আমরা বন্ধু স্মৃতিগাঁথা - ১

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ব্লগে ফেরার কথা, সময় এবং সুযোগ এক হয়ে উঠছিলোনা কোন ভাবেই। এরপর যখন সময় হলো, কিভাবে ফেরা যায় তা ঠিক করতে করতে আরো বেশ কিছু দিন। শেষমেষ ঠিক করলাম, আমরা বন্ধু এই গ্রুপে কিভাবে আমার আগমন এবং এরপর এতগুলো বছর, এতগুলো মানুষকে চেনা, তাদের সাথে আড্ডা দেয়া, মাঝে মাঝে বিভিন্ন বড় ভাইদের বিরক্ত করা, এভাবেই পেরিয়ে গেল ৬টি বছর আমার এই গ্রুপে এসব ক্যাচাল নিয়েই ফিরি। বর্তমানে যা ব্লগ হিসেবে বেশ সুপরিচিত।
এক সময় আমাদের দেশে নয় শুধু সমগ্র পৃথিবীতেই ইয়াগু গ্রুপগুলো ছিলো বেশ জম জমাট। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি ঝোঁক এবং পরবর্তীতে পড়াশোনা এবং পেশার কারনেই কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের সাথে বেশ একটা আত্মীক বন্ধন আমার। “আমরা বন্ধু” এক সময় ছিলো, সম্ভবত এখনো বাংলাদেশের প্রথম সারির ইয়াহু গ্রুপ গুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে এখন আর সেই গ্রুপ মেইলের প্রতি কারো তেমন উৎসাহ না থাকার কারনে, নাম মাত্র চালু আছে ইয়াহুর এই গ্রুপ সার্ভিস। আমার ঠিক মনে নেই কবে এই গ্রুপে আমি জয়েন করিছিলাম, তবে এটা মনে আছে, ২০০৬ এর শুরুর দিক থেকে এই গ্রুপে আমি খুব রেগুলার একজন।
২০০৫ এ অনার্স শেষ করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসা চাকুরীর সন্ধানে। ছোট বেলার সব বন্ধুদের ছেড়ে যখন ঢাকায় চলে আসি, ঠিক তখনি এই গ্রুপটা সেই বন্ধুদের অভাব দূর করেছিল অনেকটাই। এই গ্রুপের মানুষগুলোর সাথে মিশতে যেন একটুও কষ্ট হয়নি। প্রতিদিন ২০০ এর চেয়ে বেশি ই-মেইল আসতো তখন এই গ্রুপে। অফিস থেকে বাসায় ফিরে, নাশতা না করে, জামা কাপড় না ছেড়ে আগে কম্পিউটার অন করে ইয়াহুতে লগইন করে, গ্রুপের মেইল গুলো পড়তে পড়তে হত খাওয়া দাওয়া। এরপর সন্ধায় থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত চলতো না দেখা এই মানুষগুলোর সাথে চ্যাটিং।
কিছুদিন এভাবে যাবার পরে, হঠাৎ একদিন দেখি রনি নামক এক ছেলের ই-মেইল, সবাই নাকি আড্ডা দিবে একসাথে। সত্যি বলতে কি আমি তখন পর্যন্ত জানতাম না এই রনি নামক (বদ) পোলাটা এই গ্রুপটার হর্তা কর্তা। যাই হোক, দিন তারিখ ঠিক মনে নেই, তবে মনে আছে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিলো, রাইফের স্কয়ারের সামনে ধানমন্ডী লেকের পাড়ে সেই সম্ভবত Nescafe এর সাইনবোর্ড দেয়া সেই দোকানটার ওখানটায়।
যাই হোক, নির্ধারিত স্থান এবং সময়ে হাজির হলাম সেই আড্ডায়। ওহ, প্রতিদিন অফিসে গ্রুপ মেইল নিয়ে আমার অতি উৎসাহ দেখে আমার দুই সহকর্মীও ইতিমধ্যে গ্রুপে জয়েন করে। তারাও সেদিন আমার মতই প্রথমবারের মত গ্রুপের আড্ডায় আসে। প্রথমে কাউকে ঠিক চিনে উঠতে পারছিলাম না, রনিকে ফোন দিয়ে কনফার্ম হই আমরা সঠিক স্থানেই পৌছেছি। দেখলাম, রনি নামক ছেলেটি একা, তখনো কেউ আসেনি। রনি বললো, ভাইয়া অপেক্ষা করেন সবাই চলে আসবে। আমার সেই দুই সহকর্মী হায়দার (জুয়েল) ভাই এবং আরিফের সাথেই বসে গল্প করছি আর দেখছি রনি কিছুক্ষণ পর পর ফোন নিয়ে মহাব্যস্ত একজন মানুষ, এদিক ওদিক ছুটছে। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকে এসে পড়েছিলো। তবে সেদিন আমাদের তিনজনের মত আরো একজন মানুষ আড্ডায় নতুন ছিলো, তিনি হলেন আমাদের মৌসুম আপু।
সেদিন পরিচয় হয়েছিল এই গ্রুপের কিছু অসাধারন মানুষের সাথে যারা হলেন, টুটুল ভাই, কলি আপু, রিয়াদ ভাই, নজু ভাই, ভাস্করদা, কনা আপু, আসাদ ভাই, মুন্না এবং আরো অনেকে যাদের নাম আসলে এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না। তবে এটা মনে আছে, সেদিন আড্ডায় মানুষগুলোর সাথে মিশতে বিন্ধুমাত্র অস্বস্তিবোধ করিনি। এই মানুষগুলোর অনেকের সাথেই পরবর্তিতে এত বেশি ঘনিষ্টতা হয়েছে যে এখনো এত দূরে থেকেও মনেই হয়না তাদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে একটা ভার্চুয়াল গ্রুপ থেকে। সেদিন এখনও মনে আছে সেই আড্ডা থেকে এসে গ্রুপে একটা মেইল করেছিলাম, যাদের সাথে সেদিন পরিচয় হয়েছিলো সবার সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করে।
চলবে...





পুন:স্বাগতম মিশুরে
এইখানে কিছু পাইবা http://www.amrabondhu.com/about
বিবাহ কপে?
আপ্নেরে অনেক গুলান ধইন্যাপাতা। ডিসেম্বরে আসবো ইনশাল্লাহ। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের শেষেই।
তারমানে এবিও বাংলা ব্লগের গুরু ছিলো!
সিরিজ মাঝপথে থামিয়ে দেবেন না। রন নামক বালকটিও কিছু ফুটনোট দিক।
ধন্যবাদ, কষ্ট করে পড়ার জন্য।
নষ্টালজিক
চলুক ।
ইয়াহুর গ্রুপে জয়েন করতে কেন জানি ভালো লাগতো না । তাই কোনুদিন কোন গ্রপের মেম্বার হই নাই।
আগ্রহ পাচ্ছি----চলুক
আগ্রহ পাচ্ছি----চলুক
ওয়েলকাম ব্যাক!!!আপনারা পুরান মানুষ।এবির শুরুর দিকের কথা শুনতে চাই।
চলছে চলুক
এইতো সেদিন ধানমন্ডি লেকের পাড়ে এবি'র আড্ডায় তুমি জুয়েল আর আরিফকে নিয়ে প্রথম আসলা। কিন্তু সেটা কি ৬ বছর আগে? ~
ওরেবাপস...এইতো সে দিন মাত্র......
চলুক স্মৃতিগাঁথা...
~
পুরাতন মানুষ, আপনি লিখুন। ভালো লাগলো।
এবির শুরুর দিকের কথা শুনতে/জানতে চাই।
আমি এসছিলাম মনে হয় এর পর পরই
চলুক..
মন্তব্য করুন