বই মেলা কড়চা- ৪
এই ঢাকা শহরে থাকলেও কদাচিৎ যাদের সাথে দেখা হয় বা মোবাইলে কথা হয় সেই সব পরিচিত জনদের সাথে বই মেলা আসলে দেখা হয়। তো, এমন একজনের সাথে আজ দেখা হলো মেলায়। ভাল্লাগলো ভীষন। বিশেষ করে তার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করলো। মনেই হয়নি প্রায় বছর খানেক পর তার সাথে দেখা হয়েছে। তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে কালই একসাথে ছবির হাটে চা-বিড়ি খেয়েছি। ভদ্রলোকের স্ত্রীও বেশ আন্তরিকতার সাথে খোঁজ খবর নিলেন। মেলায় ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। যদিও অনেক মেজাজ খারাপ নিয়ে আজ মেলায় গিয়েছি। একবারতো ভেবেছিলাম, আজ বই মেলায় যাবোই না। আবার মনে হলো- তাহলে বই মেলা কড়চা- ৪ যে লেখা হবেনা। এই বার পণ করেছি- যা থাকে কপালে, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক: ঢাকায় থাকলে প্রতিদিন একটি করে কড়চা লিখবো...
প্রথমে মেজাজ খারাপের কাহিনী বয়ান করা যাক। আপনার যারা এই লিখা পড়ছেন, তারা অবগত আছেন যে- আমি কাউরে না করতে পারিনা বলে ব্লগ সংকলনের বানান দেখা এবং মেকাপের দায়িত্বটা নিয়েছি। তো, আজকে ফাইনাল বানান দেখে আউটপুট প্রেসে ছাপতে দিয়ে তারপর আমার মেলায় যাবার কথা। আউটপুট সেন্টারে গিয়ে জানা গেলো যে ভদ্রলোক আমাদের ম্যুরালের কাজটি করছেন, তিনি আজ ছুটিতে। আগামীকাল সরকারি বন্ধ। দয়া করে তিনি অফিসে ফিরবেন পরশু। এদিকে ৮ তারিখে বই মেলায় ম্যুরাল আসার কথা মোটামুটি ফাইনাল। তো ভদ্রলোকের নাম্বারে ফোন করলাম, ধরলেন এক ভদ্র মহিলা... ধরলেন মানে তিনি তার সুরেলা কন্ঠে জানান দিলেন, দ্য মোবাইল ক্যান নট রিচ এট দ্য মোমেন্ট...। কী আর করা, যার প্রেস থেকে ম্যুরাল ছাপা হবে, তাকে ফোন করলাম। এবার অবশ্য মহিলা কন্ঠ পাওয়া গেল না। ভদ্রলোক মানে সেলিম সাহেব নিজেই ফোন ধরলেন। তাকে বললাম ঘটনা। তিনি আরেকটি নাম্বার দিলেন। সেই নাম্বারে ফোন করলাম... এখানেও শুনতে পেলাম- দ্য মোবাইল ক্যান নট রিচ এট দ্য মোমেন্ট...। আমি রাগে গজ গজ করছি। আমার দুরাবস্থা দেখে পাশের ভদ্রলোকের মায়া হল। বললেন- কি ভাই, রিপনের (পরে জেনেছি ওই হারামজাদার নাম রিপন) ফোন বন্ধ ?
বললাম- জ্বী।
ফিসফিস করে ভদ্রলোক বললেন- আমার কাছে রিপনের আরেকটা গোপন নাম্বার আছে। আমার কথা না বললে আপনারে নাম্বারটা দিতে পারি।
আমি বললাম- আপনি নাম্বারটা দেন। আমি তাকে বলবো না যে আপনার কাছ থেকে পেয়েছি।
তিনি নাম্বারটা দিলেন। আমি কল করলাম। রিপন ফোন ধরলো। আমি যেই না নিজের নাম বলেছি, হারামজাদা ফোনের লাইনটা কেটে দিলো ! এরপর থেকে ক্রমাগত ৩ টা নাম্বারেই চেষ্টা চালিয়ে গেলাম। সব গুলোই বন্ধ। আমি বুঝিনা একটা মানুষের ৩ টা সিম ব্যবহার করার দরকারটা কী ? সত্যি কথা বলতে কী, একাধিক সিম ব্যবহার করাটাই আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়...। এখন উপায় ? রিপন যদি বেঁচে থাকে এবং যদি সোমবারে অফিসে আসেও তাতে আমাদের ম্যুরাল মেলায় আসতে ২ দিন বেশি লাগবে। মানে ১০ তারিখের আগে ম্যুরাল আসবে না। অসহায় আর নিরুপায় আমি। টুটুল আর লীনার সাথে কথা হলো। প্রেসের ভদ্রলোক যেহেতু লীনার পরিচিত, সেহেতু লীনাই কথা বললেন। ভদ্রলোকও সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। বেরিয়ে পড়লাম। নিচে নেমে রাগে-ক্ষোভে পর পর দুটো বিড়ি খেলাম। তারপর হোন্ডায় চেপে বসলাম। গন্তব্য ছবির হাট...
হাটে এসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারলাম ঘন্টা খানেক। চা-বিড়ি খেলাম। এর মধ্যে শুভ (বৃত্তবন্দী) ফোন করলো। ছবির হাটে মোটর সাইকেল রেখে হাঁটা শুরু করলাম মেলার দিকে। সোজা লিটল ম্যাগ চত্বরে। জয়িতা, রাসেল, ভাস্কর বসে ছিল। একটু পর এল রশীদা আফরোজ আর নূপুর। এর মধ্যে ব্যাগ থেকে বের করে ম্যুরালের ছাপা হওয়া কাভার দেখালাম সবাইকে। সবাই মোটামুটি লাইক দিলো। এদিক সেদিক তাকাচ্ছি- মুরগার সন্ধানে। এর মধ্যে দেশ টিভির নজরুল কবীর এল। এটা সেটা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আড্ডা জমে উঠলো। আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, আজ মনে হয় আর মুরগা পাওয়া যাবে না। নজরুল কবীর স্বেচ্ছায় মুরগা হতে রাজি হলেন। আমরা অন্যরা এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছি। এত সহজে মুরগা পাওয়া যাবে ভাবিনি। সবাই মিলে হাঁটা শুরু করলাম- বাংলা একাডেমীর স্টলের পাশে পর্যটনের যে খাবারের দোকানটা হয়েছে-সেদিকে। নজরুল বলে দিলো, যার যা খুশি খেতে পারবে। আমি আর রশীদা নিলাম এক পিস করে কেক, ভাস্কর, শুভ আর নজরুল নিলো নুডুলস এবং রাসেল গরম কুত্তা (হট ডগ) টাইপের একটা কিছু নিলো। খেলাম এবং নজরুলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সবাই গেলো আবারো লিটল ম্যাগের দিকে। আমি পুরো মেলাটা একটা চক্কর দিলাম।
আজকেও যথারীতি টিভি ক্যামেরা, সাক্ষাৎকার...। তবে আজকে টিভির উপস্থাপিকাদের রুপবতীই লাগছিলো। কেননা, আজকে মেলায় ধূলোর পরিমান ছিলো অনেক কম। তার মানে এই নয় যে, মেলায় লোক সমাগম কম। তবে হ্যাঁ, কালকের চেয়ে কম। বেচা-বিক্রিও দেখলাম জমে উঠেছে। মেলায় পর্যাপ্ত পানি ঢালার কারনে ধূলা নেই বললেই চলে। লোকজন ঘুরছে। কয়েটা স্টলে দেখলাম বেজায় ভিড়। এরমধ্যে, কাকলি, অনন্যা, প্রথমা এরকম কয়েকটি স্টলে বেশি ভিড় দেখা গেছে। টিভি ক্যামেরাগুলো ঘুরে ফিরে সেসব স্টলের আশে পাশের ফুটেজ নিচ্ছে। তথ্য কেন্দ্রের সামনে মহা জটলা। ব্যাপার কী ? দেখা গেলো, জাফর ইকবাল স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চার পাশে জনসমুদ্র। আসলে দাঁড়িয়ে আছেন বললে ভুল হবে। তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করেছে মেলায় আসা তাঁর ভক্তরা। সবার হাতেই বই। অটোগ্রাফ না নিয়ে কেউ ছাড়বে বলে মনে হয় না...। খ্যাতির বিড়ম্বনা বোধ হয় একেই বলে...





ইয়ে মানে আমার জীবনের সবচে ভেল্কি ঘটছে আজকে। মুর্গা হালাল হইয়া যাওনের পরে আমি মুর্গার পরিচয় জানতে পার্ছি। জয়তু ইয়াযাদ ভাই, এরাম একটা জেনোরাস মুর্গা আবিষ্কার করনে...

সব কাম আমারে দিওনা শুভ। সেইদিনে মুরগা মানে তাজীনরেও কিন্তু আমি পটাইছিলাম। নজরুলরেও... তোমরাও ২/১ টা মুরগা যোগাড় কর। নাইলে কৈলাম কাইলকার তন হিজ হিজ, হুজ হুজ...
বৃত্ত মানে কি তুমি? কী কাণ্ড! বলোনি তো! আমিও যে কেন ধরতে পারলাম না! পিক দেখে তো তোমারে আন্ধাইরা লাগে, তাই আন্দাজ করতে পারিনি। শুভ, তুমি ফর্সা!!!
আহ, মেলায় খাওয়া দাওয়ার দেখি জটিল বন্দোবস্ত
আজকাই প্রথম টাটকা টাটকা বই মেলা কড়চা পড়লাম। আর, আজকাই এত্ত বড় দুঃসংবাদ!
ম্যুরাল কি তাইলে ১০ তারিখেই আসতেছে? এর আগে কিছুতেই কি কিছু হইবার নাই?!
এত্ত বড় মুরগা পাইলেন! আপসুস, আমি আগেই চলে আসলাম। আজ বসেই থাকপ। মুরগা কে হবে আজ কে জানে! আল্লাহ ভরসা।
মেসবাহ ভাই, লেখা খুব ভাল্লাগতেছে।
্পড়তে গিয়ে ভাবছিলাম, আরে, জয়িতা আর অদিতি নাই হলো কেন খানার টাইমে!!
তোমরা মজার আড্ডা দিছো নাকি, অদিতি কইলো
লেখার সাবলীলতায় মুগ্ধ হইলাম, মেলার একমাস কোথায় যাইবেন? রোজ এই লেখা চাই।
লেখা খুবই ভালো হচ্ছে, রোজ এইটা চাই। আমার জন্যে তো অতি অবশ্যি দিবেন
আসতাছি যেকোন দিন থিকা। আপনাগো সবটিরে জ্বালাইতে...
আমি এই মুরগা শিকার অভিযানে নাই। তাই যেদিন আমিও দলে থাকবো, সেদিন আমারে দোষ দেয়া যাবে না @ অনাগত কোনো এক মুরগা
শাফায়েত মুরগা ভাইয়ের আগমন

শুভেচ্ছা স্বাগতম
আপনি তো দেশে থাকেন না। নাইলে আমিও বলতাম,

রাসেল মুরগার আগমন
শুভেচ্ছা স্বাগতম।
তয় ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইসা পড়তে পারলে ধরা একটা খাইলেও খাইতারেন।
ধরা খাইতে পারেন কথাটা বলছি, কারণ বুঝাইতে চাইছি, আর কোনো মুরগা ধরায় না থাকলেও আপনারে আমি আযান দিয়া ধরুম।
আপনারে পছন্দ হইসে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইসা পড়েন।
এইখানে আমারে নিয়া বেশি কিছু কইয়েন দাদাভাই আইসা এমন ঝাড়ি দিবো তখন বুঝবেন!!
দেশে যাইতে পারলে তো হতো রে ভাই আর আমি গেলে এমনিতেই খাওয়ামু।আমারে আযান দিয়া ধরা লাগবে না কথা দিলাম।
দেশে থাকলে দু চারদিন মুরগা জবাই খাইতে পারতাম

তয় আজকের মুরগার মতো এইটাইপের মুরগা খাওনে টেস্ট নাই।
=======
রিপন মিয়ারে সোমবার একটা রামঝাড়ি দিবেন আমার হয়ে। ব্যাটা ফাজলামো পাইছে।
আর লীনাদির মতো কইরা কই
ইস, মামুর বাড়ির আবদার ! জানোনা, আইজ কাইল আমি টেকা ছাড়া কোথাও চেহারা ব্র প্রতিভা দেখাইনা... ইরাম একটা কৈরা লেখা প্রতিদিন কোনো পেপারে লেখলেও কম কৈরা ৫০০ টেকা কৈরা পাইতাম... তাইলে তোমার মাসে মানে ২৯ দিনে হৈতো ১৪,৫০০ টেকা ... তার থেইকা ধর একদিন মুরগা হৈয়া খাওয়াইলাম ৪,৫০০ টেকা... তাও হাতে থাকতো নগদ ১০,০০০ টেকা... এই বার হিসাব মিলাও মিয়া !!!

একদিন চাপাবাজি কইরা টাকা পাইয়াই দেখি দাদাভাই ক্যাল্কুলেটর নিয়া ঘুরা শুরু করছে!!
আবদার আপ্নের কাছেই করমু, আজকাইল মামু'রাও ধান্দাবাজ হইছে চান্সই দেয় না! 
তাইলে মাসুমভাইয়ের কত টাকা আমি সেইটাই চিন্তা করতেছিলাম।
এখনো একদিনও মেলায় যাই নাই।
ম্যুরাল যেদিন আসবে সেদিন আসবো ঠিক করসি। কড়চা চলতে থাকুক, আমরাও আপডেট জানতে থাকি
ব্র= বা
চারিদিকে শুধু বইমেলা আর বইমেলা!!
ঢাকাবাসীদের দেখে চরম হিংসিত!!!
চট্টগ্রাম থাকি তো কি হয়েছে? ট্রেন আছে না? আমিও আসছি ১১-১২ তারিখে!!
মুহাহাহাহা-----
ব্যাগে একটু বেশি কৈরা টেকা-পয়সা নিয়া আইসেন। আফটর অল, মুরগা হৈলেতো খরচ পাতি করতেই হৈবো...
ইয়ে---মানে---মুরগা মানে কি জানি?????
মুরগা মানে হৈলো- যিনি আমাদের পাল্লায় পড়িয়া আমাদেরকে বই মেলায় খাওয়াইতে বাধ্য হন...
হিহিহিহিহি!! আইচ্ছা! তাইলে মুরগা মনে হয়!!!
এইভাবে ভয় দেখালে বই মেলাতে যাইতে সব ডরাইবো !
জোনাকিপু----এভাবে ডাইরেক্ট ফাঁস করে দিলেন?!
আমি নিজেই ডরে বই মেলাতে যামু কিনা ভাবতেছি

সবাই বই মেলাতে যাইতেছে কেউ তো ফটুক দিতাছে না ...আফচুচ !
আপু, আমি যেদিন আসবো জানাবো! প্লীজ ঐদিন-ই আসবেন!
আমি তো সামনের বছরের বই মেলাতে যাওয়ার ইচ্ছাতে আছি।
)
তার থেকে আমিই বলি যে আমি যেদিন আসবো আপনাকে জানাবো ( তবে মুরগা কে হবে ঐ দিন দেখা যাবে
ততদিনে কাউরে মুরগা বানানোর খায়েশ আমগো নাও থাকতে পারে

তাছাড়া বেশিরভাগ বৈদেশিগো লৈয়া আমগো অভিজ্ঞতা সুখকর না
জোনাকিপু বেঁচে গেলেন!!
কি যে বলেন? এই খায়েশ কোনো দিনই বন্ধ হবার না
বৈদেশিরা কি করছে সেটা লইয়া একটা পুষ্ট দেন...আমিও চামে কিছু শিইখা রাখি
পাগলরে সাঁকো নাড়ানির কথা মনে করায় দিলেন
প্রেসের ব্যাটারে ধুম দৌড়ানি দেয়া উচিত!
১০তারিখেটা যেন আবার না পিছায় বদে!
আহা, এতো আপোষে মুরগা পাওনও তো ভাগ্যের ব্যাপার! তাও আবার দিল-দরিয়া টাইপ!
যেহারে হচ্ছে, মেলার খাওন্দাওনের কপালতো খারাপ না মনে হচ্ছে এবার!
কমেন্টে বহুতদিন পর পেচ্ছাপেচ্ছি দেখতে ভাল্লাগলো। মেসবাহ ভাই, আজকের পর্ব কই?
ভালো লাগছে সিরিজটা। প্রত্যেকদিন চলুক..
কমেন্টে বহুতদিন পর পেচ্ছাপেচ্ছি দেখতে ভাল্লাগলো। মেসবাহ ভাই, আজকের পর্ব কই?
কাল যে শুটিং দেখলেন সেইটা লিখবেন না?
যে হারে মুর্গা ধরতেছেন , কয়দিন পর কি করবেন আর মুর্গা না পাইলে ?
সামনের বার বই মেলায় থাকার ইচ্ছা । এবার আপনাদের লেখা পড়েই চালাই
পেটে দানা পড়ছিলতো তাই রুপবতী লাগছিল
মন্তব্য করুন