কুলি
এয়ারর্পোট রেলস্টেশন, চাতকের মত তাকিয়ে আছে একদল মানুষ। কখন আসবে ট্রেনটা...উফ ৫ মিনিট দেরী করেছে ট্রেনটা । এগার সিন্দুর আন্তঃনগর ট্রেন, আসছে কিশোরগঞ্জ থেকে।সবাই ভোঁ দৌড় দিল একসাথে ।হুইসেল বেঁজেছে মানে আসছে ট্রেনটা ।
হিরণ এই স্টেশনের পাশে থাকে।ভাঙ্গা একটা ঘরে।হতবাগা বেচাড়া কুলির কাজ করে
স্টেশনে।কথায় বলে না কপালে কষ্ট থাকলে ফেরায় কে?
বাবা বাসের ড্রাইভার ছিল । হরতালে গাড়ি চালাতে গিয়ে পুড়ে মরেছে।আর মেরে গিয়েছে একগুচ্ছ স্বপ্ন আর তাজা প্রাণ দুটোকে। এখন মা আর ছোট বোনের আহার জোটাতে হিরণকেই নামতে হয়েছে এই পেশায় ।
কত আর বয়স ছেলেটার...১২ কী ১৪ হবে।
জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকতে এখন প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে হিরণ ।আগে ট্রেনে উটতে হবে,চলন্ত ট্রেনে।না হলে খদ্দের পাওয়া যাবে না। এখানেও জীবনের প্রতিযোগীতা প্রচন্ড।প্রাণ হাতে রেখেই সবাই উটে ট্রেনে।আশা একটাই দিন
শেষে অন্তত একবেলা পেট পুরে আহার করা যাবে । হিরণের আশা এবং প্রচেষ্টাও অন্য সবার মতই ।
অনেক কষ্টে বড়দের ফাঁক ফোকর দিয়ে ট্রেনে উটেছে হিরণ । কিন্তু কেউই মালামাল চাপাবে না ওর মাথায়।বাচ্চা ছেলে বইতে পাড়বে না ?
অবশেষে একজন সাহেব ডাকল হিরণকে ।দেখে ভদ্র লোকই মনে হয় তাকে।সাথে সুন্দর একজন মহিলা তার বউ হবে হয়ত ভাবল হিরণ।আর তার কোলের বাচ্চা মেয়েটা দেখতে ঠিক তার বোন লিরার মত কিন্তু অনেক সুন্দর ।
দুইটা ব্যাগ আর একটা বস্তা হিরণ কাঁদে নিয়ে তাদের ওভারব্রিজ পার করে দিল হিরণ ।এত ওজনের ব্যাগ আজই প্রথম বইছে হিরণ আর ভাবছে কী আছে এর ভিতরে। ব্যাগ রেখে টাকা চাইতে গেলেই লোকটা ৫ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিল তাকে ।
নোটটা হাতে নিয়ে লোকটার মুখের দিকে একবার তাকাল হিরণ আর বলল "মাত্র ৫ টাকা দিলেন"
অশ্রু সজল চোখ দুটি তখন চিকচিক করছিল ।।
লোক হুংকার করে বলল "যা ব্যাটা ভাগ ।তো ১০০ টাকা দেব তোকে ।"
দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে দু ফোঁটা অশ্রু ।লোকটা এতক্ষণে হাঁটতে শুরু করেছে।ছোট বলে সবাই তাকে ঠকায় ।এজন্যই এইসব ভদ্রলোকদের ঘৃণা করে হিরণ ।মা বলেছে এসব ভদ্র লোকরাই নাকি পুড়িয়ে মেরেছে তার বাবাকে।
আর একটা হুইসেল বেজে উঠল।ট্রেন আসছে....আর একটা ভোঁ দৌড় দিল হিরণ স্টেশনে....





চলুক গল্পের ট্রেন...
গল্পে যে কোন সংখ্যা কথায় লিখলেই বেশী ভাল দেখায়
গল্প লেখার পটভূমিটা হচ্ছে এয়ারপোর্টে বসে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনার মুর্হূতে !
একটু তাড়াহুড়া হয়ে গিয়েছিল ।
ভালো লাগলো
গল্প ভাল লেগেছে
বানানগুলো একটু দেখে নিয়েন
হতবাগা = হতভাগা
উটতে = উঠতে
উটে - উঠে
কাঁদে = কাধে
গল্পটা এয়ারর্পোট স্টেশনে বসে লেখা । ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি লাম। তো বাচ্চা ছেলেগুলাকে দেখে লেখতে ইচ্ছে হল আর তাড়াহুড়া করেই মোবাইলে লিখলাম । তবে ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য !
মন্তব্য করুন