হুদাহুদাই (২)
প্লেনে যাতায়াত ভাড়ার সাথে খাবার আর অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সুবিধাদির খরচ যোগ করা থাকে - এটাই সাধারনত হয়ে থাকে। কিন্তু ধরুন যদি প্লেনে বসে খিদে পেলেই খাবার কিনতে হচ্ছে কিংবা টয়লেটে যাবার তাগিদে প্রতিবারই আপনাকে পকেটের পয়সা দিতে হচ্ছে, কেমন লাগবে ব্যাপারটা? খাবার মানলাম আপনি কিছু না কিছু বয়ে নিয়ে যেতে পারেন সাথে করে কিন্তু টাট্টিখানার কি ব্যবস্থা করা সম্ভব? প্রথম যখন জানলাম প্লেনে এমন হাস্যকর ব্যবস্থা সত্যিই আছে, হাসবো না অবাক হবো বুঝেই উঠিনি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একজন জানালো, এই ব্যবস্থা আছে ''ফ্লাইমি'' নামের ইউরোপের এক এয়ারলাইন্সে!
ব্রিটিশ আমলে একলোক গেছেন জাহাজে করে লন্ডনে পিআইএ'র কাজ নিয়ে, কিছুদিন পর তার শখ জাগলো আপন কাউকে নিজের কাছে আনার জন্যে। বাবা নেই বেচেঁ তাই চাচাকে প্লেনে করে আনার ব্যাবস্থা করলেন। সেই চাচা এক কান্ড করে বসলেন প্লেনে, উনার ''ওরে আমি নামবো রে, নামবো!” - তারস্বরে চিৎকারে সবার কান ঝালাপালা। পরে কেন ওমন করলেন জিজ্ঞাসা করতেই তার উত্তর, ''এত্তো সোন্দর পেলেনে বাইরবাড়ি যাইবার ব্যবস্থা নাই কোন, তাইলে আমি কেম্নে কি করি?”
প্লেনের এহেন মজার কাহিনী চালু আছে ভুরি ভুরি, তার কতটা বাস্তবসম্মত কে জানে। নিজের কথায় আসি, আমার আশেপাশে মালয়শিয়ান বিজনেস গ্রুপ বসেছিল মনে হয়, কিছুপর পর তারা একের পর এক কাগজপত্র বার করছিলো, কটকট করছিলো একে অন্যের সাথে। তাদের দূর্বোধ্য ভাষার চেয়ে গান শুনাই ভালো ভেবে চেষ্টা করলাম দেখি যে, প্লেনের দেয়া সব চ্যানেলেই বিজাতীয় ধাচেঁর গান আমার বোধের বাইরের জিনিশ। প্লেনে খাবার আসতেই এক কান্ড হলো, এই মালয়শিয়ানরা খুব দ্রুত ট্রে নিয়েই ততোধিক দ্রুততায় খাবার শেষ করে ফেললো, এতটুকু কনাও বাদ না দিয়ে। আর খাবার খেয়েই মূহুর্তে ঘুম! চলতি পথে খাওয়া হয়না আমার কিন্তু বাসা থেকে খেয়ে বার হইনি আর আবার খাবার আসে কখন, শেষে গিয়ে খিদায় কষ্ট পাবো এই ভাবনায় রাইস\চিকেন একটু করে খেয়ে নিয়ে আশপাশের মানুষ দেখা শুরু করি। কেবল ছোট্ট বাচ্চাওলা এক ফ্যামিলি বাদে আস্তে আস্তে প্রায় সবাই ঘুমিয়ে পড়লো, আমারই চোখে ঘুম আসে না! সাথে গল্পের বই ছিলো কিন্তু তাড়াহুড়ায় তা রয়েই গেছে উপরে তোলা ব্যাগে, পাশের লোকের ঘুম ভাঙ্গাতে মন চাইলো না বলে খুটখাট আর হাবিজাবি ভাবনায় গেল সময়, রাত কেটে ভোর হওয়া দেখলাম।
সবাই কেবল সতর্ক করেছিলো টেকঅফের সময়ে কানে চাপ লেগে অস্বস্থি লাগবে বলে, কিন্তু প্লেন ল্যান্ড করার সময়ের কথা কেউ কিচ্ছুই বলেনি আমায়! টেকঅফের ব্যাপারটা খারাপ লাগেনি মোটেই, কিন্তু আল্লাহরে! প্লেন নামার সময়ে মাথা পোঁ করে চক্কর দিতে লাগলো আর প্লেন যতই নীচে নামে আমার কানের হাল বেহাল হতে লাগলো। ভাবলাম দু'হাতে কান চেপে রাখি তাহলে এই যন্ত্রনা থেকে কিছুটা হলেই মুক্তি পাবো, কিন্তু কোথায় কি, যে কে সেই হালই! এই কানে মাথায় পোঁ পোঁ ভোঁ ভোঁ করার মাঝেও বাক্সপ্যাটরা নিয়ে সবার সাথে প্লেন ছাড়তে ছাড়তে ভাবছি আমার এ্যাটেন্ডেন্স কই? আরে, কেউ তো প্লেনের দরজায় দাঁড়ানো নাই নামের প্ল্যাকার্ড নিয়া! আমাকে তো তাই বলা হইছিলো! এয়ারহোষ্টেসকে জিজ্ঞাসা করতেই টিকিট দেখে পাশে দাঁড়াতে বললো। হাতে কান্ধে তিনটা ব্যাগ নিয়ে বাকি সব যাত্রীদের প্লেন ছেড়ে যাওয়া দেখতে লাগলাম। শেষেরদিকে দেখি খুব টায়ার্ড ভাব নিয়ে আমার এ্যাটেন্ডেন্স হাজির!
মালয়শিয়ান এয়ারপোর্টে নেমেছিলাম সকাল ৮টায় ওদের টাইমে, আমাদের ভোর ৬টা হবে। আবার সুমি আর রুনার সাথে দেখা হয়ে গেলো, টুকটাক কথা বলছিলাম এদের সাথে, মাঝে খেয়াল করলাম ঢিলেঢালা ভাব নিয়ে আমাদের দেখছিলেন এ্যাটেন্ডেন্স ছেলেটা। কিছুপরে এসে বলে চলো এবার। মালয়শিয়ান এয়ারপোর্ট শুনেছিলাম বিশাল, প্লেন থেকে নেমে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে অনেকদূর হেটে আসতে হয়, কিন্তু এ্যাটেন্ডেন্স ছেলেটার বদৌলতে দেখলাম কোনাকাঞ্চি দিয়ে অল্পক্ষনেই এখানে এনে যেখানে অপেক্ষা করতে বললো সেটাও বেশ জায়গা। সাথের মেয়েরা বলতে লাগল, “এইলোক কোথা থেকে জুটলো তোমার সাথে, আসলেই উপকারী কারন অনেকটা পথই লাগে খুজেঁ পেতে কানেক্টিং ফ্লাইটের নিজের জায়গাটা'” আসার আগে অনেকেই অনেক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে উপদেশ দিয়েছিলেন, তেমনি একজন বলেছিলেন, “এই এয়ারপোর্টটা পুরা স্টেডিয়ামের মতো বড়ো, তুই না আবার হারিয়ে যাস'!” এই কথা থেকেই ভাই এই এ্যাটেন্ডেন্সের ব্যবস্থা করে দিলো, যে কিনা মালয়শিয়ায় প্লেন থেকে নিয়ে আমাকে সিডনীগামী প্লেনে তুলে দেয়া পর্যন্ত সাথে থাকবে, বাদবাকি তথ্যাদি জানাবে। ছেলেটার যাবার তাড়া ছিলো কিনা জানি না, লাইনে অনেক দূরে দাঁড়ানো ছিলাম সে কাকে জেনো ডেকে এনে চেকিং এর নতুন লাইন শুরু করালো! তাই নতুন লাইনের প্রথমেই চলে এলাম আমি আর সাথে অন্য দু'জন মেয়েও। চেকিং শেষ করে আমিতো হাটা দিলাম, আমাকে ডেকে বলে কিনা - “পানি ফেলো ব্যাগ থেকে!” অবাক হয়ে ভাবি পানি এলো কি করে! ব্যাগ খুলে দেখি, হ্যাঁ, ছোট্ট একবোতল পানি আর 'এইস প্লাস' একপাতা। সকালথেকেই গলাব্যাথা ছিল বলে আম্মা ব্যাগে দিয়ে দিয়েছেন!
এখানেও জানালার পাশের সিট কিন্তু ঠিক পাখা বরাবর, তাই ভিউ'র অর্ধেকই নাই করে ফেলেছিলো বিশাল ডানা। তবে মেঘগুলো দেখতে ভালো লাগছিলো। জমাট মেঘের আকাশে ভাসছি আর আশপাশ দিয়ে তুলার মতো আরো আরো মেঘ একেকটা একেক রুপ নিয়ে পাশাপাশি উড়ে চলছে। অনেকক্ষখন যাবত তাকিয়ে রইলাম, কোন অদলবদল নাই এই ছবির! সুন্দর তবে ঘোর লাগানো নাহ! থমকে গেছে যেন সময় চারিদিক! আমরা সুন্দরেও রুপের পরিবর্তন চাই, কম বা বেশি যেমনই হোক। তাইতো মোনালিসার অনিন্দ হাসি মূহুর্তের বিমুগ্ধতা আনলেও তার চেয়েও উন্মুখ হয়ে থাকি আমরা নিজের প্রিয় মানুষটার, সে মা\আত্নীয়\বন্ধু যেই হক না কেন, তার নানানক্ষনের হাসিটার জন্যে। যাক সে কথা, প্লেনের টয়লেট নিয়ে কতো কি গল্প শুনেছি তো সেই জায়গা একবার দর্শন না করলে হয় নাকি, হতাশ হয়েছি আজিব ধাচেঁর উল্লেখযোগ্য কিছু দেখতে না পেয়ে।
এবার পাশের সাইট এলো কানাডিয়ান শ্রীলঙ্কান একজন, বিশাল লম্বা আর জটিল তার নাম, ক'দিন আগেও মনে ছিলো এখন ভুলে গেছি। সে মালয়শিয়াতে এসেছিলো ৮২বছরের ভাইয়ের সাথে দেখা করতে আর এখন অষ্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছে ছেলের কাছে বেড়াতে। বুড়ো বয়েসে একাএকা ভালোই ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক কথা হলো তার সাথে, এতোক্ষনে আসল আমি বের হয়েছে, বকাবাজ আমি! তবে যতটা না বলেছি লোকটার কাছ থেকে কথা বার করেছি তার ৪\৫গুন! সে ইঞ্জিনিয়ার, রিটায়ার্ড করার পর মেয়ের কাছে কানাডায় চলে গেছেন তাও প্রায় ১১বছরেরও বেশি সময় যাবত! কেন যেন প্লেনে উঠার পর থেকেই বিরক্তিকর রকমের বাজে কাশি শুরু হয়েছে, সাথে নাকও বন্ধ প্রায়! এহেন হালে কথা বলার পাশাপাশি বাজে কাজ যেটা করেছি তা হলো, লোকটা একটা ভিক্সের ক্যন্ডি অফার করতেই আমি তা নিয়ে মুখে দিয়ে ফেললাম! বাসা থেকে পইপই করে বলে দিয়েছে যেন দরকার ছাড়া অপরিচিতদের সাথে কথা না বলি, আর সেখানে আমি কিনা এই কান্ড করলাম! যদিও ওই ভিক্স আমাকে অনেকটাই রিলিফ দিয়েছিলো কিন্তু কাজটা করা উচিত হয়নি।
প্লেনে মুভি দেখে ভালই সময় যাবে ভেবে চেক করে দেখি আদ্দিকালের সব কি হাবিজাবি মুভি, দেখার আগ্রহ পাওয়ার মত কিছু নাই, শেষে টিভি সিরিজ ''সিএসআই'' দেখালাম কতক্ষন। প্লেনে যতবার খাবার আসছে লোকটা ড্রিংকস নেবার সময় বারবার জিজ্ঞেস করছে, “কিছু মনে না করলে, আমি এটা নিতে চাই প্লীজ'!”
নানান কথায় ঝোঁকের বশেই কিনা হুট করে নিজের একটা ঘটনা বললেন, স্টুডেন্ট থাকার সময় ট্রেনে বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে দুষ্টুমি করার সময় সিংহলি এক মেয়ের সাথে সামান্য চোখাচোখি থেকে পরিচয় শুরু। পরে প্রায় বছর দেড়েক চিঠি আদানপ্রদানের সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক হওয়া আর সেই মেয়ের কাছে থেকে হুট করেই সরে আসা যখন মেয়েটা বিয়ের কথা তুলেছিলো। তার কথা হচ্ছে, - “আমি ওকে চিট করতে চাইনি, নইলে ওই বয়েসে আমার বন্ধুরা হলে ওর সাথে ভালো কিছু সময় কাটিয়ে, মজা শেষেই সরে আসতো কিন্তু আমি তা চাইনি। ওর জন্যে আমার ভালো লাগাটা ছিলো, কিন্তু সেটা বিয়েতে যাবার মতো না, তাই আমার জন্যে এতোটা ডুবে যেতে দেখেই আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলাম, ওর চিঠিগুলোরও উত্তর দেইনি।”'' আরো বলে যেতেন ভদ্রলোক যদি না আমি বাধা দিতাম, অতক্ষন গল্প করছিলাম কিন্তু কেন জানি এই পর্যায়ে এসে অবাক লাগছিলো, নিজের মনে বকবাকানি এই টাইপ কথাবার্তা লোকটা আমাকে কেন বলছে, আর আকাশ ফুড়েঁ এই জিনিস আমাকেই কেন শুনানো হচ্ছে! যেই জিজ্ঞাসা করলাম, এই মুহুর্তেই কেন এই ঘটনা মনে এলো তোমার? উত্তরে বলে, “হঠাৎ ক'দিন ওকে খুব মনে পড়ছে, এতোবছর পর কোথাও যদি ওর সামনে দাঁড়াই, যদি বলি, আমি অতন্ত দুঃখিত আমার সেই সময়কার কাজে। এটা কি বিশ্বাস করবে ও যে, আমি ভয় পেয়েছিলাম ওর সেসময়ের আকুলতা দেখে, আমি বুঝেই উঠতে পারিনি আমার জন্যে কেউ এমনি করে সব ছেড়ে ছুড়েঁ দিতে চাইবে। একটা তামিল ছেলের সাথে সিংহলি মেয়ের ভাল বন্ধুত্ব হতে পারে কিন্তু তার বেশি আমি হ্যান্ডেল করতে পারতাম না। আমারই অক্ষমতা, কিন্তু ওকে সেটা বুঝানোর অবস্থায় ছিলাম না আমি।'”
তামিল আর সিংহলিদের কোন আলাদা ব্যাপার আছে নাকি জানি না, প্রশ্নটা মনে এলেও জিজ্ঞেস করলাম না, লোকটা ইমোশনাল ভাবে আছে, থাকুক। আমিও আমার তালে জানালায় মেঘ দেখায় মন দেই। কিসের ছাতার চিন্তায় ছিলাম জানি না, আমারও চোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো। পাশ থেকে শুনলাম, - “তা ইয়ং লেডির কার কথা মনে পড়লো শুনি?” অন্যসময় হলে স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বলতাম, “এই লেডি মোটেই ইয়ং নাহ! ” কিন্তু তখন লোকটার দিকে তাকিয়েই রইলাম, কান্নার তোড় আটকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে। ধাতস্ত হয়ে পরে বললাম, তোমার দুঃখের কাহিনীর সাথে আউলায়ে গিয়েছিলাম আর বাসার মানুষগুলোর জন্যে ভালো লাগছে না কিছুই।
কানের অস্বস্থির কথা জানতে পেরে সুমি আর রুনা বলেছিলো চুইংগাম চাবালে এটা একটু কম লাগে, তাই খালি মুখেই জাবরকাটা ভাব নিলাম এইবার প্লেন ল্যান্ড করার সময়, কিন্তু কানের পোঁ পোঁ ৩\৪গুন বেড়ে গেলো এত্তো যে লাগেজ আনার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই যেন দায় হয়ে পড়লো। এর মাঝে দুঃশ্চিন্তায় পড়লাম এত্তো বড়ো বড়ো ব্যাগ বেল্ট থেকে কি করে নামাবো ভেবে! পাশের দাঁড়ানো যাত্রীকে বলতেই সাহায্য করলো নইলে ঐ ২৫\৩০ কেজির ব্যাগ ট্রলিতে তোলা আমার কম্ম ছিলো না। সবসময় দেখেছি, কিছু না পারলে, না জানলে সরাসরি বললেই সবচেয়ে ত্বরিতে কাজ সমাধা হয়ে যায়, কিন্তু এই অজ্ঞতাটা প্রকাশে দোনোমোন করেই যা দেরিটুকু করে ফেলি।
এরপর ইমিগ্রেশন কিবা চেকিং এ একটুকুও ঝামেলা ছাড়াই বেরিয়ে এলাম সিডনী এয়ারপোর্ট থেকে।
কি নাম দেয়া যায় এই পর্বের ভাবতেই মনে এলো একটা লাইন, যেটা ভাইয়াদের বলতে শুনতাম ছোট্টকালে, ভাবতাম তাদের দুষ্টামি কিছ্ কিন্তু পরে রাইহানভাইয়ের মুখেও শুনে জিজ্ঞাসা করে জেনেছি এটা বাংলা সিনেমার গানের কলি! “ঢিল মারি তোর টিনের চালে, আয় লো সখি উইড়া যাই!” তাই এই পর্বের না হলো, - “ঢিল মারি তোর টিনের প্লেনে, … উইড়া যাই!”
সুন্দর একটা গান শুনেন





বেশ লিখেছেন। আপনার ভ্রমনে খানকটা হলেও আনন্দ ছিলো। এটা পড়ে আমার ইচ্ছে হচ্ছে জীবনের প্রথম নিরানন্দময় এয়ার ইন্ডিয়ার মুড়ির টিনে ভ্রমনের কথা লিখি। কিন্তু কী যে লিখি তাই ভেবে পাই না।
শুরু করেন বস....
লেখা শুরু করে দেন, দেখবেন ঠিকই মজার কাহিনী বার হতে থাকবে, আর এত্তো চিন্তা করতে থাকলে হবেই না, ধুমধাম লিখে ফেলেন ...
আর কষ্টকর জার্নি হলেও মনে আনন্দ থাকলেই সেটা আনন্দময় ভ্রমন হয়ে উঠে, আমার সেটা ছিলো না...
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
বিদেশ যাত্রারে বাঙালি যতোটা মিথিকাল বানাইয়া ফেলে আসলে সেইটা ততো ঝামেলার না, ইংরেজী জানলে চীন বাদে আর যে কোনো দেশেই সহজে, একা একা, জীবনের প্রথম চইলা যাওয়া যায়।
পোস্ট মজার হইছে...
নিজের চেনা এলাকা ছেড়ে যাচ্ছি একটু ডর ভয় মেশানো অনুভূতিতো হওয়াই স্বাভাবিক! আর তখন আমরা কিছু উল্টপাল্টা কান্ড করেই ফেলি, যেটা পরে নিজের কাছেই মজার লাগে। আমি স্বাভাবিক অবস্থায় এমন করতাম গ্যারেন্টি দিয়া বলতে পারি, হয়তো একটা ঘোরে ছিলাম তাই কেম্নে কি করে ফেলেছি ঠিকঠাক মতো!
থ্যাঙ্কু লেখা পড়ার জন্যে!
দারুন লেখা হয়েছে। টপ ক্লাস। আমার কিন্তু কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে জান বারায় গেছিল।
অনেকেরই শুনেছি বেশ ঝামেলা হয়, তাইতো আমাকে ঐ ব্যবস্থা করে দেয়া হইলো! মাঝে মাঝে লাগে এমন করে সব সহজে পেয়ে পেয়েই কিচ্ছু করা শেখা হইলো না আমার! আবার নিজের ভাগ্যে শোকরও করি।
আপ্নের আর তাতা'পুর মতোন দারুন বর্ননা দিয়া লেখার কাছেও যায় নাই... তাও মন্তব্য খুশি হইয়া গেলাম! ধইন্যবাদান্তে থ্যাঙ্কু!
সেইরকম... লেখাটা চলুক...
হ! চলুক গাড়ি যাত্রাবাড়ি... না লাগুক গাড়ির মইধ্যে মারামারি!! দেখি কদ্দুর কি করি!
দারুন ।
অস্ট্রেলিয়া তে নাকি কমোড ফ্ল্যাশ করলে আমাদের উলটা দিক থেকে পানি ঘুরে ?
খাইছে! এমুন ইনফো পাইলেন কই! এই জিনিষতো দেশে থাক্তেও খেয়াল করি নাই! এইখানে কেম্নে মিলাইয়া দেখমু!!
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
০১.
২৫\৩০ --- ২৫/৩০
০২.
তোমার হুদাহুদাই সিরিজ দেখে নুশেরাপুর "হুদাই" সিরিজের কথা মনে পড়ছে। দারুন ছিল সেটা।
০৩.
সেখানে রোজার কাহিনী লিখতে পার। লেখা খতরনাক হচ্ছে, চলুক!
জ্বি স্যার প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে ভুলটা দেখতে পাইছি! সরি... এডিট করে দিবো। তবে তোমার উচিত ছিলো আমাকে এম্নে সাংকেতিক ভাষায় না বলে পুরা কথা বলা!

হ্যাঁ, মনে আছে। হুদাই নামের হলেও অনেক মজার করে লেখা তথ্য দেয়া নুশেরা'পুর সিরিজটা দারুন ছিলো!
রোজাতো সবে শুরু হলো, দেখি কি কি কান্ড হয়। তবে এইখানে মসজিদ বানানোর ফান্ড রাইজিং একটা ডিনারে গিয়েছিলাম। সব বাঙ্গালী, সেই এক অভিজ্ঞতা!
সবকিছু থেকে তো সরে গেছো দেখলাম, এট্টু দরকার ছিলো তোমারে, যোগাযোগ করবা কোনভাবে? সময় পেলে...
ফান্ড-রেইজিং ডিনারের অভিজ্ঞতা লিইখা ফেল এই সিরিজেই, এইটা বিরাট কাহিনী নিয়া হয় সাধারণত।
আমি জিমেইলে সাধারণত লগড-ইন থাকি। তোমার ই-মেইল এড তো নাই আমার কাছে। chymahfuz@gmail.com এইটাতে এডাও আমাকে, কথা হবে নে। সিরিজের পর্ব তাড়াতাড়ি ছাইড় কইলাম!
ওদের কাছে হয়তো ওনেক বড় হয়, আমি সেটা বুঝিনি, পরে শুনেছি।
জ্বি করছি।
ঢিল দেখা যায় বন্ধু ঠিক মতোই মারছে। একবারে পেলেনে কইরা উইড়া গেলেন
গানের কথাটা মজা লাগছে অনেক... কিন্তু গানটা শুনতে পারিনাই কখনো! আফসুস!
পই পই করে মানা করে দিলাম প্লেনে কেও কিছু দিলে খাবেন না।তাও খায়ছেন!!
পরের পর্ব জলদি আসুক।অপেক্ষায় আইজুদ্দীন।
হ! এটা ভুয়া এক কান্ড করলাম, লোকটারেও বলছি!...

আরে রইয়াসইয়া পরের পর্ব আসবে কিচ্ছু ভাইব্বেন নাহ!
সেইরকম... লেখাটা চলুক...
দেখি কদ্দুর চালাইতে পারি!
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ
গানটা অপূর্ব। আমার মেয়ে জিজ্ঞেস করে, সবাই শুধু শুধু কেন ওকে নিয়ে মানে মেঘ নিয়ে গান গায়?
হুদাহুদাই লিখতে থাক। মিলিয়ে অনেকেই দেখবে তার অভিজ্ঞতার সাথে
গানটা একটা মুভির, শান্ত দিলো আমাকে। গানের লিরিক কি দারুন!
মেয়েরে বলে দিয়েন - নদী মেঘ বরষা, এগুলাই আমাদের গান কবিতার ভরসা!
আরে নাহ, মিলবে আবার কি, এগুলা এমনি এমনি হাবিজাবি!
তোমার লেখা দারুণ হচ্ছে ।
তুমি একটা বিদেশি গল্পের অনুবাদ করছিলা না? সম্পর্কের টানাপোড়েন ? ওই গল্প নিয়ে সেদিন একটা নাটক দেখলাম একটা চ্যানেলে । দেখে শুধু মনে হচ্ছিল, যাক আগেই এর অনুবাদ পড়েছি । তুমি না লিখলে হয়তো কখনো পড়াই হত না ।
পড়িয়া কমেন্টের লাগিয়ে ঠ্যান্কু ..

তাই! কে কে ছিলো নাটকটায়?
নাটকে ছিল জয়া আহসান আর ইরেশ যাকের । একটা ছোট বাচ্চা । আর ডাক্তারের চরিত্রে একটা নতুন মেয়ে, চিনিনা ।
আপনের এই সিরিজ জমে ক্ষীরসা হয়ে গেছে। ক্ষীরসা খাইসেন?
দৈ জমতেই টাইম লাগে আর ক্ষীরসা হতে আরো বেশি সময় লাগারই কথা! যদিও ক্ষীরসাটা এখনো ঠিক চিনতেছি না, ছবি আর রেসিপি দিয়েন তো! আপনের কাছেতো আবার খাওন চাওয়া যাবে না!
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ!
লেখা জটিল লাগছে আপু
থ্যান্কস
তোমার যাওয়া কবে?
দারুন লিখেছিস জেবিন... মনে হল যেন আমি নিজেই প্লেন এ সফর করছি
তুই যে একাএকা কতোখানে গেলি সেগুলোও লিখলে আরো ভালোই লেখা হতো, লিখিস না তো!

প্লেনে ছোটখাটো অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলা নিয়ে পরে অনেক মজা হয়। আমি কিছুদিন আগে দিল্লী গেলাম একটা কালচারাল টিমের সাথে ডান্স পারফর্ম্যান্স করতে। আমাদের সামনের সীটে বাংলাদেশের অনেক রিনাউন্ড একজন অভিনেতা বসা ছিলেন। প্লেনে কিছুক্ষন পর পর একেকটা খাবার নিয়ে আসতেসে আর উনি খুব গম্ভীর গলায় বলতেসেন, নো। প্রথমে কিছুক্ষন ব্যাপারটা আমরা খেয়াল করলাম। তারপর আমরা পুরা টিম উনার ভাবভংগীতে এতোই মজা পেয়ে গেলাম যে এয়ারহোস্টেস উনার সামনে এসে দাঁড়ানো মাত্রই আমরা পেছন থেকে চিতকার করা স্টার্ট করলাম, নো নো নো নো।
ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ভালো লাগে। চালিয়ে যান।
পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।
আপা, আপনি একা গেলেন কেন ? দুলাভাই যায়নি আপনার সাথে ?
আপনার অভিজ্ঞতা আর লেখার বর্ণনা কিন্তু চমৎকার হচ্ছে।
...... যাইতে বলছিল কে
ভাল লাগছে ..... ভাল থাকবেন
মন্তব্য করুন