পদ্মার ঢেউরে .....
এখন আমি পদ্মার বুকে । কিন্তু কোথায় সে ঢেউ ! কোথায় সে ঘূর্ণাবর্ত আর কাদা গোলা ঘোলা পানি ! টলটলে সবুজাভ শান্ত নীর, স্পীড বোটে বন্ধুদের নিরাপদ নৌবিহার । আরও ঘন্টা খানিক পরে মাওয়া ঘাটে ফেরী ভিড়বে বলে সময় মাপছিলাম । কি যেন কি হল, টেনে বের করলাম এই ম্যাজিক বক্স । আমার কাছে এখনও পর্যন্ত এটা তাই-ই ।
ফেরী তো নয়, নয়রে ভাই, এ যে দেখছি গাদা বোট ! যে কোন দূরপাল্লার যাত্রায় অতি প্রয়োজনীয় টয়লেট এতে আছে কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম - খোঁজ করে পাওয়া গেল । ইউরিয়ার গন্ধসমৃদ্ধ অতিক্ষুদ্র পানিবিহীন অত্যান্ধকার একটি পিচ্ছিল প্রকোষ্ঠ । প্রয়োজনে সেটিই মনে হল সকলকে স্বর্গসুখ দিচ্ছে । বাস, কার, পিকআপ, মোটর সাইকেল, রিক্সা, রিক্সাভ্যান, বিভিন্ন জাতের ফেরিওয়ালা, ডাব-আপেল বিক্রেতা আর জনতার ভিড়ে এ এক অন্য জগৎ ।
আমার বাহন যেখানে কোনরকমে স্থান করে নিয়েছে, সেখান খেকে সহজে অন্যদিকে যাওয়া সহজ নয় মোটেই । আবার সেখানে বসে খাকাও দুঃসহ এক অভিজ্ঞতা । রাতে বা কোন এক জরুরী সময়ে এরই আশপাশে যাত্রীরা অথবা ফেরীর স্টাফগণ জলবিয়োগ করায় এখানেও সেই অতিক্ষুদ্র অন্ধকার প্রকোষ্ঠের তীব্র উপস্থিতি । এরই মাঝেই এক বুড়ো মিয়ার কাছ খেকে কিনলাম আঁখ (গেন্ডারি), খেলাম - অন্য অনেকে খাচ্ছে দেখে লোভ সামলাতে না পেরে ।
তারপরেও, গাড়ির জানালা দিয়ে পদ্মার বাতাসে মনটা ভরে উঠছে । ফেরীর পাশ দিয়ে তরুণ-তরুণীরা স্পিডবোটে দারুন স্পিডে ছুটে যাচ্ছে, আহা কি সুন্দর দৃশ্য ! প্রাণ জুড়িয়ে যায় ! নিজেকে ওদের মধ্যে দেখতে পাই - ক্ষণিকের জন্য হলেও ফিরে পাই আমার হারানো তারুণ্য !





লেখাটা ভালো হয়েছে নাজমুল ভাই। ধইন্যা।
আবোল-তাবোল ভাল লাগবার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ ।
হঠাৎ করে শেষ করে দিলেনযে দাদা ! বেশ ভালোইতো এগুচ্ছিল... । তা কোথা থেকে আসছিলেন ?
দাদাভাই, ধন্যবাদ । আসছিলাম খুলনা থেকে । ফেরীতে বসে পদ্মার সৌন্দর্য দেখতে কত আর ভাল লাগে ? সময় কাটছিল না । সুযোগ যখন আছে, তখন বন্ধুদের সময় নষ্ট করবার একটু চেষ্টা করলাম আর কি ? রোদ এসে সরাসরি মনিটরে পড়ছিল, আমি কিছুই পড়তে পারছিলাম না । তা'ছাড়া ধৈর্য রক্ষা করে আরো কিছুক্ষণ টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল ।
ফেরীর পাশ দিয়ে তরুণ-তরুণীরা স্পিডবোটে দারুন স্পিডে ছুটে যাচ্ছে, আহা কি সুন্দর দৃশ্য !
আপনারও ভাল লাগছে তা দেখে ?
এমন যদি দেখতে পারতাম!
এত দেখেও সাধ মিটছে না ?
হুদা ভাই, আপনার লেখাটির সাবলীল গতি দেখে পদ্মা বিষয়ক একটি চমৎকার ভ্রমণ কাহিনী পড়বো বলে নড়ে-চড়ে বসছিলাম। কিন্তু লেখাটি জমে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শেষ, অতৃপ্তিটা রয়েই গেলো। অবশ্য বাসায় এসে ধীরে-সুস্থে আরো জমিয়ে লিখতে পারতেন, সে ক্ষেত্রে আমরা হয়তো তাজা ইলিশ খাওয়ার মতো স্পটে বসে লেখা তাজা গল্প পড়ার মজা থেকে বঞ্চিত হতাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
তৃপ্ত করতে না পারার জন্য দুঃখিত । ধন্যবাদ ।
হুদা ভাই, আপনার মতো পদ্মার বুকে অবগাহন করে তার সোন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ না পেলেও, পদ্মার পাড়ে বসে তার রুপসূধা পান করার সুযোগ হয়েছে বার কয়েক। ভ্রমন সময়েও আপনার লেখনী থেমে থাকেনি – অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য আপনি।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ।
আহারে তারুণ্য! বার্ধক্যের সেরা আক্ষেপ!
"বার্ধক্যের সেরা আক্ষেপ, আহারে তারুণ্য !" একেবারেই অনন্য ? শুধুই কি তাই ? আর কি কিছুই নাই ? ........?
আমার তো এখনই তারুণ্য চলে যাচ্ছে সেজন্য খারাপ লাগে!
লেখা ভাল হয়েছে। আমার লন্ঞে চড়ার অভিজ্ঞতা নেই। মনে হচ্ছে দারুন অভিজ্ঞতা।
শুরু না হতেই শেষ হয়ে গেল যে?
শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
আমিও
হারিয়ে যাওয়া তারুন্যের জন্য বুকটা পদ্মার ঢেউয়ার মতোই উথাল পাথাল করে। হায় তারুন্য!
"নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস.............................."
মন্তব্য করুন