মোহাম্মদপুর গার্লস হাইস্কুলে ২০১১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে এডমিডকার্ড(প্রবেশপত্র) বিক্রয়!!!???
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০১১ সালের এসএসসি পরীক্ষা। ছাত্র-ছাত্রীরা কেমন টেনশনে আছে তাকি বলার অপেক্ষা রাখে? পরীক্ষার আর মাত্র একসপ্তাহ বাকি থাকলেও আমার মেয়েসহ কোন পরীক্ষার্থীই আজ(২৬/০১/১১) পর্যন্ত ঐ স্কুলের এডমিডকার্ড(প্রবেশপত্র)পায়নি, যা মারাত্মক এক টেনশনের কারণও বৈকি!
অন্য স্কুলের খবর জানিনা, কিন্তু আমার মেয়ের স্কুল মোহাম্মদপুর গার্লস হাইস্কুলে আজই ছিলো ২০১১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান। ফলে বিদায় অনুষ্ঠান থাকায় আমার মেয়েসহ সব পরীক্ষার্থীরাই এডমিডকার্ডটি পাবার অধিকারসহ আশা করেই গিয়েছিলো আজ বিদায় অনুষ্ঠানে; এটা কি তাদের কোন অন্যায় আশা বা দাবী ছিলো?
অথচ বিদায় অনুষ্ঠানে তাদের কাছে প্রাপ্য পরীক্ষার এডমিডকার্ডটি হস্তান্তর না করে মাত্র একটি করে গন্ধবিহীন অর্কিড ফুল দিয়েই বিদায় জানানো হয়?
বলাবাহুল্য যে, অনুষ্ঠানমঞ্চে মাত্র ৩/৪ জন ছাত্রীর হাতে লোকদেখানো পন্থায় (টোকেন হিসেবে) এডমিডকার্ড ধরিয়ে দেয়া হলেও অন্যদের জানিয়ে দেয়া হয় যে, তাদের প্রবেশপত্র অফিস থেকে দেয়া হবে। তারা অনুষ্ঠানশেষে এডমিডকার্ড নিতে গেলেই ঘটে বিপত্তি, তারা হয়ে যায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়!! তাদের জানানো হয় যে, প্রতিটি এডমিডকার্ডের মুল্যবাবদ নগদ ৫০ টাকা করে না দিলে কাউকেই তা দেয়া হবে না।
সুতরাং ২১১জন পরীক্ষার্থিনীসহ আগত অভিভাবকদের তো আক্কেল গুড়ুম দশা, এ কেমন প্রতারনার ফাঁদ এবং ব্লাকমেইলিং!! কারণ অধিকাংশ ছাত্রীসহ অভিভাবকরাও সাথে টাকা আনেননি বা আনতে পারেননি এবং এব্যাপারে প্রস্তুতও ছিলোনা, এটাই স্বাভাবিক? ফলে টাকার বিনিময়ে মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন ছাত্রীছাড়া কেউই আজ এডমিডকার্ডটি না পেয়ে বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
আমার মেয়ের হাতেও ৫০ টাকা না থাকায় সেও এডমিডকার্ড নিতে পারেনি! একদিকে পরীক্ষার টেনশন অন্যদিকে এ ধরণের নয়া টেনশনের ফলে তাদের ক্ষতির খেসারত কে দেবে, আমি শিক্ষামন্ত্রীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই? আমি একজন সরকারী অফিসার হয়েও এক্ষেত্রে আমার করার কিছুই নেই, আমিও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি!! ২ ফেবরুয়ারি পরীক্ষা অথচ আমিসহ আমার মেয়ে আজো জানি না তার পরীক্ষার কেন্দ্রটি কোথায়??
উল্লেখ্য যে, সরকারের কঠোর ঘোষণাসত্বেও অন্যায়ভাবে তাদের ফরম ফিলাপের সময়ও একহাজার টাকার স্থলে প্রায় ছয়হাজার টাকা করে নিয়েছিলো ওই স্কুলকর্তৃপক্ষ। এমনকি রাজধানীর প্রায় সব স্কুলেই দ্বিগুন তিনগুন করে ফিলাপের ফি নেয়া হয়েছিল, যার খবর ব্যাপকভাবে মিডিয়ায়ও এসেছিলো। এরপরও নেয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা!!
তাহলে, এসব জুলুমের বিরুদ্ধে সরকারের কি কিছুই করণীয় নেই? স্কুলের ফোন নাম্বার দিলাম--৯১২২২২৪/৯১১৬০৯৯।





মন্তব্য করুন