বই মেলা কড়চা- ২
দুপুরের পর পরই বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে ব্যাংকে একটা কাজ সারলাম। তারপর এস এ পরিবহনে একটা পার্শেল পাঠালাম। এরপর গেলাম লীনা দিলরুবার অফিসে। লীনাকে কাল টুটুল ম্যুরালের কিছু লেখা দেখতে দিয়েছিলো। রাতের মধ্যে সেগুলো দেখে শেষ করার কথা লীনার। দুপুরে আমি তার কাছ থেকে সেগুলো নিয়ে প্রেসে যাবো- সেরকমই কথা ছিলো। ওমা, অফিসে গিয়ে দেখি আমাদের লীনা আপা তখন বনানীতে। তার অফিসের কাজে গিয়েছে। বললো, ৩০ মিনিটের মধ্যে ফিরবে। আমি হাসলাম ওর কথা শুনে। বনানী থেকে দিলকুশায় ফিরবে ও; তাও ৩০ মিনিটে ! সময় নষ্ট না করে নিচে নেমে এসে একটা বিড়ি ধরালাম। তারপর ছুটলাম প্রেসে...
প্রেসে আমরা বন্ধু ব্লগ সংকলন ম্যুরালের পেজ মেকাপ চলছে। বানান দেখা হয়ে গেছে ৬০ ভাগ লেখার। পেজ মেকাপ শেষ। বাকী ৪০ ভাগ লেখার মধ্যে ৩০ ভাগ লীনার কাছে। ১০ ভাগ এখনও দেখাই হয়নি। এর মধ্যে টুটুল এসে পৌঁছলো প্রেসে। ও সহ কিছু কাজ করলাম। লীনাকে ফোন করে জানা গেল- ওর অবস্থান হচ্ছে গোলাম আজমের এলাকায় মানে মগবাজার। একটু পর লীনা জানালো, সে সচিবালয় পার হচ্ছে। তাকে জিপিও-র সামনে থামতে বলে টুটুল ছুটলো... লীনার কাছ থেকে লেখাগুলো নিয়ে টুটুল ফিরে এলে আমরা দুজনে মিলে সেসব লেখা আবার পেজ মেকাপ ম্যানকে দিয়ে ঠিক করতে করতে সন্ধ্যা ছ'টা। বেরিয়ে পড়লাম আমি আর টুটুল। টুটুল ছুটলো বই মেলার দিকে। আর আমি কাকরাইল এক বন্ধুর অফিসে। সেখানে যেয়ে লাভ হলো- ৩ তারিখের একটা প্রোগ্রামের দুটো পাশ পেলাম। প্রোগ্রাম হবে এফডিসিতে। মীরেক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার- এর অডিশন। বন্ধুর অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা বই মেলায়...
বই মেলায় ঢোকার মুখে দেখা হলো শুভ'র সাথে। ওকে সাথে নিয়ে সরাসরি চলে গেলাম লিটল ম্যাগে। সেখানে ততক্ষণে হাজির- ভাস্কর, হাসান রায়হান, টুটুল, শান্ত...। একটু পরে এল জয়িতা, লাল দরজা (হেলু ভাই), তাজীন আর মৌসুম। তারও ক্ষাণিক পরে একরামুল হক শামীম। লিটল ম্যাগ চত্বরটা আজও তেমন জমে উঠেনি। অনেক দোকানই ফাঁকা। এখনও ডেকোরেশনের কাজই কমপ্লিট করতে পারেনি। যেখানে ম্যুরাল পাওয়া যাবে, সেটিও দেখলাম ফাঁকা। মেলায় টুক-টাক করে নতুন বই আসা শুরু হয়েছে। ঠক ঠক করে এখনও অনেক দোকানে পেরেক ঠুকছে। তো, আমাদের আড্ডা চলছে বেশ জোরে সোরেই। প্রথমে জয়িতা বললো- সে ক্ষূধার্ত। সাথে সাথেই আমিও শর্তহীন ভাবে একমত প্রকাশ করলাম। ওমা আস্তে আস্তে দেখি সবাই খাবারের কথা শুনে নড়ে-চড়ে বসছে। সাহস করে কেউ আগাচ্ছে না। অনেকক্ষণ খাবারের স্পন্সর খোঁজা হল। তেমন কেউ সাড়া দিলো না। অবশেষে একজন বললো- সে খাওয়াবে (বেচারা, তখন যদি জানত এতগুলো টাকা খসে যাবে...)।
লিটল ম্যাগ চত্বর পেরিয়ে আমরা বায়ে মোড় নিলাম। তারপর সোজা পশ্চিম দিকে। নতুন ভবনের নিচতলায় মেলা উপলক্ষে একটা ইয়া বড় রেস্টুরেন্ট খোলা হয়েছে। সেখান পর্যন্ত যাবার আগে ডান পাশে একটা স্টল দেখে একটু থমকে দাঁড়ালাম। স্টলটির নাম- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ভেতরে তিন জন পুলিশ সদস্য রীতিমত পোশাক পরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে। কৌতুহলি অনেকেই সে স্টলের সামনে যেয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেখানে রক্ষিত একটি বইয়ের নাম আবার- ডিটেকটিভ...। আরেকটু সামনেই খাবারের দোকান দেখা যাচ্ছে। আস্তে ধীরে হাঁটছি আমরা ৯ জনের দল। খাবার বলতে- চিকেন আর বিফ বার্গার। চটপটি, হালিম এবং তেহারি টাইপের কী যেনো একটা। দোকানে যেয়ে খাবারের দাম শুনে সবাই কেমন চুপসে গেলো। সাহস করে এগিয়ে এল জয়িতা। আমি আর জয়িতা মিলে একটা চিকেন বার্গার নিয়ে ভাগ করে খেতে শুরু করলাম। এরপর মৌসুম আর তাজীনও একটা বার্গার নিলো। বাকীরা সিচুয়েশন অবজার্ব করছে বলে মনে হল। দু'এক জন মিন মিন করে হালিম খেতে চাইলো... সাহস করে কেউ আর অর্ডার করলো না। অবশেষে ত্রাণকর্তা (নাকী কর্তি...) হয়ে এগিয়ে এল তাজীন। আটটা হালিমের অর্ডার করে বসলো। হালিম এল। আমরা বেশ আয়েশ করে খেতে যাব এমন সময় দোকানের একজন এসে বললেন, দোকানে বসে খেতে হবে। বাইরে বসে খাওয়া যাবে না। সমস্যা আছে... কী সমস্যা, সেটা তিনি ক্লিয়ার করে বলতে পারলেন না। যাই হোক, আমরা দোকানে বসেই আটটা হালিম খেলাম। এবং তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে বেরিয়ে এলাম দোকান থেকে। বেচারী তাজীনকে গুনতে হল- সব মিলিয়ে ৬৪০ টাকা।
খাবার শেষ। সাড়ে আটটা বাজে। মেলায় লোকজনও কমতে শুরু করেছে। আমরাও আস্তে আস্তে বেরিয়ে পড়লাম। মেলা থেকে বেরিয়ে একজন গেলেন বাঁয়ে, বাকীরা সবাই ডানে অর্থাৎ টিএসসির দিকে। আমি সোজা ছবির হাটে। সেখানে বন্ধুদের সাথে ক্ষাণিক আড্ডা মেরে, চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম ছবির হাট থেকে। ততক্ষণে রাত সাড়ে নয়টা বেজে গেছে। হলুদ মোটর সাইকেলে আমি ছুটলাম ফার্মগেটের দিকে...





আমি কিন্তু প্রুফ রিড করতে পারি।
বই বেরুচ্ছে কবে?
আরে ভাই নেয়ামত, সেটা আগে কৈবেন্না ? এদিকে বানান দেখতে দেখতে কেয়ামত অবস্থা ...
ami ki ar jani ei kahini hoiteche?
Next time age janailei hoibo.
নেয়ামত, এদ্দিন গলা ফাটায় চিল্লানি চলছে, ব্লগে ঢূক্লেইতো আর খোজঁ দা সার্চও তো করা লাগতো না!
কড়চা খুব ভালো লাগছে।
শামীমরে কেমনে ধরবেন? ছাই দিয়া ধরতে হবে। বেটা আগের মতই আছে।
তাজীনরে মাইকে ধইন্যা। আর আজকের সন্ধ্যাটা দারুণ কাটলো।বহুদিন পর আপনিও তেমন ধমকাইলেন না। তাই আমি এখানে সেদিন যে আপনি মেকাপ করেছিলেন সেটা বলবো না।
শেষ লাইনটাতো হলে মাসুদরানার মতো!~
শেষ লাইনটাতো হলো মাসুদরানার মতো!~
শান্তর কমেন্টে লাইক।
শান্তর কমেন্টে লাইক।
শান্তর কমেন্টে লাইক।
দুধের স্বাদ ঘোলে মিটালাম। আর নয় বছর পর যদি বেঁচে থাকি ২০২১ এ মেয়ে ইউনি চলে যাবে তখন একদিন আমিও লাঠি নিয়ে বইমেলায় .।.।.।.।।। মু হা হা হা
্ধন্যবাদ । আপনার লেখা পড়ে দুধের সাধ না হয় ঘোলেই মেটাব
স্বাদ
দুধের স্বাদ ঘোলে মিটালাম। আর আশায় আছি আমিও একদিন....
কালকে আপনারা মেলায় ভালোই মজা করলেন, আমি মিস করলাম

এই রোজনামচা চলুক, গতবার রাসেল দারুণ একটা সিরিজ করেছে-এবার আপনি, জয়িতাও চালাচ্ছে।।
তাজিনরে বেচারি কি কানতেছে? আহারে! ব্যাপক সিল
চারদিকে খালি বইমেলার রৈ রৈ চলতেছে আর আমি খালি চোক্কে সামনে দেইক্কা যাইতেছি !
সামনের বছর আমিও যামু
আহারে তাজিন এর সিল মিস করলাম
হিংসিত
হিংসা পজেটিভ হৈলে খ্রাপ না, রাজনের স্প্রিং মুন কোন স্টলে যেন? তারে কী অদ্য মেলায় দেখা যাইবে?
এত্তো বড়ো সিলের পর লেখায় মাত্র ২বার করে তাজীনের না আসছে হালিমের সাথে!

আমাদের টুকটাক আড্ডাও দারুন মজার হয়, আর এইতাতো মেলার আসর ... হিংসা করলাম না, জানি আবারো দিমু আড্ডা আমার মানুষগুলার সাথে।
ম্যুরাল লিটল ম্যাগ চত্বরের কোথায় পাওয়া যাবে?
আগে প্রকাশিত হোক, তারপর জানাব
মন্তব্য করুন