এম্নিই ...
সোনার দাম হু হু করে বাড়ছে, মেয়েটারও বিবিএ ফাইনাল সেমিস্টার চলছে, হাতে আছে বেশ ভালো কয়েকটা প্রস্তাব। সব ভেবেচিন্তে পরিকল্পনা করেই এগুচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। ঘরের নতুন ফার্নিচার তৈরী করা, গয়না গড়িয়ে রাখা আর দুজন ছেলের পরিবারের সাথে জানাশোনা করা শুরু করলেন, পরীক্ষা শেষ হতেই মেয়ে বিয়ে দেবেন। এতোকিছুর শরীরটা যে বেশ খারাপ হতে শুরু করছিলো আমলেই আনেননি বাবাটা। কিন্তু জানুয়ারীর ঢাকা এসে গেলেন মোটেই চেনাজানা নয় শুধুই বারডেমের মতো বড় জায়গার গ্যাস্ট্রোলজির বড়ো ডাক্তারের কাছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এন্ডোস্কপি কতো কি করে জানা গেলো কিচ্ছু নয়, শুধু গ্যাস্টিকের সমস্যা, ভালো হয়ে যেতে সময় নেবে না।
আবার মেতে উঠলেন মেয়ের ভবিষ্যতের চিন্তায়, মজে গেলেন নিজের কাজে। তিনমাস না পার হতেই প্রচন্ড খাবার অরুচি আর শুকিয়ে যাওয়া সহ শরীরের নানান সমস্যা নিয়ে আবার এলেন স্কয়ার হসপিটালে। ডাক্তার তো অবাক তিনমাস আগের রিপোর্টেতো কিছুটা হলেও লক্ষন দেখা যাবার কথা, শুধুই গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসা দেয়া হলো কেন! কারন রোগী এখন স্টমাক ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে আছেন!
৮ই এপ্রিলে রিপোর্ট পাবার পরই ১৯ এপ্রিলে আত্নীয়-স্বজন নিয়ে গেলেন টাটা মেমোরিয়ালে। হাসপাতালে ভর্তি হবার আগে চিকিৎসা শুরুর প্রথম পর্যায় হিসেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক মুহুর্তে শেষ নিঃশ্বাস ফেলে একটা লাশে পরিনত হয়ে গেলেন উনি। যেই লাশের নাই কোন কাগজপত্র, যে কিনা কোন হসপিটালের রোগী নন। স্বজনেরা মাতম করার সময়টুকু পাচ্ছেন না। মেয়ের বিয়ে, স্কুল পড়ুয়া ছেলেটা ভবিষ্যত সব ভুলে এখন শুধু স্বামীর জন্যে দুঃশ্চিন্তায় অস্থির হয়ে আছেন, হন্যে হয়ে ঘুরছেন এখন ডাক্তারের কাছে, কি করে আনবেন উনাকে দেশে ফিরিয়ে।
বারবার একটা মনে হচ্ছে, এতোকিছু এতো কষ্ট সবটা কি কিছুটা হলেও সীমিত করা যেত না, যদি আমাদের সেই বড়ো ডাক্তার ডঃ আযাদ একটু সময় নিয়ে রোগীর রিপোর্ট চেক করতেন। তিনজন এসিস্ট্যান্ট ডাক্তারদের দিয়েই কাজ সারেন তারা, রোগী দেখবার প্রয়োজনীয় ফুরসত কই তাদের, রাজনীতি দলাদলি করে, নামকাওয়াস্তে চেম্বারে বসা। শুধু তিনিই নন আরো বড় বড় নামী ডাক্তাররাও একই কাজ করে বেড়ান। বড় হাসপাতালের তকমা গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো এইসব ব্যবসায়ীদের ব্যবসার দিন দিন উন্নতিই ঘটছে। কিন্তু এই উন্নতির পথে তারা যে কতগুলো জীবনকে মাড়িয়ে চলছেন, তার প্রতিকার আমাদের এই দেশে আদৌ সম্ভব নয়, আগেও চলেছে আরো চলবে।





এদের কথা কি আর বলব ।প্রায় ১২ বছর আগে বাংলাদেশের নামকরা কিডনি ডাক্তার আমার ছোট ভাইকে বোলেছিল ৫ বছরের ভিতর কিডনি ডেমেজ হয়ে যাবে । আল্লাহর রহমতে ও এখণ ভালো আছে । কিন্তু তার কথায় আমাদের পরিবারে বিপর্যায় নেমে এসছিল ।

হুম, যা খুশি তাই বলে দেয় তারা... এক্টুও ভাবে না এটার এফেক্ট কেমন হবে একটা পরিবারে...
নামটা দিয়ে ভালো করছো আপু । এদের একটা শিক্ষা হওয়া উচিত । জানিনা সত্যি ঘটনা কিনা, কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে গেলো । আমার মা'কে নিয়ে ভাবনা হচ্ছে । ডাক্তাররা শুধু বলে তার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা । আল্লাই জানে কি
আরে এদের কিছুই যায় আসে না, আমরা যখন প্রথম শুনলাম কারে দেখাইছে আগে, সবার ইমপ্রেশন ছিলো, "আর ডাক্তার খুজেঁ পাইলেন না আপনারা, এককালে কি ছিলো না ছিল, এখনতো ঐলোক তো মাল খেয়ে টাল হয়েই থাকে"
দুঃখজনক ঘটনা
সত্যি আমাদের দেশে এর প্রতিকার সম্ভব না; আমাদের দেশের বেশী সংখ্যক ডাক্তাররাই কর্ম জীবনে প্রবেশ করার আগে নিজের হৃদয়ের উপর একটি অস্ত্রোপচার করে নেন এবং তাতে হৃৎপিণ্ডটি আর মানুষের থাকে না ।...
এ আর নতুন কি
আমার বোনকে পায়ের দুটো অপারেশনের জন্য আটবার ওটিতে ঢুকতে হয়েছিল.......একবার অপারেশনের পর দেখা গেল ওর পায়ের গোড়ালিতে বড় একটা পোড়া চিহ্ন, ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলাম এখানে কি হয়েছে? তিনি জানালেন অপারেশনের সময় অসাবধনতা বসত এই জায়গাটা পুড়ে গিয়েছে! কতটা অমনোযোগ আর অবহেলা নিয়ে এরা রোগীর চিকিৎসা করেন ভাবলে অবাক লাগে।
সত্যিই ডাক্তার হয়ে রোগীর প্রতি এমন অবহেলা এরা কীভাবে করে বুঝিনা। একবার এনেথেসিয়ার এক ডাক্তার রোগীকে অজ্ঞান করে ঘুরতে গেছে, এসে দেখে রোগী শেষ।
সিটি হসপিটালের এক ডেলিভারির কেইস এ কি করছে না করছে... অপারেশন হবার একরাত পর জানাইলো মেয়ে হার্ট এট্যাকে মারা গেছে!!... আআজিব!
এই রকম ঘটনা আজ-কাল প্রচুর শুনি। বিশেষ করে ডেলিভারি কেইস এ এখন এমন প্রায়ই হয়। একটা মেয়ে মা হতে এসে মৃত্যু বরন করে। সত্যি দুঃখজনক!
ঘটনা পড়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেলো। এর চেয়ে বেশি মনেহয় আর কিছুই বলার নেই
কী বলবো! স্তব্ধ হয়ে গেলাম!
নচিকেতার এক গানের লাইন -
'হাসপাতালের বেডে টিবি রোগীর সাথে
খেলা করে শুয়োরের বাচ্চা'
নোট : শুয়োরের বাচ্চা = ডাক্তার
থ্যাঙ্কস দিলাম তোমারে, গেলো চলে সবার শেষে!!
হাসপাতালে কাজ করতে যেয়ে জেনেছি, রোগীর প্রতি অবহেলার জন্য আমাদের প্রচলিত আইনে ডাক্তারের কোনোরুপ শাস্তির ব্যবস্থা নেই। তাই চিকিৎসা ব্যবস্থার আজ এই অবস্থা...
বিমা'র মন্তব্য রকস্...
আর কিছু জানুক আর নাই বা জানুক, আমাদের এরা রুলস-রেগুলেশন্স ভালোই জানে, তাই মনের সুখে যাচ্ছেতাই করে বেড়ায়, জবাবদিহিতার বালাই নাই.।.।
কি বলবো এই ডাক্তারদের কথা। গালের একটা বিষফোঁড়ার চিকিৎসা করতে গিয়ে ভুল ঔষধ দিয়ে আমার একটা গালকেই কালো করে দিয়েছে।এর কোন ট্রিটমেন্টও নাই।
গানের লিঙ্কের জন্যে ধন্যবাদ
দারুন গান!!
সব শালাই পঁচে গেছে \ডাক্তরই বাকি থাকপে কিল্লাই
আমাদের এক বন্ধু ছিল শর্মিলা নাম। সে নেদারল্যান্ডসে থেকে ৫০ এ পৌঁছতে পারেনি। ক্যান্সারে মারা গেলো, স্টমাক ক্যান্সার ডাক্তার ধরতে পারেনি। যখন ধরলেন তখন তিন মাস সময় বললেন, একদম তিন মাসেই মারা গেলো, এটুকু ডাক্তার ঠিক বলেছিল। কিন্তু শর্মিলার মা বোম্বেতে থেকে, ক্যান্সার নিয়েই সত্তর পার করলেন। কি জীবন মানুষের
মন্তব্য করুন