর যা কিছু শক্তি সব আমার চাই। না পেলে ধ্বংশ করবো চারবংশ। গায়ের জোরেই জিতে নিতে চাই সকল দুর্বলতা। অন্য লিঙ্গ কি কেবলই ধারণ করে! জানি না, জানতে চাইও না। পদার্থ ভাঙতে ভাঙতে শেষ সীমায় অবশিষ্ট থাকে যে অনু। নিরীহ দর্শন, সুন্দর অথচ কি কল্পনাতীত শক্তি নিহীত ওই শেষ বিন্দুতে। যে লিঙ্গ ধারণ করে সে যেন ভূমি। শক্ত প্রলেপের ভেতর কি বিপুল উর্বর রস! কর্ষন চায় সে। যদি হয় আনন্দ কর্ষন, সৃষ্টি লাঙ্গলের আশীর্বাদে সে বসুন্ধরাকে ভরিয়ে দেবে ফুল ফল প্রজাপতিতে। সব কিছুতে যেন গোপন অধিকার। সমস্ত গুপ্তধনের সে যেন তালাবদ্ধ কুঠুরি। পাঠোদ্ধার হলে সে সংকেতের তালা খুলে সে বিলাবে রত্নধন। নয়তো মাথা কুটে মরলেও যেন কোনো ভাবান্তর নেই। এভাব্ইে দিন এভাবেই কাল। উভয় লিঙ্গের কখনো মুখোমুখি, কখনো বা ঘনিস্ট অবস্থান। কত বিতর্ক, কত দেনাপাওনা, কত মান অভিমান, অভিযোগ। তবু মহাগামী বিধাতার আশীর্বাদে জন্মের পর মৃত্যুই সত্য। মাঝের সত্য লিঙ্গ। প্রাণীতে প্রাণীতে তরুতে গুল্মে সব জন্মেই এই দুই সত্যির খেলা। আমরা এক লিঙ্গে নর, অন্য লিঙ্গে নারী।
দানব পুরান
ওকে আমি বেঁধে রেখেছি একটা অন্ধকার হীম ঘরের মধ্যে। বাঁধা থাকতে থাকতে ওর হাতে শিকলের দাগ কেটে বসে গেছে চীরস্থায়ি ভাবে। তবু প্রতিদিন একবার ওকে আমার ভোগ করা চাই। এটি আমার আনন্দ লিপ্সার একটি অংশ....
(চলবে)





শফিক ভাই, গল্পটা পড়ে যদি মন্তব্য করেন ভালো লাগবে।
মন্তব্য করুন