যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে হল্যান্ডে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইন্যাল অনুষ্ঠিত
কাল থেকেই সারা হল্যান্ডে সাজ সাজ রব ছিলো আজ একটি “বিশেষ” দিন। আমাদের মাসের শেষ। একাউন্টিং মানেই বড় ব্যস্ততা এ কয়দিন। তাই বস বললেন ছুটি নেয়া তোমাদের পক্ষে সম্ভব না, এক কাজ করো সকালে শুরু করে যার যার ডেড লাইন শেষ করে চলে যাও, ফুটবলের আগে। আমি বলেছি সকাল সাতটায় অফিসে আসা আমার পক্ষে সম্ভব না। এছাড়াও এ নিয়মের আওতায় আমি পরি না। আমি পরের দুমাস যেহেতু মান্থলি ক্লোজিং এ থাকবো না, আমার রিপ্লেসমেন্ট আনা হয়েছে যাকে খুব ভালো করে আমার সব বুঝিয়ে দিতে হবে পরের দুমাসের জন্য। কিন্তু সাড়ে তিনটায় বস বললেন, তুমি যেতে চাইলে যেতে পারো। আমার মনে হলো তার নিজেরই যাওয়ার ইচ্ছা, আমি না গেলে কিভাবে যায় একটা ভদ্রতা আছে না?
বস এ কথা বলা মাত্র আমি আমার ওনাকে ফোন দিলাম, যাতে আর মত পরিবর্তন না করতে পারে কোন পক্ষ। ওনিও তখন সব গোছাচ্ছে। তাদের ওখানেও অবস্থা তাই সব যাচ্ছে ফুটবল দেখতে। আমি বললাম আমাকেও নিয়ে যাও। গাড়িতে ওঠে বললাম, সিটি সেন্টারে বড় টিভি স্ক্রীন দিয়েছে, সবাই সেখানে যাচ্ছে আমরা চলো সেখানে যাই। ওনি কিছুতেই যাবেন না। এতো গরমে ওনার বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। ঘরে বসে নিরিবিলিতে খেলা দেখবেন, কোন ডির্স্টাবেন্স নিতে পারবেন না। আমি বললাম, অসম্ভব আমি ওখানেই যাবো খেলা দেখতে, সারা শহর ওখানে জমা হয়েছে। তুমি বাংলাদেশ থেকে এসে হল্যান্ডে কিসের গরম গরম করো? শেষকালে রফা হলো আমরা হাফ টাইমের ব্রেকে সিটি সেন্টারে যাবো, এখন গেলে কিছু খেলা মিস হয়ে যাবে। যাক ফিফটি ফিফটি হলো।
এ বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে আজকে সারাদিন রেডিওতে অবিরাম দেশাত্ববোধক গান বাজিয়েছে প্রায় সব গুলো সেন্টার। সব টিভি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ফুটবল দেখাচ্ছে। আজকে প্রথম এ বছরের পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী গরম ছিল এবং ফুটবল ছিল উপলক্ষ্যে অরেঞ্জ কোটিং দেয়া আইসক্রীম খাওয়ালো অফিস আমাদের সবাইকে। সবার বাড়িতে বাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ছে। মোটামুটি সবাই কমলা কাপড় পরে বের হয়েছেন, কেউ চুলে কমলা রঙ করেছেন। দেশপ্রেম দেখানোর জন্যে না বুকে ধারন করার জন্যে আবারো এখানে অনুভব করলাম। এ জীবনে এই প্রথম আমার রাস্তায় নেমে খেলা দেখা। মাতৃভূমি যেই স্বাধীনতা আর নিরাপত্তা আমায় দিতে পারেনি, প্রবাস তা দিয়েছে। একসাথে মাঠে বসে খেলা দেখার কি যে অনভুতি আজ প্রথম জানলাম।
আসুন এবার কিছু ছবি দেখি
পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী তাপমাত্রার এই রৌদ্রজ্জোল সুন্দর দিনে রাস্তা ঘাট পুরো ফাঁকা বেলা তিনটায়
হিউন্দাই এর সৌজন্যে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে এন্ডহোভেনের সবচেয়ে বড় স্ক্রীন
ড্র'র আগে গর্বিত ব্রাজিল সমর্থকরা
সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা এদের থেকে শিখতে হয় এখনো। হাজার পাঁচেক হল্যান্ডবাসীর ভীড়ে গোটাকয় ব্রাজিলিয়ান নির্ভয়ে খেলা দেখছে। এটা কোনদিন বাংলাদেশে সম্ভব? গালগল্প দিয়ে লাভ নেই। যেদেশে নতুন বছর উদযাপনের সময় নিজের বোনদের আক্রমন করা হয় সেদেশে এ দৃশ্য কখনোই সম্ভব না। প্রবাস তাই এক ধরনের মুক্তি, মেয়ে বলেতো বটেই
উৎকন্ঠিত অরেঞ্জ সমর্থকরা
ফুটবল খেলায় বলের পরের আবশ্যিক উপকরন, ঠোলা বাহিনী
ড্র হওয়ার আনন্দ
আজকে বছরের প্রথম পঁয়ত্রিশ ডিগ্রী। তাপমাত্রা যতোই থাকুক খেলা দেখতে জনগন যাবেই। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। কেউ যাতে ফেন্ট না হন, কিংবা শরীর যাতে খারাপ না করে সেজন্য ভীড়ের গায়ে পানি ছিটিয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা
দ্বিতীয় গোলের পরে জয়ের আনন্দ
দুঃখিত ব্রাজিলিয়ানরা
খুশী প্রবাসীরা
বারবার আনন্দ রিপ্লে
এন্ডহোভেন অডিয়েন্সকে বারবার রিপ্লে করা হচ্ছে
বিজয়ের উল্লাস হাতে নিয়ে "ডেমো" গোল্ড কাপ
ব্যস্ত মিডিয়া
সব আনন্দ শেষে, দলে গেছে আমায় পিশে
এতো লোকের ভিড়ে মেঘ ঠিক করে স্ক্রীন দেখতে পাচ্ছিলো না। সবচেয়ে মজার ছিল, আমাদের উত্তেজিত চিৎকারে মেঘ আশা করে থাকতো, আরো একটা গোল হলো বলে। চিৎকার শেষ হলেই বলতো এখন কার কয়টা আম্মি? শেষে বলেই ফেললো এতোক্ষন ধরে শুধু দুই আর এক!
ভালো কথা, বেশির ভাগ ছবি "দুলাভাইয়ের" সৌজন্যে। আমি উত্তেজিত ছিলাম বিধায় অনেক ছবি ওনি তুলেছেন
তানবীরা
০২.০৭.১০






















তাতা'পা খুব সুন্দর হয়েছে লেখা।
ধন্যবাদ অদিতিকে
উল্লাস এতো নম্র হয় কেমনে !!
এটা আমারো কথা। এরা উল্লাস কি জানেই না। রামদা, হকিষ্টিক, কাপড় টানাটানি তা না হলে জমে কিছু ?
কবে যে বিদ্যাশ যামু !!
আয় হায় জামাই দেখি বাসর ঘর ছেড়ে ব্লগে? কলিকাল কারে বলে?
অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম এখানে।
তাতাপু,পোষ্ট পড়ে আর ছবি দেখে খুব ভালো লাগলো। আহা, বড় স্ক্রীনে খেলা দেখা খু্বি মিস করি।
জয়ি, এটা আমার জীবনে প্রথম বাইরে খেলা দেখা, আনন্দ আমি কাউকে ভাষায় প্রকাশ করে বোঝাতে পারবো না। বাংলাদেশ খেললে আমার নির্ঘাত হার্ট এ্যাটাক হতো
কাল খেলা দেখেছি (এটা দিয়ে এবারের বউনি করলাম), তোমার কথা মনে হচ্ছিলো বার বার। অভিনন্দন। জার্মানির সাথে ফাইনাল খেলুক নেদারল্যান্ডস।
পোস্ট দারুণ, খেলার পটভূমিতেও সিরিয়াস টোকা। দুলাভাইকেও ধনিয়া।
নুশেরাপু, টাইপিং মিসটেক হয়েছে মনে হয়। জার্মানী আসলো কোথ্থেকে?বালাই ষাট!!!!!!!
নাহ্ জার্মানিই। জ দিয়ে জয়িতা, জ দিয়ে জেবীন, জ দিয়ে জার্মানী।
খেলাধূলা জাহান্নামে যাক, আমি টিম পছন্দ করি জার্সির ডিজাইন/কালার কম্বিনেশন দেখে। জার্মানির উপর কেউ নাই
তিরিশ পার হওয়ার আগেও কি তা-ই করতেন?
আলবাত!
ভাস্করদার দুরন্ত ফুটবল সিরিজে বহু আগেই জার্মানিভক্তির কথা বলছি, বিশ্বাস না হ্ইলে দেইখা আসো আবার। '৯০-এ এসএসসি দিয়া ওয়ার্ল্ড কাপ দেখনের সময় ৩০ পার হওনের কথা না
না না, আপনার মত ভালো মানুষ জার্মানি সাপোর্ট করবে কেনো?



এই সব কি? নাহ, ছিহ..মানায় না আপু!!!
স্পেইন সুন্দর দল, আপনি বলেন নেদারল্যান্ড আর স্পেইন খেলবে!!
আমিও এটা দিয়েই বউনি করলাম খেলা দেখা। চিমটি।
নেদারল্যান্ডস খেলবে আর আমারে তুমি মনে করবা না এটা কি হয়? আমিও তোমার সাথে আছি। নেদারল্যান্ডস আর জার্মানী খেলুক আর সব্বাইকে বলেছি নেদারল্যান্ডস জিতলে আমি পার্টি দিবো।
তুমি কি পার্টিটা দেশে আসার পর দিবা?
তাইলে আমি্ও কমলাপাট্টি
ন'তে নুশেরা ন'তে নেদারল্যান্ডস। তুমি ঢাকা আসবা পার্টি আমি ঢাকাতেই দিবো, এনশাল্লাহ
ডাচ ভাষায় কনগ্রাচুলেশনসকে কি বলে? সেইটা জানালাম আপনাদের ট্রায়োকে
সহনশীলতা আর পানি ছিটানোর ছবিটা মুগ্ধ করলো ... আসলেই, একটা সুস্থ্য সিস্টেমের উপর কিছু নাই!
Gefeliciteerd (গেফেলেসিটিয়ার্ড) এর জন্য Dank U wel আপনাকে।
দারুণ! লেখা, ছবি, সবই খুবই ভালো লাগলো। কখনও এই পরিবেশে খেলা দেখা হয় নি, আদৌ হবে কিনা কখনও, জানি না। কাল এক বন্ধুর বাসায় খেলা দেখলাম, ছয়জন। মাঝে মাঝেই চিৎকার, হতাশা, আনন্দ। সেটাকে কয়েক হাজার দিয়ে গুণ করে বুঝতে পারলাম এন্ডহোভেনে কতোটা মজা হলো কাল। আশা করি নেদারল্যান্ডস এবার অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত যাবে, কাপ জিতলেও জিতুক, অখুশি হবো না।
আশা করি নেদারল্যান্ডস এবার অন্তত ফাইনাল পর্যন্ত যাবে, কাপ জিতলেও জিতুক, অখুশি হবো না। Smile
আপনার মুখে ঘি চিনি, আইসক্রীম, লাজানিয়া, কাচ্চি সব দিলাম
দুলা ভাই,দুলা ভাই
নেদারল্যান্ডরে দ্যাখতাম চাই!
না করলো কে?
"বিজয়ের এইদিনে তাতা তোমায় পড়ে মনে"
লেখা এবং ছবি জটিল হয়েছে.................
তোমাকেতো আমার সব সময়ই মনে পড়ে
ছবি দেখে টের পাওয়া যাচ্ছে গরম ভালোই পড়েছিলো। সুন্দর পোস্ট। থ্যাঙ্কিউ
ধন্যবাদ
ছবি দেইখাই বুঝা যাইতাছে...
আর এটা বুঝা গেছে যে "শকুনের দোয়ায় গরু মরে না"
হুমম, সবাই বিদেশের সুন্দর গোছানো আনন্দের প্রশংসা করতাছে দেইখা একটু মন খারাপ হৈছে!!
আমাগো দেশে কিরাম গাবুইরা আনন্দ করে, প্রতিপক্ষরে ভেঙ্গচি দিয়া বিব্রত করে, কি মজা, কি মজা!!
আর এ আর কি আনন্দ!! আমাদের দেশ ফুটবল বিশ্বকাপ খেল্লে চিন্তা কৈরা দেখছেন, সারা দুনিয়া ব্যাপী আনন্দের চিত্র টের পাওয়া যাইতো, ওয়ার্ল্ড টেম্প ০.৫ ডিগ্রি বাইড়া যাইতো, হার্ট এ্যাটাকে অন্তত কয়েক লাখ লোক মারা যাইতো!!!!
ফডু গুলা জুশ। এডির জন্য বিদেশে যাইতে মন্চায়!!
নেদারল্যান্ড ফুটবল দলের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য হৈলে, কমলা রংয়ের একটা ড্রেস, অথচ টীমটারে, তার চাইতেও বেশি, সমর্থকদের রে, ব্যাপক মানায়!!!
নেদারল্যান্ড দলটারে কমবেশি সবাই লাইকায়, ভালো দল, ফাইনালে খেলুক, স্পেইন বনাম নেদারল্যান্ড।
মানে কট্টর কুটিল জটিল ল্যাটিন সাপুর্টার বাদে!!!
আমার সেকেণ্ড টীম ইংল্যাণ্ড ছিল
, কারণ আমি বেকহ্যামরে ভালু পাই
নেদারল্যান্ড আর যেকোন দল হলেই আমার চলবে
বিলাই তোমারে "মীন করে নাই" ভাঙ্গা। তুমি যে সবার মধ্যে পড়ো না সেটা বিলাই এখনো জানে না
এরকম একটা লেখা ও ছবিই আপনার কাছ থেকে আশা করছিলাম। দারুণ একটা পোস্ট হইছে এইটা।
থ্যাঙ্কু মাসুম ভাই।
আপনার কমেন্টও কিন্তু দারুন হইছে একদম রেড কাউ ঘি এর এ্যাড এর মতো, এমন রান্নাই তোমার কাছে আশা করেছিলুম বউমা
ও, রেডকাউ বাটার ওয়েল? আমিই তো বাজার থেকে কিনে আনি!!!
এই অ্যাডটা নেক্সট টাইম মন দিয়ে দেখবা। পাত্রপাত্রী সবাই এক্ই কায়দায় ভুরু তুলে কথা বলে
তাই নাকি, দেখতে হবেতো এবার দেশে এসে
চান গেলসাটা সিরাম
মন্তব্য করুন