দু'দিনের দুটো অভিজ্ঞতা--ইভটিজিং কি বন্ধ হবেনা?
ঘটনাসূত্র-১
একদিন সন্ধার সময়ে অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। বাসার কাছাকাছি রাস্তায় দেখছি, দুটো সুন্দরী কিশোরী মেয়ে যাচ্ছে আর ৩/৪ টি বখাটে ওদের উত্যক্ত শুধু নয় পিছুও ধাওয়া করছে। একটি ছেলে একসময় দৌঁড়ে গিয়ে বেশি সুন্দরী মেয়েটার হাত চেপে ধরতেই, সে কাঁকুতি-মিনতি করতে লাগল, এরে ভাই, ভহাত ছেড়ে দেন আগে; তারপর কী বলবেন বলেন?
আমি সব দাড়িয়ে থেকে দেখায় বখাটেরা কিছুটা ঘাবড়িয়ে যায় বলে মনে হয়। মেয়েটিও আমাকে প্রতিবাদীর মত দাড়াতে দেখে সাহসী হয়। ফলে ওর হাত ছেড়ে দিয়ে চলে যায় ওরা। এরপর মেয়েটি আমার পাশ দিয়ে যেতে থাকলে প্রশ্ন করিঃ তোমরা কি চেন ওদের? বলে, নাহ, আমাকে জোর করে আটকিয়ে বলছে-আমাকে নাকি খুব লাইক করে।
আমি বললাম, এমন ঘটলে ভবিষ্যতে ওভাবে চুপ না থেকে চিৎকার দেবে, যাতে রাস্তার লোক বুঝতে পারি যে, তোমরা বিপদগ্রস্ত? মাথা দুলিয়ে সে বলল, জী- আচ্ছ।!
ঘটনাসূত্র-২
আরেকদিন সকাল ৯টার দিকে অফিসে যাবার পথে ঠিক আমারই বাসার দেয়ালের কাছাকাছি লক্ষ্য করছি যে, আমার সামনের দুটো কিশোর বখাটে তাদের সামনে দিয়ে গমনরত একটি সুন্দরী মেয়েকে জঘন্য ভাষায় টিজিং করছে। কিন্তু মেয়েটি না শোনার ভান করে যাচ্ছে আনমনে। কিন্তু একটি বখাটে যখন কাগজের একটি পুটলি মেয়েটির মাথায় ছুড়ে মারল, তখন আমি আর নিজেকে সামাল দিতে না পেরে ওদের ডাকলাম; এই ছেলে শোন।
ওরা তাচ্ছিল্যর ভাব নিয়ে দাঁড়ালে নরমসুরে বললাম, তোমরা কি কাজটা ঠিক করলে? ওরা হেসে বলে-কেন কী হয়েছে? বললাম, দেখ এইটা আমার বাসা আর তোমরা আমার এলাকার ছেলে। আমি চাইলে এখনি ফোন করলে পুলিশ চলে আসবে এবং তোমরা ইভটিজিং কেসে পরে যাবে। বলে, পুলিশ ধরলে আমার মা ছাড়াইয়া আনব ইত্যাদি। বললাম--ইভটিজিং কেসে ধরলে ছাড়া পাওয়া যায়না। যদি ওটা আমারই মেয়ে হত, তাহলে তোমাদের অবস্থা কী হতো এতক্ষন বুঝতা? ভবিষ্যতে এমন করোনা।কিন্তু ওরা তেমন প্রতিবাদ না করলেও ওদের অবজ্ঞার হাসি দেখে আমার গা জ্বলে গেলেও আমার বলার কিছুই ছিলনা।





মন্তব্য করুন