নর-নারী (৩য় অংশ)
দানব পুরান
স্বীকার করুন আর নাই করুন অন্য সবাইও তাই। সেই প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ তথা পুরুষের কাছে নারী ভোগের সামগ্রী ছাড়াও ছিলো ব্যাবসার জমজমাট উপকরণ। শক্তিশালী আর ধনী পুরুষদের হেরেমখানা তাই ভরে উঠেছিলো জীবন্ত ভোগ্য খেলনায়। এই খেলনা হাসে-কাঁদে, আঘাত করে, আবার উল্টো কামের বশবর্তী হয়। শক্তিশালী ধনীরা ওই সব নারীদের যৌনাঙ্গে লোহা গরম করে ছ্যাঁকা দিয়ে দিতেন। এটি একটি আজন্ম চিহ্ন, পুরুষের শক্তির সিলমোহর। পুরুষ দাশের চেয়ে নারী দাশের দামও ছিলো তাই আকাশচুম্বি। এখন হয়তো দিন পাল্টেছে। এখন পুরুষেরা হয়তো নারীকে জোর করে ব্যাবসা করায় না, বরং পরোক্ষ প্ররোচনা দেয় ব্যাবসা খুলে বসতে। তাই আপনাদের আধুনীক সভ্যতার কালো গলিঘুপচিগুলোতে দিনের আলোতে ভোল পাল্টে থাকা নাতের আসল পুরুষগুলোর মৌমাছির মত ভিড়। আমারো জন্ম হয়েছিলো তেমনই এক বারোবাজারের অন্ধকারে। শিশুর চোখ দিয়ে আমি তখন থেকেই দেখেছি আর শিখেছি সভ্যতা নামের উলঙ্গ শয়তানটাকে। যৌবনে সেই শয়তানটার উপস্থিতি অবশেষে আমিও আমার শরীরে উপলগ্ধি করলাম। ততদিনে আমি চিনে গেছি দুর্বল নারী ঠিকানা। কে আমি ওখান থেকেই নগদ টাকা দিয়ে কিনে এনেছি। মনে আছে ওকে যখন আমি প্রথমবার ধর্ষন করি সেই সময়টার কথা। একটা একটা করে যখন আমি ওর কাপড় খুলে নিচ্ছিলাম তখন দুঃসহ লজ্জা, ক্ষোভ, অভিমানে যন্ত্রণায় চিৎকার করছিলো ও। সেই চিৎকার শুনে আমার মায়া হয়নি। বরং রক্তের মধ্যে যেন আনন্দের বান ডেকে গিয়েছিলো। আমি অমানুষিক শক্তিতে অসুরের মত খুবলে খামচে রক্তাক্ত করেছিলাম ওকে সেদিন। তারপর থেকে প্রতিদিন ওর ভয়, চিৎকার আমাকে আরো উত্তেজিত করে তুলতো। তবে দুর্বলরাও যে কখনো রুখে দাঁড়ায় না তা নয়। কিন্তু প্রমত্ত শক্তির সামনে সে আয়োজন খুবই ক্ষুদ্র। ওর প্রতিবাদ রুখে দেবার ভাষা আমার জানা ছিলো। একটা একটা করে নখ উপড়ে নিয়েছি ওর। সুন্দর নরম হাতগুলো থেকে যখন ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে, তখন ও টের পায় সবলের শক্তি। প্রতিবাদের ভাষা মরে আসে। কিছুদিন বিশ্রাম তারপর ওকে আমি আবার জাগিয়ে তুলি আরেক পাশবিকতার জন্য। না না, এমন অবশ্য বেশি দিন হবে না। কোনো পুরুষকে এক নারীতে স্থির থাকতে দেখেছেন? আমিও থাকি না। পাশবিকতার মত নিটোল চিত্তবিনোদন আর হয় না। ভাবছেন এই প্রথম কিনা? না দশ বছরের শিশুটিকে যখন এই কষ্ট দিয়েছিলাম তার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। কিংবা হারিয়ে যাওয়া সেই দুর্দান্ত মেয়েটি। মুখে যার কথার ফুলকি উঠতো প্রতিবারে। আমিই ওকে প্রথম দেখিয়েছিলাম শক্তি কেবল কথায় থাকে না, তাতে গায়ের জোরও লাগে। ওকে ধর্ষন করতে সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো। ওর একটা স্তন কেটে আমি একটি পুরুষ কুকুরকে দিয়ে একবার খাইয়েছিলাম। সে তৃপ্তির তুলনা হয় না। আমার বাড়ির পেছনের যে পুরাতন কুয়া সেখানে একে একে জমছে ওদের হাঁড়। ওকেও আমি সেখানেই পাঠাবো। নারী সত্ত্বা দুর্বলতার প্রতিক, পুরুষ সত্ত্বা উত্থানের। আমার দানব দাঁত এই চীর সত্য খুঁজে বেড়ায় দুর্বল নারীদের মাঝে। শধু একটি প্রশ্নে মাঝে মাঝে থেমে যাই। প্রশ্নটা যে কি তা কখনোই স্পস্ট হয় না মনে। একে একে দুর্বল শিকারের রক্তে হাত ডুবিয়ে আমি ডুগরে কাঁদি। না, কোন যন্ত্রনায় নয়, ক্ষোভেও নয়। আসলে জানি না। সব নারীই ধরা দেয়, শুধু একজন ছাড়া। আমি চিৎকার করি সামনে এসো, সামনে এসো সাহস থাকলে। কিন্তু সে যেন আড়ালে আবডালে কুটকুট করে কেটে চলে আমার সাহসের সুতো। পৌরুষিক উত্থানের যৌবন সময়। আমি স্বীকার করি না, আমি মানি না এসব। পৌরুষিকতা ছাপিয়ে যাবে না কোন কিছু। যেতে পারে না। আমি জান্তব জিঘাংসায় আবার ঝাঁপিয়ে পড়ি দুর্বল নারীর উপর। তবু যেন সেই আড়ালের নারী মুখ টিপে বিদ্রুপ করতে থাকে সর্বদা। দৃষ্টিতে তার কি বিপুল শক্তি! যেন গুলাল হাতে ডেভিডের সামনে আমি ছোট্ট গালিয়াথ। না, না, না আমি ওই ছোট্ট দৃষ্টিতে হেলে পড়বো না মাটিতে। পেরুষ কখনো নারীত্বের কাছে হেলে পড়তে পারে না। সে জয়ী। জন্ম থেকে নারীত্ব ভিরুতা, দুর্বলতার বিরুদ্ধে জয়ী পুরুষ। এখন এই চকচকে ফলার খোলা ছুরি সামনে আমি দাঁড়িয়েছি ওই নারীর বিরুদ্ধে। এসো দেখি নারী, কত শক্তি ধরো তুমি তোমার পাঁজরে! ওই তো সেই মুখ। আহ্ কি যন্ত্রনাময় তোমার হাসি। খুন করবো তোমায় এসো। নারী মুখটা মনে হয় যেন চেনা। কি দুঃসহ শক্তি তোমার। বাতাসে ছুরির কেবল সা সা শব্দ উঠে। সেই ধারে শুধু আমার পৌরুষই খন্ড খন্ড হয়। কিন্তু নারী মুখটার সূঁচাগ্রের স্পর্শও পাই না।
বিখন্ডকাহন
জানালার এই ঝাপসা কাঁচটার ভেতর দিয়ে আমি মাঝে মাঝে উঁকি দেই। এখানে উঁকি দিতে আমার ভালো লাগে। মনে হয় যেন মানুষের কাছাকাছি ফিরে গেছি। ঘরটার ভেতর একটা ছোট্ট শিশু খেলা করে। ওর চারপাশে ছড়ানো ছিটানো অসংখ্য খেলনা। কোন কোনটা নিয়ে ও আপন মনে চাটে, চোষে। শিশুটির কচি মুখের কচি লালা খেলনাগুলোয় লেপ্টে যায়। এসবই দেখতে আমার ভালো লাগে। ইচ্ছে হয় দরজায় ধাক্কা দেই। শিশুটির সাথে একটু খেলি। আর সব বড় বড় মানুষ যেমন মানুষ চিনে গেছে এই শিশুটি হয়তো এখনো মানুষ চিনতে শুরু করেনি। তাইতো জানালার এই ঘষা কাঁচের বাইরে আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ও মাঝে মাঝে হাসে। নিঃস্পাপ ওই সরল হাসিতে যেন মানুষ না চেনার আনন্দ। ও যেন আমাকে ডাকে, এসো এসো ভয় নেই। আমি এখনো মানুষ চিনি না। চলো খেলি দুজনে মিলে। আমি মাঝে মাঝেই এই জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে এসব অর্থহীন কথা ভাবি। কখনো শিশুটির মা চলে আসে। আমাকে দেখে ভয় পায়, গালি দেয়। হয়তো নিভৃত অন্দর মহলে শিশুটির কপালের কোণে কালো টিপ দিয়ে বলে, বালাইষাট। এসব ভাবতে গেলে আমার কেন যেন তীব্র অভিমান হয়। ক্ষোভে দুঃখে কখনো কখনো নিজেকে নিজে আঁচরাই, কামরাই। কখনো আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত হই। এতো সেই একই রকম মানুষ! কই আমিও তো ওদেরই মত। মাঝে মাঝে মনে পড়ে শৈশবের স্মৃতি। যদিও সেসব মনে পড়বারই কথা। কারণ শিশুমনে স্মৃতি যখন থেকে জমাট বাঁধতে শুরু করলো, ততদিনে আমি বুঝতে শিখে গেছি মানুষকে, নিজেকেও। ও আমার বাবা, ওই যে আমার মা, ওই যে আমার ভাই, এ্ই হলো আমার বোন। তারপর বুঝতে শিখেছিলাম বিকৃতি। ভাই বোনের সাথে পার্থক্য আমাকে ভালোমত বুঝিয়ে দিয়েছিলো আমি প্রকৃতির বিকৃত সন্তান। জন্ম বিকৃত মানুষ। তখন থেকেই মনের অজান্তে আমি চিনতে শিখেছি লিঙ্গ। আমার মা একজন মেয়ে, আমার বাবা একজন ছেলে। আমার বোন হলো মেয়ে, আর আমার ভাই, যে মাঝে মাঝে আমার সামনে এসে চোখ বড় বড় করে নির্বাক তাকিয়ে থাকতো সে একজন ছেলে। কিন্তু আমি তোমার কি হই মা? আমি তোমার কে? নিশুতি রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে মা কাঁদতেন জরিয়ে ধরে আমাকে।
চলবে..





পড়লাম
কেমন লাগলো জানাবেন কী?
মন্তব্য করুন