বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে কিছু বলতে চাই
তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। প্রায় সবক'টি গ্রুপ অব কোম্পানী, এনজিও, সরকারী-বেসরকারী অফিসের এখন ওয়েব সাইট আছে। মানদন্ডের বিচারে না হয় নাই গেলাম সেসকল ওয়েবসাইটের। ঘরে ঘরে এখন ইন্টারনেট। ছেলে মেয়েরা এখন বাহিরে খেলতে না যেয়ে বাসায় বসে সারাদিন চ্যাটিং এবং ওয়েব ব্রাউজিং এ ব্যস্ত। অথচ পাশের দেশ ভারত দিকে তাকালে দেখি চ্যাটিং এ ব্যস্ত না থেকে সেই একই বয়সের ছেলে মেয়েরা চ্যাটিং সফটওয়্যার কিভাবে কাজ করে অথবা কিভাবে এটা ডেভেলপ করা হলো তা জানতে বেশি আগ্রহী।
ফলাফল কি? আমরা ব্যবহারকারি হিসেবে অনেক এগিয়ে গেছি, আর তারা এগিয়েছে তা তৈরীর ক্ষেত্রে। এর বহুবিধ কারণ থাকতে পারে। তবে কেন যেন আমি এর বেশির ভাগ দোষ নিজে নিতে রাজি। আমার মনে হয়েছে আমরা যারা সরাসরি এই বিষয়ে পড়াশোনা করেছি কিংবা করছি তারা নিজেদেরকে দূরে রেখেছি দেশের উন্নয়নে অংশ নেয়া থেকে। হ্যাঁ, ঠিক তাই করেছি। কারণ আমরা নিয়মিত নিজেদের ব্লগে নিজেদের গুনকীর্তন গাইনি। বিদেশি কোন প্রকাশকের বইকে মডিফাই করে নিজেরা আবার লিখিনি অথবা অনুবাদ করে বাংলাদেশের বাজারে ছাড়িনি। আরো কিছু কাজ আমরা করতে পারতাম। যেমন নিজেদের কে কেউ তেল দিয়ে চলুক এমন কিছু সাংগ পাংগ যোগাড় করিনি যারা হরহামেশাই আমাদেরকে কথায় কথায় গুরু গুরু করবে। তাহলে হয়তো বাংলাদেশের বাজারে হয়ে উঠতে পারতাম চরম জনপ্রিয় একজন প্রযুক্তিবিদ। এর পেছনেও যে কারণ নেই তা কিন্তু না। হয়তো যারা এই কাজগুলো করেননি তারা হয়তো ভাবছেন জানার কোন শেষ নেই। কতটুকু জানার পর নিজেকে গুরু বলে দাবি করা যায় আমরা হয়তো সেই ব্যাপারে সন্দিহান।
বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তিতে যারা অধ্যায়নরত আছেন অথবা যারা এই বিষয়ে অধ্যায়ন করেছেন অথবা যারা অধ্যাপনাতেই আছেন তাদের দিকে আজ আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষ হয়ে আজ আমার আঙ্গুল তোলার সাহস হচ্ছে। এর কারণ, গুগলের মত কোম্পানীর এওয়ার্ড পাওয়া ছেলে আমাদেরী বাংলাদেশী। তারও কিন্তু কম্পিউটার সায়েন্সে একটা ডিগ্রি ছিলো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি কয়েকদিন ধরে ফেইসবুকে কিছু ছবি আমাকে খুব পীড়া দিচ্ছে।
ডুয়েটের প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গঠনের উপর সেমিনার হলো। তাতে প্রথম সারিতে বসে অথবা সেমিনারে বক্তাদের বেশির ভাগই অন্য বিষয়ে থেকে ডাইভার্ট হয়ে আসা ব্যক্তিত্ব। তারা অবশ্যই নিজ নিজ অবস্থানে যথেষ্ঠ সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তাদেরকে যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি বলছি, এই যে সকল শিক্ষার্থী কষ্ট করে কম্পাইলার ডিজাইন অথবা নিউরাল নেটয়ার্কের মত বিষয় গুলো পড়ে চার বছরের একটা ডিগ্রী নিচ্ছেন অথবা সামনে আরো বড় কোন ডিগ্রী নিবেন তাদের এত কষ্ট করার কোনই প্রয়োজন নেই। বাংলা অথবা সমাজবিজ্ঞান পড়েও কিন্তু আপনারা এমন ভবিষ্যত প্রযুক্তিবিদদের সামনে এমন সম্মান পেতে পারতেন। তাহলে কেন এত কষ্ট করে এইসব বিষয়ে পড়াশোনা করছেন? কেনইবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খুলে রেখেছেন এইসব বিভাগগুলো? কেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্স পড়ানোর জন্য খুঁজছেন এই বিষয়ে অনার্স অথবা মাস্টার্স।
লজ্জা কি শুধু এই শিক্ষার্থীদের, নাকি ওই বিভাগের শিক্ষকদেরও? এই শিক্ষার্থীরা কি ভাববেনা যে কেন তারা এত কষ্ট করে এইচ এস সি তে ভাল ফলাফল করার জন্য কষ্ট করেছে? যেখানে তারা অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেও এমন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হতে পারতো? আর ধ্বিক সেই সকল শিক্ষকদের যারা ছাত্রদের সঠিক রাস্তা দেখানোর জন্য ডেকে আনেন এমন কিছু ব্যক্তিত্ব যারা জীবনে কোনদিন তাদের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গবেষণাপত্র করার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননা।
আমি এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই, একজন ডাক্তারের কাজ কিন্তু একজন কম্পাউন্ডারকে দিয়ে কোনদিনও সম্ভব নয়। যদি তাই সম্ভব হতো তাহলে বিশ্বজুড়ে এই বিষয়ে এত গবেষণার কোন প্রয়োজন হতোনা। প্রয়োজন ছিলোনা এত উচ্চ শিক্ষার। অপারেশন থিয়েটারে একজন নার্স অথবা কম্পাউন্ডারও সেরে ফেলতে পারতো জটিল অপারেশন।
বলতে পারেন অনেকে আছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্নভাবে স্বীকৃত। আমি কোন স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখছিনা, কিন্তু আমার প্রশ্ন উন্নত বিশ্বকি আদৌ চায় কিনা আমাদের উন্নতি? এর বিচার যে যার ক্ষেত্রে করে নিবেন।
আরো বলবো, বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তথ্য প্রযুক্তিবিদদের কথায়? তারা যদি আসলেই এত মেধার অধিকারী হয়ে থাকেন কেন তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সেই মেধা প্রমাণ করতে পারলেননা।
সবদিক বিচার করে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যত অন্ধকার এবং একটা সময় আসবে যখন হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ফলশ্রুতিতে এই বিষয়ে গবেষনার ভবিষ্যত নেই বললেই চলে।
বিঃদ্রঃ - কাউকে ব্যক্তিগতভাবে খাট করার কোন ইচ্ছেই নেই এই লিখার পেছনে। শুধুমাত্র আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যত ভেবে ভয় হয়, তাই নিজের ভয় দূর করার জন্য লিখা।





প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুলোতে এখনি CSE'তে ভর্তি প্রায় শুন্যের কোঠায়।
যাক তুমি অনেক গুলো বিষয়ে আলোকপাত করেছো... ভাল লাগলো... এখন তোমাকে বলি.. তুমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে ছোট ছোট সহজে বোধগম্য কিছু টিউটোরিয়াল তৈরী করো... এবং সেইগুলারে চারিদিকে ছড়িয়ে দেও।
আসো কে কি করলো কি করলো না ... এইটা বাদ দিয়া আমরা কি করলাম এই দুখি দেশটার জন্য ... সেটা দেখি... আসো আমরা শুরু করি.. কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে। সেটা তুমি নয় ক্যান?
তুমি এগিয়ে আসো... আমরাবন্ধুর সকল ব্লগার তোমার পাশে দাড়াবে... প্রচার.. প্রসার.. সব কিছু...
একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা শুনছো? খান একাডেমি... সালমান খানের মত করে যিনি গুগলাংকেলের Project 10100 Winners জয় করেছেন... এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফ্যান হিসেবে বিল গেটস নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়।
আসো ... আমরা শুরু করি...
ধন্যবাদ টুটুল ভাই। অবশ্যই প্রতি মূহুর্তে চেষ্টার থাকি কিছু একটা করার জন্য। এবার বাংলাদেশ যাবার সময় বেশ বড় একটি প্রজেক্ট নিয়ে যেয়ে শুরু করে দিয়ে আসার পর ফিরে আর ঠিকমত কাজ পাইনা। ফলশ্রুতিতে প্রজেক্ট বাতিল।
তারপরও আরো চেষ্টায় আছি। মন খারাপ করে বসে থাকার ইচ্ছে নেই। কোন না কোন ভাবে কিছু একটা করতেই হবে।
কিন্তু আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রের নেতৃত্ব এখন ভিন্ন দিকে। এর ফলে ছোট ছোট বেশ ভাল কাজ হচ্ছে, কিন্তু বড় কাজগুলো আমরা হারাচ্ছি। কষ্ট লাগে দেখে আমাদের চিন্তা ভাবনা, অভাবে থাকতে থাকতে আমাদের দেশের মানুষগুলো মনে হয় এখন বড় কিছু ভাবতে পারেনা। তাই ডাক্তার হয়ে এখন কম্পাউন্ডারদের সামনে মাথা নত করছে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে গেছে।
কিছু প্ল্যান আছে, একটু ফ্রি হলেই হাত দিব। যদিও জানিনা এই জিবনে আর ফ্রি হওয়া হবে কিনা।
এলোমেলো ভাবে ভাবনাগুলো আমিও ভাবি। তবে বাংলাদেশের বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্টান (শুধু বেক্সিমকো, স্কয়ার নয়) গুলো কম্পিউটারে অনেক এগিয়ে গেছে। ইন্টারনাল পুরো তারা কম্পিউটারাইসড হয়ে গেছে। দক্ষ জনবল, সুসজ্জিত আইটি বিভাগ সহ সব ব্যবস্থা করে নিয়েছে। মাঝারি প্রতিষ্ঠান গুলো এখনো কম্পিউটার বিশ্বাস করে না, কম্পিউটার আছে, কিন্তু খাতা কলম করে। ছোটদের এ বিষয়ে আগ্রহ নেই।
সরকার পুরাপুরি ফেইল মেরে আছে! কিছু বছর আগে আমি সচিবালয়ে প্রাইমারি ও মাস এডুকেশনে একটা প্রজেক্টে গিয়ে বুঝেছিলাম তাদের করুন অবস্থা! তবে খুশির খরব কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা এখন ফেইসবুকে আছেন (হাসবেন না)! এরা আগামীতে যদি স্বার্থ না দেখে তবে মঙ্গল হবে।
বাংলাদেশে নানা ব্যাংক, বীমা, মোবাইল কোম্পানি বেশ ভাল এগিয়েছে। কাগজ ব্যবহার কম করছে।
টুটুল ভাইয়ের কথার সাথে আমি একমত। আমাদেরই এগিয়ে যেতে হবে। আন্তজার্তিক পথে আমাদের প্রোগ্রামারা সফল হবেই যদি আগে নিজ ঘরটা সামাল দেওয়া যায়।
শুভ কামনা প্রিয় দেশের জন্য।
ধন্যবাদ উদরাজী ভাই।
সিএসইতে আমাদের দুই বছরের প্রতি বছরেই ম্যাথের কোর্স ছিল...তারপরেও আছে কনক্রিট ম্যাথ -নিউমেরিকাল মেথড। এখানে লিনিয়ার ইকুয়েশন সল্ভ করার একটা থিওরি আমাদের পড়ানো হয় যার আবিষ্কারক নোবেল পেয়েছিলেন। কিসে পেয়েছিলেন জানেন? অর্থনীতিতে। সেই একই থিওরি আমরা কম্পুবিজ্ঞান-গণিতসহ অন্যান্য শাখার ছাত্ররাও পড়ছি। তথ্যপ্রযুক্তি লাইনের হলে আপনিও জানেন যে কম্পুবিজ্ঞানের ভিত্তির অনেকটাই ম্যাথ। উদাহরণ দেই একটা-- বুয়েটের ২০০৮ এর সিএসই ফেস্টিভালে ম্যাথ অলিম্পিয়াড আর প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ছিল। যে দলটা প্রোগ্রামিং কনটেস্টে জিতে, তার তিন সদস্যই আবার ম্যাথ অলিম্পিয়াডে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় হয়।
কম্পুবিজ্ঞান শুধুই কম্পুবিজ্ঞান না...আরও অনেক কিছু। সুতরাং সেসবে দক্ষ হলেও কম্পুবিজ্ঞানে সফল হওয়া যায়। যেমন শুধু ম্যাথমেটিক্স ভাল জেনেই আপনি কম্পুবিজ্ঞানের নোবেল বলে পরিচিত ট্যুরিং এওয়ার্ড পেতে পারেন।
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির যদি বাজে অবস্থা হয় তা আসলে যতো না কম্পুবিদদের কম্পুজ্ঞান প্রয়োগের অভাবে, তার চাইতে বেশি এন্টারপ্রেনারশিপের অভাবে। তাই ভালো এন্টারপ্রেনাররাই সফল হচ্ছেন, তিনি যতো ভাল কিংবা বাজে কম্পুবিদ হন না কেন।
পোস্টে পুরাপুরি একমত।
আমাদের বিশাল জনগোষ্টি একটা বিশাল কনজ্যুমার মার্কেট। আমরা এই শক্তি কাজে লাগাইতে পারিনাই। গ্রামীন, ওয়ারিদ, বাংলালিংক রা এই বিশাল কনজ্যুমার মার্কেট কে টার্গেট করেই এই দেশে আসছে...
কিছুদিন পর পর একটা করে হুজুগ হয় আর সবাই ঐটা নিয়া মাতামাতি করে। এক সময় কম্পু সাইন্স পড়ার গুজুগ ছিল, এখন বিবিএ/এমবিএ এর হুজুগ। আমাদের মেইন প্রবলেম টা হইল আমাদের কোনো ভিসন নাই।
কে কইছে আমাগো ভিশন নাই? নিউ ভিশন নামে কতগুলা বাস মতিঝিল থেকে মিরপুর যায়
যাউকগা... আসলেই আমাদের কোন ভিশন নাই... কোন নেতা নাই যে অনেকদুর পর্যন্ত দেখতে পারে...
টুটুল ভাই, ভালা কয়েছেন।
আমার তো মনে হয় প্রধানমন্ত্রী সহ গোটা ১০/১২ জন ভালা লোক/ ভালা নেতা (বিশ্বনেতা মাপের না হলেও চলবে) হলে দেশটা বেঁচে যেত।
আরেকটা জিনিস হইলো যারা তথ্যপ্রযুক্তিতে পড়াশোনা করে তাদের বেশীর ভাগই বিদেশে পড়াশোনা গিয়ে দেশে ফেরত আসে না বা আসার চিন্তা ও ইচ্ছা প্রকাশ করে না। ( আমিও এই দলে )। তাই দেশ এদের সার্ভিসও পায় না। সেইটা গবেষনা -শিক্ষকতা থেকে শুরু করে ব্যবসা পর্যন্ত।
আর তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করতে হলে কম্পুতে ডিগ্রি থাকতে হবে সেইটা সবসময় ঠিক না। দেশে অনেক সেইরকম কাজ জানেঅলা লোক আছে যারা অন্য ডিসিপ্লিন এ পড়া। সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেইরকম জিপিএ নিয়া পাশ করা পোলা দেখছি সেই রকম কোডিং জানে কিন্তু বাজারে চলতে পারে সেইরকম সফটওয়্যার তৈড়ি করতে গিয়ে পারে না, অথচ সিভিলে ডিপ্লোমা করা পোলা সেইরকম প্রজেক্টে কাজ করে ও সেইটা বাজারও পায়।
এই বিষয়ে আমি আমাদের প্রিয় ভাঙার সাথে একমত। "বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির যদি বাজে অবস্থা হয় তা আসলে যতো না কম্পুবিদদের কম্পুজ্ঞান প্রয়োগের অভাবে, তার চাইতে বেশি এন্টারপ্রেনারশিপের অভাবে। তাই ভালো এন্টারপ্রেনাররাই সফল হচ্ছেন, তিনি যতো ভাল কিংবা বাজে কম্পুবিদ হন না কেন।"
ভাঙ্গা পেন্সিল ভাই, আপনার কথায় যদি আসি, কম্পিউটার সায়েন্স মানে শুধু কম্পিউটার সায়েন্স না। একদম ঠিক কথা, কম্পিউটার সায়েন্স এর জন্য আপনাকে অনেক বিষয় পাশাপাশি পড়তে হয়। এর কারণ হল, আপনি যেন সব ক্ষেত্রে কম্পিউটারের প্রয়োগটা নিশ্চিত করতে পারেন।
তাছাড়া ম্যাথ হলো বিজ্ঞানের জননী। ম্যাথ না জানলে সে কোনদিন ভাল প্রোগ্রামিং জানবে না।
ভাঙ্গা পেন্সিল ভাই এবং সুমন ভাই একটু খেয়াল করে দেখেন,
আসুন একটু হাই লেভেল থেকে ভেবে দেখি। আমাদের দেশের বর্তমানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বদের যোগ্যতা নিয়ে আমি এই কারনে প্রশ্ন তুলেছি কারণ তাদেরকে আমি একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের ব্যবহারকারী ছাড়া কিছুই মনে করিনা। একটা নির্দিষ্ট ল্যাংগুয়েজ জানা মানে কিন্তু হলো ওই ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তারা অনেক ভাল সফটওয়্যার ডেভেলপ করতে পারে, যা কিনা এক সময় রাস্তার পাশের কম্পুউটারের দোকানে ভিজুয়্যাল বেসিক শিখে অনেকেই করতো। আজ ভিজুয়্যাল বেসিক নেই, অবজেক্ট অরিয়েন্টেড কন্সেপ্ট অনেকের কাছে ক্লিয়ার নয় তাই তারা ছিটকে পরেছে। আমি ঠিক এই কথাটায় বোঝাতে চেয়েছি, একটি কিংবা দু'টো ল্যংগুয়েজ খুব ভাল জানা লোক থাকলেই একটি দেশ তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করছে এই ধারণাটা ভুল।
তাছাড়া আমার রাগের আরেকটি কারণ হয়তো খেয়াল করেননি, যে ছেলেগুলো সামনে সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার জন্য আনা হলো বি বি এ গ্র্যাজুয়েট অথবা বাংলায় অনার্স সেই ছেলেগুলো কিন্তু এখনো শিক্ষার্থী তাদের মনে কি ইম্পেক্ট পড়বে? তারা কেন এত কষ্ট করে এত জটিল জটিল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছে?
যারা সেদিন সেমিনারে এই ছেলেগুলোর সামনে সারিতে বসলো, আমার দৃষ্টিতে ঐ ছেলেগুলোর চেয়ে তাদের যোগ্যতা কোন অংশে বেশি নয় বরং কম। তাদের কৃতিত্ব কি? একটি ল্যাঙ্গুয়েজ তারা অনেক বেশি জানে? এইটুকুতো যে কোন ছেলে পারবে। কিন্তু তাদেরকে বলুন যেই ছেলেগুলোর সামনে তারা নিজেদের জাহির করে এসেছে, তাদের ৫টি হাই টেক প্রশ্নের জবাব দিতে। পারবেনা তারা।
ভাইয়ারা, আমি দেশের সব ক্ষেত্রে নেতৃত্বের অভাব দেখছি। ঠিক আমাদের এই ক্ষেত্রটাও বিপথে যাচ্ছে যার ফল আমরা পাবো আজ থেকে ১০ বছর পরে।
সর্বদিকেই আমরা বিরাট কনজ্যুমার দেন প্রোডিউসার। বিদেশের ওপর বিয়ের শাড়ি থেকে খাবার সবকিছুর ওপর নির্ভরশীল এমনকি সিনেমা গান এর জন্যও।
ম্যাথমেটিকসের কথাটা আনা এই কারণেই যে কম্পুবিজ্ঞান জানতে কম্পুবিজ্ঞান থেকেই পড়ে আসতে হবে তা না। আর প্রোগ্রামিংই সব না। কম্পুবিজ্ঞানের আরও অনেক দিক আছে।
মূল সমস্যাটা উদ্যোগের কিংবা নেতৃত্বেরও বলা যায়। গুগল কিংবা ফেসবুকের মতো দুনিয়া কাঁপানো আইডিয়া নিয়ে কেউ মাঠে নামে না, কেউ সাহস করে না। কারো মাথায় ঘুরে...বাইরে গেলে হাই স্যালারি, কি দরকার দেশে কোম্পানি খুলে ধুঁকে ধুঁকে চলার? শুরুর স্ট্রাগলটা করার পর সফল হবে কি হবে না এই চিন্তাও থাকে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন ব্যবসা করা মানে উঁচু লেভেলের ধান্ধাবাজি আয়ত্ত্ব করতে শুরু করা...তা নয়তো দেউলিয়া। এত রিস্ক ফ্যাক্টর চিন্তা করার চাইতে ভাল স্যালারির চাকরিতে ঢুকা কিংবা আউটসোর্সিং করা বেশি ফিজিবল হয়ে যায়। কম্পুবিজ্ঞানের কথা বাদ দেন... অন্যান্য ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মের তরুণদের কয়টা সফল উদ্যোগ আছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বপ্ন দেখাই তো কঠিন!
আবার মূল সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও। রাগিব ভাইয়ের এক লেখায় পড়ছিলাম, উনার সাথে কিছু চাইনিজ গুগলে ইন্টার্ণ করতো, তাদের ইন্টার্ণ করার উদ্দেশ্য হলো বড় কোম্পানি কিভাবে চলে তা জানা। নিজেরাই কিছু একটা করতে চায়, এটাই তাদের স্বপ্ন। আমাদের কম্পুবিজ্ঞানীদের কয়জনের মাথায় এরকম চিন্তা ঘুরে? এমনকি কায়কোবাদ স্যারও স্কলার ছাত্রের উদাহরণ টানতে গিয়ে পাপ্পানার কথা টানবে...কারণ উনি মাইক্রোসফটে চাকরি করে। জাহাঙ্গিরনগরের ছেলে গুগলে চাকরি পেয়েছে...এই নিউজগুলাই ফলাও করে প্রচার করবে। সুতরাং আমাদের স্বপ্ন-চাওয়া-পাওয়া ঐরকম একটা জায়গায় আটকে থাকে। সেখানে সবাই পৌঁছাতে পারে না বটে...যারা পারে সেখানেই থাকে, আর কিছু ভাবার অবকাশ থাকে না।
আমাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা প্রকট প্রকট। খোদ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ, ই-গভর্নেস ইত্যাদি বুলি সেমিনারে আওড়িয়েই খালাস। ই-গভর্নেস বলতে সরকার কি বোঝে তা সরকারের ওয়েবসাইটে দেখলাম। মোবাইল ফোনে বাজারের পন্যমূল্য জেনে নেয়া এবং কম্পিউটারের দোকানে বসে প্রবাসী পুত্রের কাছে পত্র লেখা। আমি কি হতে চাই, আমি কি বানাতে চাই এই ধারণাই যদি না থাকে তাহলে আমাদের রাস্তা দেখাবে কোন ফেরেশতা। উপরের অবস্থা যেখানে এই, সেখানে নীচের ভবিষ্যত খুব বেশী আলোকিত দেখার কথা না।
পোস্ট ও আলোচনা ভালো লাগলো। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, আমাদের ছেলেপিলেরা অনেক কম সাহসী। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতে অভ্যস্ত। অবশ্য সমাজ ও পারিপার্শ্বিকতা এরকম একটা অবস্থা তৈরী করে রেখেছে। তাই এ জন্য ছেলেদেরকে দায়ী করা যায় না কোনমতেই।
এরপরও, এরকম অবস্থার মধ্যেও স্বপ্ন দেখতে হবে, বেঁচে থাকতে হবে এবং অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ হতে হবে; আমাদের ছেলেদেরকেই। একটা কথা চিরস্মরণীয়,
কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ে আবার এম বি এ করে দেখি।
আর ঢাকা তে এই তথ্য প্রযুক্তি যত না এগিয়েছে, সারা দেশে তার ১% ও এগোয়নি।
সরকারের ভ্রান্তনীতি, উদাসিনতা , রিসোর্সের যথাযথ ব্যবহার না করার কারনেই এই অবস্থা, সামনে যে আরও খারাপ হবে - সেটা বলে দেয়া যায়।
পোস্ট ও আলোচনা পড়লাম। নতুন কিছু বলার যোগ্যতা নাই।
:)আসলে আমি বলতে চাই আমাদেরকে তথ্য প্রযুক্তিতে এগুতে হলে সাইন্সের ছাত্রদের মত মানবিক এবং কমার্সের ছাত্রদের ও কম্পিউটার সাইন্স পড়ার সুযোগ দিতে হবে৷:)আসলে আমি বলতে চাই আমাদেরকে তথ্য প্রযুক্তিতে এগুতে হলে সাইন্সের ছাত্রদের মত মানবিক এবং কমার্সের ছাত্রদের ও কম্পিউটার সাইন্স পড়ার সুযোগ দিতে হবে৷
মন্তব্য করুন